ছফর মাস ও সংক্রামক রোগ সংক্রান্ত কুফরী আক্বীদা


মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “তোমরা আল্লাহ পাক-এর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না।” (সূরা লুকমান ১৩)
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, অশুভ বা কুলক্ষণ বলতে কিছু রয়েছে, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কোন রোগ রয়েছে, পেঁচা ও ছফর মাসের মধ্যে অশুভ ও খারাবী রয়েছে- বিশ্বাস করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এরূপ কুফরী, শিরকী আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব।
যে কোন বিষয়ে অশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করা ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ। যেমন, অশুভ বা কুলক্ষণ বলতে কিছু রয়েছে, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কোন রোগ রয়েছে, পেঁচার মধ্যে ও ছফর মাসের মধ্যে অশুভ ও খারাবী রয়েছে বলে বিশ্বাস করা ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ।
আল্লাহ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ ভ্রান্ত আক্বীদা-বিশ্বাসের মূলোৎপাটন করেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই। পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই। তারকার (উদয় বা অস্ত যাওয়ার) কারণে বৃষ্টি হওয়াও ভিত্তিহীন এবং ছফর মাসে অশুভ বলতে কিছু নেই।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ/৩৯১, শরহুস সুন্নাহ-৬/২৭১)

উল্লেখ্য, জাহিলী যুগ হতে এখন পর্যন্ত কিছু লোকের এরূপ ধারণা বদ্ধমূল রয়েছে যে, ঘুম থেকে উঠে পেঁচা দেখা কিংবা রাতে পেঁচার ডাক শোনা কুলক্ষণ বা অমঙ্গলের পূর্বাভাস। আবার বিশেষ তারকা বা গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। অথচ এরূপ ভ্রান্ত আক্বীদা পোষণ করা সম্পূর্ণ কুফরী ও শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
খাছ করে ছফর মাসের মধ্যে কোন প্রকার অশুভ ও খারাবী নেই। আর আমভাবে কোন মাস ও দিনের মধ্যেই খারাবী বা অশুভ বলতে কিছু নেই। মাস-দিন-সময়কে খারাপ বলার অর্থ হলো, মহান আল্লাহ পাককে খারাপ বলা। কেননা, মাস-দিন-সময় এগুলো আল্লাহ পাকই সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “আদম সন্তান মাস-দিন-সময়কে গালি দিয়ে সমালোচনা করে, খারাপ বলে আমাকে কষ্ট দেয়। অথচ আমিই সৃষ্টিকর্তা এবং আমার নির্দেশেই এরা পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ আমিই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করি।” তাই ছফর মাসসহ কোন মাস-দিন-সময়কেই খারাপ ও অশুভ বলা বা মনে করা যাবে না। যদি কেউ তা বলে বা মনে করে তবে সে কুফরী-শিরকী করার গুনাহে গুনাহগার হবে।
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে কোন বিষয়কেই অশুভ ও কুলক্ষণে মনে করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। তিনি এ বাক্যটি তিনবার উল্লেখ করেন।” (তিরমিযী শরীফ, মাওয়ারিদ, মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল-১/৪৩৮, শরহুস সুন্নাহ-৬/২৭৪, মিশকাত শরীফ/৩৯২, শরহুত ত্বীবী-৮/৩২)
কোন রোগই সংক্রামক নয়। কাজেই রোগ-ব্যাধিকে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে মনে করা কুফরী-শিরকীর অন্তর্ভুক্ত। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “কোন রোগই সংক্রামক নয়। পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই এবং ছফর মাসের মধ্যেও অশুভ কিছু নেই। তখন এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে উটের এ অবস্থা হলো কেন? যে উটগুলো ছিল জংলী হরিণের মত তরু-তজা, যেগুলো ময়দানে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতো। এমতাবস্থায় কোথা হতে এক চর্মরোগাক্রান্ত উট এসে সে উটের পালে মিলিত হলো এবং উটগুলোকে চর্মরোগী বানিয়ে দিলো। ফলে এ উটগুলোও খুজলীযুক্ত হয়ে গেল। তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আচ্ছা তাহলে প্রথম উটটির চর্মরোগ কোথা থেকে হলো?” অর্থাৎ প্রথম উটটি যেভাবে খুজলীযুক্ত হয়েছিল ঠিক পরবর্তী উটগুলোও সেভাবে খুজলীযুক্ত হয়েছে। (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৩৯১, শরহুস সুন্নাহ-৬/২৬৫)
স্মর্তব্য যে, চিকিৎসা শাস্ত্রের পাঠ্যসূচিতে অদ্যাবধি ইসলামী আক্বীদা সংক্রান্ত কোন ইলম সূচিভুক্ত না থাকার কারণে অনেক সময় কোন কোন চিকিৎসক কিছু কিছু রোগ সম্পর্কে যেমন- চর্মরোগ, খুজলী-পাঁচড়া, কুষ্ঠ, কলেরা-বসন্ত ইত্যাদিকে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে বলে অভিমত ব্যক্ত করে থাকে। যা সম্পূর্ণ কুফরী শিরকীর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এরূপ ভ্রান্ত আক্বীদা হতে বিরত থাকা ফরয-ওয়াজিব।
তবে ভাল লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা করার অবকাশ আছে তথা মুস্তাহাব।
আল্লাহ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কোন বিষয়কে অশুভ কুলক্ষণে মনে করোনা, তবে শুভ লক্ষণ আছে। ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! শুভ লক্ষণ কি? তখন তিনি বললেন, উত্তম কথা, যা তোমাদের মধ্য হতে কেউ শুনতে পায়।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ /৩৯১, শরহুত্‌ ত্বীবী-৮/৩১৩, শরহুস সুন্নাহ-৬/২৭২)
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামী আক্বীদা সংক্রান্ত ইলম না থাকার কারণে অনেকে এরূপ কুফরী আক্বীদা পোষণ করে থাকে। মূলকথা হলো- অশুভ বা কুলক্ষণ বলতে কিছু রয়েছে, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কোন রোগ রয়েছে, পেঁচা ও ছফর মাসের মধ্যে অশুভ ও খারাবী রয়েছে বলে বিশ্বাস করা শিরক-এর অন্তর্ভুক্ত। এরূপ কুফরী-শিরকী আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব।
Read more ...

আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বেশি বেশি মুহব্বত করা এবং উনাদের বেশি বেশি ছানা-সিফত করা


নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আমার আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য।
আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ-এর মাস হচ্ছে ছফর মাস। অর্থাৎ তিনি ২৮শে ছফর শাহাদাত বরণ করেন।
তাই সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- এ মাসে আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের বেশি বেশি মুহব্বত প্রকাশ করা এবং বেশি বেশি ছানা-সিফত করা। যা ইহকালে মর্যাদা হাছিল ও পরকালে জান্নাত লাভ করার কারণ।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের মর্যাদা সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, (হে বিশ্ববাসী)! আমি তোমাদের নিকট নুবুওওয়াতের দায়িত্ব পালনের কোনো প্রতিদান চাই না। তবে আমার আত্মীয়-স্বজন উনাদের তথা বংশধর উনাদের সাথে সদাচরণ করবে।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি ‘তাফসীরে ইবনে হাতেম, ইবনে কাছির, মাযহারী, ইত্যাদি কিতাবের বরাত দিয়ে বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধারা হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম উনি ও উনার আওলাদদ্বয় হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের মাধ্যমে বিশ্বময় জারি রয়েছে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন বেহেশতের যুবকদের সাইয়্যিদ।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, যারা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের বংশধর বা আওলাদ উনারাই আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম বা আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম করা এবং উনাদের খিদমত করা, উনাদের সাওয়ানেহ উমরী জানা সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, হযরত ইমাম হাসান বিন আলী বিন আবী তালিব আলাইহিস সালাম তিনি কুরাইশ বংশের হাশেমী শাখায় বিলাদত শরীফ লাভ করেন। হিজরী ৩য় সনে রমাদ্বান মাসের ১৫ তারিখে, অন্য বর্ণনায় শা’বান মাসের ১৫ তারিখ হযরত হাসান আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, হযরত আলী ইবনে আবী তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন: যখন হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেন তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে তাশরীফ আনেন এবং ইরশাদ করেন: আমার সন্তানকে আমাকে দেখাও, উনার কী নাম রেখেছো? আমি বললাম: আমি উনার নাম রেখেছি- হারব (যুদ্ধ)। তিনি ইরশাদ করলেন: বরং সে হাসান। অর্থাৎ উনার নাম মুবারক হযরত হাসান আলাইহিস সালাম।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, উনার জিসিম মুবারক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সর্বাপেক্ষা বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি অপেক্ষা অপর কেউ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন না।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, অনেক সময় আখিরী নবী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে সওয়ারী হয়ে হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদেরকে পিঠ মুবারক-এ চড়াতেন এবং বলতেন, ইনারা আল্লাহ পাক উনার নিকট শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি। উনাদের সাথে মুহব্বত রাখা পরকালে নাজাতের কারণ এবং উনাদের সাথে শত্রুতা করা পথভ্রষ্টতা ও গুমরাহীর কারণ।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, হযরত আদী বিন ছাবিত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি হযরত বারা’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র কাঁধ মুবারক-এর উপর হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে দেখেছি। আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আমাকে মুহব্বত করে, সে যেনো ইনাকে (হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে) মুহব্বত করে।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, হিজরী ৪০ সনের রমাদ্বান মাসে হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি খলীফা মনোনীত হলেন। চল্লিশ হাজার লোক উনার হাত মুবারক-এ বাইয়াত হন। তিনি খিলাফতের দায়িত্ব ৬ মাস পর্যন্ত পালন করেন। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘আমার পরে খিলাফত ৩০ বৎসর।’ তন্মধ্যে ২৯ বৎসর ৬ মাস পূর্ববর্তী খলীফাগণ উনাদের সময়ে অতিবাহিত হয়। বাকি ৬ মাস হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি পূর্ণ করেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মারাত্মক বিষক্রিয়ার কারণে ৪৯ হিজরী সনের ২৮শে ছফর প্রায় ৪৬ বৎসর বয়স মুবারক-এ তিনি শাহাদাত বরণ করেন বা বিছাল শরীফ লাভ করেন। হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে পবিত্র জান্নাতুল বাক্বীতে সমাহিত করা হয়।
মুজাদ্দিদে আ’যম, রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মূলকথা হলো- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম তথা খাছ আওলাদ হচ্ছেন- হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম। যারাই উনার মুবারক শাহাদাতের সাথে জড়িত ছিলো শরীয়তের দৃষ্টিতে তারা সকলেই কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী।
কাজেই, আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ-এর মাস হচ্ছে ছফর মাস। তাই সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, এ মাসে বেশি বেশি আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা এবং উনাদের বেশি বেশি ছানা-সিফত করা এবং এর মাধ্যমে ইহকালে মর্যাদা-মর্তবা ও পরকালে জান্নাত লাভ করা। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দী হাছিল করা।

সূত্র: দৈনিক আল ইহসান (৯ জানুয়ারী, ২০১১)
Read more ...

বিশেষ প্রতিবেদন


উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মানহানি করার জন্য আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী চক্র ‘জুয়েল অব মদিনা’ অপন্যাসের অপপ্রয়াস চালিয়েছে।
আর উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মানহানি করার প্রেক্ষাপট তারা এদেশেই রচনার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছে।
ইসলাম বিদ্বেষীরা ‘ঘরজামাই’ সুন্নতী চেতনার মানহানি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ!
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।

সময়টা সামপ্রতিক! কিন্থ ঘটনা তালিকা শুধু দীর্ঘই নয় বরং বীভৎস ন্যক্কারজনক। অব্যক্ত আপত্তিকর।
* ইন্টারনেট (Cnet networks & ydnet.com) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী নিউইয়র্কের বাণিজ্যিক এলাকা ম্যানহ্যাটনে মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ শেয়ারুল ইসলাম KAA'BA MAKKAH -র অনুরূপ APPLE MECCA নামে বার খোলা,
নেদারল্যান্ডে কুরআন শরীফ-এর নামে ফ্যাসিবাদী চরিত্র নিয়ে সিনেমা, স্যাটানিক ভার্সেস নিয়ে বিবিসি’র সিনেমা এবং ভারতের মসজিদে সানিয়া মির্জার শুটিং
এএফপি পরিবেশিত নেদারল্যান্ডের এমপি গিয়ার্ট ওয়াইল্ডার্সের কুরআন শরীফ পুড়ে বা ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য সম্বলিত খবর প্রকাশ জার্মানি থেকে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার প্রতি অপবাদ লেপন করে ‘জুয়েল অব মদিনা’ নামক অপন্যাস বাজারজাত করে উনার মানহানি করার অপপ্রয়াসে উদ্যত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে এ অপন্যাস লিখেছে সাংবাদিক মেরি জোন্স। অপন্যাসটি তখনই বাজারে ছাড়ার কথা ছিলো। কিন্থ মুসলমানদের প্রতিক্রিয়ার কথা আশঙ্কা করে মার্কিন প্রকাশনী সংস্থা র‌্যানডম হাউস বইটি বাজারজাত বন্ধ রাখে।
বলাবাহুল্য, আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মানহানি করার জন্যই ইহুদী-খ্রিস্টানরা একের পর এক এরূপ ইসলাম অবমাননাকর কাজ করে আসছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
কিন্থ গোটা মুসলিম বিশ্বে এর তীব্র প্রতিবাদ উঠলে ইহুদী-খ্রিস্টানরা অতঃপর তাদের চিরাচরিত কু-পন্থার আশ্রয় নেয়।
তারা নিজেরা না করে মুসলমান দেশেই মুসলমান নামধারীদের মাঝেই তাদের এজেন্ট নিয়োগ করে দেয়। বাংলাদেশে রাতারাতি এবং ধারাবাহিক, তার প্রকাশ পায়।
ইসলামের নামে ধর্মব্যবসায়ী জামাত শিবিরের কিশোরকণ্ঠেই প্রথমে কদুর সাথে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক সংযুক্ত করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
এরপর ‘প্রথম আলো’ পত্রিকা বিড়ালের সাথে এবং বগুড়ার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ম্যাগাজিনে কৈ মাছের সাথে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক-এর অবমাননা করা হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
এরপর ঢাকায় ফুটবলে কালিমা শরীফ খচিত হওয়ার খবর প্রকাশ পায়।
অবিশ্বাস্যভাবে এভাবে এদেশেই কুরআন শরীফ অবমাননার ঘটনা ঘটেই চলছে। নেদারল্যান্ড, ডেনমার্ক ইত্যাদি কাফির রাষ্ট্রের ইসলাম অবমাননাকে সহনশীল করার জন্য রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের দেশ বাংলাদেশেই এখন উদ্দেশ্যমূলকভাবে কুরআন শরীফ-এর অবমাননা করা হয়। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কুরআন শরীফ -এর পাতায় ছবি অঙ্কনের পর চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কুরআন শরীফ-এর পাতা দিয়ে ঠোঙ্গা বানানো হয়েছে।
এরপর বগুড়ার গাবতলীতে এক লম্পট ভণ্ড যুবকের চুরির অপরাধ প্রমাণ করতে গিয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় পবিত্র গ্রন্থ কুরআন শরীফ-এর উপর দু’পা রেখে ৩ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনা ঘটানো হয়।
বলাবাহুল্য, বাংলাদেশের মতো ধর্মপ্রাণ মুসলমান দেশে যদি কুরআন শরীফ-এর পাতা ছিঁড়ে ঠোঙ্গা বানানো হয় এমনকি কুরআন শরীফ-এর উপর দাঁড়ানোর ঘটনা ঘটানো হয়; তাহলে আর নেদারল্যান্ডে কুরআন শরীফ-এর পাতা ছিঁড়ে সিনেমা বানানো খুব বেশি দোষ কোথায়? এই দুষ্ট অনুভূতি তৈরির জন্য দুরভিসন্ধিমূলকভাবে এসব করা হয়।
উল্লেখ্য, উপরোক্ত ঘটনাবলী ইহুদী-খ্রিস্টানদের এজেন্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের।
তবে ‘কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না’- এ প্রতিশ্রুতির সরকারের সময় এত সাহস না পেলেও এত স্পর্ধা দেখাতে না পারলেও আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী চক্রের এদেশীয় দোসররা যে বসে নেই তা সমপ্রতি ‘দৈনিক আল ইহসান্থ-এ প্রকাশিত ‘ঘরজামাই’ শীর্ষক একটি খবরে পরিষ্কার প্রতিভাত হয়।
খবরের প্রথমাংশে বলা হয়,
“সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কোঁড়া গ্রামে ঘরজামাইদের এলাকা থেকে অপসারণ ও অত্যাচার বন্ধের দাবিতে তিনদফা ঝাড়- মিছিল হয়েছে। এলাকার শত শত নারী-পুরুষ এই মিছিলে অংশগ্রহণ করে।”
খবরের শেষাংশে বলা হয়,
“এলাকাবাসীর দাবি, ঘরজামাইরা এলাকা ছেড়ে যাতে দ্রুত চলে যায় এবং তাদের অত্যাচার হতে এলাকাবাসী যাতে রেহাই পায় এজন্য এলাকার চেয়ারম্যান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে। প্রকাশ থাকে যে, ইতোপূর্বেও আরো দুইবার ঘরজামাইদের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন মিছিল করেছিল।”
উল্লিখিত খবরটি যে সাধারণ নয় বরং খবরের অন্তরালে অনেক কিছু আছে তা শুধু বিচক্ষণ বিবেকেই উপলব্ধি সহজ।
প্রথমত ঘটনাটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল সাতক্ষীরার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি অজপাড়া গ্রামের নাম ‘কোঁড়া’।
একটি গ্রামে লোকসংখ্যা কত থাকে?
আর বিয়ে দেয়া মেয়ের সংখ্যাইবা কত থাকে?
একটি গ্রাম হিসেবে যে এ সংখ্যা সীমিত তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
কিন্থ খবরে বলা হয়েছে, এলাকার শত শত নারী-পুরুষ এই মিছিলে অংশগ্রহণ করে।
বলাবাহুল্য, পুরো গ্রামবাসীই যদি কোন মিছিলে অংশগ্রহণ করে তাহলেও সে কথিত শত শত নারী পুরুষের মিছিল হবে না তা সাধারণ সত্য।
প্রশ্ন হলো সব গ্রামবাসীই যদি এভাবে চলে আসে তাহলে যারা ঘরজামাই তারা গেলেন কই?
এবং যাদের জামাই বা বিবাহ দেয়া মেয়েই নেই তারাইবা গেলেন কই?
স্পষ্ট প্রতিভাত হচ্ছে, সে সংখ্যা নিয়ে এখানে বিশেষ কারচুপি করা হয়েছে।
শুধু তাই নয় ‘ঘরজামাই’ একটা নিতান্ত পারিবারিক বিষয়। তা নিয়ে মিছিল করা হবে, চেয়ারম্যান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সাহায্য চাওয়া হবে বিষয়টি কত অস্বাভাবিক এবং রহস্যজনক তা গভীর চিন্তার বিষয়।
কারণ, ঘরজামাইদের বিরুদ্ধে মিছিলে শ্বশুর-শাশুড়ীর কথা উল্লেখ নেই। বর্ণনা রয়েছে এলাকাবাসীর।
খবরে বলা হয়েছে, ইতোপূর্বে আরো দুইবার ঘরজামাইদের বিরুদ্ধে মিছিল হয়েছিল।
প্রশ্ন হলো- দেশের আর কোনো স্থানে কোনোদিন খবর হলোনা।
কিন্থ প্রত্যন্ত অঞ্চল ওই সাতক্ষীরার অজগ্রাম কোঁড়াতেই এ পর্যন্ত তিনবার মিছিল হয়ে গেলো।
এই অঘটন ঘটন পটীয়সীটা কে বা কারা?
বলাবাহুল্য, এর পেছনে যে কথিত এনজিও এবং তারও নেপথ্যে আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী মহল রয়ে গেছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
উল্লেখ্য, এ লেখার প্রথমে বলা হয়েছিল যে হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মানহানি করার জন্য ‘জুয়েল অব মদিনা’ অপন্যাস লেখা হয়েছিল।
সে ধারাবাহিকতায় এখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মানহানি তথা স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানি করার অপচেষ্টা চলছে।
কারণ, খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। সমুদয় অর্থ-সম্পদ সমর্পণ করেছিলেন এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার গৃহেই অবস্থান করতেন।
অপরদিকে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘ঘরজামাই’ হিসেবে রেখেছিলেন। অর্থাৎ আক্ষরিক অর্থে ‘ঘরজামাই’ বলতে যা বোঝায় তা মূলত খাছ সুন্নত।
কিন্থ বাল্যবিবাহের মতই ইহুদী-খ্রিস্টানরা ঘরজামাই শব্দটাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিন্দনীয় ও দূষণীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে চালাবার অপচেষ্টা করছে। তার একটি বিশেষ প্রমাণ হলো উক্ত মিছিলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘরজামাইদের বিরুদ্ধে অনেক অবমাননাকর বক্তব্য দেয়া হয়েছে।
এমনকি এটাও বলা হয়েছে, “এলাকাবাসী আরো জানায়, কোন ভালো ঘরের সন্তান কখনো ঘরজামাই থাকে না।” নাঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য, ‘ঘরজামাই’ তো এমনিতেই ‘ঘরজামাই’ হয়নি।
এলাকাবাসী করেছে বলেই ‘ঘরজামাই’। তা হলে তো প্রথমে এলাকাবাসীকেই দায়ী করতে হয়।
তাছাড়া শুধু ‘ঘরজামাই’ কেন?
জামাইরা কী স্ত্রীদের উপর অত্যাচার করেনা?
হাজার হাজার নারীরা যৌতুকের বলি হয় না?
কই তাদের বিরুদ্ধে তো আজ পর্যন্ত কোন মিছিল হয়নি। আর শুধুই কী ঘরজামাই-ই খারাপ হয়?
নিজের সন্তানরা কী খারাপ হয়না?
মাদকাসক্ত, সন্ত্রাসীরা কী কারো সন্তান নয়?
তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তো আজ
পর্যন্ত কোনো মিছিল হলো না কেনো?
সেক্ষেত্রে সর্বাগ্রে এ মিছিল হওয়া দরকার
সন্ত্রাসী মাদকাসক্ত দুর্নীতিবাজ সন্তানদের বিরুদ্ধে।
বলাবাহুল্য, সাতক্ষীরার কোঁড়া গ্রামের এ খবর আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে।
এদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী চক্র তাদের নিয়োগকৃত এজেন্টের মাধ্যমে কলকাঠি নাড়ছে তা পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করেছে।
এবং এরা খুবই উদ্দেশ্যমূলক ও দুরভিসন্ধিজনিত প্রক্রিয়ায় ‘বাল্যবিবাহ’ ‘ঘরজামাই’ এসব সুন্নতী চেতনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইহুদীরা তাদের গোপন বই ‘প্রটোকলে’ মুসলমানদের ক্ষতি ও ইসলামের অবমাননা করার একশ বছরের পরিকল্পনা এঁটেছিলো। মুসলমানদের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে তাদের সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা পূর্ণ কোশেশ করে যাচ্ছে।
ইহুদী-খ্রিস্টানরা তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যখন দেখেছে যে, মুসলমানদের মনে আর ঈমানী অনুভূতি প্রবল নেই,
মুসলমানদের ঈমানী জযবার ত্রুটি রয়েছে,
মুসলমান কাফিরদের কালচারে, রীতিতে, অনুভবে,
অনুভূতিতে একাকার হয়ে গিয়েছে- তখনই তারা একের পর এক ইসলাম অবমাননাকর চরম পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইহুদী-খ্রিস্টানরা চায় পৃথিবীতে ইসলামের কোন নিদর্শন না থাকুক। মুসলমানদের কোনো অস্তিত্ব না থাকুক। নাঊযুবিল্লাহ!
অথচ পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় সোয়া তিনশ কোটি মুসলমান। অর্ধশতেরও বেশি মুসলিম দেশ। পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি সম্পদ মুসলিম দেশসমূহের। মুসলিম দেশে মহান আল্লাহ পাক তিনি যে তেল-গ্যাস তথা খনিজ সম্পদ দিয়েছেন তার মুখাপেক্ষী ইউরোপ-আমেরিকাসহ গোটা বিধর্মী বিশ্ব। কাজেই মুসলিম বিশ্ব যদি ঈমানী চেতনায় বলীয়ান হয় তবে তাদের কোনো মতেই কাফির বিশ্বের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। বরং কাফির বিশ্বই মুসলিম বিশ্বের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবে।
তাই প্রত্যেক মুসলমানদের উচিত হবে- তাদের ঈমানী কর্তব্য হিসেবে ইহুদী-খ্রিস্টানদের ইসলাম বিদ্বেষী সব অপতৎপরতা বন্ধ করা। ইসলামের অবমাননা প্রতিহত করা এবং তার মূল উলামায়ে ছূ’দের চিহ্নিত ও নিশ্চিহ্ন করা। এর অন্যথা হলে কেউ নাজাত পাবে না

সূত্র: দৈনিক আল ইহসান
Read more ...

থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন শরীয়তসম্মত নয়


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উনার নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম। বাংলাদেশের ৯৭ ভাগ মানুষের দ্বীন হলো ইসলাম এছাড়া রাষ্ট্রধর্মও ইসলাম।
অতএব, ৯৭ ভাগ মুসলমান ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের দেশের সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- বিজাতীয় সংস্কৃতি থার্টি ফার্স্ট নাইটসহ সকল প্রকার ইসলাম বিরোধী হারাম কাজ বন্ধ করে দিয়ে মুসলমানদেরকে ইসলাম পালনে অর্থাৎ ইসলামের উপর ইস্তিক্বামত থাকার ব্যাপারে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা।
যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আল্লাহ পাক তিনি “সূরা আলে ইমরানের” ১৯ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলেন, “নিশ্চয়ই ইসলামই মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে একমাত্র দ্বীন।” অর্থাৎ ইসলাম হচ্ছে আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ওহীর মাধ্যমে নাযিলকৃত, একমাত্র পরিপূর্ণ, সন্থষ্টিপ্রাপ্ত, নিয়ামতপূর্ণ, অপরিবর্তনীয় ও মনোনীত দ্বীন। যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত বলবত থাকবে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আল্লাহ পাক তিনি “সূরা মায়িদার” ৩ নম্বর আয়াত শরীফ-এ আরো ইরশাদ করেন, “আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে (দ্বীন ইসলামকে) কামিল বা পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত তামাম বা পূর্ণ করে দিলাম এবং আমি তোমাদের দ্বীন ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট রইলাম।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আল্লাহ পাক তিনি দ্বীন ইসলামকে শুধুমাত্র পরিপূর্ণ সন্থষ্টিপ্রাপ্ত ও নিয়ামতপূর্ণ করেই নাযিল করেননি সাথে সাথে দ্বীন ইসলামকে মনোনীতও করেছেন। তাই দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য সমস্ত ধর্ম যা ওহী দ্বারা নাযিল করা হয়েছিলো যেমন, তাওরাত শরীফ, যাবূর শরীফ, ইনজীল শরীফ ও ১০০ খানা ছহীফা এবং মানব রচিত মতবাদ যা পূর্বে ছিলো এবং বর্তমানে যা রয়েছে ও ভবিষ্যতে যা হবে সেগুলোকে তিনি বাতিল ঘোষণা করেছেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা ইহুদীদের কাছ থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, এর কিছু আমরা লিখে রাখবো কি? হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তোমরাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছো? যে রকম ইহুদী-নাছারারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে? অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনিও যদি দুনিয়ায় থাকতেন, তাহলে উনাকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।” (মুসনাদে আহমদ, বাইহাক্বী, মিশকাত, মিরকাত, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, শরহুত ত্বীবী, তা’লীকুছ ছবীহ ইত্যাদি)
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট বা ১লা জানুয়ারি পালনের ইতিহাস ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এটা পালন মুসলমানদের কাজ নয়। ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ সালে জুলিয়াস সিজার সর্বপ্রথম ইংরেজি নববর্ষ বা থার্টি ফার্স্ট নাইট উৎসবের প্রচলন করে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, পহেলা জানুয়ারি পাকাপোক্তভাবে নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট হয় ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর। ধীরে ধীরে শুধু ইউরোপে নয় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ পালন করা হচ্ছে। ইরানে নববর্ষ বা নওরোজ শুরু হয় পুরনো বছরের শেষ বুধবার এবং উৎসব চলতে থাকে নতুন বছরের ১৩ তারিখ পর্যন্ত।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, বাদশাহ আকবরের ফরমান অনুযায়ী আমীর ফতেহ উল্লাহ শিরাজী উদ্ভাবিত বাংলা ফসলী সাল চালু হয় ১০ মার্চ ১৫৬৩। ইংরেজ আমলে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হলেও রাজস্ব আদায়ে ও অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলা সাল বেশি ব্যবহার করা হতো। অর্থাৎ ইতিহাস এটাই প্রমাণ করে যে, সব নববর্ষের প্রবর্তকই বিধর্মীরা। ইসলাম নববর্ষ পালনকে কখনোই স্বীকৃতি দেয় না।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, সংবিধানের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। সে প্রেক্ষিতে দেশে ইংরেজি ভাষাসহ বিভিন্ন উপজাতীয় ভাষার ঊর্ধ্বে যেমন রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদা ও প্রাধান্য তেমনি সংবিধানের ২ নম্বর ধারায় বর্ণিত রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের কথা স্বীকারের প্রেক্ষিতে অন্যান্য ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীর উপরে ইসলাম ও মুসলমানের মর্যাদা ও প্রাধান্য স্বীকৃত হওয়া উচিত এবং ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও অনেক বেশি হওয়া উচিত। যা মূলত প্রচলিত সংবিধানেরই ব্যাখ্যা।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মূলকথা হলো- সংবিধানের ২ নম্বর ধারায় বর্ণিত রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম-এর স্বীকারের প্রেক্ষিতে বিজাতীয় সংস্কৃতি থার্টি ফার্স্ট নাইটসহ কোনো ইসলাম বিরোধী কাজ গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশের সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- সরকারিভাবে থার্টি ফার্স্ট নাইটসহ সকল প্রকার ইসলাম বিরোধী কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া এবং সরকারিভাবে থার্টি ফার্স্ট নাইটসহ সকল প্রকার ইসলাম বিরোধী কাজ থেকে মুসলমানদের বিরত রাখা অর্থাৎ মুসলমানদেরকে ইসলাম পালনে বা ইসলামের উপর ইস্তিক্বামত থাকার ব্যাপারে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করা।
Read more ...

আশূরা ও আক্বাইদ


আরবী (হিজরী) বছরের প্রথম মাস হচ্ছে মুহর্‌রম মাস। এই মুহর্‌রম মাসের ১০ তারিখ হচ্ছে আশূরা। আশূরার নামকরণের ব্যাপারে উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ বিভিন্ন মত পোষণ করেন। তবে অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিম বলেন যে, এ দিনটি মুহর্‌রম মাসের ১০ তারিখ বলেই এটার নাম ‘আশূরা’ হয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন যে, আল্লাহ পাক উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে দশটি বুযূর্গ দিন উপহার দিয়েছেন, তন্মধ্যে আশূরার দিনটি ১০ম স্থানীয়। এ কারণেই এটার নাম ‘আশূরা’ রাখা হয়েছে। আবার কারো মত এই যে, এই দিনটিতে যেহেতু আল্লাহ পাক স্বীয় দশজন নবীকে ১০টি ভিন্ন ভিন্ন রহমত বর্ষণ করেছেন তাই এটার নাম আশূরা হয়েছে। আবার কারো মত এই যে, দিনটিতে যেহেতু আল্লাহ পাক স্বীয় ১০ জন নবীকে দশটি ভিন্ন ভিন্ন রহমত দান করেছিলেন, তাই এটার নাম হয় ‘আশূরা’। এ আশূরার দিন- (১) হযরত আদম আলাইহিস সালাম-এর দোয়া কবুল হয়েছে। (২) হযরত ইদ্‌রীস আলাইহিস সালামকে সম্মানিত উচ্চস্থানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল। (৩) হযরত নূহ আলাইহিস্‌ সালাম-এর নৌকা জুদী পাহাড়ের সাথে গিয়ে ঠেকেছিল। (৪) হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর বিলাদত শরীফ, খলীল উপাধি লাভ এবং নমরূদের অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তিলাভ করেছিলেন। (৫) হযরত দাঊদ আলাইহিস সালাম-এর দুয়া কবুল এবং উনার পুত্র হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম-এর বিশ্বব্যাপী কর্তৃত্ব প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। (৬) হযরত আউয়ুব আলাইহিস সালাম-এর রোগ নিরাময় হয়েছিল। (৭) আল্লাহ পাক ফিরাউনকে সদলবলে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে মেরেছিলেন এবং হযরত মুসা আলাইহিস সালাম সহজেই লোহিত সাগর পার হয়েছিলেন। (৮) হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম মাছের পেট হতে মুক্তি লাভ করেছিলেন। (৯) হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে এবং (১০) আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্‌সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম-এর ইছমত ঘোষণা করা হয়েছিল।
এছাড়াও এই আশূরার সাথে হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত-এর ঘটনা জড়িত। অথচ এই আশূরা আসলেই আমাদের দেশে কিছু নিম মোল্লা তাদের কিল্লতে ইল্‌ম কিল্লতে ফাহম অর্থাৎ কম জ্ঞান কম বুঝের কারণে মুসলমানদের মাঝে আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর বিপরীত, কুফরী আক্বীদা ছড়িয়ে থাকে। তারা নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণকে দোষারোপ করে বলে থাকে অমুক নবী অমুক ভূল করেছে, অমুক নবী তমুক ভূল করেছেন। (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) অথচ আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর আক্বীদা হলো “সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণ মাছুম বা নিষ্পাপ।” আবার তারা হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত-এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাতিবে ওহী হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে দোষারোপ করে থাকে, তাঁকে “রাজতন্ত্র ও রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা” বলে থাকে। (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) অথচ আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর আক্বীদা হলো “সমস্ত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ মাহফুজ বা সংরক্ষিত।”
এখানে উল্লেখ্য যে, আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারীদেরকে “রাবী” বলা হয়। এই রাবীগণের মধ্যে যাঁরা প্রথম শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত, তাঁদেরকে বলা হয় “ছেক্বাহ্‌ রাবী।” হাদীছ শরীফ বিশারদগণ (রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিম) “ছেক্বাহ রাবী” হওয়ার জন্য যে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন, তার মধ্যে মূল বিষয় হচ্ছে- (১) আদালত ও (২) জব্‌ত।
“জব্‌ত” হলো প্রখর স্মরণশক্তি যা একবার শুনলে আর কখনো ভুলে না। আর “আদালত”-এর মধ্যে চারটি শর্ত। তার মধ্যে প্রধান দু’টি হলো (ক) তাক্বওয়া, (খ) মুরুওওয়াত।
(ক) “তাক্বওয়া” হচ্ছে কুফরী, শেরেকী, বিদ্‌য়াতী, ফাসিকী কাজ থেকে বেঁচে থাকার সাথে সাথে কবীরা গুনাহ থেকে এমনকি ছগীরা গুনাহও বার বার করা থেকে বেঁচে থাকা।
(খ) “মুরুওওয়াত” হচ্ছে অশালীন, অশোভনীয়, অপছন্দনীয় এমনকি দৃষ্টিকটু কাজ থেকে বিরত থাকা। যেমন- রাস্তায় হেঁটে-হেঁটে খাদ্য খাওয়া, রাস্তায় অট্টহাস্য করা, চিৎকার করা ইত্যাদি।
আরো উল্লেখ্য যে, হাদীছ শরীফ বিশারদগণ (রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিম) তাদের বর্ণিত হাদীছকে “মওজূ” বা বানোয়াট বলে সাব্যস্ত করেছেন, যারা জীবনে একবার মাত্র ইচ্ছাকৃতভাবে হাদীছ শরীফ-এর ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে। আর যারা জীবনে ব্যক্তিগতভাবে মিথ্যা বলেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে তাদের বর্ণিত হাদীছ শরীফকে “মতরুক” বা পরিত্যাজ্য বলে সাব্যস্ত করেছেন। (তাদরীবুর রাবী, মুকাদ্দামাতুশ শায়খ, মীযানুল আখবার)
এখন ফিকিরের বিষয় এই যে, হাদীছ শাস্ত্র বিশারদগণ (রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিম) আল্লাহ্‌ পাক-এর বান্দা ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত, এমনকি তাঁরা কোন দিন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সমমর্যাদার অধিকারীও হতে পারবেনা, তা সত্ত্বেও তাঁদের মতে আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করার ক্ষেত্রে রাবীগণকে “বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী বা ছেক্বাহ রাবী” হিসেবে মনোনীত বা চিহ্নিত করতে ছেক্বাহ রাবীর যদি এত শর্ত-শারায়েত ও যোগ্যতার প্রয়োজন হয়, অর্থাৎ যদি কেউ জীবনে একবার মিথ্যা বলে তাহলে ছেক্বাহ রাবী হওয়া তো দূরের কথা তার কোন হাদীছই গ্রহণযোগ্য নয় বলে শর্তারোপ করা হয়েছে। এরপর ছগীরা গুণাহ্‌ তো দূরের কথা যা সাধারণ মুরুওয়াতের খিলাফ, যেমন রাস্তায় হেঁটে হেঁটে যদি কেউ খাদ্য খায় সেও ছেক্বাহ্‌ রাবীর অন্তর্ভূক্ত হতে পারে না। তবে যিনি হাদীছ বিশারদগণ (রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণ) সকলেরই রব ও খালিক, তিনি তাঁর পবিত্র কালাম বর্ণনা করা বা পৌঁছে দেয়া বা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে যাঁদেরকে নবী ও রসূল (আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালাম) হিসেবে মনোনীত করেছেন, তাঁদের জন্য কি মানদন্ড নির্ধারণ করেছেন বা কতটুকু শর্তারোপ করেছেন? তাঁদেরকে কতটুকু যোগ্যতা দান করেছেন? আর তাঁরা কতটুকু মা’ছূম হওয়া শর্তারোপ করেছেন? আর ছেক্বাহ্‌ রাবীর তুলনায় তাঁদের কত বেশী যোগ্যতা, মা’ছূম ও নিষ্পাপ হওয়া প্রয়োজন? বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ ছেক্বাহ্‌ রাবীগণের চেয়েও বহু বহু গুণে যোগ্যতা সম্পন্ন ও মা’ছূম। অতএব, তাঁদের দ্বারা ভুল-ত্রুটি, গুণাহ্‌ ইত্যাদি প্রকাশ পাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। ঠিক একইভাবে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ, যাঁরা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর নাযিলকৃত কুরআন শরীফ পরবর্তী উম্মতদের নিকট পৌঁছে দেয়ার জন্য আল্লাহ্‌ পাক কর্তৃক মনোনীত হয়েছেন, তাঁদের জন্য আল্লাহ্‌ পাক কি মানদন্ড নির্ধারণ করেছেন বা কতটুকু শর্তারোপ করেছেন? তাঁদেরকে কতটুকু যোগ্যতা দান করেছেন? আর তাঁরা কতটুকু মাহফুজ হওয়া শর্তারোপ করেছেন? আর ছেক্বাহ্‌ রাবীর তুলনায় তাঁদের কত বেশী যোগ্যতা, মাহফুজ ও সংরক্ষিত হওয়া প্রয়োজন? বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ ছেক্বাহ্‌ রাবীগণের চেয়েও বহু গুণে যোগ্যতা সম্পন্ন ও মাহফুজ। অতএব, তাঁদের দোষারোপ করা করা কোন ভাবেই বৈধ নয়।
এখন নিম মোল্লারা প্রশ্ন করতে পারে যে, নবী ও রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ যদি মা’ছূম হয়ে থাকেন তাহলে কুরআন শরীফ-এর তাঁরা গুণাহ্‌-খতা করেছেন বা তওবা করেছেন বলে আয়াত শরীফ নাযিল হলো কেন? মূলতঃ তাদের আক্বল-সমঝের চরম ঘাটতির কারণে তারা এ ধরণের কথা বলতে পারে। কুরআন শরীফ-এ যে আয়াত শরীফগুলোতে গুণাহ্‌-খতা করেছেন বা তওবা করেছেন বলে উল্লেখ আছে যে সমস্ত আয়াত শরীফগুলোর সরাসরি অর্থ করা হারাম। যেমন আল্লাহ্‌ পাক সূরা আলে ইমরান-এর ৫৪তম আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেন,
مَكَرُوْا وَمَكَرَ اَللهُ وَاَللهُ خَيْرُ الْمَاكِرِيْنَ٭
আয়াত শরীফ-এ ব্যবহৃত “মকর” (مَكَر) শব্দের অর্থ হচ্ছে ধোকা, যা সকল অভিধানে উল্লেখ আছে। সে হিসেবে উক্ত আয়াত শরীফ-এর অর্থ দাঁড়ায়- “তারা (কাফিররা) ধোকাবাজী করলো, আল্লাহ পাকও ধোকাবাজী করলেন, আল্লাহ পাক সর্বত্তোম ধোকাবাজ।” (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক)
আল্লাহ্‌ পাক-এর শান-এ এই অর্থ করলে ঈমান থাকবে কি? থাকবে না। আর তাই এর অর্থ ঘুরিয়ে করতে হবে, যা আল্লাহ্‌ পাক-এর শান-মান সম্মত। সেজন্য আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর ইমাম-মুজতাহিদ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি উক্ত আয়াত শরীফ-এর অর্থ করেছেন- “তারা (কাফিররা) ধোকাবাজী করলো, আল্লাহ পাক প্রজ্ঞা অবলম্বন করলেন, আল্লাহ পাক সর্বত্তোম প্রজ্ঞা অবলম্বনকারী।”
এখানে আল্লাহ পাক-এর শান-এ “মকর” (مَكَر) শব্দের শাব্দিক অর্থ গ্রহন করলে সুস্পষ্ট কুফরী হয় বিধায় তাঁর শান-এ “মকর” (مَكَر) শব্দের অর্থ গ্রহন করা হয়েছে সর্বত্তোম প্রজ্ঞা অবলম্বনকারী। ঠিক একইভাবে নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ-এর শান-এও এমন অর্থ গ্রহণ করতে হবে, যাতে তাঁদের শান-মান-এর খিলাফ না হয়। যেমন সূরা ত্ব-হা-এর ১২১তম আয়াত শরীফ-এ আল্লাহ্‌ পাক হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম সম্পর্কে ইরশাদ করেন,
وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى
আবার, কুরআন শরীফ-এর অন্যত্র (সূরা নাযিয়াত ২১) আল্লাহ্‌ পাক ফিরাউন সম্পর্কে ইরশাদ করেন,
فَكَذَّبَ وَعَصَى
আয়াত শরীফদ্বয়ে ব্যবহৃত আ’ছা (عَصٰي) শব্দের অর্থ হচ্ছে নাফরমানী করা, যা সকল অভিধানে উল্লেখ আছে। সে হিসেবে ফিরাউন সম্পর্কে ইরশাদকৃত আয়াত শরীফ-এ ব্যবহৃত আ’ছা (عَصٰي) শব্দের যে অর্থ হবে হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম সম্পর্কে ইরশাদকৃত আয়াত শরীফ-এ ব্যবহৃত আ’ছা (عَصٰي) শব্দের একই অর্থ হয় কি করে? আল্লাহ্‌ পাক-এর খলীফা ও রসূল হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম ও আল্লাহ্‌ পাক-এর শত্রু ফিরাউন কি করে একই মর্যাদাসম্পন্ন হতে পারে? কোন দিনই পারে না। যে বা যারা একই অর্থ করবে তারা কোন দিনই মুসলমান হতে পারেনা, তারা কাট্টা কাফির।
এমনিভাবে নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালাম তওবা করেছেন বলে যেসব আয়াত শরীফ-এ উল্লেখ আছে, সেসব আয়াত শরীফ-এরও অর্থ ঘুরিয়ে তাঁদের শান-মান অনুযায়ী করতে হবে। যেমন আল্লাহ্‌ পাক সূরা আরাফ-এর ২৩তম আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেন, হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম আল্লাহ্‌ পাক-এর দরবারে দু’য়া করলেন-
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
আবার, সূরা আম্বিয়া-এর ৮৭তম আয়াত শরীফ-এ আল্লাহ্‌ পাক ইরশাদ করেন, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম মাছের পেটে থেকে আল্লাহ্‌ পাক-এর দরবারে দু’য়া করলেন-
لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
আল্লাহ্‌ পাক কাফিরদের সম্পর্কেও “জালিম” (ظَالِمْ) শব্দটি কুরআন শরীফ-এর বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করেছেন। এখন হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম এবং হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম-এর শান-এ ব্যবহৃত “জালিম” (ظَالِمْ) শব্দটি এবং কাফিরদের সম্পর্কে ব্যবহৃত “জালিম” (ظَالِمْ) শব্দটির একই অর্থ হবে কি? কস্মিনকালেও নয়। অনুরূপভাবে কুরআন শরীফ-এ ব্যবহৃত যে শব্দগুলো আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের শান-এর খিলাফ হয়, সে শব্দগুলোর অর্থ তাঁদের শান-মান অনুযায়ী করতে হবে। অন্যথায় ঈমান থাকবে না, কাট্টা কাফির হতে হবে।
আবার এটাও বলতে হয় যে, আল্লাহ্‌ পাক-এর সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ যেখানে আল্লাহ্‌ পাক-এর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, সেখানে তাঁদের ভূল হয় কি করে? বরং তাঁরা ভূল করেছেন বলার অর্থ হলো ওহীতে ভূল ছিল বলা, যার অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহ্‌ পাক ভূল করেছেন। (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক)
সুতরাং সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের দ্বারা কখনই কোন প্রকার ভূল-ত্রুটি করা সম্ভবপর নয়। আর এটিও প্রমাণিত হলো যে, যে সমস্ত নামধারী মুফাস্‌সিরে কুরআন, মুহাদ্দিছ, শায়খুল হাদীছ, ইমাম, খতীব তথা আলিম দাবীদার যারা নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের শান-এর খিলাফ বক্তব্য প্রদান করে তারা কাট্টা কাফির।
কোন নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামকে যেমন কোন ব্যাপারে দোষারোপ করা জায়িয নেই তদ্রুপ কোন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকেও কোন ব্যাপারে দোষারোপ করা জায়িয নেই। এ বিষয়ে আল্লাহ্‌ পাক তাঁর কালামে পাকে ইরশাদ করেন,
وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى
অর্থঃ “একজনের পাপের বোঝা অপরজন বহন করবেনা।” (সূরা আনয়াম ১৬৪)
এ আয়াত শরীফ দ্বারা বুঝা যায় যে, সন্তানের অপরাধের জন্য পিতাকে এবং পিতার অপরাধের জন্য সন্তানকে দায়ী করা বৈধ নয়। যদি ইয়াযীদের অপরাধের জন্য হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে দায়ী বা দোষারোপ করা হয়, তাহলে কাবিলের জন্য হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম দোষী সাব্যস্ত হয়ে যান। (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) একইভাবে কিনানের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস্‌ সালামও দোষী সাব্যস্ত হয়ে যান। (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) মূলতঃ হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন তাঁর ছেলে ইয়াযীদকে খলীফা নিযুক্ত করেন তখন ইয়াযীদ ভাল ছিল। কিন্তু মুনাফিকদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে পরবর্তীতে ইয়াযীদ গুমরাহ্‌ হয়ে যায়।
ঠিক একইভাবে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর খিলাফতের পর তাঁর ছেলে খলীফা নিযুক্ত হওয়ায় যদি তাঁকে “রাজতন্ত্র ও রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা” বলা হয়। তাহলে আল্লাহ্‌ পাক-এর নবী ও রসূল হযরত দাউদ আলাইহিস্‌ সালাম যিনি ছিলেন খলীফাতুল্লাহ্‌ অর্থাৎ আল্লাহ্‌ পাক-এর খলীফা, তাঁর পর তাঁর ছেলে হযরত সুলাইমান আলাইহিস্‌ সালামকে আল্লাহ্‌ পাক সারা পৃথিবীর খলীফা নিযুক্ত করায়, আল্লাহ্‌ পাকই তো রাজতন্ত্র ও রাজবংশের প্রতিষ্ঠাকারী সাব্যস্ত হন। (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) এছাড়া হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর পর তাঁর ছেলে হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুও তো খলীফা নিযুক্ত হয়েছিলেন। তাই বলে কি, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে রাজতন্ত্র ও রাজবংশ জারী হয়েছে? (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) মূলতঃ আল্লাহ্‌ পাক, হযরত নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, আউলিয়ায়ে কিরাম রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিম কেউই রাজতন্ত্র ও রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা নন। কেউ যদি তা বলে তবে সেটা হবে প্রকাশ্য তোহ্‌মত ও কুফরী।
আরো উল্লেখ্য যে, রাজতন্ত্র বা রাজবংশ ইসলামের অনেক পূর্বকাল থেকেই চলে আসছে। আর তাই আমরা হাদীছ শরীফ-এ দেখতে পাই যে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্‌ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোম, পারস্য, আবিসিনিয়া, চীন, মালাবার, গুজরাট ইত্যাদির সম্রাট বা রাজাদের নিকট ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিয়ে দূত মারফত পত্র পাঠিয়েছেন।
অতএব, সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রাজতন্ত্র বা রাজবংশ কোনটিরই প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না। এছাড়া হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর পরবর্তী খলীফাগণের তালিকায় দেখা যায় ইয়াযীদের সাড়ে তিন বছর খিলাফতের পর ইয়াযীদের ছেলে দ্বিতীয় মুয়াবিয়া শুধুমাত্র তিন মাস খিলাফত পরিচালনা করতঃ ইন্তিকাল করেন। তিনি ইন্তিকালের সময় খিলাফত পরিচালনার ব্যাপারে ওছীহত করেন যে, আপনারা যাকে উপযুক্ত মনে করবেন তাকেই খলীফা নিযুক্ত করবেন। অতঃপর যে খলীফাগণ খিলাফত পরিচালনা করেছেন তাদের কেউই হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বংশধর ছিলেন না।
সুতরাং বুঝা গেল যে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণের কারণেই এরূপ বক্তব্য প্রদান করা হয়। আর আল্লাহ্‌ পাক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ সম্পর্কে ইরশাদ করেন,
لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ
অর্থঃ “কাফিররাই তাঁদের (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের) প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে।” (সূরা ফাতহ্‌ ২৯)
আর হাদীছ শরীফ-এও ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি হাবীবুল্লাহ্‌ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে কাফির।” (নাসীমুর রিয়ায)
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার যে, আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদরের দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মর্মান্তিক শাহাদাত-এ মুসলিম উম্মাহ্‌র অন্তর ব্যাথাতুর হবে তা চরম সত্য কথা এবং এটা ঈমান মজবুতীর আলামতও বটে। কিন্তু এজন্য আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে দোষারোপ করা কস্মিনকালেও শরীয়তসম্মত হতে পারে না। যারা হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে দোষারোপ করে তারা মূলতঃ তাঁর মহান মর্যাদা সম্পর্কে নিতান্তাই অজ্ঞ।
স্মরণযোগ্য যে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছাহাবীগণের (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) মধ্যে একজন বিশেষ শ্রেণীর ছাহাবী যাঁকে উলুল আ’যম বা জলীলুল ক্বদর ছাহাবী বলা হয়। তিনি ছিলেন আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, কাতিবীনে ওহীর সদস্য, হাদীছ শরীফ-এর রাবী, ফক্বীহ ইত্যাদি মর্যাদার অধিকারী। তাঁর ইল্‌মের পূর্ণতা, হিদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা, তাঁর দ্বারা লোকদের হিদায়েত লাভ, কিতাব শিক্ষাদান এবং জাহান্নাম থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্‌ পাক-এর নিকট দু’য়া করেছেন। এ প্রসঙ্গে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,“আমার উম্মতের প্রথম যে দল সমুদ্রের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে তাঁদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব।” (বুখারী শরীফ)
হযরত ইমাম তারাবী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ২৮ হিজরীতে সর্বপ্রথম সমুদ্র যুদ্ধের মাধ্যমে কাবরাসের উপর আক্রমণ করেন এবং কাবরাস তিনিই বিজয় করেন।” (তাবারী)
হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মর্যাদা-মর্তবার মধ্যে অন্যতম মর্যাদা হলো, তিনি ছিলেন একজন আদিল বা ইন্‌সাফগার খলীফা। তাঁর ন্যায় বিচার ও ইন্‌সাফ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় যে, জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী হযরত সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, “আমার দৃষ্টিতে হযরত উছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, এরপর হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর চেয়ে অধিক ন্যায় বিচারক কেউ নেই।” (বিদায়া)
এক ব্যক্তি মুয়াফা ইবনে ইমরানকে বললো, ন্যায় বিচারের দিক দিয়ে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর মধ্যে কি সম্পর্ক রয়েছে? একথা শুনে তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, “হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের প্রতি কোন প্রকার ক্বিয়াস করা যাবে না। হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ছাহাবী, বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয়, কাতিবে ওহী ও আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আমীন (আমানতদার)।” (নাসীমুর রিয়ায)
হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ফযীলত সম্পর্কে আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ হযরত আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে মুবারক রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, “হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু শ্রেষ্ঠ? না হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, আল্লাহ্‌ পাক-এর কসম! হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ঘোড়ায় চড়ে জিহাদে যেতেন, তখন ঘোড়ার নাকে যে ধুলাবালিগুলো প্রবেশ করতো সে ধুলাবালিগুলোও হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি হতে বহুগুণে শ্রেষ্ঠ।” (ফতওয়ায়ে হাদীছিয়াহ্‌)
সুতরাং এত সকল মর্যাদা-মর্তবার পরও যারা হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তাদের জন্য ইমাম শিহাবুদ্দীন খাফ্‌ফাযী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর কথাই অধিক প্রযোজ্য। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, গালি দেয়, নাকিস বলে, সমালোচনা করে, সে হাবিয়া দোযখের কুকুরসমূহের মধ্য হতে একটি কুকুর।” (নাসীমুর রিয়ায)
অতএব স্পষ্ট প্রমাণিত হলো যে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু শুধু ছাহাবীই ছিলেন না, বরং মর্যাদাপূর্ণ, জলীলুল ক্বদর, ন্যায়পরায়ণ একজন খলীফাও ছিলেন। আর আল্লাহ্‌ পাক হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুসহ সকল ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম-এর প্রতি সন্তুষ্ট। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ পাক ইরশাদ করেন,
رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ
অর্থঃ “আল্লাহ পাক তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট।” (সূরা মায়েদা ১১৯, সূরা তওবা ১০০, সূরা বাইয়্যিনাহ ৮)
কাজেই আশূরার দিনে সংঘটিত নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণ-এর বরকতময় ঘটনা ও হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত-এর ঘটনা থেকে আমাদেরকে ইবরত-নছীহত গ্রহণের পাশাপাশি, এই বিষয়ে আমাদের আক্বীদাকেও শুদ্ধ করে নিতে হবে। আর তথাকথিত আলিমদের বদ সংশ্রব থেকে বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহ্‌ পাক আমাদের সকলকে আক্বীদা শুদ্ধ করার এবং তথাকথিত আলিমদের বদ সংশ্রব থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। (আমিন)
Read more ...

পবিত্র আশূরা তথা ১০ই মুহর্‌রম-এর দিনের শ্রেষ্ঠত্ব, ফযীলত ও আমলসমূহ


মুহর্‌রম মাস একটি হারাম বা পবিত্র মাস। মুহর্‌রম মাসের শ্রেষ্ঠতম দিনটি হচ্ছে আশূরা। ইহা আরবী “আশারুন” শব্দ হতে উদগত। অর্থাৎ মুহররম মাসের দশম দিনটি আশূরা হিসেবে পরিচিত।
এ প্রসঙ্গে “মিরকাত শরহে মিশকাত” কিতাবে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “তোমরা মুহর্‌রম মাসকে এবং এর মধ্যস্থিত আশূরার দিনকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি মুহর্‌রম মাসকে তথা আশূরার দিনকে সম্মান করবে, আল্লাহ পাক তাঁকে জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।”
এ মাসে বেশি বেশি তাওবাহ-ইস্তিগফার, যিকির-ফিকির, দোয়া-দুরূদ, তাসবীহ-তাহলীল পাঠ করার মাধ্যমে পরিপূর্ণ বরকত অর্জন করা সকল মু’মিন-মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য।
এ মাসের ফাযায়িল-ফযিলত বর্ণনা করতে গিয়ে আরিফবিল্লাহ হযরত মাওলানা ইকবালুদ্দীন আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর “মু’মিনকে মাহ ওয়া সাল” কিতাবের ১৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, “ছাহাবী হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন যে, মুহর্‌রম মাস হচ্ছে সমস্ত মাসের সরদার।” (দাইলামী শরীফ, মাসাবাতা বিস্‌ সুন্নাহ)

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন দেশে নববর্ষ উপলক্ষে পহেলা তারিখে যেমন- ১লা বৈশাখ, ১লা জানুয়ারি, পহেলা মুহর্‌রম ইত্যাদি তারিখে ভাল ভাল খাওয়ার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়, ইহা আদৌ শরীয়তসম্মত নয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে পহেলা বৈশাখ, পহেলা জানুয়ারি বা পহেলা মুহর্‌রম ভাল খাওয়ার জন্য আলাদাভাবে কোন তাগিদ করা হয়নি। বরং দশই মুহর্‌রমে অর্থাৎ পবিত্র আশূরা-এর দিনে প্রত্যেক পরিবারের প্রধান ব্যক্তিকে তার পরিবারের সদস্যদেরকে ভাল খাদ্য খাওয়ানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

১০ই মুহর্‌রম বা আশূরার দিনের বরকতময় ঘটনাসমূহঃ
কিতাবে উল্লেখ করা হয়, এই আশূরার দিনে অসংখ্য ঘটনা সংঘটিত হয়েছে- যা সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা হলো
১. মহান আল্লাহ পাক এই মুহররমের ১০ তারিখে সৃষ্টির সূচনা করেন।
২. আশূরার দিন শুক্রবার ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে।
৩. এ দিনই আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র ওজুদ মুবারক সৃষ্টি করা হয় এবং মর্যাদা, সম্মান ও খুছূছিয়ত ও হাবীবুল্লাহ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। (সুবহানাল্লাহ)
৪. এই দিনে হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম-এর দোয়া মুবারক কবুল করা হয়।
৫. এই দিনে হযরত ইদ্‌রিস আলাইহিস্‌ সালামকে আকাশে তুলে নেয়া হয়
৬. এই দিনে হযরত নূহ আলাইহিস্‌ সালাম এবং উনার সঙ্গী সাথী যারা ছিলেন, আল্লাহ পাক তাঁদের মহাপ্লাবন থেকে মুক্তি দেন।
৭. আল্লাহ পাক এদিনে হযরত মূসা আলাইহিস্‌ সালাম-এর সাথে কথা বলেন এবং তাওরাত শরীফ উনার উপর নাযিল করেন।
৭. এদিনে বণী ইস্‌রাঈল সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ পাক লোহিত সাগরের উপর দিয়ে রাস্তা করে দেন। যার উপর দিয়ে হযরত মূসা আলাইহিস্‌ সালাম এবং তার সম্প্রদায় পার হয়ে যান। আর ফেরাউনের দলবল ও সৈন্যসামন্তসহ পানিতে ডুবে মারা যায়।
৯. আল্লাহ পাক এদিনে হযরত ইউনূস আলাইহিস্‌ সালামকে মাছের পেট থেকে মুক্তি দেন।
১০. হযরত আউয়ুব আলাইহিস্‌ সালামকে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সুস্থতা দান করেন।
১১. এদিনে দীর্ঘ দিন বিচ্ছেদের পর হযরত ইউসূফ আলাইহিস্‌ সালামকে উনার পিতা হযরত ইয়াকুব আলাইহিস্‌ সালাম-এর কাছে ফিরিয়ে দেন।
১২. এদিনে হযরত দাউদ আলাইহিস্‌ সালাম-এর দোয়া আল্লাহ পাক কবুল করেন।
১৩. হযরত সোলায়মান আলাইহিস্‌ সালামকে উনার রাজত্ব বা কর্তৃত্ব দেয়ার ঘোষণা দেন।
১৪. আল্লাহ পাক এ দিনে হযরত ঈসা আলাইহিস্‌ সালামকে আসমানে তুলে নেন।
১৫. এই ১০ই মুহররম আল্লাহ পাক-এর হাবীব, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয়তম দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কারবালার প্রান্তরে মর্মান্তিকভাবে শাহাদাত বরণ করেন, যে ঘটনা কায়িনাতবাসীকে ব্যথিত ও মর্মাহত করে তবে মুসলিম উম্মাহকে শিক্ষা দেয় ত্যাগের ও সত্যের। সুব্‌হানাল্লাহ!

আহ্‌লে বাইতগণ-এর আলোচনাঃ
মুহর্‌রম মাসের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল হচ্ছে- আহ্‌লে বাইত তথা হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনা করা। কেননা যার আলোচনা যত বেশী করা হয় তার মুহব্বত ততই বৃদ্ধি পায়। আর আহ্‌লে বাইতগণ-এর প্রতি গভীর মুহব্বত ভালবাসা, পরকালীন মুক্তি এবং আল্লাহ পাক ও উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টির কারণ। রহমত, বরকত ও সাকীনা লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মর্মে দোয়া করেন যে, “হে আল্লাহ পাক! আমি হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে মুহব্বত করি। আপনিও উনাদেরকে মুহব্বত করুন এবং যে ব্যক্তি উনাদেরকে মুহব্বত করবে তাঁকেও আপনি মুহব্বত করুন।” (তিমমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৫৭০)
সাথে সাথে আশূরা থেকে আরেকটি ইবরত ও নছীহত হাছিল করতে হবে যে, হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কুখ্যাত ইয়াযিদের কুখ্যাত বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেন কিন্তু তবুও অসত্যকে মেনে নেননি। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। কাজেই মুহর্‌রমের দশম তারিখে কুখ্যাত ইয়াযিদ কর্তৃক নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদরের নাতি সাইয়্যিদাতুন্‌ নিসা হযরত মা ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা তায়ালা আনহা-এর নয়নের মণি হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নির্মম শাহাদতবরণ বাহ্যিক দৃষ্টিতে দুঃখজনক, কষ্টদায়ক এবং বেদনাদায়ক হলেও প্রকৃত পক্ষে এর মাঝেই মুসলমানদের জন্য এক বিরাট নছীহত ও ইবরত রয়েছে। আর তাহলো মাল-সম্পদ এমনকি জীবন দিয়েও হক্বের জন্য বাতিল শক্তির বিরুদ্ধে মুকাবিলা ও আমরণ কোশেশ করা।

আশুরার রোযার ফযীলতঃ
মহান আল্লাহ পাক-এর রহমত, বরকত ও সাকীনা এবং মাগফিরাত-ক্ষমা সম্বলিত মুহররম মাসের অন্যতম আমল হচ্ছে, আশূরার রোজা। রমাদ্বান শরীফের রোযা ফরয হওয়ার পূর্বে আশূরার রোযাই ফরয ছিল।
কাজেই রমাদ্বান শরীফ-এর রোযার পরই হচ্ছে, এ রোযার স্থান। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “রমাদ্বান শরীফ-এর রোযার পর আল্লাহ পাক-এর মাস মুহর্‌রমের রোযাই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ তথা ফযীলতপূর্ণ।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, তিরমিযী শরীফ ও রিয়াদুছ্‌ ছালেহীন)
হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, এক ব্যক্তি এসে আল্লাহ পাক-এর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! রমাদ্বান মাসের পর আর কোন্‌ কোন্‌ মাসের রোযা রাখতে মুবারক নির্দেশ দিয়ে থাকেন? তখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদি তুমি রমাদ্বান মাসের পর আরো রোযা রাখতে চাও তবে মুহর্‌রম মাসে রোযা রাখ। কেননা এটা আল্লাহ পাক-এর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে যেদিন আল্লাহ পাক এক সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করেছেন এবং তিনি আর এক সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করবেন।” (তিরমিযী শরীফ, আহমাদ)
উক্ত হাদীছ শরীফ মুয়াফিক শাইখুল আলম, আরিফ বিল্লাহ্‌, আশেকে রসূল, আল্লামা হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যে কোন কঠিন গুণাহ্‌গার ব্যক্তি যদি আশূরার দিন তওবা করে তাহলে আল্লাহ পাক অবশ্যই তার তওবা কবুল করবেন।” (মাছাবাতা বিস্‌ সুন্নাহ্‌, মু’মিন কে মাহ ওসাল)
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, “নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং আশূরা-এর দিন রোযা রেখেছেন এবং ঐ দিনে সকলকে রোযা রাখার হুকুম দিয়েছেন।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, রিয়াদুস্‌ সালেহীন)
হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত আছে, আখিরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আশূরার রোযার ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “এটা বিগত বৎসরের সমস্ত গুণাহর কাফ্‌ফারা স্বরূপ।” (মুসলিম শরীফ)
উল্লেখ্য যে, অন্যান্য মাসে একটি রোযা রাখতে কোন অসুবিধা নেই; কিন্তু আশূরার রোযা একটি রাখা মাকরূহ। কেননা ইহুদীরা আশূরার দিনে রোযা রেখে থাকে। আর আখিরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদী-নাছারাদের অনুসরণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। হাদীছ শরীফ-এ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের ভিন্ন অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে সে আমাদের দলভূক্ত নয়। কাজেই তোমরা ইহুদী এবং নাছারাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করোনা।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ-৩৯৯ পৃষ্ঠা)
কাজেই আশূরা উপলক্ষ্যে কমপক্ষে দু’টি রোযা রাখতে হবে। ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ এ দু’দিন রোযা রাখতে হবে। তবে ৯ ও ১০ তারিখে রোযা রাখাই উত্তম।
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, হযরত আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশূরার দিন রোযা রাখলেন এবং অন্যদেরকে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন। তখন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়লা আনহুমগণ আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এদিনকে ইয়াহুদী ও নাছারারা সম্মান করে। তখন নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদি আমি আগামী বৎসর মহান আল্লাহ পাক-এর সাক্ষাতে না যাই অর্থাৎ বিছাল শরীফ যদি না হয় তাহলে অবশ্যই নবম তারিখেও রোযা রাখবো।” (মিশকাত শরীফ ১৭৮ পৃষ্ঠা)

ইফতারের ফযীলতঃ
আশূরার রোযার ইফতারীর ফযীলত সম্পর্কে আখিরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “আশুরার দিন যে ব্যক্তি কোন আশূরার রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে যেন সমস্ত উম্মতী হাবীবীকে ইফতার করালো।” (রিয়াদুস্‌সালেহীন, মা সাবাতাবিস্‌ সুন্নাহ)


আশূরার দিন পরিবারবর্গকে ভাল খাওয়ানোঃ
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আশূরার দিন তার পরিবারবর্গকে ভাল খাওয়াবে-পরাবে আল্লাহ পাক সারা বৎসর তাকে স্বচ্ছলতা দান করবেন।” (তিবরানী শরীফ, শোয়াবুল ঈমান, মা-ছাবাতা-বিস্‌সুন্নাহ্‌)

আশূরার দিন চোখে সুরমা দেয়ার ফযীলতঃ
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, আখিরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আশূরার দিন মিশ্‌ক মিশ্রিত সুরমা চোখে দিবে সেদিন হতে পরবর্তী এক বৎসর তার চোখে কোন প্রকার রোগ হবেনা।” (শুয়াবুল ঈমান, দায়লামী, মাছাবাতা বিস্‌সুন্নাহ্‌, মুমিনকে মাহ ওসাল-২৩)

আশুরা উপলক্ষে গোসলের ফযীলতঃ
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আশূরার দিন গোসল করবে আল্লাহ পাক তাকে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। মৃত্যু ব্যতীত তার কোন কঠিন রোগ হবেনা এবং অলসতা ও দুঃখ-কষ্ট হতে নিরাপদ থাকবে।”

আশূরার দিন গরীবদেরকে খাদ্য দানের ফযীলতঃ
মাওলানা ইকবালুদ্দীন আহমাদ সাহেব উনার “মু’মিনকে মাহ ওসাল” কিতাবের ২৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন, “আশূরার দিন যে ব্যক্তি আহ্‌লে বাইতের গরীব-মিসকীনগণকে পেট ভরায়ে খাদ্য খাওয়াবে সে ব্যক্তি বিদ্যুতের গতির ন্যায় পুলসিরাত পার হবে।”
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আশুরার দিন কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতিমের মাথায় হাত স্পর্শ করে এবং কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে আল্লাহ পাক তাঁকে বেহেশতের দস্তর খানায় খাদ্য খাওয়াবেন ও জান্নাতের খালিস শরবত “সালসাবীল” ঝর্ণা থেকে পানি পান করাবেন।”
সুতরাং, বুঝা যাচ্ছে, মুহর্‌রম মাসকে সম্মান করা এবং আশূরা মিনাল মুহর্‌রমকে সম্মান করা ওয়াজিব। তাই মুহর্‌রমকে অসম্মানকারীরা জাহান্নামী তথা জান্নাত থেকে বঞ্চিত। মুহর্‌রম মাসে ও অন্য যে কোন মুহূর্তে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ-এর অসম্মানী করা, তা’জিয়া করা, মাতম করা, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে গালমন্দ করা হারাম ও কুফরী। এগুলো আশূরাকে অসম্মান করার পরিচায়ক; যা লা’নতগ্রস্ত ও জাহান্নামী হওয়ার কার্যকলাপ। আয় আল্লাহ পাক! বিশ্ববাসীকে মুহর্‌রমুল হারামের যথাযথ তা’যীম করে বরকত, রহমত অর্জন করার তাওফিক দান করুন।
Read more ...