by Admin
|
posted: Wednesday, July 28, 2010
|
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, হে মহিলারা! তোমরা (পর্দার সাথে) নিজ ঘরে অবস্থান কর, জাহিলিয়াত যুগের মহিলাদের মত বেপর্দা হয়ে ঘুরে বেড়াবে না। বোরকা তথা পর্দা মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার এবং পর্দা পালন করা প্রত্যেক মহিলাদের জন্য ফরয। যা সম্মান ও ব্যক্তিত্বের প্রতীকও। বোরকা তথা পর্দার সমালোচনা করা ও পর্দা করতে বাধ্য করা যাবে না বলা প্রকৃতপক্ষে একমাত্র মনোনীত দ্বীন ‘ইসলাম’-এর সমালোচনা করার শামিল। অতএব, প্রত্যেক পর্দা বিদ্বেষীদের উচিত তাদের পর্দা বিরোধী বক্তব্য প্রত্যাহার করে মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চাওয়া। অন্যথায় তাদেরকে কঠিন আযাব গযবের সম্মুখীন হতে হবে।
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, বোরকা তথা পর্দা মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার অর্থাৎ ফরয। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, বোরকা তথা পর্দা মুসলমানদের বানানো বা মনগড়া কোন আমল নয় বরং তা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয আমল। কেননা কুরআন শরীফ-এ “সূরা নিসা, সূরা নূর ও সূরা আহযাব” সূরাসমূহে পর্দা করার ব্যাপারে কঠোর আদেশ-নির্দেশ করা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা নূর-এর ৩০, ৩১ নম্বর আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “(হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি মু’মিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের ইজ্জত-আবরু হিফাযত করে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতার কারণ। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি তারা যা করে তার খবর রাখেন। আর আপনি মু’মিনাদেরকে বলুন, তারাও যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের ইজ্জত-আবরু হিফাযত করে ও তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।” মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি মুসনাদে আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, দারিমী, মিশকাত শরীফ-এর বরাত দিয়ে বলেন, হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত বুরাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! দৃষ্টিকে অনুসরণ করবেন না। প্রথম দৃষ্টি (যা অনিচ্ছা সত্ত্বে পতিত হয় তা) ক্ষমা করা হবে; কিন' পরবর্তী দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না।” অর্থাৎ প্রতি দৃষ্টিতে একটি কবীরা গুনাহ লেখা হয়ে থাকে। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বাইহাক্বী ও মিশকাত শরীফ-এর বরাত দিয়ে বলেন, হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন, আমার নিকট এই হাদীছ শরীফ পৌঁছেছে, “যে দেখে এবং দেখায় উভয়ের প্রতি আল্লাহ পাক উনার লা’নত।” অর্থাৎ আল্লাহ পাক উনার কালাম পাক এবং আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ দ্বারা সরাসরি পর্দাকে ফরয করে দিয়েছেন। অতএব প্রত্যেক মুসলমান মহিলাদের জন্য ফরয হচ্ছে- কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ অনুযায়ী খাছ শরয়ী পর্দা পালন করে আর যারা পর্দা করেনা তাদের পর্দা পালন করায়ে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি হাছিলের কোশেশ করা। যা তাদের ইহকাল ও পরকালে কামিয়াবীর কারণ। কাজেই যারা বলে পর্দা করতে বাধ্য করা যাবেনা তাদের এ বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে ইসলাম বিরোধী বক্তব্য। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘সূরা বাক্বারা’-এর ১০৯ নম্বর আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “ইহুদী-নাছারা তথা আহলে কিতাবদের মধ্যে অনেকেই প্রতিহিংসাবশত চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কোন রকমে কাফির বানিয়ে দিতে।” মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, বিধর্মীরা যেহেতু ইসলাম ও মুসলমানদের চরম শত্রু তাই তারা হিংসার বশবর্তী হয়েই বোরকা তথা পর্দার সমালোচনা করছে বা পর্দার বিরোধিতা করছে এবং পর্দা করতে বাধ্য করা যাবে না এটাও বলেছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমানদেরকে বেপর্দা করে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের উভয়ের রেযামন্দি বা সন'ষ্টি থেকে মাহরুম করে দাইয়্যুছ বানিয়ে লা’নতগ্রস্ত করে জাহান্নামী করে দেয়া। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, কিন' প্রশ্ন হচ্ছে- মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয আমল বোরকা বা পর্দা সম্পর্কে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার মত দুঃসাহস কাফির মুশরিক, ইহুদী, নাছারা তথা বিধর্মীরা পেল কোথায়? মূলত মুসলমানদের ঈমানী ও আমলী দুর্বলতার কারণেই তারা আজ একের পর এক ইসলাম বিদ্বেষী কথা বলার সাহস পাচ্ছে। মুসলমানরা যদি কফিরদের পূবের্র ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্যগুলোর শক্ত প্রতিবাদ জানাতো, তবে তারা পরবর্তীতে আর কখনো এরূপ দুঃসাহস দেখাতে পারতো না। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মূল কথা হলো- বোরকা তথা পর্দা মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার অর্থাৎ ফরয আমল। যা মহিলাদের সম্মান ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক। বিধর্মী তথা বেদ্বীনগুলো বোরকা তথা পর্দার সমালোচনা করে একমাত্র মনোনীত দ্বীন ‘ইসলাম’-এর সমালোচনা করেছে, করছে। তাই বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল মুসলিম সরকারসহ পৃথিবীর প্রায় ৩০০ কোটি মুসলমানের জন্য ফরয ওয়াজিব হচ্ছে সমস্ত পর্দা বিদ্বেষীদের ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করা। আর সমস্ত পর্দা বিদ্বেষীদের উচিত তারা যেন তাদের ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য প্রত্যাহার করে মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চায়। অন্যথায় তাদেরকে সীমাহীন কঠিন আযাব গযবের সম্মুখীন হতে হবে।
by Admin
|
posted: Sunday, June 06, 2010
|
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন- সর্বপ্রকার খেলাধুলা হারাম। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবলসহ সমস্ত খেলাধুলাই হারাম। এছাড়া মুসলমানদের ঈমান-আমল নষ্ট করে কুফরীতে নিমজ্জিত করার ক্ষেত্রে ইহুদী-খ্রিস্টানদের প্রবর্তিত বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা এক ধরনের কূটকৌশল তাই সকল মুসলমানের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- বিশ্বকাপ ফুটবলসহ সকল প্রকার খেলাধুলা থেকে বিরত থাকা।
- মুজাদ্দিদে আ’যম হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী -
- Mujaddidu A'zam Hazrat Murshid Qibla Mudda Zilluhul 'Aalee -
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, শরীয়ত সর্বপ্রকার খেলাধুলাকে হারাম ঘোষণা করেছে। যেমন কুরআন শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আমি আসমান ও যমীন এবং এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তা ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।” (সূরা আম্বিয়া-১৬)
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “সমস্ত খেলাধুলা হারাম।” (মুস্তাদরেকে হাকিম)
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবলসহ ক্রিকেট, অলিম্পিক ইত্যাদি সমস্ত খেলাধুলাই হারাম। কারণ তা বিধর্মী কর্তৃক প্রবর্তিত। বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাস দ্বারাই তা সুস্পষ্ট প্রমাণিত। যেমন ইতিহাসে উল্লেখ আছে- বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য ২টি ট্রফি নির্মিত হয়, জুলেরিমে ও ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি। বর্তমান বিশ্বকাপ ট্রফির নাম ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, জুলেরিমে ট্রফি নামকরণ করা হয় ফিফা’র কথিত স্বপ্নদ্রষ্টা জুলেরিমের নামানুসারে। এর নির্মাণ শৈলী ভাস্কর্যের প্রতীক মাথার উপর দু’হাত উচিয়ে বিজয় গৌরবে উল্লসিত বিজয়ের দেবী এক পরী। ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু হয়। এই কাপের ডিজাইনার হচ্ছে ইতালির ভাস্কর শিল্পী সিলভিও গাজ্জানিগা। ১৮ ক্যারেটের ৪.৯৭ কেজি ওজনের স্বর্ণের কাপটি ৩৬ সে.মি. লম্বা, যাতে দু’জন অ্যথেলেট পিঠাপিঠি করে ধরে আছে তাদের উপর গোটা বিশ্বকে। অর্থাৎ বিশ্বকাপ উচ্চারণ হচ্ছে ‘দু’টো মূর্তির হাতের উপর বিশ্ব’- এরকম ধারণাকে আওড়ানো যা কিনা মূর্তি সংস্কৃতিকে স্বীকৃতি দেয়ার নামান্তর। নাঊযুবিল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হয়। টেলিভিশনে ১৯৫৪ সালে প্রথম বিশ্বকাপ দেখানো হয়। ১৯৩০ থেকে নিয়ে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ১৮টি বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা হয়েছে। এবার হলো ১৯তম পর্ব।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, ফুটবলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস থেকে সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হয় যে, ফুটবল বা এ জাতীয় সকল খেলাধুলার উদ্ভাবক হচ্ছে বিধর্মীরা। অর্থাৎ বর্তমানে প্রচলিত সমস্ত খেলাধুলাই বিধর্মীদের প্রবর্তিত নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীক্বা। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে মুসলমানদের জন্য তা অনুসরণ ও সমর্থন করা কি করে জায়িয হতে পারে?
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মুসলমানদের ঈমান-আমল নষ্ট করে কুফরীতে নিমজ্জিত করার ক্ষেত্রে ইহুদী-খ্রিস্টানদের প্রবর্তিত কথিত বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা এক ধরনের কূটকৌশল। তাদের এ কূটকৌশলের মধুমাখা শ্লোগান হলো ‘বিশ্বায়ন।’ এ বিশ্বায়নের নামে তারা কথিত বিশ্বকাপ ফুটবল, ক্রিকেট, অলিম্পিক ইত্যাদি হুজুগ দ্বারা মুসলমানদের হারাম আনন্দে ভুলিয়ে তাদের ঈমান-আমল ধ্বংস করে দিচ্ছে। মূলত যারা ইহুদী-খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, মজুসী ও মুশরিক তারা সদাসর্বদা চেষ্টা করে থাকে, মুসলমানদেরকে কি করে ঈমান-আমল নষ্ট করে কাফিরে পরিণত করা যায়। নাঊযুবিল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, এ প্রসঙ্গে কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “ইহুদী-নাছারা তথা আহলে কিতাবদের মধ্যে অনেকেই প্রতিহিংসাবশত চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদের যে কোন রকমে কাফিরে পরিণত করতে।” (সূরা বাক্বারা : আয়াত শরীফ ১০৯)
আরো ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে ইহুদীদেরকে। অতঃপর যারা মুশরিক তাদেরকে।” (সূরা মায়িদা : আয়াত শরীফ ৮২)
তাই তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে থাকে, মুসলমানদেরকে ঈমানহারা করার জন্য। যেমন একদিকে খেলার সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে চেষ্টা করছে, অপরদিকে টেলিভিশনে খেলা ও হাজারো অশ্লীলতা দেখিয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতি নষ্ট করছে তথা চরম পাপাচারে মত্ত করছে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, ইসলাম বহির্ভূত বিজাতীয় তর্জ-তরীক্বা, নিয়মনীতি গ্রহণ করা কোন মুসলমানের জন্য জায়িয নেই বরং তা গ্রহণ করা কাট্টা কুফরী। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন (নিয়মনীতি, অন্য ধর্ম) তালাশ করে, তা কখনোই তার থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা আলে ইমরান : আয়াত শরীফ ৮৫)
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, কোন আমলের ক্ষেত্রেই বিধর্মী ও বিজাতীয় কোন পন্তুা অনুসরণ করা যাবে না বা তাদের থেকে কোন নিয়মনীতি গ্রহণ করা যাবে না। শুধুমাত্র দ্বীন ইসলামের দলীল- কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস অনুযায়ী আমল করতে হবে। কেননা, বিধর্মীরা মূলতঃ মুসলমানদের ঈমান-আমল বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে নিত্য নতুন ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। যার একটি হলো, কথিত বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা। যা মূলত বিধর্মীদেরই আবিষ্কার বা তাদের উদ্ভাবিত নিয়ম-নীতি।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মাঠে গিয়ে হোক আর টিভিতে হোক সর্বাবস্থায়ই খেলা দেখা হারাম ও কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত। তবে টিভিতে খেলা দেখা বা অন্যান্য অনুষ্ঠান দেখা আরো কঠিন ও অধিক গুনাহর কারণ। কেননা, শরীয়তের দৃষ্টিতে টিভি তথা ছবি দেখা, রাখা ইত্যাদি সবই হারাম। খেলা সম্পর্কিত কোন দেশকে, দলকে বা ব্যক্তিকে সমর্থন করা, প্রশংসা করা, পতাকা উড়ানো, দেশের, দলের, ব্যক্তির জয় কামনা করে দোয়া করা, রোযা রাখা, দেশের, দলের, ব্যক্তির জয়ে খুশি প্রকাশ করা, হাতে তালি দেয়া, রং ছিটানো ও শুকরিয়া আদায় করা সম্পূর্ণ হারাম ও কুফরী। কারণ আক্বাইদের কিতাবে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, ‘হারামকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী।’ আর যে কুফরী করে সে মুরতাদ হয়ে যায়।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, ইহুদী-খ্রিস্টানরা মুসলমানদের আমল নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ধর্মব্যবসায়ী বা উলামায়ে ‘ছূ’দেরকে ব্যবহার করছে। তাই তাদের সবার ষড়যন্ত্র ও ধোঁকা থেকে প্রত্যেক মুসলমানদের ঈমান আমল হিফাযত করা ফরয-ওয়াজিব।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মূলকথা হলো- ইসলামের দৃষ্টিতে কথিত বিশ্বকাপ ফুটবলসহ সমস্ত খেলাধুলাই হারাম। এছাড়া মুসলমানদের ঈমান-আমল নষ্ট করে কুফরীতে নিমজ্জিত করার ক্ষেত্রে ইহুদী-খ্রিস্টানদের প্রবর্তিত বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা এক ধরনের কূটকৌশল তাই সকল মুসলমানের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- কথিত বিশ্বকাপ ফুটবলসহ সকল প্রকার খেলাধুলা থেকে বিরত থাকা।
by Admin
|
posted: Wednesday, June 02, 2010
|
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা করার কারণেই ফেসবুক চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে। হ্যাঁ- ইভটিজিং, নারী নির্যাতন, পরকীয়া, লিভ টুগেদার, পারিবারিক বন্ধন ভঙ্গ, আত্মহত্যার প্রবণতা, মাদকাসক্তি ইত্যাদি ঈমানী ও সামাজিক অবক্ষয়ের পেছনের প্ররোচনাকারী উৎস- ফেসবুকের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য। এক ফেসবুক বন্ধ মানেই ডিজিটাল কমিউনিকেশন বন্ধ নয়। বরং ফেসবুক যে অশ্লীলতার জন্যই এত প্রিয় সে কথা ওপেন সিক্রেট। এছাড়া ইসলাম বিদ্বেষীরাও ইসলাম অবমাননার সুযোগ নিচ্ছে সে কথাও কারো অজানা নয়। মাত্র ৯ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী সবাই ফেসবুকের সমর্থনকারী নয়; কথিত ৯ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর সমর্থনে সরকার ক্ষমতায় আসেনি- বরং ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ সমর্থন দিয়েছেন এজন্য যে, ‘কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাস হবে না’। অতএব, এ বিষয়টি সরকারকে স্মরণ রাখতে হবে।
- মুজাদ্দিদে আ’যম হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী -
- Mujaddidu A'zam Hazrat Murshid Qibla Mudda Zilluhul 'Aalee -'Aalee -
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, রাষ্ট্র একটা বির্মূত ধারণা। বাংলাদেশ সংবিধানের ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা করবেন। অথচ ইদানীং কথিত ফেসবুকের প্রভাবে বর্তমান সমাজে লিভ টুগেদার, ইভটিজিং, পরকীয়া, বিবাহ বিচ্ছেদ, মাদকাসক্তি, আত্মহত্যার প্রবণতা ইত্যাদি বেড়েই চলছে। যা সাংবিধানে বর্ণিত, আমাদের ঐতিহ্যগত সংস্কৃতিকে ক্ষতবিক্ষত করছে। সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, পত্র-পত্রিকায় স্বীকৃত রিপোর্ট মোতাবেকই অনেক পরিবারের জন্য ফেসবুক একটি যন্ত্রণা। স্বামী-স্ত্রী, মাতা-পিতা-সন্তান ইত্যাদি সম্পর্কগুলোতে এই ফেসবুকের কারণে ঢুকে যাচ্ছে অবিশ্বাস, ভাঙছে পারিবারিক বন্ধন, বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদ। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীতেই একই অবস্থা। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ম্যাট্রিমনিয়ালস ল’ইয়ারস যুক্তরাষ্ট্রে সম্পৃত্তি এ নিয়ে একটি জরিপ চালিয়েছে। এই অ্যাকাডেমির শতকরা ৮১ ভাগ সদস্য ৫ বছরের কেস স্টাডি করে দেখেছে যে, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোর কারণে ডিভোর্সের হার বেড়ে গেছে। কারণ, এসবে থেকে গেছে সম্পর্ক ভেঙে দেয়ার মতো অনেক প্রমাণ। তারা জানিয়েছে, ডিভোর্স বিষয়ে তারা সচেয়ে বেশি অভিযোগ পেয়েছে ফেসবুকের বিপক্ষেই। শতকরা ৬৬ জনই প্রাথমিক সোর্স হিসেবে ফেসবুকে ব্যবহার করা অশ্লীল বাক্য বিনিময়কেই সন্দেহ করছেন। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, একথা এখন সর্বজনবিদিত যে, ইন্টারনেটে ব্যবহারকারী অধিকাংশ তরুণ-তরুণী দিনের বেশিরভাব সময় খরচ করে ফেসবুকের অশ্লীল জগতে। ফেসবুক ব্যবহার যে সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়, তা ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের নীতিমালায় স্বীকার করেছে। ফেসবুকের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবহারকারী ছবি আপলোডের মাধ্যমে ছবির স্বত্ব ফেসবুককে দিয়ে দিচ্ছে। ফেসবুক দাবি করে, তাদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রয়েছে। কিন' এমআইটি (ম্যাসাটুসেটিস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) দুজন ছাত্র স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে ৭০ হাজারেরও বেশি ফেসবুক প্রোফাইল তৈরি করে ফেলেছিলো। এ থেকে প্রমাণ হয়, ফেসবুকের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ফেসবুক বলতে গেলো পর্নো ক্রাইমের প্রসূতি। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে বিশাল অর্থও জালিয়াতি হয়। শেয়ারবাজার কারসাজির অভিযোগে গত ৩ মার্চ প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্রোকারেজ হাউসের এক কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়। তার কর্মকাণ্ডের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক বেছে নিয়েছিলো। ফেসবুকে সে একটি বিশেষ গ্রুপ তৈরি করে। গ্রুপে তিন হাজারের মতো সদস্য রয়েছে। সে এসব সদস্যকে কোন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনতে হবে, কোনটা বিক্রি করতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আসছিলো। বিনিময়ে লাভের ২০ শতাংশ করে পেতো। আবার যখন সদস্যদের শেয়ার বিক্রি করতে বলতো, তখন এক দিনেই সব শেয়ার ছেড়ে দিত। এতে করে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছিলো। সে তার অপরাধ স্বীকার করেছে। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, ফেসবুক ব্যবহার করে এক কিশোরীকে প্রতারণা, অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে পিটার চ্যাপম্যান নামের ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গত ৮ মার্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ব্রিটিশ আদালত। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, ফেসবুক ব্যবহারকারী তার অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাকটিভ করলেই সেগুলো মুছে যায় না। ফেসবুক ওই ব্যবহারকারীর তথ্যগুলো রেখে দেয়। নতুন প্রাইভেসি সেটিংস কার্যকর করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল ও যাবতীয় তথ্য সবার সামনে উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল, ব্যবহারকারীকে যা পরে নিজ হাতে পরিবর্তন করতে হয়েছে। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হয়েছে যে, স্বামী কিংবা স্ত্রীরা ফেসবুকের মাধ্যমে পরনারী কিংবা পরপুরুষের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে উৎসাহিত হয়। এগুলো স্পষ্টভাবেই ইসলামী আইনবিরোধী। তাই মুসলিমদের ফেসবুক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, ফেসবুক শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা তৈরি করে এবং এটি ব্রাউজ করা এক ধরনের নেশায় পরিণত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ফেসবুক প্রাপ্তবয়স্কদের মেধাকে দুর্বল করে দেয়। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রায় ৮ লাখ ৭৬ হাজার ২০ জন। এর মধ্যে প্রায় ছয় লাখ ৪২ হাজার ৯২০ জন পুরুষ ও দুই লাখ ২২ হাজার ৪৪০ জন নারী ব্যবহারকারী। অর্থাৎ দেশের ১৪ কোটি মুসলমানের মধ্যে ১%-এর কম যে ৮ লক্ষ লোক ফেসবুক বন্ধের বিরোধিতা করেছে তাদেরও ১% এর কম লোকও এ বিরোধিতা বন্ধে তীব্র কোন আন্দোলন করেনি। কিন' মিডিয়া তথা কিছু প্রগতিবাদী এটাকেই ফুলিয়ে-ফাপিয়ে প্রচার করছে। ভাবখানা এই যে, ফেসবুক বন্ধ করে সরকার এখনই গদি হারাচ্ছে। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মিডিয়া সরকারকে সব সময়ই আরেকটি ভুল তথ্য দিয়ে আসছে যে, দেশের কথিত নতুন প্রজন্মই এ সরকারকে এনেছে। কিন' হিসাবে নতুন প্রজন্মের তুলনায় বিগত প্রজন্মের সংখ্যা অনেক বেশি। আর তারা কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাস হবে না, এ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেই প্রীত হয়ে তাদের ভোটদানের ধারা বদল করেছে। এটাই প্রকৃত সত্য। এটা দিন বদলের সরকারকে বুঝতে হবে। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রী আর বিরোধিদলীয় মন্ত্রীর বিকৃত ছবি প্রকাশের সুযোগ থাকার কারণে ফেসবুক বন্ধ করা হতে পারে; তবে সবারই জানা আছে যে, ‘এভরিবডি ড্র মোহাম্মদ ডে’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২০ মে তারিখের মধ্যে নূরে মুজাসাসম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছবি পোস্ট দিতে বলা হয়েছিলো। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, জ্বলন্ত প্রশ্ন দাঁড়ায় যে, এ ধরনের কুকর্ম যে ফেসবুক করেছে এবং এখনও তাতে করার সুযোগ রয়েছে; সে ফেসবুক অবশ্যই চিরতরে বন্ধ রাখতে হবে। এবং সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থই তা আবশ্যকীয় ভাবে করতে হবে। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, ইসলাম কমিনী-নিজামীদের মত রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের কাছে ইজারা দেয়া নয়। ইসলাম এদেশের ১৪ কোটি মুসলমানদের ধর্ম, ১৪ কোটি মুসলমানদের ঈমান। কাজেই জামাতী-কমিনীরাই চাইলে বা বললেই ইসলাম তাদের হয়ে গেলো না। তাদের ধর্মব্যবসায়িক আবেদনের প্রেক্ষিতে নয়; বরং ১৪ কোটি মুসলমানের ঈমান, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সর্বোপরি সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই ফেসবুক বন্ধ রাখতে হবে। একবার বন্ধ করে পুনরায় তা আবার চালু করলে ষড়যন্ত্রকারীরা আরো সুযোগ পাবে এবং আরো বেপরোয়া হবে। সেক্ষেত্রে তার ভার সরকারকেই নিতে হবে।
by Admin
|
posted: Tuesday, June 01, 2010
|
by Admin
|
posted: Monday, May 10, 2010
|
ওহাবীদের একটি আক্বীদা হলো “শরীয়তে দু‘ঈদ ছাড়া আর কোন ঈদ নেই।” অথচ তাদের এ আক্বীদা ও বক্তব্য সম্পূর্ণ কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কারণ তারা উক্ত বক্তব্য দ্বারা ওহীয়ে গায়রে মাতলু হাদীছ শরীফকেই মুলতঃ অস্বীকার করেছে। কেননা অসংখ্য হাদীছ শরীফকেই দু’ঈদ ছাড়া আরো ঈদের কথা ঊল্লেখ রয়েছে।
যেমন, হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত ওবায়েদ বিন সাব্বাক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক জুমুয়ার দিনে ইরশাদ করেন, হে মুসলমান সম্প্রদায়! এটি এমন একটি দিন, যাকে আল্লাহ পাক ঈদস্বরূপ নির্ধারণ করেছেন।” (ইবনে মাযাহ, মিশকাত)
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম’- এ আয়াত শরীফটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। তখন উনার নিকট এক ইহুদী ছিল সে বলে উঠলো, ‘যদি এই আয়াত শরীফ আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো আমরা আয়াত শরীফ নাযিলের দিনটিকে “ঈদ” বলে ঘোষণা করতাম।’ এটা শুনে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, এ আয়াত শরীফ সেই দিন নাযিল হয়েছে যেদিন এক সাথে দু’ঈদ ছিল- (১) জুমুয়ার দিন এবং (২) আরাফার দিন।” (তিরমিযী)
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘হযরত তারিক বিন শিহাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, ইহুদীরা হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে বললো যে, আপনারা এমন একটি আয়াত শরীফ পাঠ করেন, যদি তা আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো আমরা অবশ্যই উক্ত আয়াত শরীফ নাযিলের দিনটিকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতাম। তখন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমি নিশ্চিতরূপে জানি যে উক্ত আয়াত শরীফ কখন নাযিল হয়েছে, কোথায় নাযিল হয়েছে এবং এ আয়াত শরীফ যখন নাযিল হয় তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেথায় অবস্থান করছিলেন আল্লাহ পাক-এর কছম! নিশ্চয় সেদিনটি ছিল আরাফার দিন।’ (ইবনে মাযাহ্)
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনা শরীফ-এ তাশরীফ আনলেন তখন তিনি ইহুদীদেরকে আশুরার রোযা রাখতে দেখলেন। তখন তিনি ইহুদীদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তোমরা এই দিন কেন রোযা রাখ? তারা বললো, এটা একটি মহান দিন, যেদিন আল্লাহ পাক হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও উনার ক্বাওমকে নাযাত দিয়েছিলেন, আর ফিরআউন এবং তার সম্প্রদায়কে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে মেরেছেলেন। সেজন্য হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম শুকরিয়াস্বরূপ রোযা রাখেন তাই আমরাও রোযা রাখি। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও রোযা রাখলেন এবং অন্যান্যদেরকেও রোযা রাখতে আদেশ করলেন।” (বুখারী, মুসলিম)
উপরোক্ত হাদীছ শরীফসমূহ দ্বারা জানা গেল যে, শুক্রবার দিনটি এবং আরাফার দিনটি হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদ তথা খুশির দিন। অর্থাৎ ঈদুল আদ্বহা ও ঈদুল ফিত্র এ দুই ঈদ যেভাবে হাদীছ শরীফ-এর দ্বারা প্রমাণিত ঠিক সেভাবেই তৃতীয় ঈদ হিসেবে জুমুয়ার দিন এবং চতুর্থ ঈদ হিসেবে আরাফার দিন হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।
অতএব, যারা বলে শরীয়তে দুই ইদ ব্যতীত তৃতীয় ঈদের কোন অস্তিত্ব নেই তাদের কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কুরআন সুন্নাহর খিলাফ বলে প্রমাণিত হয়।
স্মরণীয়, ‘সূরা মায়িদার ৩ নম্বর আয়াত শরীফ’ নাযিল হওয়ার কারণে আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার দিনটি যদি ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণীয় হয়, আর হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও উনার ক্বওম যদি ফিরআউনের কবল থেকে নাযাত পাওয়ার কারণে আশুরার দশ তারিখ শুকরিয়া আদায় ও সম্মানিত দিন হিসেবে গ্রহণীয় হতে পারে, তাহলে যিনি সুরা মায়িদা অর্থাৎ কুরআন শরীফ নাযিল হওয়ার কারণ ও হযরত মূসা আলাইহিস সালাম-এর আগমনের কারণ, উনার আগমনের দিনটি কি সম্মানের দিন এবং খুশির দিন হবে না? অবশ্যই হবে। শরীয়তের কোথাও সেদিনকে দুঃখের দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বরং সর্বশ্রেষ্ঠ খুশির দিন হিসেবেই গ্রহণ করা হয়েছে ও করতে বলা হয়েছে।
কাজেই আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমনের দিনই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন যা সর্বোত্তম ঈদ আর প্রকৃতপক্ষে এটাই প্রথম ঈদ।
অতএব, কুরআন-সুন্নাহর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, দু’টি ঈদ ছাড়া আরো একাধিক ঈদের অস্তিত্ব শরীয়তে বিদ্যমান তা বিদ্য়াত কিংবা অন্য কিছু নয়। যারা বলে দু’টি ছাড়া তৃতীয় কোন ঈদের অস্তিত্ব শরীয়তে নেই তারা মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য একথা বলে থাকে। অথচ দু’টি ঈদ ছাড়াও আরো একাধিক ঈদের অস্তিত্ব কুরআন-সুন্নাহ তথা শরীয়ত কর্তৃক স্বীকৃত। তাই যারা সেই ঈদকে বিদয়াত বলবে তারা কুরআন-সুন্নাহ তথা ওহী অস্বীকারকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে। আর যারা কুরআন-সুন্নাহ বা ওহী অস্বীকার করে তারা মুসলমান বা ঈমানদার নয়।ওহাবীদের একটি আক্বীদা হলো “শরীয়তে দু‘ঈদ ছাড়া আর কোন ঈদ নেই।” অথচ তাদের এ আক্বীদা ও বক্তব্য সম্পূর্ণ কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কারণ তারা উক্ত বক্তব্য দ্বারা ওহীয়ে গায়রে মাতলু হাদীছ শরীফকেই মুলতঃ অস্বীকার করেছে। কেননা অসংখ্য হাদীছ শরীফকেই দু’ঈদ ছাড়া আরো ঈদের কথা ঊল্লেখ রয়েছে।
যেমন, হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত ওবায়েদ বিন সাব্বাক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক জুমুয়ার দিনে ইরশাদ করেন, হে মুসলমান সম্প্রদায়! এটি এমন একটি দিন, যাকে আল্লাহ পাক ঈদস্বরূপ নির্ধারণ করেছেন।” (ইবনে মাযাহ, মিশকাত)
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম’- এ আয়াত শরীফটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। তখন উনার নিকট এক ইহুদী ছিল সে বলে উঠলো, ‘যদি এই আয়াত শরীফ আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো আমরা আয়াত শরীফ নাযিলের দিনটিকে “ঈদ” বলে ঘোষণা করতাম।’ এটা শুনে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, এ আয়াত শরীফ সেই দিন নাযিল হয়েছে যেদিন এক সাথে দু’ঈদ ছিল- (১) জুমুয়ার দিন এবং (২) আরাফার দিন।” (তিরমিযী)
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘হযরত তারিক বিন শিহাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, ইহুদীরা হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে বললো যে, আপনারা এমন একটি আয়াত শরীফ পাঠ করেন, যদি তা আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো আমরা অবশ্যই উক্ত আয়াত শরীফ নাযিলের দিনটিকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতাম। তখন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমি নিশ্চিতরূপে জানি যে উক্ত আয়াত শরীফ কখন নাযিল হয়েছে, কোথায় নাযিল হয়েছে এবং এ আয়াত শরীফ যখন নাযিল হয় তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেথায় অবস্থান করছিলেন আল্লাহ পাক-এর কছম! নিশ্চয় সেদিনটি ছিল আরাফার দিন।’ (ইবনে মাযাহ্)
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনা শরীফ-এ তাশরীফ আনলেন তখন তিনি ইহুদীদেরকে আশুরার রোযা রাখতে দেখলেন। তখন তিনি ইহুদীদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তোমরা এই দিন কেন রোযা রাখ? তারা বললো, এটা একটি মহান দিন, যেদিন আল্লাহ পাক হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও উনার ক্বাওমকে নাযাত দিয়েছিলেন, আর ফিরআউন এবং তার সম্প্রদায়কে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে মেরেছেলেন। সেজন্য হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম শুকরিয়াস্বরূপ রোযা রাখেন তাই আমরাও রোযা রাখি। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও রোযা রাখলেন এবং অন্যান্যদেরকেও রোযা রাখতে আদেশ করলেন।” (বুখারী, মুসলিম)
উপরোক্ত হাদীছ শরীফসমূহ দ্বারা জানা গেল যে, শুক্রবার দিনটি এবং আরাফার দিনটি হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদ তথা খুশির দিন। অর্থাৎ ঈদুল আদ্বহা ও ঈদুল ফিত্র এ দুই ঈদ যেভাবে হাদীছ শরীফ-এর দ্বারা প্রমাণিত ঠিক সেভাবেই তৃতীয় ঈদ হিসেবে জুমুয়ার দিন এবং চতুর্থ ঈদ হিসেবে আরাফার দিন হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।
অতএব, যারা বলে শরীয়তে দুই ইদ ব্যতীত তৃতীয় ঈদের কোন অস্তিত্ব নেই তাদের কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কুরআন সুন্নাহর খিলাফ বলে প্রমাণিত হয়।
স্মরণীয়, ‘সূরা মায়িদার ৩ নম্বর আয়াত শরীফ’ নাযিল হওয়ার কারণে আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার দিনটি যদি ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণীয় হয়, আর হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও উনার ক্বওম যদি ফিরআউনের কবল থেকে নাযাত পাওয়ার কারণে আশুরার দশ তারিখ শুকরিয়া আদায় ও সম্মানিত দিন হিসেবে গ্রহণীয় হতে পারে, তাহলে যিনি সুরা মায়িদা অর্থাৎ কুরআন শরীফ নাযিল হওয়ার কারণ ও হযরত মূসা আলাইহিস সালাম-এর আগমনের কারণ, উনার আগমনের দিনটি কি সম্মানের দিন এবং খুশির দিন হবে না? অবশ্যই হবে। শরীয়তের কোথাও সেদিনকে দুঃখের দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বরং সর্বশ্রেষ্ঠ খুশির দিন হিসেবেই গ্রহণ করা হয়েছে ও করতে বলা হয়েছে।
কাজেই আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমনের দিনই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন যা সর্বোত্তম ঈদ আর প্রকৃতপক্ষে এটাই প্রথম ঈদ।
অতএব, কুরআন-সুন্নাহর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, দু’টি ঈদ ছাড়া আরো একাধিক ঈদের অস্তিত্ব শরীয়তে বিদ্যমান তা বিদ্য়াত কিংবা অন্য কিছু নয়। যারা বলে দু’টি ছাড়া তৃতীয় কোন ঈদের অস্তিত্ব শরীয়তে নেই তারা মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য একথা বলে থাকে। অথচ দু’টি ঈদ ছাড়াও আরো একাধিক ঈদের অস্তিত্ব কুরআন-সুন্নাহ তথা শরীয়ত কর্তৃক স্বীকৃত। তাই যারা সেই ঈদকে বিদয়াত বলবে তারা কুরআন-সুন্নাহ তথা ওহী অস্বীকারকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে। আর যারা কুরআন-সুন্নাহ বা ওহী অস্বীকার করে তারা মুসলমান বা ঈমানদার নয়।
by Admin
|
posted: Monday, May 10, 2010
|
শব্দ ব্যবহারের কুচিন্তায় যোগসাধনের ষড়যন্ত্র ইহুদী খৃষ্টানদের ঐতিহ্যগত প্রবৃত্তি। স্বয়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সময়ও ইহুদী খৃষ্টানদের এরূপ ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার ছিল। কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে, "হে ঈমানদারগণ! তোমরা রঈনা বলোনা উনজুরনা বলো এবং শ্রবণ কর (বা শুনতে থাক) আর কাফিরদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।" (সূরা বাক্বারা ১০৪)
আয়াতের শানে নযুলে বলা হয়েছে, ইহুদীরা রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেবার জন্য "রঈনা" শব্দ ব্যবহার করত যার একাধিক অর্থ। একটি অর্থ হল "আমাদের দিকে লক্ষ্য করুন" যা ভাল অর্থে ব্যবহার হয় আর খারাপ অর্থ হল "হে মূর্খ, হে মেষ শাবক" এবং হিব্রু ভাষায় একটি বদ দুয়া। ইহুদীরা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রঈনা বলে সম্বোধন করত। যাতে প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য ছিল খারাপ অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করা। আর ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ "রঈনা" শব্দের ভাল অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করলে ইহুদীরা খারাপ অর্থ চিন্তা করে হাসাহাসি করত। এতে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কষ্ট পেতেন তবুও কিছু বলতেন না কেননা আল্লাহু পাক-এর রসূল হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহী ছাড়া কোন কথা বলতেন না। যেমন কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে, "তিনি (হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওহী ব্যতীত নিজের থেকে মনগড়া কোন কথা বলেন না" (সূরা নজম-৩,৪)
এর ফলশ্রুতিতে আল্লাহু পাক কুরআন শরীফের আয়াত নাযিল করে "রঈনা" শব্দের বদলে "উনজুরনা" শব্দ ব্যবহার করতে বললেন। কারণ "রঈনা" শব্দ ভাল-খারাপ উভয় অর্থে ব্যবহার হলেও "উনজুরনা" শব্দ শুধুমাত্র ভাল অর্থে ব্যবহার। তাই যে সকল শব্দের ভাল-খারাপ উভয় অর্থে ব্যবহার হয়, সে সকল শব্দের পরিবর্তে উপরোক্ত আয়াত মুতাবিক ওটার সমার্থক অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করতে হবে, যা শুধুমাত্র ভাল অর্থেই ব্যবহার হয়। তাই মুসলামনদের উচিত নিচের শব্দগুলো পরিহার করা।
(১) আনলাকি থার্টিনঃ ইহুদী খৃষ্টানরা ১৩ কে আনলাকি বলে থাকে কারণ ১৩ সংখ্যার সাথে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারক জড়িত। ইংরেজীতে “MUHAMMAD” নাম মুবারকের আদ্যক্ষর হল M, যা ইংরেজী বর্ণমালার ১৩ তম অক্ষর। তাই ইহুদী খৃষ্টানরা বিদ্বেষবশতঃ ১৩ কে অশুভ বা আনলাকি বলে থাকে। এমনকি ইহুদী নাছারাদের প্লেনে, রেলে, জাহাজে, হোটেলে ১৩ নং কোন সিট বা রুম থাকে না কিন্তু মুসলমানদের কাছে ১৩ ই হল শুভ বা লাকি । কারণ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্মান করা আল্লাহ পাকের নির্দেশ। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে সম্মান করবে সে জান্নাতী। আর জান্নাতী হওয়া হলো সৌভাগ্যের লক্ষণ। সে হিসেবে ১৩তম সংখ্যাকে (M) সম্মান ও মুহব্বত করা সৌভাগ্যের বা লাকী হওয়ার বিষয়।
(২) লাকি সেভেনঃ আবার ইহুদী খৃষ্টানরা 7 কে লাকি বলে থাকে। কারণ G ইংরেজী বর্ণমালার ৭তম বর্ণ। তাদের God এর G-এর সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু মুসলামদের নিকট ৭ হল অশুভ বা আনলাকি কারণ God বিশ্বাস করার অর্থ হলো শিরক করা। কারণ God এর রয়েছে Goddess। এতে আল্লাহ পাকের সাথে শরিক করা হয়। যে শিরক করবে সে জাহান্নামী আর জাহান্নামী হওয়াটাই আনলাকি বা বদনছসীবের বিষয়।
(৩) বিশ্ব ব্রহ্মান্ডঃ “বিশ্ব ব্রহ্মান্ড” শব্দটির মধ্যেও ঈমানহানীর ফাঁদ লুকায়িত রয়েছে। কেননা “ব্রহ্মান্ড” শব্দটি এসেছে “ব্রহ্মার আন্ডা” থেকে। বাংলা একাডেমী বিশ্বকোষ মতে, ব্রহ্মা বলতে হিন্দুদের একজন পৌরাণিক দেবতাকে বুঝায়। এই দেবতার আন্ডা(ডিম) রূপে এই ভূমি তথা পৃথিবীকে কল্পনা করে ওরা বলে থাকে বিশ্ব ব্রহ্মান্ড। তাই এই শব্দ পরিহার করে “কুল-ক্বায়িনাত”, “বিশ্ব”, “পৃথিবী”, “আসমান-যমিন” ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করতে পারি।
(৪) মাংসঃ “মাংস” শব্দটি এসেছে “মায়ের অংশ” শব্দ থেকে। হিন্দুরা গরুকে তাদের মা হিসেবে মান্য করে। তাই গরুর গোশতকে তারা মায়ের অংশ তথা মাংস বলে থাকে। তাই কোন মুসলমানের উচিত নয় কোন প্রাণীর গোশতকে মাংস বলা।
(৫) ঝোলঃ সাধারণত আমরা যে কোন তরকারীর তরল অংশটুকুকে আমরা “ঝোল” বলে থাকি। কিন্তুরা হিন্দুরা এ শব্দকে ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করে থাকে। হিন্দুরা তাদের তৈরী খাবারকে তাদের পদ্ধতিতে পাক-পবিত্র করার জন্য গরুর গোবর ও প্রসাব মিশ্রিত তরল পদার্থ দিয়ে থাকে। হিন্দুরা এই তরল পদার্থকে “ঝোল” বলে থাকে। তাই মুসলমানদের উচিৎ ঝোল না বলে “সুরুয়া” বা “সূরবা” বলা।
(৬) বিসমিল্লায় গলদঃ আমরা শুরুতেই ভুল এই কথাটি প্রকাশ করতে গিয়ে বলে থাকি, “বিসমিল্লায় গলদ”। কিন্তু সূক্ষভাবে বিচার করলে এর অর্থ দাঁড়ায় “বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম-এ ভুল” অর্থাৎ কুরআন শরীফ-এ ভুল। (নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক)। তাই এই শব্দ কোন মুসলমানের ব্যবহার করা মোটেও উচিত নয়।
(৭) কষ্ট করলে কেষ্ট মেলেঃ “কষ্ট করলে কেষ্ট মিলে” এই প্রবাদটি মুসলমানরা হরহামেশাই ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু কোন মুসলমানই জানে না এই “কেষ্ট” হচ্ছে হিন্দুদের একটি দেবতার নাম। তাই এ প্রবাদ ব্যবহার করা উচিত নয়।
(৮) ধান ভানতে শিবের গীতঃ “ধান ভানতে শিবের গীত” এই প্রবাদটিও মুসলমানের ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ “শিব” হিন্দুদের দেবতার নাম আর “গীত” বা গান মুসলমানের জন্য হারাম।
(৯)Rx: সব ডাক্তারাই রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে “Rx” লিখা থাকে। অথচ “Rx” অর্থ হল “Referred To Jesus Christ” অর্থাৎ প্রভু যিশু সমীপে সোপর্দ করে। নাছারাদের “প্রভু যিশু”-এর কাছে আত্ননিবদনের পক্রিয়া অনুসরণের কারণে ঈমান হারিয়ে যে কাট্টা কাফির, মুরতাদ পরিণত হতে হয়, তা মুসলমান ডাক্তারদের ভোঁতা মগজে নেই।
(১০) Md/Mohd: অনেকে তাদের নামের Muhammad শব্দটিকে সংক্ষেপে Md. অথবা Mohd. লিখে থাকে। আর এই সংক্ষিপ্তকরণের মাধ্যমে একদিকে মুসলমানেরা নিজেরাই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারককে ইহানত বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে, আবার এর ফলে ইহুদী-নাছারারাও এটি নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের সুযোগ পাচ্ছে। যেমন- সংক্ষিপ্তাকারে লিখিত Md. অথবা Mohd. কে তারা প্রচার করছে Mouth of Dog বলে।(নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক) তাই Md. বা Mohd. পরিহার করতে হবে।
(১১) Mecca: এমনিভাবে মুসলমানেরা মক্কা শব্দটি ইংরেজীতে Mecca লিখে থাকে। অথচ এই শব্দ দ্বারা ইহুদী-নাছারারা Bar অর্থাৎ শরাবখানা বুঝিয়ে থাকে। তাই মুসলমানদের উচিত Mecca না লিখে Makkah লিখা।
(১২)Mosque: একইভাবে মুসলমানেরা মসজিদ শব্দটিকে ইংরেজীতে Mosque লিখে থাকে। অথচ এই শব্দ দ্বারা ইহুদী-নাছারারা House of Mosquito অর্থাৎ মশার ঘর বুঝিয়ে থাকে। তাই মুসলমানদের উচিত Mosque না লিখে Masjid লিখা।
(১৩) মৌলবাদীঃ মৌলবাদ শব্দের অর্থ হলো “যে কোন ধর্ম বা মতবাদের মূলতত্ত্ব, মৌলিক বা মূল বিষয়সমূহ অথবা মৌলিক বা মূল মতবাদসমূহ”। আর ব্যবহারিক অর্থে ধর্মান্ধ চরমপন্থী আমেরিকান খৃষ্টান প্রোটেষ্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের বাইবেল সম্পর্কীয় মতবাদকে মৌলবাদ বলে এবং এ অর্থেই এটা ব্যাপকভাবে পরিচিত। আর এই ধর্মান্ধ চরমপন্থী আমেরিকান খৃষ্টান প্রোটেষ্ট্যান্ট সম্প্রদায়ই মৌলবাদী বলে পরিচিত। কাজেই মুসলমানদেরকে মৌলবাদী বলা বা মুসলমানগণ নিজেদেরকে মৌলবাদী বলে দাবী করা কখনো কোন মতেই শরীয়তসম্মত হবে না। কারণ এটা খৃষ্টানদের শেয়ার বা চিহ্ন বা আলামত মৌলবাদ।
(১৪) গুণকীর্তনঃ “গুণকীর্তন” শব্দটিও মুসলমানদের পরিহার করা উচিত। কারণ গুণ শব্দের সঙ্গে কীর্তন শব্দ রয়েছে যা হিন্দুদের এক ধরনের গান। তাই মুসলমানরা প্রসংশা করা বলতে পারে।
(১৬) ইসলামিক রাষ্ট্রঃ ইসলাম একটি পুনাঙ্গ দ্বীন। অন্যদিকে রাষ্ট্রের ধারণার উৎপত্তিস্থল হলো গ্রিসে। রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কিত যত মতবাদ সব বিধর্মী মতবাদ। আর রাষ্ট্রের সংজ্ঞা হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর চারটি বিষয় উল্লেখ করেছেন। ১. নির্দিষ্ট ভূখন্ড ২. জনসমষ্টি ৩. সার্বভৌমত্ব ৪. সরকার। রাষ্ট্রের এ সংজ্ঞার মাঝে ইসলাম নির্দিষ্ট ভূখন্ড,জনসমষ্টি এবং কথিত রাষ্ট্রীয় সরকার বা সংবিধান এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব ক্ষমতা কোনটাই স্বীকার করে না। সুতরাং ইসলামে কখনই ইসলামিক রাষ্ট্র বলে কোন শব্দ নেই। তবে খিলাফত ব্যবস্থা ইসলামে রয়েছে।
(১৬) ওরসঃ “ওরস” শব্দের আভিধানিক অর্থ “ওলীমা বা বিবাহের খানা, জিয়ারত, বিবাহের দাওয়াত, বাসর যাপন” ইত্যাদি। পারিভাষিক ও রূপক অর্থ “কোন আউলিয়া-ই-কিরাম ও বুযুর্গানে দ্বীনের ইন্তকালের দিন ফাতিহা পাঠ উপলক্ষ্যে খাওয়া, ওয়াজ-মাহ্ফিল, মীলাদ-ক্বিয়াম ইত্যাদির ব্যবস্থা করা”। পূর্ববর্তী যামানায় ওরস শব্দ ব্যবহার করাকে ওলামায়ে হক্কানী-রব্বানীগণ দোষণীয় মনে করেননি। কিন্তু পরবর্তী যামানায় ওরসের নাম দিয়ে বেপর্দা, বেহায়াপনা, গান-বাজনা, মেলা ইত্যাদি বেশরীয়তী কাজ করার কারণে পরবর্তী যামানার হক্কানী-রব্বানী আলিমগণ ফতওয়া দিয়েছেন যে, কোন নেক বা দ্বীনী কাজে ওরস শব্দ ব্যবহার করা না করে “ঈসালে সাওয়াব” বা “সাওয়াব রেসানী” শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
(১৭) লাউঃ কদু হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয় খাবার। অনেকে কদুকে লাউ বলে থাকে। কিন্তু লাউ শব্দের খারাপ অর্থ আছে বিধায় কুদকে লাউ বলা মুসলমানদের উচিত নয়।
by Admin
|
posted: Monday, May 10, 2010
|
"এপ্রিল ফুল" বাক্যটা মূলত ইংরেজী। অর্থ এপ্রিলের বোকা। এপ্রিল ফুল ইতিহাসের এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। প্রতি বছর পহেলা এপ্রিল এলেই একে অপরকে বোকা বানানো এবং নিজেকে চালাক প্রতিপন্ন করার জন্য এক শ্রেণীর লোকদের বিশেষভাবে তৎপর হয়ে উঠতে দেখা যায়। বলা বাহুল্য যে তারা অপরকে বোকা বানিয়ে নিজেরা আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এই যে, সরল প্রাণ মুসলমানগণ ধোকা-বাজির করুন শিকারে উপণীত হয়েছিল একদিন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আজ মুসলিম জাতির এক শ্রেণীর লোকেরা সে ইতিহাস ভুলে গিয়ে এপ্রিলের দিনটিকে স্বাচ্ছন্দে অংশ গ্রহণ করছেন এবং প্রচুর কৌতুক ও রসিকতা উপভোগ করছেন।
৭১১ উমাইয়া শাসনামলে বীর মুজাহিদ তারিক বিন জিয়াদ মুসলিম নৌবহর ভূমধ্য সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে ঘোষণা দিয়ে ছিলেন যে, হে মুসলিম বাহিনী! তোমাদের সম্মুখে শত্রুসেনা এবং পশ্চাতে ভূমধ্য সাগরের উত্তাল তরঙ্গ মালা, তোমরা কি ভূমধ্য সাগরে ডুবে নিজেদের জীবনকে বিপন্ন করতে চাও? নাকি অত্যাচারি স্পেনীয় শাসক রডারিকের দুঃ শাসনের বিরুদ্ধে জিহাদ করে ইসলামের বিজয় নিশান স্পেনের বুকে উড়াতে চাও। যদি তাই হয় তাহলে সামনে অগ্রসর হও। এই রক্তস্তব্দ বক্তব্যের পর মুসলমানগণ মহান প্রজ্ঞাময় আল্লাহ পাক-এর নামে রডারিকের রণসম্ভারে সুসজ্জিত বিশাল বাহিনীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে ছিল এবং কেড়ে নিয়ে ছিল স্পেন। গড়ে উঠেছিল গ্রানাডার কর্ডোভায় ৮০০ বছরের আলোড়ন সৃষ্টিকারী সভ্যতা। কিন্তু মুসলিম শাসকরা যখন কুরআন শরীফ ও সুন্নাহর কথা একেবারে ভুলে গিয়ে জন-সাধারণের সুখ-শান্তির মূলে পদাঘাত করে ভোগ বিলাসে মত্ত হয় তখন তারা হারিয়ে ফেলে ইসলামী চেতনা। তাদের এই দুর্বলতার সুযোগে খৃস্টান নৃপাতরা চারিদিকে মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে সুসংগঠিত হতে থাকে এবং ঘোষণা করে যে পিরোনিজ পর্বতমালা অতিক্রমকারী দুধর্ষ মুসলিম বাহিনীকে যদি হটানো না যায়, তাহলে আগামী দিনগুলোতে ইউরোপের সকল গীর্জা থেকে মুসলমানদের আজান ধ্বনী শোনা যাবে। এই উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য পর্তুগীজ রাণী ইসাবেলা পার্শ্ববর্তী রাজ্যের খৃস্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ডের সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং উভয় নেতৃত্ব দেয় খৃস্টান বাহিনীর। একের পর এক স্পেনের অধিকাংশ এলাকা খৃস্টানদের দখলে চলে যায়। মুসলিম বাহিনী তখন উপায়ন্তর না পেয়ে আশ্রয় নেয় রাজধানী গ্রানাডায়। অবশেষে ফার্ডিন্যান্ড বাহিনীও গ্রানাডার দ্বার প্রান্তে এসে পৌঁছে যায়। মুসলিম বাহিনী তখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এ সময় ফার্ডিন্যান্ড ঘোষণা করে যে, "মুসলমানগণ যদি শহরের প্রবেশ দ্বার উম্মুক্ত করে দিয়ে এবং নিরস্ত্র অবস্থায় মসজিদে অবস্থান করে, তবে তাদেরকে বিনা রক্তপাতে মুক্ত করা হবে"। অসহায় মুসলমানগণ আল্লাহর উপর ভরসা করার কথা ভুলে গিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে যুদ্ধ বন্ধ করে দেয়, এবং তাদের কথা অনুযায়ী মসজিদে আশ্রয় নেয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস কুখ্যাত ফার্ডিন্যান্ড মসজিদের চারি পার্শ্বে আগুন লাগিয়ে নৃশংসভাবে হাজার হাজার নিরপরাধ মুসলমানদেরকে হত্যার মাধ্যমে বিশ্বাস ঘাতকতার পরিচয় দেয় এবং রক্তে রঞ্জিত করে গ্রানাডার রাজপথ এবং তাদেরকে জোরপূর্বক খৃস্টান বানায়। যে দিন এ সব নির্মম নৃশংসতা কর্মকান্ড করে ছিল, সে দিন ছিল "১লা এপ্রিল ১৪৯২ সাল"। ফার্ডিন্যান্ড সে দিন আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে ছিল "হায় মুসলমান! এপ্রিল ফুল, তোমরা এপ্রিলের বোকা।" স্পেনীয়দের দ্বারা মুসলমানদের বোকা বানানোর এই নিষ্ঠুর বিশ্বাসঘাতকতা বা শঠতা স্মরণীয় রাখার জন্য খৃস্টান জগৎ প্রতি বছর ১লা এপ্রিল খেলে থাকে রসিকতার খেলা, যে খেলা আমাদের কাছে বড় করুণের বড় বেদনার।
ইতিহাসের হৃদয়বিদারক ঘটনা ভুলে না গেলে এপ্রিল ফুল কোনো মুসলিমকে আনন্দ দান করতে পারে না। এখন আমরা কি পয়লা এপ্রিল হাসি-আনন্দের সাথে "এপ্রিল ফুল ডে" উদযাপন করব, নাকি ইউরোপের বুকে অসহায় মুসলিম নারী-পুরুষ, শিশুদের নৃশংস হত্যাকান্ডের স্মরণে দুঃখ অনুভব করব, মুসলিম ভাই-বোনেরা ভেবে দেখবেন কি?
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, ইসলামী দৃষ্টিকোণে সবচেয়ে ঘৃণিত হচ্ছে হাসি-মসকরাচ্ছলে মিথ্যা বলা। অনেকে ধারণা করে যে হাসি-রসিকতায় মিথ্যা বলা বৈধ। আর এ থেকেই বিশ্ব ধোঁকা দিবস বা এপ্রিল ফুলের জন্ম। এটা ভুল ধারণা, এর কোন ভিত্তি নেই ইসলাম ধর্মে। রসিকতা কিংবা স্বাভাবিক অবস্থায় মিথ্যা সর্বাবস্থায় হারাম। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "আমি রসিকতা করি ঠিক, তবে সত্য ব্যতীত কখনো মিথ্যা বলি না"। (তাবরানী ১২/৩৯১; ছহীহুল জামে হা/২৪৯৪)।
আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, ছাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা একদা বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহু! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি তো আমাদের সঙ্গে রসিকতা করেন। তিনি বললেন, আমি সত্য ভিন্ন কিছু বলি না। (তিরমিযী শরীফ)।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, ‘এপ্রিল ফুল ডে’ উদযাপন তথা একে অন্যকে বোকা বানিয়ে, মিথ্যা বলে আনন্দ লাভ করার প্রচেষ্টা ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের পরিপন্থী। সুতরাং এ থেকে আমাদের বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফীক্ব দান করুন-আমীন!
Recent Comments