সাহরী, ইফতার ও নামাযের সময়সূচি প্রকাশ ও প্রচার করার সময় পূর্ণ সাবধানতা অবলম্বন করা ফরয-ওয়াজিব। সাহরী ও ইফতারির সঠিক সময় জানতে ‘গবেষণা কেন্দ্র- মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ’ থেকে প্রকাশিত ক্যালেন্ডারটি সংগ্রহ ও অনুসরণ করুন।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে প্রমাণ উপস্থাপন করো।’
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তাই বলে বা প্রচার করে বেড়ায়।’
সাহরী, ইফতার ও নামাযের সময়সূচি প্রকাশ ও প্রচার করার সময় পূর্ণ সাবধানতা অবলম্বন করা ফরয-ওয়াজিব।
সাহরী ও ইফতারির সঠিক সময় জানতে ‘গবেষণা কেন্দ্র- মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ’ থেকে প্রকাশিত ক্যালেন্ডারটি সংগ্রহ ও অনুসরণ করুন।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমাদের দেশের শাসকশ্রেণীর ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং উলামায়ে ‘সূ’দের অপব্যাখ্যার কারণে দেশের সাধারণ মানুষ ইসলামের সঠিক শিক্ষা এবং তা পালন থেকে অনেক দূরে। ৯৭ ভাগ মুসলমানের এ দেশটিতে ইসলাম একটি আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব বিষয় হিসেবে রূপ লাভ করেছে। শরীয়ত মুতাবিক পালিত না হয়ে অনেক বিষয় লৌকিকতা সর্বস্ব সংস্কৃতির মধ্যে প্রবেশ করেছে। সে কারণেই রমাদ্বান শরীফ-এর রোযার ফরয-ওয়াজিব ভুলে গিয়ে মানুষ ইফতার পার্টির আনন্দে মেতে উঠে। ইফতারের আয়োজনে নারী-পুরুষের সমাগম হয় পর্দার গুরুত্ব উপেক্ষা করে। দোয়া কবুলের ঈদের রাতটিকে ভুলে গিয়ে মানুষ শরীয়ত বর্হিভূত আনন্দ আর বেহায়াপনায় মেতে উঠে। নাউযুবিল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, রোযার পূর্বেই শুরু হয় পত্রিকাগুলোতে ঈদ ফ্যাশনের কাভারেজ। অসংখ্য অশ্লীল ছবিতে ভরে যেতে থাকে পত্রিকাগুলো। মিডিয়াগুলো ব্যস্ত হয়ে উঠে খেল-তামাশা প্রচারে। রমাদ্বানের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে (অনেকটা বাণিজ্যিক কারণে) পত্রিকাগুলো সৌজন্যমূলক রমাদ্বানের শুভেচ্ছা জানায় আর প্রকাশ করে সাহরী-ইফতারের একটি সময়সূচি। সাহরী-ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করতে গিয়ে পত্রিকাগুলো ধর্মীয় দায়িত্ববোধের চেয়ে লৌকিকতা সর্বস্ব সাংস্কৃতিক দায়িত্ববোধ দ্বারা বেশি তাড়িত থাকে। ফলে তাদের প্রকাশিত সময়সূচি অনুসরণ করে রোযাদারের রোযা হবে কি হবে না সে ব্যাপারে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আরও একটি কারণ হলো- তারা তথ্য সূত্রে কোনোভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নাম যোগ করতে পারলেই ভাবে সব দায়িত্ব শেষ। অথচ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নামাযের সয়মসূচিও কিন্তু ত্রুটিমুক্ত নয়। আর ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)’র নামাযের সময়সূচি ছাড়া অন্যান্য তথ্য সূত্র থেকে যারা সাহরী-ইফতারের সময়সূচি তৈরি করেন তাদের আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, অনেক ক্যালেন্ডারেই কয়েকটি জেলার সময়সূচির পার্থক্য ঢাকার সঙ্গে যতটুকু হওয়া উচিত তার চেয়ে ভিন্নভাবে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। আবার অনেক দৈনিক পত্রিকায় যে সময়সূচি প্রকাশ করা হয়ে থাকে তার একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো মিল থাকে না।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এছাড়াও কয়েকটি তথাকথিত মাদরাসা থেকে প্রকাশিত সাহরী ও ইফতারের সময়সূচিতে বড় রকমের ভুল পরিলক্ষিত হয়। উলামায়ে ‘সূ’দের অজ্ঞতার কারণে ‘মাছি মারা কেরানী’র মতো অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে এ ভুলের জন্ম দিয়ে থাকে। এর মধ্যে নানান একাডেমী এবং নানান কমিটির প্রকাশিত সময়সূচি উল্লেখযোগ্য।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আজকাল যদিও বিভিন্ন কম্পিউটার সফটওয়্যারের মাধ্যমে নামাযের সময়সূচি নির্ণয় করা যায় তথাপি সফটওয়্যারের সময়সূচি নির্ধারণেও অনেকগুলো বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখতে হয়। যেমন- ১। প্রভাত এবং সন্ধ্যার আলোর যথাক্রমে শুরু এবং শেষ (Twilight angle of sunrise and sunset) ২। ঐ স্থানের সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা। ৩। ঐ স্থানের কেন্দ্র থেকে কতটা দূরত্বের সময়সুচি নির্ণয় করতে হবে। ৪। কোন মাযহাব অনুযায়ী নির্ণয় করতে হবে। ৫। সূর্যাস্তের (Apparent sunset) সময়ের সাথে সতর্কতামূলক সময় যোগ। ৬। অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশের সঠিক ব্যবহার ইত্যাদি।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, উপরের বিষয়গুলোর জন্য সঠিক মান ব্যবহৃত না হলে সময়সূচিতে ভুল হয়ে যাবে। এছাড়াও মনে রাখা প্রয়োজন, সূর্যের চতুর্দিকে পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে সারা বছরের বিভিন্ন মাসেই ঢাকার সাথে অন্যান্য জেলার সময়ের কিছু পার্থক্য ঘটে। প্রতিমাসের জন্য এই পার্থক্য এক রকম নয়। সুতরাং, এ বছর যেহেতু জুলাই মাসে রমাদ্বান শরীফ শুরু হবে সুতরাং জুলাই মাসের সময়ের পার্থক্যের মধ্য থেকে দু’টো মান নির্ধারণ করতে হয়, একটি সাহরীর সর্বনিম্ন পার্থক্যের মান আর ইফতারের জন্য সর্বোচ্চ পার্থক্যের মান। সাবধানতার জন্য ঢাকার সাহরীর সময়ের সাথে সর্বনিম্ন পার্থক্যের মান যোগ করে অন্য জেলার সাহরীর সময় নির্ধারণ করতে হয় আর ইফতারের সময়ের জন্য ঢাকার ইফতারের সময়ের সাথে সর্বোচ্চ পার্থক্যের মান যোগ করে অন্য জেলার ইফতারের সময়সূচি নির্ণয় করতে হয়। আর যে সকল জেলার সময় নির্ধারণে ঢাকার সময় থেকে বিয়োগ দিতে হয় সেখানে বিপরীত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, কোনো পত্রিকা বা মাদরাসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নামাযের এবং সাহরী ও ইফতারের সময়সূচিতে এ সাবধানতা অবলম্বন করা হয় না। ফলে, বিভিন্ন সময়সূচিতে বিভিন্ন রকম সময়ের উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, যাদের হাতের কাছে যে সময়সূচি পাওয়া যায় তারই কপি করে প্রকাশ করে। ফলে যেখানে যা ভুল থাকে তারই পুনঃমুদ্রণ ঘটে। অথচ ফরয আমলের বিষয় সম্পর্কে ইলম হাছিল করাও ফরয। সুতরাং এ বিষয়টি প্রকাশনার সময় যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। একটি জেলার জন্য যদি কয়েকটি ক্যালেন্ডারে কয়েক রকমের সময়ের পার্থক্য পাওয়া যায় তাহলে সাধারণ মানুষ কোনটি অনুসরণ করবে। সমূহ পত্রিকা এবং মাদরাসা প্রতিষ্ঠান যারাই নামাযের সময়সূচি বা সাহরী ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করুক তাদের উচিত হবে এ বিষয়ে যাঁরা অভিজ্ঞ উনাদের স্মরণাপন্ন হওয়া। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য সূত্র ব্যবহার করে পার পাওয়া যাবে না; যেহেতু ইসলামিক ফাউন্ডেশন নিজেই ত্রুটিযুক্ত।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নামাযের সময়সূচি বা ইফতারের সঠিক সময়সূচি নিরূপণ করাটা কঠিন। কিন্তু যতটা সম্ভব সঠিক করার চেষ্টা করতে হবে। অতঃপর অনিচ্ছায় ভুল হলে মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্তরের খবর রাখেন। কিন্তু যারা লোক দেখানো ইসলামের সেবা করে তাদের দ্বারা এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা বৃথা।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সকলকে গবেষণা কেন্দ্র- “মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” থেকে প্রকাশিত সাহরী ও ইফতারীর নির্ভুল সময়সূচি সম্বলিত ক্যালেন্ডারটি সংরক্ষণ ও অনুসরণ করার তাগিদ দেন।
তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

সাহরী, ইফতার ও নামাযের সময়সূচি প্রকাশ ও প্রচার করার সময় পূর্ণ সাবধানতা অবলম্বন করা ফরয-ওয়াজিব। সাহরী ও ইফতারির সঠিক সময় জানতে ‘গবেষণা কেন্দ্র- মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ’ থেকে প্রকাশিত ক্যালেন্ডারটি সংগ্রহ ও অনুসরণ করুন।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে প্রমাণ উপস্থাপন করো।’
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তাই বলে বা প্রচার করে বেড়ায়।’
সাহরী, ইফতার ও নামাযের সময়সূচি প্রকাশ ও প্রচার করার সময় পূর্ণ সাবধানতা অবলম্বন করা ফরয-ওয়াজিব।
সাহরী ও ইফতারির সঠিক সময় জানতে ‘গবেষণা কেন্দ্র- মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ’ থেকে প্রকাশিত ক্যালেন্ডারটি সংগ্রহ ও অনুসরণ করুন।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমাদের দেশের শাসকশ্রেণীর ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং উলামায়ে ‘সূ’দের অপব্যাখ্যার কারণে দেশের সাধারণ মানুষ ইসলামের সঠিক শিক্ষা এবং তা পালন থেকে অনেক দূরে। ৯৭ ভাগ মুসলমানের এ দেশটিতে ইসলাম একটি আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব বিষয় হিসেবে রূপ লাভ করেছে। শরীয়ত মুতাবিক পালিত না হয়ে অনেক বিষয় লৌকিকতা সর্বস্ব সংস্কৃতির মধ্যে প্রবেশ করেছে। সে কারণেই রমাদ্বান শরীফ-এর রোযার ফরয-ওয়াজিব ভুলে গিয়ে মানুষ ইফতার পার্টির আনন্দে মেতে উঠে। ইফতারের আয়োজনে নারী-পুরুষের সমাগম হয় পর্দার গুরুত্ব উপেক্ষা করে। দোয়া কবুলের ঈদের রাতটিকে ভুলে গিয়ে মানুষ শরীয়ত বর্হিভূত আনন্দ আর বেহায়াপনায় মেতে উঠে। নাউযুবিল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, রোযার পূর্বেই শুরু হয় পত্রিকাগুলোতে ঈদ ফ্যাশনের কাভারেজ। অসংখ্য অশ্লীল ছবিতে ভরে যেতে থাকে পত্রিকাগুলো। মিডিয়াগুলো ব্যস্ত হয়ে উঠে খেল-তামাশা প্রচারে। রমাদ্বানের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে (অনেকটা বাণিজ্যিক কারণে) পত্রিকাগুলো সৌজন্যমূলক রমাদ্বানের শুভেচ্ছা জানায় আর প্রকাশ করে সাহরী-ইফতারের একটি সময়সূচি। সাহরী-ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করতে গিয়ে পত্রিকাগুলো ধর্মীয় দায়িত্ববোধের চেয়ে লৌকিকতা সর্বস্ব সাংস্কৃতিক দায়িত্ববোধ দ্বারা বেশি তাড়িত থাকে। ফলে তাদের প্রকাশিত সময়সূচি অনুসরণ করে রোযাদারের রোযা হবে কি হবে না সে ব্যাপারে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আরও একটি কারণ হলো- তারা তথ্য সূত্রে কোনোভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নাম যোগ করতে পারলেই ভাবে সব দায়িত্ব শেষ। অথচ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নামাযের সয়মসূচিও কিন্তু ত্রুটিমুক্ত নয়। আর ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)’র নামাযের সময়সূচি ছাড়া অন্যান্য তথ্য সূত্র থেকে যারা সাহরী-ইফতারের সময়সূচি তৈরি করেন তাদের আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, অনেক ক্যালেন্ডারেই কয়েকটি জেলার সময়সূচির পার্থক্য ঢাকার সঙ্গে যতটুকু হওয়া উচিত তার চেয়ে ভিন্নভাবে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। আবার অনেক দৈনিক পত্রিকায় যে সময়সূচি প্রকাশ করা হয়ে থাকে তার একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো মিল থাকে না।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এছাড়াও কয়েকটি তথাকথিত মাদরাসা থেকে প্রকাশিত সাহরী ও ইফতারের সময়সূচিতে বড় রকমের ভুল পরিলক্ষিত হয়। উলামায়ে ‘সূ’দের অজ্ঞতার কারণে ‘মাছি মারা কেরানী’র মতো অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে এ ভুলের জন্ম দিয়ে থাকে। এর মধ্যে নানান একাডেমী এবং নানান কমিটির প্রকাশিত সময়সূচি উল্লেখযোগ্য।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আজকাল যদিও বিভিন্ন কম্পিউটার সফটওয়্যারের মাধ্যমে নামাযের সময়সূচি নির্ণয় করা যায় তথাপি সফটওয়্যারের সময়সূচি নির্ধারণেও অনেকগুলো বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখতে হয়। যেমন- ১। প্রভাত এবং সন্ধ্যার আলোর যথাক্রমে শুরু এবং শেষ (Twilight angle of sunrise and sunset) ২। ঐ স্থানের সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা। ৩। ঐ স্থানের কেন্দ্র থেকে কতটা দূরত্বের সময়সুচি নির্ণয় করতে হবে। ৪। কোন মাযহাব অনুযায়ী নির্ণয় করতে হবে। ৫। সূর্যাস্তের (Apparent sunset) সময়ের সাথে সতর্কতামূলক সময় যোগ। ৬। অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশের সঠিক ব্যবহার ইত্যাদি।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, উপরের বিষয়গুলোর জন্য সঠিক মান ব্যবহৃত না হলে সময়সূচিতে ভুল হয়ে যাবে। এছাড়াও মনে রাখা প্রয়োজন, সূর্যের চতুর্দিকে পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে সারা বছরের বিভিন্ন মাসেই ঢাকার সাথে অন্যান্য জেলার সময়ের কিছু পার্থক্য ঘটে। প্রতিমাসের জন্য এই পার্থক্য এক রকম নয়। সুতরাং, এ বছর যেহেতু জুলাই মাসে রমাদ্বান শরীফ শুরু হবে সুতরাং জুলাই মাসের সময়ের পার্থক্যের মধ্য থেকে দু’টো মান নির্ধারণ করতে হয়, একটি সাহরীর সর্বনিম্ন পার্থক্যের মান আর ইফতারের জন্য সর্বোচ্চ পার্থক্যের মান। সাবধানতার জন্য ঢাকার সাহরীর সময়ের সাথে সর্বনিম্ন পার্থক্যের মান যোগ করে অন্য জেলার সাহরীর সময় নির্ধারণ করতে হয় আর ইফতারের সময়ের জন্য ঢাকার ইফতারের সময়ের সাথে সর্বোচ্চ পার্থক্যের মান যোগ করে অন্য জেলার ইফতারের সময়সূচি নির্ণয় করতে হয়। আর যে সকল জেলার সময় নির্ধারণে ঢাকার সময় থেকে বিয়োগ দিতে হয় সেখানে বিপরীত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, কোনো পত্রিকা বা মাদরাসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নামাযের এবং সাহরী ও ইফতারের সময়সূচিতে এ সাবধানতা অবলম্বন করা হয় না। ফলে, বিভিন্ন সময়সূচিতে বিভিন্ন রকম সময়ের উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, যাদের হাতের কাছে যে সময়সূচি পাওয়া যায় তারই কপি করে প্রকাশ করে। ফলে যেখানে যা ভুল থাকে তারই পুনঃমুদ্রণ ঘটে। অথচ ফরয আমলের বিষয় সম্পর্কে ইলম হাছিল করাও ফরয। সুতরাং এ বিষয়টি প্রকাশনার সময় যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। একটি জেলার জন্য যদি কয়েকটি ক্যালেন্ডারে কয়েক রকমের সময়ের পার্থক্য পাওয়া যায় তাহলে সাধারণ মানুষ কোনটি অনুসরণ করবে। সমূহ পত্রিকা এবং মাদরাসা প্রতিষ্ঠান যারাই নামাযের সময়সূচি বা সাহরী ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করুক তাদের উচিত হবে এ বিষয়ে যাঁরা অভিজ্ঞ উনাদের স্মরণাপন্ন হওয়া। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য সূত্র ব্যবহার করে পার পাওয়া যাবে না; যেহেতু ইসলামিক ফাউন্ডেশন নিজেই ত্রুটিযুক্ত।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নামাযের সময়সূচি বা ইফতারের সঠিক সময়সূচি নিরূপণ করাটা কঠিন। কিন্তু যতটা সম্ভব সঠিক করার চেষ্টা করতে হবে। অতঃপর অনিচ্ছায় ভুল হলে মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্তরের খবর রাখেন। কিন্তু যারা লোক দেখানো ইসলামের সেবা করে তাদের দ্বারা এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা বৃথা।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সকলকে গবেষণা কেন্দ্র- “মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ” থেকে প্রকাশিত সাহরী ও ইফতারীর নির্ভুল সময়সূচি সম্বলিত ক্যালেন্ডারটি সংরক্ষণ ও অনুসরণ করার তাগিদ দেন।
তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

যারা বলে- ‘সারা বছর নামায নেই, রোযা নেই শুধু শবে বরাতে নামায-রোযা করে কি হবে’- তাদের এ কথা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘যে এক বিন্দু পরিমাণ বা জাররা পরিমাণ নেকী করবে সে তার বদলা পাবে।’
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘যখন মধ্য শা’বান মাসের রাত্রি অর্থাৎ বরাতের রাত্রি এসে যাবে তখন তোমরা সারা রাত্র ইবাদত করো ও দিনে রোযা রাখো।’
তাই প্রত্যেকের উচিত পবিত্র শবে বরাতে সারা রাত্রব্যাপী ইবাদত-বন্দেগী করা ও পরের দিন রোযা রাখা।
যারা বলে- ‘সারা বছর নামায নেই, রোযা নেই শুধু শবে বরাতে নামায-রোযা করে কি হবে’-
তাদের এ কথা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের কুফরীমূলক বক্তব্য থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে খালিছ তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস্ সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, মুর্শিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যখন তোমরা বরাতের রাত্রি পাবে তখন তোমরা সারা রাত্রি জেগে-জেগে নামায-কালাম পড়বে এবং দিনে রোযা রাখবে। কেননা, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সেই রাত্রিতে পৃথিবীর আকাশে এসে অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করে ফজর তথা ছুবহে ছাদিক হওয়া পর্যন্ত ঘোষণা দিতে থাকেন- তোমাদের মধ্যে কেউ ক্ষমাপ্রার্থী আছো কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিবো। কেউ রিযিক প্রার্থী আছো কি? আমি তাকে রিযিক দান করবো। কেউ বিপদগ্রস্ত আছো কি? তার বিপদ দূর করে দিবো।”

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম ‘তিনি বাইহাক্বী শরীফ’-এর হাদীছ শরীফ-এর উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেন, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “বরাতের রাত্রিতে (আগামী এক বছরে) যে সকল আদম সন্তান জন্মগ্রহণ করবে এবং ইন্তিকাল করবে তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। বান্দা-বান্দি উনাদের (এক বছরের) রিযিকের ফায়ছালা করা হয় এবং বান্দা-বান্দি উনাদের (বিগত এক বছরের) আমলনামা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পেশ করা হয়।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হাদীছ শরীফ-এর উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া কবুল হয়। রজবের প্রথম রাত্র, মধ্য শাবানের রাত্র বা ১৪ তারিখ দিবাগত রাত্র, ক্বদরের রাত্র এবং দু’ঈদের দু’রাত্র।” সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি শা’বান মাসের রোযা সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এর উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেন, “যে ব্যক্তি শা’বান মাসে তিনটি রোযা রাখবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার গুনাহখাতা ক্ষমা করে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ!
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, “শা’বান মাসের পনের তারিখ যে রোযা রাখবে, জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না।” সুবহানাল্লাহ!
আরো ইরশাদ হয়েছে, “শা’বান মাসের রোযার ইফতারীর সময় যে তিনবার দুরূদ শরীফ পাঠ করবে, তার পূর্বের গুনাহখাতা ক্ষমা করা হবে এবং রিযিকে বরকত দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হাদীছ শরীফ-এ শবে বরাতে ইবাদত-বন্দেগী করার ও দিনে রোযা রাখার অসংখ্য সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকার পরও কিছু গুমরাহ লোক সাধারণ মানুষদেরকে উক্ত রাতে ইবাদত করতে নিরুৎসাহিত করে বলে থাকে যে- ‘সারা বছর নামায নেই, রোযা নেই, ইবাদত-বন্দিগী নেই; শুধু শবে বরাতে নামায-কালাম পড়ে ও রোযা রেখে কী হবে’ তাদের এ কথা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ, যে যতটুকু নেক আমল করবে সে ততটুকুরই ফায়দা পাবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “যে এক বিন্দু পরিমাণ বা জাররা পরিমাণ নেকী করবে সে তার বদলা পাবে।” তাহলে এটাতে বাধা দেয়ার অর্থই হচ্ছে তাকে মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে তথা মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত থেকে ফিরিয়ে দেয়া। এটা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। যদি এ পবিত্র বরাতের রাত্রিতে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে কবুল করে নেন তাহলেই তো সে কামিয়াব হয়ে গেলো।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পূর্ববর্তী যামানার একটি বিশেষ রাতের ফযীলতের কথা বর্ণনা করে বলেন, পূর্ববর্তী যামানার উম্মতদেরকে ক্ষমা করার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি বিশেষ একটি রাত্রি দিয়েছিলেন। একবার সেই বিশেষ রাতটি যখন আসলো তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে বলে পাঠালেন, হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! আজকে রহমতের রাত্রি, বরকতের রাত্রি, মাগফিরাতের রাত্রি। আপনি যমীনে গিয়ে দেখে আসেন আমার বান্দা-বান্দিরা কে কি অবস্থায় রয়েছে? হযরত জিবরীল আলাইহিস্ সালাম তিনি সারা যমীন ঘুরে বান্দা-বান্দিদের অবস্থা দেখে মহান আল্লাহ পাক উনাকে জানালেন, বারে ইলাহী! আপনার বান্দা-বান্দিদের জন্য আফ্সুস! সমস্ত বান্দা-বান্দিরা ঘুমিয়ে রয়েছে। কেবল এক হিন্দু ঠাকুর, সে এক মন্দিরে মূর্তির সামনে বসে ছনম ছনম অর্থাৎ মূর্তি মূর্তি বলে জপছে। সে হিন্দু ঠাকুরের গলায় পৈতা, পরনে ধুতি, মাথায় টিকি। বারে ইলাহী! আপনি যদি ইজাযত দেন তাহলে আমি সেই হিন্দু ঠাকুরকে মন্দির ও মূর্তিসহ উল্টিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে দিয়ে আসি। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! অপেক্ষা করুন। হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি অপেক্ষা করতে লাগলেন।

পরবর্তী বৎসর আবার যখন সেই রহমতের রাত্রি, বরকতের রাত্রি, মাগফিরাতের রাত্রি আসলো তখন পুনরায় মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে ডেকে বললেন, হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! এবারও যমীনে গিয়ে দেখে আসুন বান্দা-বান্দিরা কে কি অবস্থায় রয়েছে? মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ পেয়ে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি সারা যমীন ঘুরে এসে মহান আল্লাহ পাক উনাকে জানালেন, বারে ইলাহী! আপনার বান্দা-বান্দিদের জন্য আফ্সুস! এবারও সমস্ত বান্দা-বান্দিরাই ঘুমিয়ে আছে। তবে একজন বান্দা উনাকে পাওয়া গেছে ইয়া আল্লাহ পাক! যে এক ইবাদতখানায় বসে আপনার নাম মুবারক ‘ছমাদ’ (বেনিয়াজ) ‘ছমাদ’ (বেনিয়াজ) বলে যিকির করছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! আপনি কি সেই বান্দা উনাকে চিনতে পেরেছেন? হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, বারে ইলাহী! আপনার লক্ষ-কোটি বান্দাদের মধ্যে সবাইকে তো আমার পক্ষে চেনা সম্ভব নয়। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনার কি স্মরণে আছে সেই হিন্দু ঠাকুরের কথা! যাকে আপনি মন্দির ও মূর্তিসহ উল্টিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, বারে ইলাহী! সেই কথা তো আমার স্মরণে আছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, এই বান্দা তো সেই বান্দা। হযরত জিবরীল আলাইহিস্ সালাম তিনি বললেন, বারে ইলাহী! সেই বান্দা এখানে কি করে আসলো? মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, সেই রহমতের রাত্রিতে, বরকতের রাত্রিতে, মাগফিরাতের রাত্রিতে হিন্দু ঠাকুরের জবান পিছলিয়ে হঠাৎ ছনমের পরিবর্তে সে একবার ‘ছমাদ’ বলে ফেলেছিলো আর তৎক্ষণাৎ আমি তার ডাকে সাড়া দিয়ে বলেছিলাম, লাব্বাইকা ইয়া আবদী- হে আমার বান্দা তুমি কোথায়! তোমার বয়স নব্বই হয়ে গেছে। পিঠ বাঁকা হয়ে গেছে। আর কতকাল তুমি ছনম ছনম (মূর্তি মূর্তি) বলে ডাকবে? তোমার মূর্তি তো একবারের জন্যেও তোমার ডাকে সাড়া দেয়নি। কাজেই, তুমি তওবা করে ফিরে আসো। তখন সে বান্দা তওবা করে মূর্তিকে আছাড় দিয়ে ভেঙে মন্দির থেকে বের হয়ে গলার পৈতা ছিঁড়ে, মাথার টিকি কেটে, ধুতি পাল্টিয়ে লুঙ্গি, কোর্তা, টুপি, পাগড়ী পরিধান করে ইবাদতখানায় প্রবেশ করে ‘ছমাদ’ ‘ছমাদ’ যিকিরে মশগুল হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হাদীছ শরীফ-এ এসেছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “তোমরা কোন নেক কাজকে ছোট মনে করো না বা কোন নেকীকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করো না।” কাজেই ‘সারা বছর নামায পড়ে না, রোযা রাখে না, এখন শবে বরাতে একদিন নামায-কালাম পড়ে কি হবে’ এরূপ কথা বলে পবিত্র শবে বরাতে ইবাদত-বন্দেগী থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা, নিরুৎসাহিত করা যা কাট্টা হারাম ও কুফরী হবে। অর্থাৎ নেক কাজকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা, অবজ্ঞা করা, ছোট মনে করা গুমরাহী, কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি কবুল করে নেন তাহলে ছোটটাই বড় হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, বর্তমানে বাতিল ফিরক্বার লোকেরা আরেকটা কাজ করে থাকে, তা হলো তাড়াতাড়ি ইশার নামায পড়েই মসজিদ বন্ধ করে দেয়। নাউযুবিল্লাহ! অথচ মসজিদগুলো খোলা রাখা উচিত ছিল। মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “ওই ব্যক্তির চাইতে বড় জালিম কে? যে মসজিদে মানুষকে ইবাদত-বন্দিগী, যিকির-ফিকির করতে বাধা দেয় এবং বিরান করার জন্য সাহায্য করে।”

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই বলেন, “তোমরা নেকীতে, পরহেযগারীতে সাহায্য করো, শত্রুতা ও পাপের মধ্যে সাহায্য করো না।” কাজেই বরাতের রাতে ইবাদতকারীকে বাধা দিলে তারা তো নেক কাজে সাহায্যকারী হলোই না বরং তারা বদ কাজে সাহায্যকারী হলো। আর মসজিদ বন্ধ করে রাখার কারণে, মসজিদ বিরান করার দায়ে দায়ী হয়ে তারা জালিমের অন্তর্ভুক্ত হবে। তাই এ সমস্ত জাহিল, মূর্খ, ওহাবী, সালাফী, জামাতী, দেওবন্দী, মওদুদী, তাবলীগী বাতিল ফিরক্বার লোকদের থেকে এবং তাদের গুমরাহীমূলক বক্তব্য থেকে সকলকে সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে।
-০-
তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

বাংলাদেশসহ প্রত্যেক মুসলিম ও অমুসলিম দেশের সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, পবিত্র শবে মি’রাজ শরীফ উপলক্ষে শুধুমাত্র ঐচ্ছিক নয়; বরং বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা করা।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক যিনি উনার বান্দা (হাবীব) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কোন এক রাতের সামান্য সময়ে (প্রথমে) বাইতুল্লাহ শরীফ থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ পর্যন্ত, যার আশপাশ বরকতময়; অতঃপর উনার নিদর্শনসমূহ দেখানোর জন্য অর্থাৎ দীদার মুবারক আরশে আযীমে দেয়ার জন্য ভ্রমণ করিয়েছেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।’
আজ ২৬শে রজব, ইয়াওমুল আহাদি বা রোববার দিবাগত রাতেই অর্থাৎ ২৭শে রজব লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ রাতেই পবিত্র শবে মি’রাজ।
সে কারণেই প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, এ রাতে ইবাদত-বন্দেগী, তওবা-ইস্তিগফার, মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ ও দোয়া-মুনাজাত করা এবং পরের দিন অর্থাৎ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ রোযা রাখা।
আর বাংলাদেশসহ প্রত্যেক মুসলিম ও অমুসলিম দেশের সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, পবিত্র শবে মি’রাজ শরীফ উপলক্ষে শুধুমাত্র ঐচ্ছিক নয়; বরং বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা করা।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “পবিত্র মি’রাজ শরীফ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলতের মধ্য হতে একটি বিশেষ ফাযায়িল-ফযীলত; যা বিশ্বাস করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয। আর অস্বীকার ও অবজ্ঞা করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মি’রাজ শরীফ হয়েছে ৩৪ বার। এক বার জিসমানী বা সশরীর মুবারকে। আর বাকি ৩৩ বার রূহানীভাবে হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়াবী হিসেবে ৫১তম বয়স মুবারকে ২৬ মাহে রজব ইয়াওমুল আহাদি বা রোববার দিবাগত রাত্রে অর্থাৎ ২৭ রজব ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ রাত্রে পবিত্র কা’বা শরীফ থেকে পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ, সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে আরশে মুয়াল্লায় মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে মুবারক সাক্ষাৎ করে আবার যমীনে তাশরীফ আনেন। যা বিশিষ্ট ৪৫ জন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বর্ণনা করেছেন।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মি’রাজ শরীফ-এর অর্থ হচ্ছে ঊর্ধ্বারোহণ। শরীয়তের পরিভাষায় মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার যে সাক্ষাৎ বা দীদার মুবারক হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে সেটাই মি’রাজ শরীফ।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মি’রাজ শরীফ-এর লক্ষ কোটি কারণ রয়েছে, তন্মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে- মহান আল্লাহ পাক উনার সরাসরি বরকতময় সাক্ষাৎ তথা ছোহবত, যা তিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দিয়েছেন। এ মি’রাজ শরীফ দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিগূঢ় সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আজ ইয়াওমুল আহাদি বা রোববার দিবাগত রাতেই সেই পবিত্র শবে মি’রাজ। তাই প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, এ রাত্রিতে ইবাদত-বন্দিগী, তওবা-ইস্তিগফার, মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ ও দোয়া-মুনাজাত করা এবং পরের দিন অর্থাৎ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ রোযা রাখা। রজব মাসের ২৭ তারিখে রোযা রাখার ফযীলত সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি ২৭শে রজব দিনে রোযা রাখবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার আমলনামায় ষাট মাস তথা পাঁচ বছর রোযা রাখার ফযীলত লিখে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, রজব মাস এমনিতেই সম্মানিত মাস। হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি এ মাসের কোন এক রাতে ইবাদত করবে সে এক বছর রাতে ইবাদত করার ছওয়াব পাবে। আর একদিন রোযা রাখলে এক বছর দিনে রোযা রাখার ফযীলত পাবে।” সে রাতে যারা খাছ ইয়াক্বীনের সাথে দোয়া করবে তাদের প্রত্যেকটা দোয়াই কবুল হবে। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যেহেতু শবে মি’রাজের সাথে রাতে ইবাদত-বন্দেগী করা ও দিনে রোযা রাখা তথা আমলের সম্পর্ক রয়েছে। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে বাংলাদেশসহ প্রতিটি মুসলিম সরকারেরই উচিত শবে মি’রাজ শরীফ উপলক্ষে দেশে বাধ্যতামূলক সরকারি ছুটি ঘোষণা করা এবং শবে মি’রাজ পালনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হিন্দু ও মজুসীদের পহেলা বৈশাখ, ইহুদী-খ্রিস্টানদের পহেলা মে, বৌদ্ধদের বুদ্ধ পূর্ণিমা, খ্রিস্টানদের বিশেষ দিন ২৫শে ডিসেম্বর ও হিন্দুদের দুর্গাপূজাসহ অনেক দিন মুসলিম বিশ্বে ছুটি পালন করা হয়; যার সাথে মুসলিম ঐতিহ্যের কোন সম্পর্ক নেই এবং যা মুসলমানদের প্রয়োজনও নেই। সরকরের উচিত এরূপ অপ্রয়োজনীয় দিনে ছুটি ঐচ্ছিক করে পবিত্র শবে মি’রাজ-এর ন্যায় বেমেছাল ফযীলতপূর্ণ রাত উপলক্ষে বাধ্যতামূলক ছুটি দেয়া।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- আজ ২৬শে রজব, ইয়াওমুল আহাদি বা রোববার দিবাগত রাতেই অর্থাৎ ২৭শে রজব লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ রাতেই পবিত্র শবে মি’রাজ। সে কারণেই প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, এ রাতে ইবাদত-বন্দেগী, তওবা-ইস্তিগফার, মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ ও দোয়া-মুনাজাত করা এবং পরের দিন অর্থাৎ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ রোযা রাখা। আর বাংলাদেশসহ প্রত্যেক মুসলিম ও অমুসলিম দেশের সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, পবিত্র শবে মি’রাজ শরীফ উপলক্ষে শুধুমাত্র ঐচ্ছিক নয়; বরং বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা করা।
-০-
তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে বলেছেন, ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। এখন জানার বিষয় হচ্ছে- আমি কি প্রকৃতপক্ষেই গোলামের ছেলে গোলাম হয়েছি?

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মতদেরকে বলুন, তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাইনা। তবে আমার যারা ঘনিষ্ঠজন তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ও হযরত আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।’
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘আমার আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদগণ উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য।’
হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতই হচ্ছে ঈমান। আর হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত হচ্ছে জুযে ঈমান।
তাই উনাদেরকে মুহব্বত করা এবং উনাদেরকে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরযে আইন।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্পর্কে ইরশাদ করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। তবে আমার নিকটজন তথা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদগণ উনাদের প্রতি তোমরা সদাচারণ করবে।” (সূরা শূরা : আয়াত শরীফ- ২৩) এ আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত তাফসীর “তাফসীরে মাযহারী” ৮ম জিলদ ৩২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাই না। তবে (তোমাদের প্রতি আমার নির্দেশ হলো) তোমরা আমার নিকটাত্মীয়, আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদগণ উনাদের প্রতি মুহব্বত রাখবে এবং (যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক) হক্ব আদায় করবে।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে কতটুকু তা’যীম-তাকরীম ও মুহব্বত করতে হবে সে প্রসঙ্গে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে- রঈসুল মুহাদ্দিছীন হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে চলাচল করতেন, উঠাবসা করতেন। কোনো এক প্রসঙ্গে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে বলেছিলেন, ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। এটা শুনে তিনি বিষয়টার শরঈ ফায়সালার জন্য উনার পিতা যিনি খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনাকে জানালেন যে, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে বলেছেন, ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। এখন জানার বিষয় হচ্ছে- আমি কি প্রকৃতপক্ষেই গোলামের ছেলে গোলাম হয়েছি? খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, বেশ ভালো কথা। এ বক্তব্যের শরঈ ফায়সালা করতে হলে মৌখিকভাবে বললে হবে না বরং লিখিত আনতে হবে, কাগজে-কলমে থাকতে হবে।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট গিয়ে বললেন, হে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম! আপনি যে আমাকে বলেছেন, ‘গোলামের ছেলে গোলাম’ এটা লিখিত দিতে হবে কারণ এ বক্তব্যের শরঈ ফায়সালার জন্য আমি খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার কাছে আরজি পেশ করেছি। তিনি বললেন হ্যাঁ, আমি লিখিত দিবো। সত্যিই তিনি একটা কাগজে লিখে দিলেন, ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। সেটা নিয়ে পেশ করা হলো খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার কাছে। তিনি বললেন, ঠিক আছে, আমি এর শরঈ ফায়ছালা বর্ণনা করবো। বিষয়টি নিয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সকলেই চিন্তিত হলেন। উনারা চিন্তিত হলেন যে, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি জালালী তবিয়তের, তিনি ইনছাফগার হিসেবে মশহূর, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশিষ্ট ছাহাবী, নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের পরে দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব।
একদিকে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম, আরেকদিকে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম। সকলেই চিন্তিত হলেন, বিষয়টির শরঈ কী ফায়সালা? খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি তো অনেক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তাহক্বীক করে শরঈ ফায়সালা দিয়ে থাকেন। তিনি কী ফতওয়া দিবেন? নির্দিষ্ট স্থান, সময়, দিন, তারিখ সব ঘোষণা করা হলো। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবিয়ীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম যাঁরা ছিলেন সকলেই সেখানে জমা হয়ে গেলেন যে, কী ফতওয়া দেয়া হয় সেটা জানার জন্য।
এদিকে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি উপস্থিত হলেন। তিনি যখন উপস্থিত হলেন, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে অত্যন্ত তা’যীম-তাকরীম করে একটা সম্মানিত স্থানে বসালেন। আর হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন আসলেন, উনাকেও এক পাশে বসালেন। শরঈ ফায়সালার নিদিষ্ট সময় যখন উপস্থিত হলো, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার পকেট থেকে কাগজটা বের করে বললেন যে, একটা কাগজ আমার কাছে পেঁৗঁছানো হয়েছে, এ কাগজের মধ্যে লিখিত রয়েছে ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। কাগজটা দিয়েছেন আমার ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। উনার বক্তব্য হচ্ছে- হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে বলেছেন- ‘গোলামের ছেলে গোলাম’।
এ বিষয়ে শরঈ ফায়সালার জন্য এ কাগজটা আমার নিকট পেশ করা হয়েছে। তখন খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি আপনি লিখেছেন? তিনি বললেন যে, হ্যাঁ। এটা আমার লিখিত, আমি বলেছি এবং লিখেছি। যখন জিজ্ঞাসা করে উনার স্বীকৃতি মুবারক নেয়া হলো তখন বিষয়টা সবাইকে জানানো হলো যে, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি দয়া করে এ কথা বলেছেন এবং দয়া করে লিখেও দিয়েছেন। এটা সকলেই শুনলেন। তখন খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি বললেন যে, এখন এ বিষয়ে শরঈ ফায়ছালা করা হবে। সকলেই অত্যান্ত মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকলেন। মনে হয়েছে যেনো বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, সকলেই একদৃষ্টিতে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার দিকে চেয়ে রয়েছেন। এ বিষয়টা তিনি কীভাবে ফায়সালা করেন, এবং এর কী ফায়সালা রয়েছে শরীয়তে?
খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি ঘোষণা করলেন, এই যে কাগজটা যার মধ্যে লিখিত রয়েছে, ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। অর্থাৎ হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের যিনি অন্যতম ব্যক্তিত্ব হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমার ছেলেকে বলেছেন, ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। এর অর্থ হচ্ছে খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন গোলাম আর উনার ছেলে হচ্ছে ‘গোলামের ছেলে গোলাম’। এর শরঈ ফায়সালা হচ্ছে- আপনারা সকলেই সাক্ষী থাকুন, আমি আমার যিন্দিগীর অনেক সময় অতিবাহিত করেছি, পূর্ববর্তী কুফরী যিন্দিগী বাদ দিয়েছি, আমার অতীতের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি যা ছিলো সেটা আমি ত্যাগ করেছি, শরীয়তের নির্দেশবহির্ভূত আহলিয়া ছিলো তাদেরকেও পরিত্যাগ করেছি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টির জন্য। আমার চাওয়া এবং পাওয়ার বিষয় এটাই ছিলো যে, মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি। মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যতোটুকু দিয়েছেন ততোটুকু পাওয়া হয়েছে। তবে আমার একটা লিখিত দলীল প্রয়োজন ছিলো, যে লিখিত দলীলের আমি প্রত্যাশা করেছিলাম। আজকে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি এটা লিখিত দিয়েছেন। এখন থেকে আমি নিশ্চিত হয়ে গেলাম আমি উনাদের গোলাম। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, বর্তমানে আমার ওছীয়ত হচ্ছে আপনাদের প্রতি, আমি ইন্তিকাল করলে এই কাগজখানা আমার কাফনের ভিতরে, আমার সিনার উপর রেখে দিবেন। সুবহানাল্লাহ! আমি ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক উনার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কাছে আরজু করবো যে, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার যিনি লখতে জিগার হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনি আমাকে লিখিত দিয়েছেন যে, ‘আমি গোলাম’। কাজেই, আমার আমল যা-ই রয়েছে কমপক্ষে এই দলীলের খাতিরে আমাকে গোলাম হিসেবে কবুল করুন। সুবহানাল্লাহ!

উনি যখন এটা ফায়সালা করলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং হযরত তাবিয়ীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মধ্যে সেখানে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন সকলেই হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার মুহব্বত ও তা’যীম দেখে আশ্চর্য হয়ে হাক্বীক্বী ইবরত ও নছীহত হাছিল করলেন।।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলত এ ঘটনাটির মাধ্যমে যে বিষয়টি সুস্পষ্টরূপে ফুটে উঠেছে তা হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি লাভ করতে হলে প্রত্যেক উম্মতের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি সুধারণা পোষণ করা, উনাদেরকে মুহব্বত করা ও সম্মান-ইজ্জত করা। হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত হচ্ছে ঈমান। আর হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত জুযে ঈমান। উনাদেরকে মুহব্বত করা এবং উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরযে আইন।
-০-

তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, ‘রজবুল হারাম মাস মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ মাস। যে ব্যক্তি রজব মাসকে সম্মান করবে সে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত হবে।’ সুবহানাল্লাহ!

হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, ‘রজবুল হারাম মাস মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ মাস। যে ব্যক্তি রজব মাসকে সম্মান করবে সে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত হবে।’ সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র রজবুল হারাম মাসেই রয়েছে রজবের পহেলা রাত্র, লাইলাতুর রগায়িব, শবে মি’রাজসহ অনেক বরকত-নিয়ামতপূর্ণ দিন ও রাত্র। যে দিন ও রাত্রগুলোতে নিশ্চিতভাবে দোয়া কবুল হয়ে থাকে। সুবহানাল্লাহ!
কিন্তু চাঁদ দেখে সঠিক তারিখে পবিত্র রজবুল হারাম মাস শুরু না হলে বিশ্বের মুসলমানগণ এই বরকত ও নিয়ামত থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
তাই সউদী আরবসহ বিশ্বের সমস্ত মুসলিম দেশের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, চাঁদ দেখে সঠিক তারিখে পবিত্র রজবুল হারাম মাস শুরু করা।
কারণ খালি চোখে চাঁদ দেখে আরবী মাস শুরু করা শরীয়তের নির্দেশ।
বৈজ্ঞানিক তথ্যের উপর নির্ভর করে আরবী মাস শুরু করা শরীয়তসম্মত নয়।
চাঁদ দেখার অনেক শর্ত অনুকূলে থাকলেও অনেক সময় চাঁদ দৃশ্যমান নাও হতে পারে।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “বৈজ্ঞানিক তথ্যের উপর নির্ভর করে আরবী মাস শুরু করা শরীয়তসম্মত নয়। চাঁদ দেখার অনেক শর্ত অনুকূলে থাকলেও অনেক সময় চাঁদ দৃশ্যমান নাও হতে পারে। খালি চোখে চাঁদ দেখে আরবী মাস শুরু করা শরীয়তের নির্দেশ।”
পবিত্র জুমাদাল উখরা মাসের চাঁদ বাংলাদেশে দেখা যাওয়ার সমূহসম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা দেখা না যাওয়ার কারণে এ বিষয়ে নছীহতকালে এবং চাঁদ দেখে রজবুল হারাম মাস শুরু করার গুরুত্ব বর্ণনাকালে তিনি উপরোক্ত ক্বওল শরীফ উল্লেখ করেন।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হাদীছ শরীফ-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “সৃষ্টির শুরু থেকে চারটি মাস হারাম বা সম্মানিত। যিলক্বদ, যিলহজ্জ, মুহররম এবং আলাদাভাবে রজব মাস।”
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, “পাঁচ রাত্রিতে নিশ্চিতভাবে দোয়া কবুল হয়- রজব মাসের পহেলা রাত্রে, শবে বরাতে, শবে ক্বদরে এবং দু’ঈদের দুই রাত্রে।”

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “এছাড়াও পবিত্র রজবুল হারাম মাসে রয়েছে আরো একটি বিশেষ রাত্র ও দিন। এ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্রিকে বলা হয় লাইলাতুর রগায়িব। যে মহান রাত্রিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র রেহেম শরীফ-এ কুদরতীভাবে তাশরীফ নেন। এই বিশেষ রাত্রিগুলো দোয়া কবুলের রাত্রি, রহমত, বরকত, সাকীনা হাছিলের রাত্রি। সুতরাং পবিত্র রজবুল হারাম মাসের এই সম্মানিত রাতগুলোতে ইবাদত-বন্দেগী ও দোয়া করে নিয়ামত হাছিল করার পূর্বশর্ত হচ্ছে, চাঁদ দেখে সঠিক তারিখে আরবী মাস শুরু করা। তাই সউদী আরবসহ বিশ্বের সমস্ত মুসলিম দেশের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, চাঁদ দেখে সঠিক তারিখে পবিত্র রজবুল হারাম মাস শুরু করা। কারণ চাঁদ দেখে প্রতিটি মাস শুরু করা শরীয়তের নির্দেশ।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহাকাশ বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী জুমাদাল উখরা মাসের চাঁদ বাংলাদেশে দেখা যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিলো। অথচ আকাশ পরিষ্কার থাকার পরেও চাঁদ দৃশ্যমান হয়নি। সে কারণেই শরীয়তের স্পষ্ট নির্দেশ হচ্ছে, প্রতি মাসেই চাঁদ তালাশ করা ওয়াজিবে ক্বিফায়া এবং চাঁদ দেখে আরবী মাস শুরু করা। শরীয়তের নির্দেশ অমান্য করে মনগড়া নিয়মে আরবী মাস শুরু করা হারাম ও কুফরী।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, চাঁদ দেখার অনেকগুলো শর্ত পূর্বে নির্ণয় করা গেলেও কয়েকটি শর্ত চাঁদ তালাশের দিনের উপর নির্ভরশীল। যেমন চাঁদের বয়স, দিগন্তের উপর উচ্চতা, কৌণিক দূরুত্ব, চন্দ্রাস্ত, সূর্যাস্তের সময়ের পার্থক্য পূর্বে নির্ণয় করা গেলেও, সেদিনের বাতাসের আর্দ্রতা, বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ, আকাশের অবস্থা নির্ণয় করা কঠিন। অথচ চাঁদ দেখা যাওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলোও যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যেমন পূর্বে যখন রাস্তাঘাটে বিদ্যুতের বাতি ছিলো না, দুষিত বায়ু নির্গমন ছিলো না, তখন দিগন্ত রেখার ৮ ডিগ্রি উপরে চাঁদ থাকলেও তা দৃশ্যমান হতো। অথচ বর্তমানে চাঁদ ১০ ডিগ্রি উপরে থাকলেও অনেক সময় দৃষ্টিগোচর হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, শরীয়তের নিয়মসমূহ ক্বিয়ামত পর্যন্ত আমলযোগ্য; তা যুগের কারণে বা বিজ্ঞানের পদ্ধতি আবিষ্কারের কারণে কখনো পরিবর্তন হবে না। বরং বিজ্ঞানকে শরীয়তের আলোকে বা শরীয়তের মানদণ্ডে ব্যাখ্যা করতে হবে।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ২২শে মে ইয়াওমুছ ছুলাছায়ি বা মঙ্গলবারের পূর্বে সউদী আরবসহ এর পশ্চিমের কোনো দেশে পবিত্র রজবুল হারাম মাসের চাঁদ দেখা যাবে না। বাংলাদেশে পবিত্র রজবুল হারাম মাসের চাঁদ তালাশ করতে হবে ২৯শে জুমাদাল উখরা, ২৩শে ছানী আ’শার-১৩৭৯ শামসী, ২২শে মে-২০১২ ঈ., ইয়াওমুছ ছুলাছায়ি বা মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। সেদিন ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে ৬টা ৩৭ মিনিটে। এবং চন্দ্রাস্ত হবে ৭টা ৫০ মিনিটে। অর্থাৎ সূর্যাস্ত ও চন্দ্রাস্তের সময়ের পার্থক্য হবে ১ ঘণ্টা ১২ মিনিট। সেদিন চাঁদের বয়স হবে ৩৬ ঘণ্টারও বেশি। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ দিগন্তরেখার প্রায় ১৫ ডিগ্রি উপরে অবস্থান করবে। চাঁদের কৌণিক দূরত্ব হবে ১৬ ডিগ্রি ৪৭ মিনিট। সূর্য থাকবে ২৯২ ডিগ্রি আজিমাতে এবং চাঁদ খুঁজতে হবে ২৮৭ ডিগ্রি আজিমাতে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে সেদিন চাঁদ দেখা যাওয়র যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...