মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হচ্ছে ইসলাম।’ আর বাংলাদেশের ৯৭ ভাগ মানুষের দ্বীন হচ্ছে ইসলাম; তাই বাংলাদেশ সংবিধানের ২ নম্বর ধারায় বর্ণিত রাষ্ট্রদ্বীন হচ্ছে ইসলাম। তাহলে বাংলাদেশে কী করে বিজাতীয় সংস্কৃতি পহেলা বৈশাখসহ সর্বপ্রকার ইসলামবিরোধী কাজ গ্রহণযোগ্য হতে পারে? আজ যারা পহেলা বৈশাখ পালন করবে তারা কুফরী করবে। কারণ, প্রকৃতপক্ষে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান হচ্ছে হিন্দু মুশরিক ও মজুসীদের। এতে তারা পান্তা-গান্ধা খায়, গানবাজনা করে, র্যালী করে, জীব-জানোয়ারের মুখোশ পরে, মিছিল করে, ডুগডুগি বাজিয়ে নেচে নেচে হৈহুল্লোড় করে, পুরুষরা ধুতি ও কোণাকাটা পাঞ্জাবী যা হিন্দুদের জাতীয় পোশাক তা পরে, মেয়েরা লাল পেড়ে সাদা শাড়িসহ হাতে রাখি বাঁধে, শাঁখা পরে, কপালে লাল টিপ ও চন্দন এবং সিথিতে সিঁদুর দেয়, বেপর্দা, বেহায়া হয়- যা ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ণ হারাম ও কুফরী। অতএব, সংবিধান অনুযায়ী সরকারের দায়িত্ব হলো- পহেলা বৈশাখসহ সকল ইসলামবিরোধী কাজ বন্ধ করে দেয়া এবং এ থেকে মুসলমানদের বিরত রাখা।
যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইসলাম হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক, উনার তরফ থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ওহীর মাধ্যমে নাযিলকৃত, একমাত্র পরিপূর্ণ, সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত, নিয়ামতপূর্ণ, অপরিবর্তনীয় ও মনোনীত দ্বীন; যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। যে প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি “সূরা আলে ইমরান”-এর ১৯ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বলেন, “নিশ্চয়ই ইসলামই মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে একমাত্র দ্বীন।” তাহলে বাংলাদেশে কী করে বিজাতীয় সংস্কৃতি পহেলা বৈশাখসহ সর্বপ্রকার ইসলামবিরোধী কাজ গ্রহণযোগ্য হতে পারে? উল্লেখ্য, প্রকৃতপক্ষে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান হচ্ছে হিন্দু মুশরিকদের ঘট পূজা, বৌদ্ধদের উল্কি অঙ্কন আর মজুসীদের নওরোজ পালনের অনুষ্ঠান।
এছাড়া নওরোজ বা নববর্ষ পালন উপলক্ষে পান্তা-গান্ধা খায়, গানবাজনা করে, র্যালী করে, জীব-জানোয়ারের মুখোশ পরে, মিছিল করে, ডুগডুগি বাজিয়ে নেচে নেচে হৈহুল্লোড় করে, পুরুষরা ধুতি ও কোণাকাটা পাঞ্জাবী যা হিন্দুদের জাতীয় পোশাক তা পরে, মেয়েরা লাল পেড়ে সাদা শাড়িসহ হাতে রাখি বাঁধে, শাঁখা পরে, কপালে লাল টিপ ও চন্দন এবং সিথিতে সিঁদুর দেয়, বেপর্দা, বেহায়া হয়- যা ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ণ হারাম ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। বিজাতীয় ও বেদ্বীনি সংস্কৃতি পহেলা বৈশাখ সম্পর্কে ইসলাম ও সংবিধানের নির্দেশনা সম্পর্কে আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সংবিধানের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। সে প্রেক্ষিতে দেশে ইংরেজি ভাষাসহ বিভিন্ন উপজাতীয় ভাষার ঊর্ধ্বে যেমন রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদা ও প্রাধান্য তেমনি ৯৭% মুসলমান হওয়ার কারণে সংবিধানের ২ নম্বর ধারায় বর্ণিত রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম হয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীর উপরে ইসলাম ও মুসলমানের মর্যাদা ও প্রাধান্য স্বীকৃত হতে হবে এবং ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও অনেক বেশি হতে হবে। যা মূলত প্রচলিত সংবিধানেরই ব্যাখ্যা।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- বাংলাদেশের ৯৭ ভাগ মানুষের দ্বীন হচ্ছে ইসলাম; তাই বাংলাদেশ সংবিধানের ২ নম্বর ধারায় বর্ণিত রাষ্ট্রদ্বীন হচ্ছে ইসলাম। তাহলে বাংলাদেশে কী করে বিজাতীয় সংস্কৃতি পহেলা বৈশাখসহ সর্বপ্রকার ইসলাম বিরোধী কাজ গ্রহণযোগ্য হতে পারে? স্মরণীয় যে, কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী পহেলা বৈশাখ পালন করা কাট্টা হারাম, নাজায়িয ও কুফরী। কারণ ইসলামী শরীয়তে মুসলমানগণের জন্য বিধর্মীদের অনুসরণ করা সম্পূর্ণ হারাম। উল্লেখ্য, প্রকৃতপক্ষে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান হচ্ছে হিন্দু মুশরিকদের ঘট পূজা, বৌদ্ধদের উল্কি অঙ্কন আর মজুসীদের নওরোজ পালনের অনুষ্ঠান। তাহলে মুসলমানগণ কী করে পহেলা বৈশাখ পালন করতে পারে। অতএব, ৯৭ ভাগ মুসলমান ও রাষ্ট্রদ্বীন ইসলামের দেশের সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- সরকারিভাবে পহেলা বৈশাখসহ সকল ইসলামবিরোধী কাজ বন্ধ করে দেয়া এবং সরকারিভাবেই পহেলা বৈশাখসহ সকল ইসলামবিরোধী কাজ থেকে মুসলমানদের বিরত রাখা। অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকারের জন্য ফরয হচ্ছে, মুসলমানদেরকে ইসলাম পালনে ও ঈমান হিফাযতে অর্থাৎ ইসলামের উপর ইস্তিক্বামত থাকার ব্যাপারে সর্বোতভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করা। -০-
তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
by Admin
|
posted: Friday, April 06, 2012
|
| নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘দৃষ্টিকে অনুসরণ করো না। প্রথম দৃষ্টি যা অনিচ্ছা সত্ত্বে পতিত হয় তা ক্ষমা করা হবে, কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না।’ মহান আল্লাহ পাক তিনি না করুন, একশত বছর যদি কোনো ব্যক্তি নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত আদায় না করে তবে তার সর্বোচ্চ কবীরা গুনাহের পরিমাণ হবে মাত্র চার লক্ষ সাত শত একটা। পক্ষান্তরে কোনো বেপর্দা পুরুষ ও বেপর্দা মহিলা যদি কোনো জনসমাবেশে বেপর্দা হয়ে যোগ দেয়, যেখানে পুরুষ ও মহিলার সংখ্যা একশজন এবং সেখানে এক ঘণ্টা অবস্থান করে, তবে শুধু চোখের দৃষ্টির কারণেই তাদের প্রত্যেকের কবীরাহ গুনাহের পরিমাণ হবে আঠারো লক্ষ। নাঊযুবিল্লাহ! কাজেই যে সকল পুরুষ ও মহিলারা বেপর্দা হয়ে থাকে, তারা যে দৈনিক কত কোটি কোটি কবীরাহ গুনাহ করে, তা মহান আল্লাহ পাক তিনিই বেহতর জানেন। তাহলে ইসলামী শরীয়তে পুরুষ মহিলা সকলের জন্য পর্দা পালন করার কতটুকু গুরুত্ব রয়েছে তা চিন্তা-ফিকির করতে হবে।
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, পুরুষের জন্য কালিমা, নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ফরযের পরেই ফরয হলো হালাল কামাই করা; আর মহিলাদের জন্য ফরয হলো পর্দা করা।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি একইভাবে হাদীছ শরীফ-এর উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেন, কোন মহিলা পর্দা না করে যদি বেপর্দাভাবে চলে তাহলে এ কারণে সে এবং তার অভিভাবক মহল যারা রয়েছে সকলেই দাইয়ূছের অন্তর্ভুক্ত হবে। শুধু তাই নয়, হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, ‘যে পুরুষ দেখে এবং যে মহিলা দেখায় উভয়ের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি লা’নত বর্ষণ করেন।’ অর্থাৎ বেপর্দা মহিলা-পুরুষ উভয়ে লা’নতগ্রস্ত; যেরূপ ইবলীস লা’নতগ্রস্ত। নাঊযুবিল্লাহ! এজন্য স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুরুষদেরকে সতর্ক করে দিয়ে ইরশাদ করেন, ‘দৃষ্টিকে অনুসরণ করো না। প্রথম দৃষ্টি যা অনিচ্ছা সত্ত্বে পতিত হয় তা ক্ষমা করা হবে, কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না।’ এ হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিছীনে কিরামগণ উনারা বলেছেন, বেগানা পুরুষ ও মহিলার প্রতি দৃষ্টিতে একটি করে কবীরা গুনাহ লিখা হয়ে থাকে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, গবেষণা করে দেখা গেছে যে, প্রত্যেক মানুষ পুরুষ কিংবা মহিলা হোক, সে প্রতি দু’সেকেন্ডে পাঁচটি করে চোখের পলক বা দৃষ্টি ফেলে থাকে। সে হিসাবে প্রতি মিনিটে ১৫০টি পলক বা দৃষ্টি করে থাকে। আর ঘণ্টা হিসাবে প্রতি ঘণ্টায় ৯০০০ (নয় হাজার) পলক বা দৃষ্টি করে থাকে। সে হিসাবে বেগানা পুরুষ ও মহিলা পরস্পর পরস্পরের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার কারণে তাদের উভয়ের প্রতি এক মিনিটে তিনশটি এবং এক ঘণ্টায় আঠারো হাজার কবীরা গুনাহ লিখা হয়। এ হিসাব একজন পুরুষ ও একজন মহিলার ক্ষেত্রে। আর যদি কোনো জনসমাবেশে উপস্থিত মহিলা-পুরুষের পরস্পর পরস্পরের দৃষ্টির হিসাব করা হয় তাহলে গুনাহর পরিমাণ আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ধরা যাক, কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা ব্যাপী কোন জনসমাবেশ হলো আর সেখানে পুরুষ ও মহিলার সংখ্যা ১০০+১০০= ২০০ জন। এখন একজন পুরুষ ও একজন মহিলা পরস্পর পরস্পরের প্রতি দৃষ্টি করার কারণে এক ঘণ্টায় আঠারো হাজার কবীরা গুনাহ হয় তাহলে একশ জন পুরুষ ও একশ জন মহিলা পরস্পর পরস্পরের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার কারণে কবীরা গুনাহর পরিমাণ হবে ৩৬ লক্ষ এবং তিন ঘণ্টায় হবে ১ কোটি ৮ লক্ষ কবীরা গুনাহ।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অথচ একজন মানুষ যদি একশ বছর হায়াত পায়। মহান আল্লাহ পাক না করুন সে যদি নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত (ফরয হওয়া সত্ত্বেও) কিছুই না করে তারপরও ১ কোটি ৮ লক্ষ কবীরা গুনাহ হবে না। যেমন- একশ বছরে অর্থাৎ জীবনে একবার হজ্জ করা ফরয, তা না করার কারণে ১টা কবীরা গুনাহ। যাকাত একশ বছরে একশটা ফরয, তা না দেয়ার কারণে ১০০টা কবীরা গুনাহ। রোযা ২৯ বা ৩০টা। হিসাবের সুবিধার্থে যদি ৩০টা ধরে নেয়া হয় তবে তা না রাখার কারণে একশ বছরে ৩,০০০ কবীরা গুনাহ। এরপর নামায দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ৫টা, এক ওয়াক্ত ওয়াজিব ১টা, সুন্নতে মুয়াক্কাদা- ফজরের ফরযের পূর্বে ১টা, যুহরের ফরযের আগে-পরে ২টা, মাগরিবের ফরযের পর ১টা, ইশার ফরযের পর ১টা মোট ৫টা; তা আদায় না করার কারণে সবমিলে দৈনিক ১১টা কবীরা গুনাহ। আর হিজরী বছরে ৫০ সপ্তাহ হিসেবে জুমুয়ার সুন্নাত যোগ হবে ৫০টা। বছরে ত্রিশ তারাবীহ (সুন্নতে মুয়াক্কাদা), তা আদায় না করার কারণে ৩০টা এবং দু’ঈদের (ওয়াজিব) নামায, তা আদায় না করার কারণে ২টা; মোট ৩২টা কবীরা গুনাহ। হিজরী হিসেবে ধরে ৩৫৪ দিনে বৎসর। সে হিসেবে একশ বছরে নামায তরক্ব করলে কবীরাহ গুনাহ হবে ৩৯,৭৬০০টা। যেমন, হিজরী বছর হিসেবে ৩৫৪ দিনে ৫০ সপ্তাহ ৩৫৪ x ১১ = ৩৮৯৪ জুমুয়াতে ১টা সুন্নত বাড়বে ৫০ x ১ = ৫০ -------------------- মোট- ৩৯৪৪টা ৩৯৪৪ x ১০০ বছর = ৩৯৪৪০০টা তারাবীহ ও ঈদ = ৩২ x ১০০ বছর = ৩২০০টা -------------------- মোট- ৩৯৭৬০০টা আর যাকাতে ১০০টা রোযায় ৩০০০টা হজ্জে ১টা অর্থাৎ ১০০ বছর নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত তরক করলে কবীরাহ গুনাহ হবে- সর্বমোট ৪০০৭০১টা। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অর্থাৎ একশ বছর কোনো ব্যক্তি নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত না করলে তার সর্বোচ্চ কবীরা গুনাহর পরিমাণ হলো মাত্র চার লাখ সাতশত একটা। আর একজন পুরুষ কিংবা মহিলা যদি কোন জনসমাবেশে যোগ দেয়, যে জনসমাবেশে পুরুষ বা মহিলার সংখ্যা কমপক্ষে একশ জন এবং সেখানে একঘণ্টা অবস্থান করে তাহলে শুধু চোখের দৃষ্টির কারণে তার কবীরা গুনাহর পরিমাণ হবে আঠারো লক্ষ। আর লোক সংখ্যা বেশি হলে এবং বেশি সময় অবস্থান করলে কত লক্ষ-কোটি কবীরা গুনাহ যে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাহলে পর্দার কত গুরুত্ব রয়েছে তা চিন্তা-ফিকিরের বিষয়। এটা তো শুধু চোখের গুনাহর কথা বলা হলো। এমনিভাবে প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা গুনাহ হয়ে থাকে। যেমন- এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “চোখের ব্যভিচার হলো দৃষ্টি করা, কানের ব্যভিচার হলো শ্রবণ করা, মুখের ব্যভিচার হলো কথা বলা, হাতের ব্যভিচার হলো স্পর্শ করা, পায়ের ব্যভিচার হলো ধাবিত হওয়া, অন্তর চায় ও আকাঙ্খা করে এবং লজ্জাস্থান সেটাকে সত্য অথবা মিথ্যায় প্রতিপন্ন করে।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, কানযুল উম্মাল)
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পর্দা করা ফরয আর বেপর্দা হওয়া শক্ত হারাম ও কবীরা গুনাহ। অতএব, হারাম ও কবীরা গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য নিজে পর্দা করা এবং অধীনস্থদেরকে পর্দা পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রত্যেক অভিভাবক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য ফরযের অন্তর্ভুক্ত।
তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
by Admin
|
posted: Thursday, March 29, 2012
|
| মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কাফির-মুশরিকদের সাথে মিল রাখবে সে তাদেরই দলভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।’ আর হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, ‘যে ধোঁকা দেয় বা প্রতারণা করে সে আমার উম্মত নয়।’ স্মরণ রাখতে হবে যে, ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে মুসলমানদের জন্য ‘পহেলা এপ্রিল’ বা ‘এপ্রিল ফুল’ পালন করা কাট্টা হারাম ও কুফরী। কারণ এদিনের ইতিহাস হলো- বিধর্মী কর্তৃক চরম প্রতারণা ও ধোঁকামূলক আচরণের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে নির্মমভাবে শহীদ করার ইতিহাস। অর্থাৎ এদিন কাফির-মুশরিকরা মুসলমানদেরকে ধোঁকা দিয়ে নির্মমভাবে শহীদ করেছে। কাজেই প্রত্যেক মুসলমান নর ও নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- এদিনের ইতিহাস থেকে হাক্বীক্বীভাবে ইহুদী-খ্রিস্টান তথা বিধর্মীদের ইসলাম বিরোধী ও মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব সম্পর্কে শিক্ষা নেয়া এবং বিধর্মীদের সম্পর্কে সচেতন হওয়া। পাশাপাশি সমস্ত মুসলমান পুরুষ-মহিলা, ছোট-বড় সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব হলো, পহেলা এপ্রিল বা এপ্রিল ফুল পালন করা থেকে নিজে বিরত থাকা এবং অন্যকেও বিরত রাখা।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, প্রতি বৎসর ১লা এপ্রিলের নামে বাড়িতে-বাড়িতে, পাড়া-মহল্লায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, অফিস-আদালতে একে অপরকে ধোঁকা দিয়ে ঠকিয়ে প্রতারণা করে পহেলা এপ্রিল পালন করে থাকে। এ প্রতারণার আনন্দকে তারা পহেলা এপ্রিলের আনন্দ মনে করে থাকে এবং মুখেও তা উচ্চারণ করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন “যে ধোঁকা দেয় বা প্রতারণা করে সে আমার উম্মত নয়।” পহেলা এপ্রিলের ইতিহাস আলোচনাকালে তিনি রাজারবাগ শরীফ-এ তিনি এসব কথা বলেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মুসলমানরা আজ ইলম চর্চা হতে অনেক দূরে। মুসলমানরা নিজেদের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বড়ই বেখবর। আজ মুসলমানরা নিজেদের স্বর্ণযুগ, সারা বিশ্বব্যাপী তাদের বিস্তীর্ণ জ্ঞান-বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব উন্নতি ইত্যাদি সম্পর্কে কিছুই জানে না। আবার অপরদিকে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে কাফির-বিধর্মীরা যে মুসলমানদের উপর কতো মর্মান্তিক যুলুম করেছে, নির্মমভাবে শহীদ করেছে সে খবরও মুসলমান জানে না। পহেলা এপ্রিলে এমনি ধরনের এক নির্মম কাহিনী রয়েছে। যাতে লাখ-লাখ মুসলমানের নির্মমভাবে শাহাদাতের ঘটনা ঘটেছে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এর ইতিহাস হলো- খলীফা ওয়ালিদ তৎকালীন সেনাপতিকে ৭১১ ঈসায়ী সনে স্পেন অভিযানের নির্দেশ দেন। স্পেনে চলছিলো তখন চরম অত্যাচারী রাজা রডারিকের নির্যাতন, সামাজিক বৈষম্য ও ধর্মের নামে অনাচার। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেকেই মুসলমান হয়েছিলেন। আবার অনেকে রাজার অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবার জন্য মুসলমানদের আমন্ত্রণও জানিয়েছিলো। বর্ণিত আছে যে, অত্যাচারী রাজা রডারিক সিউটা দ্বীপের রাজা ফার্ডিনান্ড জুলিয়ানের দুহিতা ‘ফ্লোরিডার’ শ্লীলতাহানি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে জুলিয়ান মুসলিম সেনাপতিকে স্পেন বিজয়ের আমন্ত্রণ জানায়। খলীফা ওয়ালিদের সেনাপতি স্পেন বিজয়ের জন্য হযরত তারিক বিন জিয়াদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে নিযুক্ত করেন এবং মাত্র সাত হাজার সৈন্য দেন। এতো অল্প সৈন্য নিয়ে এতো বিরাট কাজ সম্পাদন কঠিন কল্পনা করে হযরত তারিক বিন জিয়াদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কান্নাকাটি এবং দোয়া-মুনাজাত করতে থাকেন। একদিন গভীর রাতে স্বপ্নে তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিয়ারত লাভ করেন। রহমতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে আশ্বস্ত করে বলেন, “হে জিয়াদ! তুমি অগ্রসর হও। চিন্তিত হইও না, তুমিই কামিয়াবী লাভ করবে।” এই মুবারক স্বপ্ন দেখে হযরত তারিক বিন জিয়াদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে অগ্রসর হন। স্পেন পৌঁছা মাত্র তিনি আদেশ দেন তার সব নৌজাহাজ পুড়িয়ে ফেলতে। অতঃপর তিনি সৈন্যদের উদ্দেশ্য করে এক বিশেষ ঈমানদীপ্ত উদ্দীপনাপূর্ণ ও জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। ভাষণে বলেন, “হে মুসলমানগণ! তোমাদের এখন যাওয়ার আর কোনো উপায় নেই। কারণ সব জাহাজ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। কাজেই মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা করে অবশ্যই তোমাদের বিজয় লাভ করতেই হবে ইনশাআল্লাহ।” মুসলমান সৈন্যরা উনার এ ঈমানদীপ্ত জজবাপূর্ণ ভাষণে উদ্দীপ্ত হয়ে উঠেন এবং বিজয় লাভ করেন। যালিম রডারিক শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে নদীগর্ভে নিমজ্জিত হয়। বিজয়দীপ্ত হযরত তারিক বিন জিয়াদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কারমোনার সিডোনিয়া, ইজিসা বিজয় করেন। মুসলিম সৈন্যবাহিনীকে চারভাগে ভাগ করে মালাগা, গ্রানাডা এবং টলেডোর দিকে প্রেরণ করা হয় এবং গথিক রাজ্যের বহু অঞ্চলে মুসলিম সুশাসন কায়িম হয়। এরপর ৭১২ ঈসায়ী সনে একটি বিশাল মুসলিম বাহিনী স্পেনে আগমন করেন এবং সিডোনিয়া, সেভিল, মেরিডা, তালাভেরা অধিকার করেন। হযরত তারিক বিন জিয়াদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সম্মিলিত বাহিনীসহ পর্যায়ক্রমে গ্যালিসিয়া, লিওন, অ্যাস্টুরিয়াস, সারাগোসা, আরাগান, ফ্যাঁলোনিয়া, বার্সিলোনা জয় করে উত্তরে পিরেনীজ পবর্তমালা পর্যন্ত অগ্রসর হন। ৭১২ ঈসায়ী সন হতে ৭১৪ ঈসায়ী সনের মধ্যে যালিম খ্রিস্টান রাজার শোষিত স্পেনের প্রায় সমগ্র অঞ্চল শান্তির দ্বীন ইসলামের সুশীতল পতাকাতলে আসে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এরপর কয়েক শতাব্দী স্পেনে মুসলিম শাসন চললেও একদিকে শাসকরা অনৈসলামিক অর্থাৎ শরীয়তবিরোধী আমল-আখলাক্বে মত্ত হয়ে উঠে। অপরদিকে মুনাফিক ও ধর্মব্যবসায়ীরাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। ১৪৭০ ঈসায়ী সনের দিকে এ সুযোগকে চরমভাবে গ্রহণ করে মহা যালিম খ্রিস্টান শাসক ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা দম্পতি। তারা বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসায় তাদের খ্রিস্টান গুপ্তচর ব্যক্তিকে ইমাম, মুয়াজ্জিন, মাদরাসার উস্তাদ পদেও ঢুকাতে সক্ষম হয়। সেই সাথে তারা উলামায়ে ‘ছূ’দেরকেও হাত করতে সমর্থ হয়। তারা সবাই ইসলামী আদর্শের উপর অটলতা ছেড়ে ঢিলেঢালা চলার পক্ষে জনমত তৈরি করে। শরাব খাওয়া, গান-বাজনা করা ও শুনা, বেপর্দা হওয়া এবং অবৈধ নারী সম্পর্ককে দোষের নয় বলে প্রচার করে। ফলত, মুসলমান তাদের ঈমানী বল হারিয়ে ফেলে। উলামায়ে ‘ছূ’রা আরো প্রচার করে যে, খ্রিস্টানরা মুসলমানদের শত্রু নয়। এরূপ ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে ধুরন্ধর, যালিম ও শঠ ফার্ডিনান্ড দম্পতি অবশেষে মুসলমানদের থেকে পর্যায়ক্রমে স্পেন ছিনিয়ে নেয়। তারা প্রথমে আল হামরা দুর্গের পতন ঘটায়। এরপর গ্রানাডা তুলে দিতে বলে। কিন্তু দিশেহারা, ঈমানহারা, বিভ্রান্ত মুসলমান মুনাফিক ও উলামায়ে ছূ’দের প্রতারণার কারণে তখন খুব সহজেই তাদের কাছে দেশটা সোপর্দ করে দেয়। এমতাবস্থায় দেশহারা মুসলমান সৈন্যদের সন্ধির শর্ত দিয়ে অস্ত্রমুক্ত হতে বলা হয়। কিন্তু তীক্ষè বুদ্ধিসম্পন্ন তৎকালীন মুসলিম সেনাপতি এ সন্ধিকে মরণ শর্ত বুঝতে পেরে সন্ধি শর্তে আবদ্ধ না হওয়ার জন্য স্বপক্ষীয় সৈন্যদল ও জনগণকে এক তেজস্বীনী ভাষণে ভয়াবহ ভবিষ্যৎ পরিণতির ইঙ্গিত দান করেন। কিন্তু উনার অবশ্যম্ভাবী পতনের আশঙ্কায় মুসলমানগণ উনার এ গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের কোনো মর্যাদা দেয়নি। তাই তিনি উপায়ান্তর না দেখে এলাভিরা তোরণ দিয়ে অশ্বারোহণে নগর ত্যাগের সময় ওঁৎ পেতে থাকা দশজন খ্রিস্টান অশ্বারোহীর দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে যুদ্ধ করতে করতে তাদের কয়েকজনকে হতাহত করেন এবং নিজেও মারাত্মকভাবে আহত হন। অবশেষে শেনিল নদীতে পড়ে চিরশান্তি লাভের অমীয় সুধা পান করেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এরপর প্রতারক রাজা ফার্ডিনান্ড আদেশ জারি করে মসজিদগুলোকে নিরাপদ ঘোষণা করে। এ আদেশে আরো বলা হয় যে, যারা মসজিদে আশ্রয় নেবে তারা নিরাপদ থাকবে। অসংখ্য স্পেনীয় মুসলমান সরল বিশ্বাসে মসজিদগুলোতে আশ্রয় গ্রহণ করে আবদ্ধ হয়। যালিম খ্রিস্টান শত্রুরা মসজিদগুলিকে তালাবদ্ধ করে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেয় অবশিষ্ট স্পেনীয় মুসলমানদের। আর বাইরে থেকে যালিম খ্রিস্টনরা উল্লাসভরে কৌতুক করে সমস্বরে ঋড়ড়ষ! ঋড়ড়ষ!! (ফুল, ফুল) বলে অট্টহাসি আর চিৎকারে মেতে উঠে। দিনটি ছিলো পহেলা এপ্রিল ১৪৯২ ঈসায়ী সন। অদ্যাবধি প্রতারক খ্রিস্টানরা তাদের সেই শঠতার স্মরণে ধোঁকা বা প্রতারণার দিবস হিসেবে পালন করে ‘এপ্রিল ফুল’। খ্রিস্টানদের জন্য এদিনটি পালনীয় হলেও মুসলমানদের জন্য ভাষাহীন বেদনাদায়ক। কেননা মুসলমানদেরই হাতে গড়ে উঠা একটি সভ্যতা বর্বর অসভ্য যালিম খ্রিস্টানদের নির্মম প্রতারণায় সমূলে উৎখাত হয়ে ভেসে যায় লাখ লাখ মুসলমানদেরই বুকের তাজা রক্ত স্রোতে।” এটাই হচ্ছে এপ্রিল ফুলের বা পহেলা এপ্রিলের নির্মম ইতিহাস। কাজেই এদিনের ইতিহাস থেকে প্রত্যেক মুসলমান নর ও নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- হাক্বীক্বীভাবে ইহুদী-খ্রিস্টানদের ইসলাম বিরোধী ও মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব সম্পর্কে শিক্ষা নেয়া। তাদের সম্পর্কে সচেতন হওয়া। তাদের প্রতিহতকরণে জজবা পয়দা করা। পাশাপাশি সমস্ত মুসলমান পুরুষ-মহিলা, ছোট-বড় সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব হলো, পহেলা এপ্রিল বা এপ্রিল ফুল পালন করা থেকে নিজে বিরত থাকা এবং অন্যকেও বিরত রাখা।
তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
by Admin
|
posted: Monday, March 26, 2012
|
সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম। আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। ২৫শে মার্চ ভয়াল কালো রাত পার হয়ে বিগত ৪১ বছর পূর্বে এই দিনে বাংলার আকাশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য। ২৫ মার্চের রাত বাঙালির জাতীয় জীবনের স্মৃতিতে এক ভয়াল কালোরাত। ১৯৭১ সালের এই রাতের ঘটনা আজো প্রত্যেক বাঙালিকে ভয়ার্ত ও আতঙ্কিত করে তোলে। বাঙালি রক্তে-আগুনে-কামানের গোলায় বিভীষিকাময় এই এক রাতের কথা কোনোদিন ভুলতে পারবে না। সেই ভয়াল কালোরাতে পাকিস্তানি সেনারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালির উপর। এটা অবশ্যই কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, ছিল পরিকল্পিত আক্রমণÑ অপারেশন সার্চলাইট। আমরা বাঙালি জাতির সেইসব আত্মত্যাগী বীরদের রূহে ছওয়াব বখশাই এবং ধিক্কার জানাই সে সব নরপশুদের যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছে। ইতিহাসের জঘন্যতম এই গণহত্যার মধ্য দিয়ে ঘাতকরা বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। সমগ্র বাঙালি জাতি সেদিন একদেহ একপ্রাণ হয়ে জেগে উঠেছিল। একটা জাতির স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল কামানের মুখে। সমস্ত জাতির ভাষা যে বজ্রকণ্ঠ ধারণ করেছিল সেদিন, সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সারা দেশে নির্বিচারে গণহত্যা, আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যাপকভাবে ধরপাকড় চালিয়ে পাক শাসকরা চেয়েছিল বাঙালি জাতিকে চিরদিনের মতো স্তব্ধ করে দিতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এরই মধ্যে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণা পরবর্তী সময়ে ছড়িয়ে দেয়া হয় সর্বত্র। ২৫ মার্চের অন্ধকার চিরে আসে ২৬ মার্চের ভোর, জন্ম নেয় একটি স্বাধীন দেশ। বলাবাহুল্য, আজো আমাদের দেশে স্বাধীনতার ঘোষক কে? তা নিয়ে বিতর্ক হয়। কিন্তু এ বিতর্ক অহেতুক, অমূলক। কারণ স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট একদিনেই তৈরি হয়নি। এটা তৈরি হয়েছে ’৬৬-এর ৬ দফা থেকে। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে। ’৭০-এর নির্বাচন না মেনে নেয়ার প্রেক্ষিত থেকে। আর এসব পটভূমিকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই সব কিছুর অবিসংবাদিত নেতা তথা স্বাধীনতা যুদ্ধের মহানায়ক প্রতীয়মান হয়। পাশাপাশি বিখ্যাত ৭ মার্চের ভাষণেও উল্লেখ ছিলো- ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম... এদেশকে স্বাধীন করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ’- এ ভাষণেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিষয় ও ঘটনার তাৎপর্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মঘাতী প্রবণতাই এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিলম্বিত করেছিলো এবং জামাত ও তাবৎ ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা কথিত রাজাকার, আল বাদর, আস্ শামস নামধারী কলঙ্কিত কাহিনীর সূচনা করেছিলো। বলাবাহুল্য, ইসলামের নামে হলেই যে তা ইসলামী নয়- এ ফতওয়ার গুরুত্ব যেমন এখনও আছে তেমনি তখনও ছিলো। পাকিস্তান হয়েছিলো ইসলামের নাম। কিন্তু ইসলামের কিছুই হয়নি। ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন ও মূল্যবোধ কিছুই প্রচার হয়নি, প্রতিষ্ঠা পায়নি। যা কিছু হয়েছে তা তাদের রাজদ- রক্ষার্থে। যা কিছু হয়ে থাকে তা আমাদের রাজদ- রক্ষার্থে। কিন্তু এ শাসকরা খোদ পাকিস্তান আমলেই কুরআন শরীফ-এর আয়াত শরীফ-এর খিলাফ করে দাদার সম্পত্তিতে নাতিকে ওয়ারিছ করেছিলো। তিন তালাক দিলে নব্বই দিন পার না হলে তালাক কার্যকর হবে না এবং এর মধ্যে স্বামী-স্ত্রী মিলেমিশে গেলেও তালাক কার্যকর হবে না বলে অনৈসলামী আইন করেছিলো। পাকিস্তান সৃষ্টির পরদিনই ভাষণে তথাকথিত কায়েদে আযম ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে ভাষণ দিয়েছিলো। ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট সে বলেছিলো আজকে থেকে পাকিস্তানে কোনো মুসলমান আর মুসলমান থাকবে না। কোনো হিন্দু আর হিন্দু থাকবে না। সবাই হয়ে যাবে পাকিস্তানী।’ একই সাথে সে ইসলাম বিরোধী ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার ঝা-া উড়িয়েছিলো। নাঊযুবিল্লাহ! কিন্তু লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান আন্দোলনের লাখ লাখ মালানারা সেদিন তথাকথিত কায়েদে আযমের এই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও জাতীয়তাবাদীর ভাষণের কোনো প্রতিবাদ জানায়নি, প্রতিকার করেনি। এমনকি সত্যি বলতে কিছুই বুঝেনি। বলাবাহুল্য, মালানা সাহেবদের এসব কূপম-ুকতা দেশ-জনগণের জন্য বিরাট অভিশাপ। এদের অজ্ঞতা এদেরকে নফসের কাছে অথর্ব করে তোলে। ফলতঃ এরা হয় নফসের পূজারী। হয় ধর্মব্যবসায়ী। হাদীছ শরীফ-এ ঘোষিত নিকৃষ্ট জীব। এ নিকৃষ্ট জীবরা মুসলমানদের ক্ষতি করে। ইসলামের নামে বদনাম করে। ’৭১-এও তাই করেছিলো। জালিম পাকিদের পক্ষাবলম্বন করেছিলো। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। পাকিদের সাহায্য করে, পাকিদের পথ ধরে এদেশের মা-বোনদের সম্ভ্রম লুণ্ঠন করেছিলো। সম্পদ লুটেপুটে নিয়েছিলো। কিন্তু এসব মহা অনৈসলামী কাজই তারা করেছিলো ইসলামের নামে। নাঊযুবিল্লাহ! বলাবাহুল্য, এসব যুদ্ধাপরাধীরা আজো ধর্মব্যবসা করে যাচ্ছে ইসলামের নামে। এমনকি তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে বিষোদগারও করে যাচ্ছে ইসলামের নাম। দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর বিচার কেনো? এটাও তাদের খোঁড়াযুক্তি। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই লক্ষ লক্ষ বছর পর বান্দার বিচার করবেন, যা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এ বিবৃত হয়েছে। তাও কী তাহলে অন্যায় হবে? নাঊযুবিল্লাহ! মূলত এসব ধর্মব্যবসায়ীরা শুধু ধর্মের নামে অপকর্মকারীই নয়, বরং ধর্ম সম্পর্কে মহাঅজ্ঞও বটে। অজ্ঞ বলেই এরা উপলব্ধি করতে অক্ষম যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা শুধু জায়িযই নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে ফরয-ওয়াজিব। কাজেই বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের উচিত অবিলম্বে সব যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতার করা। যুদ্ধাপরাধীদের পালের গোদা গো’আযমের বিচার কাজ অতি শীঘ্রই শুরু করা। বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজে যে অনাকাঙ্খিত বিলম্ব করছে তা শুধু অযৌক্তিকই নয়, বরং খুবই অশুভ। পাশাপাশি সরকার ধর্মভিত্তিক রাজনীতির যে অনুমোদন দিচ্ছে তা শুধু অনাকাঙ্খিতই নয় বরং বিশেষ আত্মঘাতী। কাজেই এসব অশুভ ও আত্মঘাতী প্রবণতা ও তৎপরতা থেকে সরকার যতো তাড়াতাড়ি সরে আসবে ততই দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণ। মূলতঃ এসব দায়িত্ববোধ আসে ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)
তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
by Admin
|
posted: Friday, March 23, 2012
|
| মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘খাও, পান করো; অপচয় করো না। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর নির্দেশানুযায়ী ক্রিকেট, ফুটবলসহ সমস্ত খেলাধুলাই হারাম। আর হারাম খেলাধুলার জন্য টাকা খরচ করা অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত। অতএব, বাংলাদেশ সরকারের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, হারাম খেলাধুলার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় না করে এই টাকাগুলো আইলা ও সিডরে আক্রান্ত, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নানাভাবে অভাবগ্রস্ত গরিব দুঃখী ও বিধবাদের অভাব মোচন ও চিকিৎসার জন্য খরচ করা। উল্লেখ্য, ইসলামবিদ্বেষী মহল সিডরের সময় ওয়াজিব কুরবানী নষ্ট করার জন্য কুরবানী না করে সেই টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের দেয়ার জন্য পাগলের মতো প্রলাপ বকেছিলো। এখন সেই ইসলামবিদ্বেষী মহল কোথায়? এখন কেনো তারা বলে না, হারাম খেলাধুলায় টাকা অপচয় না করে সেই টাকা দুস্থদের দান করে দাও।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘খাও, পান করো; অপচয় করো না। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর নির্দেশানুযায়ী ক্রিকেট, ফুটবলসহ সমস্ত খেলাধুলাই হারাম। আর হারাম খেলাধুলার জন্য টাকা খরচ করা অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত। অতএব, বাংলাদেশ সরকারের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, হারাম খেলাধুলার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় না করে এই টাকাগুলো আইলা ও সিডরে আক্রান্ত, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নানাভাবে অভাবগ্রস্ত গরিব দুঃখী ও বিধবাদের অভাব মোচন ও চিকিৎসার জন্য খরচ করা। উল্লেখ্য, ইসলামবিদ্বেষী মহল সিডরের সময় ওয়াজিব কুরবানী নষ্ট করার জন্য কুরবানী না করে সেই টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের দেয়ার জন্য পাগলের মতো প্রলাপ বকেছিলো। এখন সেই ইসলামবিদ্বেষী মহল কোথায়? এখন কেনো তারা বলে না, হারাম খেলাধুলায় টাকা অপচয় না করে সেই টাকা দুস্থদের দান করে দাও।
সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত কোটি কোটি টাকা খরচ করে এশিয়া কাপ ক্রিকেট আয়োজনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এত শত শত, হাজার হাজার কোটি টাকা এভাবে অপব্যয় না করে এ টাকা দিয়ে বন্যা, আইলা ও সিডরে আক্রান্তদের সাহায্য করা যেতো। এ টাকা দিয়ে হাওরে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা উচিত ছিলো। এ টাকা দিয়ে অভাবগ্রস্ত মহিলাদেরকে নতুন কাপড় কিনে দেয়া উচিত ছিলো। এ টাকা দিয়ে গরিব-দুঃখীদের চিকিৎসা করানো উচিত ছিলো। এ টাকা দিয়ে ক্ষুধার্তদের মুখে আহার তুলে দেয়া উচিত ছিলো। এ টাকা দিয়ে আর্তপীড়িত অসহায় দরিদ্র দুঃখী বিধবাদের দুঃখ মোচন করা উচিত ছিলো।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইসলামবিদ্বেষী মহল সিডরের সময় ওয়াজিব কুরবানী নষ্ট করার জন্য কুরবানী না করে সেই টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের দেয়ার জন্য পাগলের মত প্রলাপ বকেছিলো। এখন সেই ইসলামবিদ্বেষী মহল কোথায়? এখন কেনো তারা বলে না যে, এশিয়া কাপ ক্রিকেটে টাকা অপচয় না করে সেই টাকা দুঃস্থদের দান করে দাও।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- হারাম এশিয়া কাপ ক্রিকেট খেলার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করা নিঃসন্দেহে অপচয় ও কবীরা গুনাহ। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘খাও, পান করো; অপচয় করো না। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর নির্দেশানুযায়ী ক্রিকেট, ফুটবলসহ সমস্ত খেলাধুলাই হারাম। আর হারাম খেলাধুলার জন্য টাকা খরচ করা অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত। অতএব, বাংলাদেশ সরকারের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, হারাম খেলাধুলার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় না করে এই টাকাগুলো আইলা ও সিডরে আক্রান্ত, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নানাভাবে অভাবগ্রস্ত গরিব দুঃখী ও বিধবাদের অভাব মোচন ও চিকিৎসার জন্য খরচ করা। -০-
তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
by Admin
|
posted: Thursday, March 22, 2012
|
| মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ তোমরা ইহুদী এবং নাছারা বা খৃস্টানদেরকে বন্ধু বা সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করোনা। বরং তারা (তোমাদের বন্ধু নয়) পরষ্পর পরষ্পরের বন্ধু। অতএব বাংলাদেশে মার্কিন বাহিনীর মোতায়েন আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। আশ্চর্যের বিষয়, মার্কিনীরা চাচ্ছে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মত দুর্যোগে সহযোগীতা করতে, অথচ তারা নিজেদের দেশকেই নিজেরা দুর্যোগ থেকে বাঁচাতে পারছেনা। ফলশ্রুতিতে তারা নিজেরাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। তাহলে তারা বাংলাদেশকে কি করে সাহায্য করবে! যা একটা হাস্যস্পদ কথা। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে মার্কিন সেনাবাহিনীর সরাসরি যোগাযোগ চাওয়ার ইচ্ছা গভীর উদ্দেশ্যমূলক এবং দুরভিসন্ধিজনক। তার মধ্যে একটা দুরভিসন্ধি হলো- বাংলাদেশ থেকে খাদ্যদ্রব্য, মাল-সম্পদ নিয়ে নিজেদের দুর্যোগ মিটিয়ে অস্তিত্ব রক্ষা করা। স্মরণীয়, বাংলাদেশের ভূমি অথবা সমুদ্রসীমায় মার্কিন ঘাঁটি এদেশের স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ কখনো মেনে নিবেনা। কারণ ৭১ সনে আমেরিকা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। বাংলাদেশে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি সংবিধানেরও খিলাফ। কাজেই অবিলম্বে বাংলাদেশ থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে।
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে মার্কিন সেনাবাহিনীর সরাসরি যোগাযোগ চাওয়ার ইচ্ছা গভীর উদ্দেশ্যমূলক এবং দুরভিসন্ধিজনক।
মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, দুরভিসন্ধি নিয়েই তাদের এক সেনা কর্মকর্তা একথা বলেছে যে, “ওয়াশিংটন পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যেও একটি শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় তারা এই সম্পর্ককে এমন অংশীদারিত্বের জায়গায় নিয়ে যেতে চায়, যেন প্রয়োজন হলেই টেলিফোন করে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলতে পারে। এবং তারা ধারণা করে বাংলাদেশের সেনা প্রধানও সেটা চায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এক বিবৃতিতে উপরোক্ত কথা বলেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র নিজেই স্বীকার করেছে যে, কৌশলগত দিক দিয়ে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াই তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ থেকে এশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে জ্বালানি পরিবহনসহ অন্যান্য নৌ-বাণিজ্যের অন্যতম বড় একটি অংশ ওই অঞ্চলে।” ইত্যাদি কারণেই বাংলাদেশে তাদের ঘাঁটি প্রয়োজন তাই তার জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। (নাঊযুবিল্লাহ!)
মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাবও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে তৎপরতা বাড়াতে চাচ্ছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের আপন স্বার্থই বড়। সঙ্গতকারণে বাংলাদেশের উচিৎ এ ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকা এবং তাদেরকে কোন অবস্থাতেই জায়গা না দেয়া।
মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, দেশে “মার্কিন বিশেষ বাহিনীর উপস্থিতি কেন গোপন রাখা হলো, সে ব্যাখ্যা সরকারকে দিতে হবে।” “বিষয়টি কেন দেশের জনগণ ও পার্লামেন্টকে জানানো হয়নি? মার্কিন বাহিনীর ওই বিশেষ দল দেশে এসে কী কাজ করছে? এসব প্রশ্নের উত্তর সরকারকে অবশ্যই দিতে হবে” ইত্যাদি দাবি তুলে সচেতনতার অভাবে আমাদের দেশে কোন রাজনৈতিক দলই এ ব্যাপারে কথা বলতে পারেনি। এটা দুঃখজনক।
মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে, “জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র (গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন।”
মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মার্কিন সেনাবাহিনী প্রকাশ্যে সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনেবেশিকতাবাদ চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে যথা- ইরাক, আফগানিস্তান এবং আফ্রিকার অনেক মুসলিম দেশে তারা যুগপৎভাবে সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনেবেশিকতাবাদ চালিয়ে আসছে। তাই তাদেরকে যে কোনো ধরনের সামরিক সহযোগীতা দেয়া বা তাদের সামরিক শক্তির সাথে সম্পৃক্ত থাকার অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও খেলাপ করা। যা বাংলাদেশ সরকার করতে পারেনা।
মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্ষতি করা ছাড়া বাংলাদেশের ভালো করার ক্ষেত্রে আমেরিকার কখনই উদ্দেশ্য হতে পারে না। কারণ আমেরিকা জাতিতে খ্রিস্টান। তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রসেড ঘোষণা করেছে। এই আমেরিকা ৭১ সালেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে। সেই আমেরিকার সেনারা দুরভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্য নিয়েই এদেশে তাদের অবস্থান নিতে চাচ্ছে। মূলতঃ তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে এতদ্বঅঞ্চলে তাদের ঘাঁটি স্থাপন করা এবং পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশকেও তাদের করদ রাজ্যে পরিণত করা। (নাঊযুবিল্লাহ!) কিন্তু বীর বাঙালী ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিতে শিখেছে। তাই মার্কিনীদের বিরুদ্ধেও তারা প্রয়োজনে অকাতরে রক্ত দিবে। কিন্তু বাংলাদেশে মার্কিন ঘাঁটি বরদাশত করবেনা। এদেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখবে ইনশাআল্লাহ। এখানে মার্কিন ঘাঁটি করার মার্কিনী স্বপ্ন-স্বাধ কোনদিনই পূরণ হবে না। ইনশাআল্লাহ।
তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
|
Recent Comments