by Admin
|
posted: Saturday, November 21, 2015
|
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত, ছানা-ছিফত, প্রশংসা তথা মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ সর্বপ্রথম পালন করেছেন মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনি স্বয়ং নিজে। এ সম্পর্কে হাদীছে কুদসী শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে-
كنت كنزا مخفيا فاحببت ان اعرف فخلقت الخلق لاعرف.
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, আমি গুপ্ত ছিলাম। আমার মুহব্বত হলো যে, আমি জাহির হই। তখন আমি আমার (রুবূবিয়াত) জাহির করার জন্যই সৃষ্টি করলাম মাখলূকাত (আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে)।” (আল মাকাসিদুল হাসানা/ ৮৩৮, কাশফূল খিফা/২০১৩, আসনাল মুত্বালিব/১১১০, তমীযুত তীব/১০৪৫, আসরারুল মারফুআ/৩৩৫, তানযিয়াতুশ শরীয়াহ ১/১৪৮, আদ্দুরারুল মুন্তাছিরা/৩৩০, আত তাযকিরা ফি আহাদীসিল মুশতাহিরা/১৩৬, সিররুল আসরার, কানযুল উম্মাল)
মহান আল্লাহ পাক তিনি হাদীছে কুদসী শরীফ-এ আরো ইরশাদ করেন-
لولاك لـما اظهرت الربوبية.
অর্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি না হলে বা আপনাকে সৃষ্টি না করলে আমি আমার রুবূবিয়াতই প্রকাশ করতাম না।” (কানযুল উম্মাল)
عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنهما انه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اتانى جبريل عليه السلام فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم لولاك ماخلقت الجنة ولولاك ماخلقت النار.
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, হযরত জিবরীল আমীন আলাইহিস সালাম তিনি আমার নিকট আগমন করে বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহু ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে এই বলে পাঠিয়েছেন যে, আপনি যদি না হতেন তবে আমি জান্নাত ও জাহান্নাম কিছুই সৃষ্টি করতাম না।” (দায়লামী, কানযুল উম্মাল-৩২০২২)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মাখলূকাত সৃষ্টি করেছেন তথা মহান আল্লাহ পাক উনার রুবূবিয়াতই প্রকাশ করেছেন মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ পালন করার উদ্দেশ্যে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আলমে আরওয়াহতেও সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন ও উনাদের থেকে ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করার ওয়াদা নিয়েছেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন-
واذ اخذ الله ميثاق النبين لـما اتيتكم من كتاب وحكمة ثم جائكم رسول مصدق لـما معكم لتؤمنن به ولتنصرنه قال ااقررتم واخذتم على ذلكم اصرى قالوا اقررنا قال فاشهدوا وانا معكم من الشاهدين. فمن تولى بعد ذلك فاولئك هم الفاسقون.
অর্থ: “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা) যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আলমে আরওয়াহতে সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছিলেন যে, আপনাদেরকে আমি কিতাব ও হিকমত দান করবো। অতঃপর আপনাদেরকে সত্য প্রতিপাদনের জন্য (নুবুওওয়াত ও রিসালতের হাক্বীক্বী ফায়িজ দেয়ার জন্য) আখিরী নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ নিবেন। আপনারা উনাকে নবী ও রসূল হিসেবে মেনে নিবেন এবং সর্ববিষয়ে উনার খিদমত করবেন (উনার মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ পালন করবেন)। আপনারা কি এই ওয়াদার কথা মেনে নিলেন? উত্তরে উনারা সকলে বললেন, হ্যাঁ আমরা এই ওয়াদা স্বীকার করে নিলাম (অর্থাৎ আমরা যমীনে গিয়ে আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ পালন করবো)। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন: আপনারা সাক্ষী থাকুন, আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী হয়ে গেলাম। তবে জেনে রাখুন, যারা এই ওয়াদাকৃত বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে (যারা মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ পালন করবে না বা এর বিরোধিতা করবে) তারা চরম পর্যায়ের ফাসিক (ও কাফির) হয়ে যাবে।” (সূরা আলে ইমরান : আয়াত শরীফ ৮১-৮২)
এ আয়াত শরীফ-এ স্বয়ং আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি নিজেই হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন। আবার হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যমীনে এসে ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা যমীনে এসে ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করবে না বরং এর বিরোধিতা করবে তারাই চরম পর্যায়ের ফাসিক ও কাফির হবে সে সম্পর্কে ঘোষণাও দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ ফরমান-
انا ارسلناك شاهدا ومبشرا ونذيرا. لتؤمنوا بالله ورسوله وتعزروه وتوقروه وتسبحوه بكرة واصيلا.
অর্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সৃষ্টি করেছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে। অতএব, তোমরা (উম্মতরা) মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি ঈমান আনো এবং তোমরা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত করো, সম্মান করো ও সকাল-সন্ধ্যা অর্থাৎ সদা-সর্বদা উনার ছানা-ছিফত বর্ণনা করো।” (সূরা ফাতহ : আয়াত শরীফ ৮-৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন-
يايها الناس قد جاءتكم موعظة من ربكم وشفاء لـما فى الصدور وهدى ورحمة للمؤمنين. قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مما يجمعون .
অর্থ: “হে মানবজাতি! অবশ্যই তোমাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এসেছেন মহান নছীহতকারী, তোমাদের অন্তরের সকল ব্যাধিসমূহ দূরকারী এবং ঈমানদারদের জন্য মহান হিদায়েতকারী ও মহান রহমতস্বরূপ (হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার দয়া, ইহসান ও রহমত (হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনাকে পেয়ে উনার জন্য ঈদ উদযাপন তথা খুশি প্রকাশ করো। তোমরা যতো কিছুই করোনা কেনো তিনিই হচ্ছেন সমগ্র কায়িনাতের জন্য সবচেয়ে বড় ও সর্বোত্তম নিয়ামত।” (সূরা ইউনুস : আয়াত শরীফ ৫৭- ৫৮)
এ আয়াত শরীফ দ্বারা মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মাখলূকাতের জন্য ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করাকে ফরয করে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, এ সম্পর্কে তিনটি শব্দ রয়েছে। যথা: ميلاد অর্থ: জন্মের সময়, مولد অর্থ: জন্মের স্থান, مولود অর্থ: সদ্য প্রসূত সন্তান। আর ইছতিলাহী বা ব্যবহারিক অর্থ হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে ছানা-ছিফত করা ও উনার প্রতি ছলাত-সালাম পাঠ করা; যা মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন,
ان الله وملئكته يصلون على النبى يايها الذين امنوا صلوا عليه وسلموا تسليما.
অর্থ: “নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও উনার প্রতি ছলাত পাঠ করো এবং সালাম দেয়ার মতো সালাম দাও অর্থাৎ যথাযথ আদব সহকারে তথা ক্বিয়াম বা দাঁড়িয়ে সালাম পেশ করো।” (সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৫৬)
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
by Admin
|
posted: Friday, November 20, 2015
|
একবার আখিরী রসূল, নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে উনার সম্মানিত দামাদ আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি এসে আরজি করলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম; আমাকে আমার সম্পদ কমে যাওয়ার কোনো তাসবীহ দান করুন।’ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একথা শুনে আশ্চর্য প্রকাশ করলেন। এবং বললেন, কী ব্যাপার হে আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, লোকজন ধন-সম্পদ বাড়াতে চায়। আর আপনি সম্পদ কমে যাবার জন্য দোয়া মুবারক চাইছেন। এতে আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, অন্যান্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অনেক নফল ইবাদত করেন। বেশি বেশি পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করেন। কিন্তু আমার মনে হয় আমি বেশি সম্পদের হিসাবের কারণে ততটুকু করতে পারি না।
তখনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি এসে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন, আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্পদ কমানোর তাসবীহ মহান আল্লাহ পাক তিনি পাঠিয়ে দিয়েছেন। আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নুরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন- ‘আপনি যদি আপনার সম্পদ কমাতে চান, তাহলে আপনি যেন মহান আল্লাহ পাক উনার পথে দান কমিয়ে দেন।’
একথা মুবারক শুনে আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, এটা কিভাবে সম্ভব যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সম্পদ দান করবেন, আর আমি উনার পথে খরচ করবো না? তখন আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন- ‘এটাও কি সম্ভব যে, আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পথে দান করবেন অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্পদ বাড়িয়ে দিবেন না। সুবহানাল্লাহ!
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-মুহম্মদ রেজা-ই-রহমান। © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
by Admin
|
posted: Thursday, November 19, 2015
|
(১)
খলীফাতু রসুলিল্লাহ হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন -
“যে ব্যক্তি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মীলাদ শরীফ পাঠ (মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপলক্ষ্যে এক দিরহাম ব্যয় করবে সে জান্নাতে আমার বন্ধু হয়ে থাকবে।” (সুবহানাল্লাহ্) (আন্ নি’মাতুল কুবরা)
(২)
আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন -
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (বিলাদত দিবসকে) বিশেষ মর্যাদা দিল সে মূলতঃ ইসলামকেই পূনরুজ্জীবিত করল।“ (সুবহানাল্লাহ্) (আন্ নি’মাতুল কুবরা)
(৩)
আমীরুল মু’মিনীন হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন -
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে এক দিরহাম খরচ করল সে যেন বদর ও হুনায়েন যুদ্ধে শরীক থাকল।” (সুবহানাল্লাহ্) (আন্ নি’মাতুল কুবরা)
(৪)
আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন -
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি বিশেষ মর্যাদা প্রদান করল সে ব্যক্তি অবশ্যই ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে এবং বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আন্ নি’মাতুল কুবরা)
জগৎখ্যাত, সর্বজনমান্য, সকলের নিকট অনুসরণীয় হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের দৃষ্টিতে সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুরুত্ব ও ফযীলত
(৫)
হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন -
“আমার একান্ত ইচ্ছা হয় যে, আমার যদি ওহুদ পাহাড় পরিমান স্বর্ণ থাকত তাহলে তা ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে ব্যয় করতাম। (সুবহানাল্লাহ্) (আন্ নেয়ামাতুল কুবরা)
(৬)
হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন -
“যে ব্যক্তি মীলাদ শরীফ পাঠ বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন উপলক্ষ্যে লোকজন একত্রিত করলো এবং খাদ্য তৈরি করলো ও জায়গা নির্দিষ্ট করলো এবং মীলাদ পাঠের জন্য উত্তম ভাবে (তথা সুন্নাহ ভিত্তিক) আমল করলো তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক হাশরের দিন সিদ্দীক শহীদ, সালেহীনগণের সাথে উঠাবেন এবং তাঁর ঠিকানা হবে জান্নাতে নাঈমে।” (সুবহানাল্লাহ্) (আন্ নেয়ামাতুল কুবরা)
(৭)
হযরত মারুফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন -
“যে ব্যক্তি ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে খাদ্যের আয়োজন করে, অতঃপর লোকজনকে জমা করে, মজলিশে আলোর ব্যবস্থা করে, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন নতুন লেবাস পরিধান করে,মীলাদুন্নবীর তাজিমার্থে সু-ঘ্রাণ ও সুগন্ধি ব্যবহার করে। আল্লাহ পাক তাকে নবী আলাইহিমুস্ সালামগণের প্রথম কাতারে হাশর করাবেন এবং সে জান্নাতের সুউচ্চ মাকামে অধিষ্ঠিত হবে।“ (সুবহানাল্লাহ্) (আন্ নেয়ামাতুল কুবরা)
(৮)
হযরত ইমাম সাররী সাক্বত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন -
“যে ব্যক্তি মীলাদ শরীফ পাঠ বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করল সে যেন তার জন্য জান্নাতে রওজা বা বাগান নিদিষ্ট করলো। কেননা সে তা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুহব্বতের জন্যই করেছে। আর আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাকে ভালবাসবে সে আমার সাথেই জান্নাতে থাকবে।” (তিরমিযি, মিশকাত, আন নেয়ামাতুল কুবরা)
(৯)
সাইয়্যিদুত ত্বয়িফা হযরত জুনাইদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন -
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আয়োজনে উপস্থিত হল এবং উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করলো। সে তার ঈমানের দ্বারা সাফল্য লাভ করবে অর্থাৎ সে বেহেশ্তি হবে।” (সুবহানাল্লাহ্) (আন্ নি’মাতুল কুবরা)
(১০)
হযরত ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন -
“যে ব্যক্তি মিলাদ শরীফ পাঠ করে বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করে, লবণ, গম বা অন্য কোন খাদ্য দ্রব্যের উপর ফুঁক দেয়, তাহলে এই খাদ্য দ্রব্যে অবশ্যই বরকত প্রকাশ পাবে। এভাবে যে কোন কিছুর উপরই পাঠ করুক না কেন। (তাতে বরকত হবেই)”। (সুবহানাল্লাহ্) (আন্ নি’মাতুল কুবরা)
(১১)
হযরত ইমাম রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন -
উক্ত মোবারক খাদ্য মীলাদ পাঠকারীর বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপনকারীর জন্য আল্লাহ পাকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি তাকে ক্ষমা না করা পর্যন্ত সে ক্ষান্ত হয়না। (সুবহানাল্লাহ্) (আন্ নি’মাতুল কুবরা)
(১২)
হযরত ইমাম রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন -
যদি মীলাদ শরীফ পাঠ করে বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করে কোন পানিতে ফুঁক দেয়, অতঃপর উক্ত পানি কেউ পান করে তাহলে তার অন্তরে এক হাজার নূর ও রহমত প্রবেশ করবে। আর তার থেকে হাজারটি বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ রোগ দূর হবে। যে দিন সমস্ত ক্বলব (মানুষ) মৃত্যুবরণ করবে সেদিনও ঐ মীলাদুন্নবীর পানি পানকারী ব্যক্তির অন্তর ম"ত্যু বরণ করবে না। (সুবহানাল্লাহ্) (আন্ নি’মাতুল কুবরা) (চলবে)
(১৩)
হযরত ইমাম রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন -
যে ব্যক্তি মীলাদ শরীফ পাঠ করে বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদ্্যাপন করে রৌপ্যের অথবা স্বর্ণের দেরহামসমূহের উপর ফুঁক দেয় অতঃপর তা অন্য জাতীয় মুদ্রার সাথে মিশায় তাহলে তাতে অবশ্যই বরকত হবে। এবং এর পাঠক কখনই ফকীর হবে না।
আর উক্ত পাঠকের হাত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর (মীলাদ পাঠের) বরকতে কখনও খালি হবে না। (সুবহানাল্লাহ্) (আন্ নি’য়ামাতুল কুবরা)
(১৪)
হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন -
যে স্থানে বা মসজিদে অথবা মহল্লায় মীলাদ শরীফ পাঠ করা হয় বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদ্্যাপন করা হয় সেখানে অবশ্যই আল্লাহ পাকের ফেরেস্তাগণ বেষ্টন করে নেন। আর তাঁরা সে স্থানের অধিবাসী গণের উপর ছলাত-সালাম পাঠ করতে থাকেন। আর আল্লাহ পাক তাদেরকে স্বীয় রহমত ও সন্তুষ্টির আওতাভুক্ত করে নেন। আর নূর দ্বারা সজ্জিত প্রধান চার ফেরেস্তা, অর্থাৎ হযরত জিব্রাইল, মীকাইল, ইসরাফিল ও আযরাইল আলাইহিমুস্্ সালামগণ মীলাদ শরীফ পাঠকারীর উপর বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপনকারীর উপর সালাত-সালাম পাঠ করেন। (সুবহানাল্লাহ্) (আন্ নি’মাতুল কুবরা)
(১৫)
ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন -
“যখন কোন মুসলমান নিজ বাড়ীতে মীলাদ শরীফ পাঠ করে তখন সেই বাড়ীর অধিবাসীগণের উপর থেকে আল্লাহ্ পাক অবশ্যই খাদ্যাভাব, মহামারী, অগ্নিকাণ্ড, ডুবে মরা, বালা মুসিবত, হিংসা-বিদ্বেষ, কু-দৃষ্টি, চুরি ইত্যাদি উঠিয়ে নেন। যখন উক্ত ব্যক্তি মারা যান তখন আল্লাহ পাক তাঁর জন্য মুনকীর-নকীরের সুওয়াল-জাওয়াব সহজ করে দেন। আর তাঁর অবস্থান হয় আল্লাহ্ পাক-এর সন্নিধানে সিদকের মাকামে। (সুবহানাল্লাহ্) (আন্ নেয়ামাতুল কুবরা) যে ব্যক্তি ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তাযীম করতে চাইবে তার জন্য উপরোক্ত বর্ণনা যথেষ্ট।
আর যে ব্যক্তির নিকট ঈদে মীলাদুন্নবীর তা’যীম নাই (সম্মান করে না) সারা দুনিয়া পূর্ণ করেও যদি তাঁর প্রশংসা করা হয় তথাপিও তার অন্তর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহব্বতে প্রকম্পিত হবে না।
আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে তাদের দলভুক্ত করুন যারা ঈদে মীলাদুন্নবীর মর্যাদা দান করেন এবং এর মর্যাদা উপলব্ধি করেন। তিনি আমাদেরকে তাঁর হাবীব, নবী গনের নবী, রসূল গনের রসূল, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আখাস্সুল খাস মুহিব্বীন ও অনুসারী বানিয়ে দিন। আমীন। ইয়া রব্বুল আলামীন, আয় আল্লাহ পাক, সালাত ও সালাম বর্ষিত করুন সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের প্রতি কেয়ামত পযর্ন্ত।
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
by Admin
|
posted: Tuesday, November 17, 2015
|
ফ্রান্সে
সন্ত্রাসবাদী আইএস’র নাটকীয় হামলায় কয়েকজন নিহত হয়েছে বলে তাদের জন্য মায়া
কান্না কাঁদছেন? আপনি কি জানেন ফ্রান্স নিজে কতো বড় সন্ত্রাসবাদী দেশ?
আপনি কি জানেন পূর্বে এবং বর্তমানে কতজন মুসলমানকে তারা নির্মমভাবে হত্যা
করেছে? তাহলে একনজরে দেখে নিন তাদের সন্ত্রাসের কালো ইতিহাস-
১. ক্রুসেড যুদ্ধের সময় মুসলিমদের দুনিয়ার যমীন থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিলো ফ্রান্স। (তথ্যসূত্র: ক্রুসেডস, উইকিপিডিয়া)
২. উসমানীয় খিলাফতের পতন ঘটিয়েছিল ফ্রান্স। (তথ্যসূত্র: উসমানীয় খলীফা, উইকিপিডিয়া)
৩.
১৯৬০ সালে আফ্রিকায় ৫০বারেরও বেশি সেনা পাঠিয়ে আফ্রিকান মুসলমানদের উপর
গণহত্যা চালিয়েছে এই সন্ত্রাসবাদী ফ্রান্স। (তথ্যসূত্র: লেখক ফ্রান্সিস
ডি’অ্যালেনকোন ফ্রান্সের ‘লিডোভি নোভিনি’ নামক পত্রিকায় এ তথ্য দিয়েছে)
৪. আলজেরিয়াতে ১০ মিলিয়ন মুসলিমকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এই ফ্রান্স। (তথ্যসূত্র: বিবিসি/২৩ জানুয়ারি ২০১৩; ওয়ার্লড বুলেটিন)
৫.
পরগাছা ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরবরা যুদ্ধ করতে করতে যখন একের পর এক ইসরাইল
ভূমির পতন ঘটাচ্ছিল তখন এই ইসলামবিদ্বেষী ফ্রান্স বলেছিলো- আমাদের সব
অস্ত্র নিয়ে ইসরাইলকে রক্ষা করো। [তথ্যসূত্র: Jewish Political Studies
Reviwe 18:1-2 (Spring 2006), Jerusalem Center for Public Affairs,
Israel]
৬. বর্তমানেও পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যাঙ্গ
প্রকাশ করে যাচ্ছে ফ্রান্স।
৭. ফ্রান্সে এখনো কোনো মুসলমান পবিত্র
দ্বীন ইসলাম উনার অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তার জেল জরিমানা ও
শাস্তি ভোগ করতে হয়। (সূত্র: রেডিও তেহরান/২০ সেপ্টেম্বর ২০১২)
৯. শান্তির দেশ লিবিয়াকে ধ্বংস করার যুদ্ধে আমেরিকাকে সাহায্য করেছে ফ্রান্স। (সূত্র: রেডিও তেহরান/১৯ মার্চ ২০১১)
ফ্রান্সের
সন্ত্রাসবাদের ফিরিস্তি তুলে ধরে শুরু করা যাবে, কিন্তু শেষ করা যাবেনা।
সবকিছু জেনেও যারা মুসলমান হয়ে ফ্রান্সের পক্ষপাতিত্ব করবে, হারাম বিশ্বকাপ
ফুটবল খেলার সময় ফ্রান্সের পতাকা উড়াবে তারা কি আদৌ মুসলমান থাকবে?
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-মুহম্মদ ইবরাহীম সোহেল। © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
by Admin
|
posted: Saturday, November 14, 2015
|
মূল কথা: সম্মানিত মুসলমানগণ উনারাই পৃথিবীতে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। ইলম হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে। “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো, তাহলে তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দান করবেন অর্থাৎ ইলম দান করবেন।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮২)
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার পবিত্র এই আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈমানদার মুত্তাক্বী উনাদেরকে ইলম দান করেছেন। হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিকট থেকে সবাই ইলম ও হিকমত প্রাপ্ত হয়েছেন। আধুনিক বিজ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রই মুসলমান উনাদের অবদানে পরিপূর্ণ। কিন্তু যে বিষয়ে মুসলমানগণ উনারা সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন তা হলো গণিত। গণিতে মুসলমান উনাদের অবদানের পিছনে মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে ‘ইসলাম’। একজন মুসলমান উনার পুরো জিন্দেগীতেই রয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। সময় গণনা, দিনের গণনা, যাকাত, ফিতরা, উশর ইত্যাদির হিসাব, সম্পত্তি বণ্টন ইত্যাদি করতে গিয়ে গণিতের যাবতীয় প্রক্রিয়া যেমন যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, ভগ্নাংশ ইত্যাদি শিখতে হয় একজন মুসলমান উনাকে। আরো প্রয়োজন হয় জ্যামিতি ও ত্রিকোণমিতির। চাঁদ ও সূর্য দেখা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে মুসলিম বিজ্ঞানীগণ জ্যোতির্বিদ্যা এবং গণিত সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের সম্মুখীন হন। আর তাই দেখা যায় গণিতে মুসলমান উনাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। সংখ্যাতত্ত্ব, ক্রমবাচক সংখ্যা, গণনা পদ্ধতির জনক হলেন পারসিক মুসলিম বিজ্ঞানী মুহম্মদ মূসা আল খারিযমি। দশমিক সংখ্যার আবিষ্কার করেন জমশিদ আল কাশি। শূন্যের ব্যবহার, গাণিতিক প্রক্রিয়া তথা যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, সূচক এবং গাণিতিক চিহ্ন সবকিছুরই আবিষ্কারক মুসলমান। গণিতের অন্যান্য শাখা যেমন বীজগণিত, ক্যালকুলাস, ত্রিকোণমিতি, জ্যামিতি সবকিছুই মুসলমান উনাদেরই আবিষ্কার। মুসলমান উনাদের এই গৌরবজ্জল ইতিহাস একজন গণিত শিক্ষার্থীর জানা প্রয়োজন। তাহলে মুসলমান উনাদের হীনম্মন্যতা দূর হবে এবং একজন মুসলিম শিশু নিজেও গণিতে নতুন কিছু অবদান রাখতে সচেষ্ট হবে। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত প্রাথমিক শ্রেণীর গণিত পাঠ্য পুস্তকগুলোতে গণিত শেখার থেকে হিন্দুয়ানি ও মুশরিকী চেতনার শিক্ষাই দেয়া হয়েছে বেশি। এই সিলেবাস পড়ে একটি শিশু যতটুকু শিখবে গণিত তার থেকে অনেক বেশি শিখবে মুশরিকী মূর্খতা। শিশুর মন যা শুনে, যা দেখে তাই শিখে। একজন মুসলিম শিশুর মানসপটে কি করে কাফির-মুশরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আসক্তি, যাবতীয় হারাম কাজ ও বেপর্দাকে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে তাকে কি করে ইসলামবিদ্বেষী বানানো যায়- সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে এই সিলেবাসে। বাংলা এবং ইংরেজি ভার্সন বই হবহু একই রকম। নিচে পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক গণিত বইটির একটি বিশ্লেষণমূলক সমালোচনা তুলে ধরা হলো।
অধ্যায় পৃষ্ঠা/লাইন ভুল/আপত্তিকর শব্দ, নাম ও ছবি সম্পর্কিত তথ্য তাদের উদ্দেশ্য সংশোধন/ মন্তব্য
কভার পেজ শ্রেণি কলকাতার বানানরীতি এদেশে প্রচলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘দুই বাংলা এক’ করার হীন চক্রান্ত বাস্তবায়নে কিছুটা এগিয়ে থাকা। শ্রেণী বানানে কলকাতার বানান রীতি অনুসরণ করে ‘ণ’-এর সাথে ‘’ি যুক্ত করে ‘শ্রেণি’ লিখা হয়েছে। শুদ্ধ বানান হবে ‘শ্রেণী’।
কভার পেজের পরের পৃষ্ঠা এবং ২৭, ২৮, ৩০, ৩১, ৩৬, ৩৭ পাখির ছবি ও কার্টুন। এবং বিভিন্ন পৃষ্ঠায় মানুষ, ছেলে-মেয়ে ইত্যাদি প্রাণির ছবি। মুসলিম দেশের পাঠ্য পুস্তকের শুরুতেই পাখির ছবি দিয়ে মুসলমান শিশুদের অবচেতন মনে হারাম ছবির প্রতি আসক্তি প্রবেশ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। প্রাণীর ছবি ইসলামে হারাম। এগুলো বাদ দিতে হবে। যদি দিতেই হয় তবে পাখির ছবি বাদ দিয়ে ফুল, লতা-পাতা, মসজিদ, মিনার, গম্বুজ বা কারুকাজ দেয়া যেতে পারে- যেগুলো মনের মধ্যে ইসলামী ভাবধারা সৃষ্টি করে।
প্রসঙ্গ কথা প্রসঙ্গ কথার ৩য়, ৪র্থ , ৫ম ও ষষ্ঠ লাইন শিশুর অন্তর্নিহিত অপার বিস্ময়বোধ, অসীম কৌতুহল, অফুরন্ত আনন্দ ও উদ্যমের মতো মানবিক বৃত্তির সুষ্ঠু বিকাশ সাধনের সেই মৌল পটভূমিতে পরিমার্জিত হয় প্রাথমিক শিক্ষাক্রম। ২০১১ সালে পরিমার্জিত প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে প্রাথমিক শিশুর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পুনঃনির্ধারিত হয় শিশুর সার্বিক বিকাশের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যকে সামনে রেখে। শিশুর অন্তর্নিহিত অপার বিস্ময়বোধ, অসীম কৌতুহল, অফুরন্ত আনন্দ ও উদ্যমের মতো মানবিক বৃত্তির সুষ্ঠু বিকাশ সাধনের নামে তথা শিশুর সার্বিক বিকাশের নামে নতুন শিক্ষানীতি ও সিলেবাসের মাধ্যমে একটি মুসলমান শিশুর ব্রেইন ওয়াশ ও ব্রেইন স্টরর্মিং (মগজধোলাই) করে তাকে ইসলামবিদ্বেষী করে তোলা, নাস্তিক করে তোলা। যাতে করে একজন মুসলমান শিশুর কাছে ইসলামী রীতি-নীতি ও বিধি-নিষেধ মেনে চলাটা বিরক্তিকর ও কঠিন মনে হয়। (নাউযুবিল্লাহ!) এটা আসলে মানবিক বৃত্তির বিকাশের নামে একটি মুসলমান শিশুকে কিভাবে কাফির-মুশরিকে পরিণত করা যায় সেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুরো সিলেবাসে সম্মানিত ইসলামী শিক্ষা এবং ইসলামী অনুভূতির বিকাশ সাধনের কোনো পরিকল্পনা নেই।
প্রসঙ্গ কথা দ্বিতীয় প্যারার প্রথম লাইন (বাংলা ভার্সন) ‘গণিত বিষয়টি বিমূর্ত’- এখানে ‘বিমূর্ত’ শব্দটি হিন্দুয়ানি এবং অস্পষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। মুসলমান উনাদের কথোপকথনের মধ্যে হিন্দু ভাবধারার শব্দ প্রচলন করা। যেমন: হিন্দুরা কখনই ‘পানি’ বলে না, তারা বলে ‘জল’। হিন্দুরা কখনই ‘গোসল’ বলে না, তারা বলে ‘স্নান’। মুশরিক মালাউনরা তাদের কথায়, অভ্যাসে, আচরণে মুশরিকী-হিন্দুয়ানি অভ্যাস ধরে রাখবে ঠিকই কিন্তু মুসলমান শিশুকে মুসলমানি শব্দ ব্যবহারের অভ্যাস বাদ দিয়ে তাকেও হিন্দুয়ানিতে অভ্যস্ত করা। তাহলে তার মন-মগজে হিন্দুত্বের প্রভাব বজায় থাকবে। চেয়্যারম্যানসহ সকলের মন-মগজ থেকে হিন্দুয়ানী চেতনা ঝেড়ে ফেলে মুসলমানী শব্দ ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে ‘বিমূর্ত’ না বলে নিরাকার বা বাস্তব আকার আকৃতিহীন বললে বুঝতেও সুবিধা হতো।
অনুশীলনী ৩(খ) পৃ: ২০-এর ৮নং সমস্যা অনুশীলনী করাতে গিয়ে হিন্দুয়ানী নাম এবং মেয়েদের নাম লিখা হয়েছে যেমন: প্রমা (ঢ়ৎড়সধ), রিমি (ৎরসর), মনীষা (সড়হরংযধ) ইত্যাদি হিন্দুয়ানী নাম। মুসলমান উনাদের নামের সাথে হিন্দুদের নাম মিশিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমান শিশুকে এটা শিক্ষা দেয়া যে- হিন্দু মুশরিকেরা তাদের বন্ধু। নাউযুবিল্লাহ! এগুলো বাদ দিতে হবে। কাফির-মুশরিকরা মুসলমান উনাদের শত্রু। তারা কখনো বন্ধু হতে পারে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না।”
তাই তাদেরকে বন্ধু ভাবা জায়িয নেই, বরং হারাম।
পৃ: ২৩ গড় শেখাতে একজন ক্রিকেট খেলোয়াড়ের আটটি ওয়ানডে ম্যাচের সিরিজে সংগৃহীত রানের হিসাব দেয়া হয়েছে। মুসলিম শিশুর অবচেতন মনে খেলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা। খেলা করা, খেলার খবর রাখা, খেলার হিসাব করা, খেলার চিন্তা করা- সবই হারাম। এর পরিবর্তে হালাল বিষয়ের মাধ্যমে অংক শেখাতে হবে।
পৃ: ৩৮ সুমি নামে একজন মেয়ের জন্মদিনে তার বন্ধুদেরকে চকলেট বিতরণ করার পর কয়টি থাকে সে বিষয়ে অংক দেয়া হয়েছে। মুসলিম শিশুকে কাফির-মুশরিকদের হারাম কৃষ্টি কালচারে অভ্যস্ত করা, মেয়েদেরকে পুরুষ বন্ধু গ্রহণ করতে শিখানো। পর্দা করা নারী-পুরুষ সবার জন্য ফরয। তাই একজন মেয়ের কখনো পুরুষ বন্ধু থাকতে পারে না। নারী-পুরুষ একসাথে সহশিক্ষা নাজায়িয।
পৃ: ৪১, ৫১, ৫৭, ৭৪ ৬নং সমস্যায় অনু, মৌ, সায়ন, পিউ এবং ৫১ পৃষ্ঠায় অর্ঘ্য, হিমু, শুভ, সৌমিক, মৌলি, ৫৭ পৃষ্ঠায় জয়া, অনিক, ৭৪ পৃষ্ঠায় নগেন বাবু, কমল বাবুু এছাড়াও উর্মি, মৌমি ইত্যাদি অমুসলিম হিন্দু, খ্রিস্টান, কাফির-মুশরিকদের নামে অংক দেয়া হয়েছে। মুসলমান উনাদের মধ্যে কাফির-মুশরিকদের নামের প্রচলন করা, তাদের প্রতি আসক্ত করা। এই নামসমূহ বাদ দিতে হবে। মুসলমান উনাদের নামে অংক শেখাতে হবে।
পৃ: ৫১ ১১নং সমস্যা দেয়া হয়েছে কোল্ড ড্রিংকস খাওয়াকে কেন্দ্র করে। হিমু এবং তার ছোট বোন ভাগাভাগি করে এক বোতল কোল্ড ড্রিংকস খাচ্ছে। মুসলমান উনাদেরকে হারাম কোল্ড ড্রিংকস-মদ-শরাব খেতে অভ্যস্ত করা। ভাই-বোন মিলে ভাগাভাগি করে মদ খাওয়া শেখানো সর্বপ্রকার কথিত কোল্ড ড্রিংকস বা সফট ড্রিংকস খাওয়া হারাম। এগুলোতেও এলকোহল আছে। তাই কথিত কোল্ড ড্রিংসসহ এলকোহল সংশ্লিষ্ট অংক বাদ দিয়ে ইসলামী ভাবধারার অংক দিতে হবে।
পৃ; ৯০, ৭৪ রেডিও কেনা সংক্রান্ত সমস্যা। রেডিও-টিভি ইত্যাদি কিনে গান-বাজনা শুনতে অভ্যস্ত করা। গান-বাজনা শোনার জন্য রেডিও কেনা হারাম। তাছাড়া যেখানে গান-বাজনা হয়, সেখানে ইসলামী অনুষ্ঠান করাও হারাম।
নবম অধ্যায়: শতকরা পৃ ৮৮, ৮৯, ৯০, ৯১ মুনাফার নামে সুদ সংক্রান্ত সমস্যা দেয়া হয়েছে। মুসলমান শিশুকে সুদ গণনা করে নিকৃষ্ট গুনাহগারে পরিণত করা। সাথে সাথে তাকে সুদের প্রতি লোভী করে তোলা। সুদ হারাম। সুদের হিসাব করাও হারাম। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সতর্ক ফরমান হয়েছে- যে একবার সুদ খেল সে যেন নিজ মায়ের সাথে ছত্রিশবার জিনা (ব্যাভিচার) করলো। সুদ খাওয়া তার চেয়েও নিকৃষ্ট।
একাদশ: সময় ১০৬ সময় গণনা শেখাতে গিয়ে বাংলা মাস এবং ইংরেজি মাসের নাম দেয়া হয়েছে; কিন্তু আরবী মাসের নাম নেই। মুসলমান উনাদেরকে পবিত্র হিজরী মাস থেকে গাফিল করে দেয়া। হিজরী সনের হিসাব দিতে হবে। সাথে সাথে শামসী হিসাব হিসাব দিতে হবে।
পাঠ শেষ করার কোনো তরতীব নেই। কোনো পাঠ শেষ হলে আল-হামদুলিল্লাহ বা ছদাকাল্লাহ বা জযাকাল্লাহ ইত্যাদি যিকিরমূলক শব্দ লেখা উচিত। কেননা ইলিম অর্জন করা ফরয এবং তা শ্রেষ্ঠ ইবাদত। আর ইলিম মহান আল্লাহ পাক তিনি দান করেন। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারকে পাঠ শুরু করা উচিত এবং উনার নাম মুবারকে শেষ করা উচিত। উনার কাছে ইলিম প্রার্থনা করা উচিত।
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-গোলাম মুহম্মদ আরিফুল খবীর। © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
by Admin
|
posted: Friday, November 13, 2015
|
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই সমস্ত প্রাণীর মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কাফিররাই সবেচেয় নিকৃষ্ট যারা ঈমান আনেনি। (পবিত্র সূরা আনফাল: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৫)।
সক্রেটিস, এরিস্টটল, প্লেটো ছিল বিচ্ছিন্ন সমাজ ইহুদী ধর্মের অন্তর্ভুক্ত। ইহুদীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা মুসলমানরা তোমাদের সবেচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে প্রথমতঃ ইহুদীদেরকে অতঃপর মুশরিকদেরকে।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)
এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন ইহুদীরা মুসলমান উনাদের প্রধান শত্রু। তাহলে মুসলমানরা কি করে এই সমস্ত যবন, মেøচ্ছ, অস্পৃশ্য নিকৃষ্ট সক্রেটিস, এরিস্টটল, প্লেটোর জীবনী পড়তে পারে। এদেরকে অনুসরণ করতে পারে। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, যে যাকে অনুসরণ করবে তার সাথে তার হাশর-নশর হবে। এখন কাট্টা কাফির চিরজাহান্নামী সক্রেটিস, এরিস্টটল, প্লেটোকে যারা অনুসরণ করবে, তাদের তর্জ-তরীক্বা গ্রহণ করবে তাদের হাশর নশর তাদের সাথেই হবে। নাউযুবিল্লাহ!
কাজেই এসব যবন, ম্লেচ্ছ, অস্পৃশ্য, মালউন, সক্রেটিস, এরিস্টটল, প্লেটো এদের জীবনী পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দিতে হবে।
এর আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-মুহম্মদ আতিকুর রহমান। © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
by Admin
|
posted: Thursday, November 12, 2015
|
ভিটামিন-‘এ’ সব বয়সের মানুষের জন্য প্রয়োজন। বিশেষ করে বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ, বেড়ে উঠা, চোখের দৃষ্টিসহ আরো অনেক প্রয়োজনে, উদ্ভিদ উৎস হতে হোক কিম্বা প্রাণিজ উৎস থেকে হোক, এটা আমাদের প্রতিদিন গ্রহণ করতে হয়। এর অভাবে যেমন নানাবিধ সমস্যা হয় তেমনি অতিরিক্ত গ্রহণেও মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হয়, যা আমরা অনেকেই জানি না। ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে সরকার প্রতিবছর বাচ্চাদের বিনামূল্যে প্রদান করে থাকে। একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটা ভালো খবর। কিন্তু এই ভিটামিন খাওয়ানোর পূর্বে কি আমরা চিন্তা করে দেখেছি এর ক্ষতিকর দিকগুলো? দেখিনি বলেই প্রতিবছর ভিটামিন-এ খাওয়ানোর পর দেখা যায় নানাবিধ সমস্যা হয়। যা আমরা বিগত বছরগুলোতে দেখেছি।
* এখন আমরা দেখবো, একজন মানুষের জন্য প্রতিদিন কতটুকু ভিটামিন-এ দরকার-
০-৬ মাস বয়সী- ৪শ’ মাইক্রোগ্রাম (১৩৩৩ আইইউ)
৭-১২ মাস বয়সী- ৫শ’ মাইক্রোগ্রাম (১৬৬৭ আইইউ)
১-৩ বছর বয়সী- ৩শ’ মাইক্রোগ্রাম (১০০০ আইইউ)
৪-৮ বছর বয়সী- ৪শ’ মাইক্রোগ্রাম (১৩৩৩ আইইউ)
৯-১৩ বছর বয়সী- ৬শ’ মাইক্রোগ্রাম (২০০০ আইইউ)
১৪-১৮ বছর বয়সী- ৯শ’ মাইক্রোগ্রাম (৩০০০ আইইউ)-ছেলে, ৭শ’ মাইক্রোগ্রাম (২৩৩৩ আইইউ)-মেয়ে > ১৯ বছর বয়সী - ৯শ’ মাইক্রোগ্রাম (৩০০০ আইইউ)
আমেরিকার খাদ্য ও পুষ্টি বোর্ড (এফএনবি) জানুয়ারী ২০০১ সালে ভিটামিন-এ গ্রহণের এই সীমা নির্ধারণ করে।
* একজন মানুষের প্রতিদিন ভিটামিন-এ গ্রহণ সর্বোচ্চ কতটুকু হতে পারে তা এখন জানবো-
০-১২ মাস বয়সী- ৬শ’ মাইক্রোগ্রাম (২০০০ আইইউ)
১-৩ বছর- ৬শ’ মাইক্রোগ্রাম (২০০০ আইইউ)
৪-৮ বছর- ৯শ’ মাইক্রোগ্রাম (৩০০০ আইইউ)
৯-১৩ বছর- ১৭শ’ মাইক্রোগ্রাম (৫৬৬৭ আইইউ)
১৪-১৮ বছর- ২৮শ’ মাইক্রোগ্রাম (৯৩৩৩ আইইউ)
>১৯ বছর- ৩ হাজার মাইক্রোগ্রাম (১০০০০ আইইউ)
* এখন জানবো সরকারিভাবে কতটুকু খাওয়ানো হচ্ছে?
৬ মাস- ১১ মাস= ১ লক্ষ আইইউ
১২ মাস- ৫ বছর= ২ লক্ষ আইইউ
* কখন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে?
১) ভিটামিন-এ এর মাত্রা যদি ২৫ হাজার আইইউ বা তার উপরে চলে যায় তাহলে বিষক্রিয়া হতে পারে।
২) যদি মানসম্মত না হয়।
৩) সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হলে।
৪) লম্বা সময় ধরে খেলে।
উপরের হিসেবে দেখা গেলো একটা বাচ্চার একদিনে যতটুকু ভিটামিন-এ দরকার তার থেকে অনেক বেশি তার শরীরে প্রবেশ করানো হয়। যার ফলে হাইপারভিটামিনোসিস-এ অর্থাৎ ভিটামিন-এ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভিটামিন শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যা মারাত্মক আকার ধারণ করার কথা চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা আছে। ভিটামিনের মধ্যে ভিটামিন-এ ও ভিটামিন-ডি এর বিষক্রিয়া অনেক মারাত্মক।
উপরের আলোচনায় বুঝা গেল যে, ভিটামিন-এ অতিরিক্ত গ্রহণের যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তা আমাদের স্রেফ গুজব বলে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। সরকারকে অবশ্যই এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত।
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-ডা. মুহম্মদ মারূফ, এমবিবিএস। © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Recent Comments