ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার কতিপয় বেমেছাল খুছূছিয়াত মুবারক

সম্মানিত রওযা শরীফ সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার একখানা বাগান মুবারক:
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم الْقَبْرُ حُفْرَةٌ مِنْ حُفَرِ جَهَنَّمَ أَوْ رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ক্ববর হচ্ছে জাহান্নামের গর্তসমূহ হতে একটি গর্ত অথবা সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার বাগানসমূহ থেকে একখানা সম্মানিত বাগান মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (ইছবাতু গাযাবিল ক্ববর লিলবাইহাক্বী ১/৫৫)
অপর বর্ণনায় রয়েছে,
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم:إِنَّمَا القَبْرُ رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الجَنَّةِ أَوْ حُفْرَةٌ مِنْ حُفَرِ النَّارِ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কবর হচ্ছে সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার বাগানসমূহ থেকে একখানা সম্মানিত বাগান মুবারক অথবা জাহান্নামের গর্তসমূহ হতে একটি গর্ত।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, আল মু’জামুল আওসাত্ব লিত্ব ত্ববারনী ৮/২৭৩, মু’জামুশ শুয়ূখ ২/৮৬৭ ইত্যাদি)
স্বাভাবিকভাবে একজন ওয়ালীআল্লাহ উনার কবর বা মাজার শরীফ হচ্ছেন সম্মানতি জান্নাত উনার বাগানসমূহ থেকে একখানা বাগানস্বরূপ। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, যারা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত মুহব্বত মুবারক-এ ইন্তেকাল করে থাকেন উনাদের কবরগুলোও সম্মানিত জান্নাত উনার বাগান মুবারক উনাদের অন্তর্ভুক্ত এবং সম্মানিত রহমত মুবারক উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের যিয়ারত মুবারক করার স্থান। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلـٰى حُبِّ اٰلِ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَحَ اللهُ لَهٗ فِـىْ قَبْرِهٖ بَابَيْنِ اِلَـى الْـجَنَّةِ اَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلـٰى حُبِّ اٰلِ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَعَلَ اللهُ قَبْرَهٗ مَزَارَ مَلَائِكَةِ الرَّحْـمَةِ.
অর্থ: “সাবধান! যে ব্যক্তি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারক-এ ইন্তেকাল করবেন, উনার কবরে উনার জন্য সম্মানিত জান্নাত উনার দিকে দুটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সাবধান! যে ব্যক্তি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারক-এ ইন্তেকাল করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত ব্যক্তি উনার কবরকে সম্মানিত রহমত মুবারক উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত যিয়ারত মুবারক করার স্থান বানাবেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কুরতুবী ১৬/২৩, তাফসীরে কবীর ২৭/৫৯৫, তাফসীরে হাক্কী ১৩/৭৯, তাফসীরে রূহুল বয়ান ৮/২৩৯, তাখরীজু আহাদীছুল কাশ্শাফ ৩/২৩৮, নুজহাতুল মাজালিস ১/৩৬৫)
যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে যিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মালিক, বিদ্ব‘আতুম মির রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ উনার হুকুম কী? অবশ্য অবশ্যই ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ উনার হুকুম মুবারক হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ উনার অনুরূপ। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরসহ সমস্ত কায়িনাতের ক্বিবলা, কেন্দ্র বিন্দু। সুবহানাল্লাহ! সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত কায়িনাত উনার গোলাম, খাদিম। প্রধান চার ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা দায়িমীভাবে ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক, তা’যীম-তাকরীম মুবারক, ছানা-ছিফত মুবারক-এ মশগুল রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেভাবে দায়িমীভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করে থাকেন, ঠিক তেমনিভাবে ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! আর এই জন্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানজুল ‘উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওই কুরবা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি)
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْنُ أَهْلُ بَيْت شَجَرَة النُّبُوَّةِ وَمَعْدِنُ الرِّسَالَةِ لَيْسَ اَحَدٌ مِّنَ الْـخَلَائِقِ يَفْضُلُ اَهْلَ بَيْـتِـىْ غَيْرِىْ.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক এবং সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার সম্মানিত খনি মুবারক। সৃষ্টি জগতে আমি ব্যতীত আর কেউ আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার অধিকারী নেই। অর্থাৎ সৃষ্টি জগতে আমার পর পরই আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক, ফযীলত মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (তারতীবুল আমালী ১/২০২, আল ঈমা ইলা যাওয়ায়িদিল আমালী ৫/১৭৯)

সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ দুধপানকারিনী আছেন:
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَلْبَرَاءِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ لَمَّا مَاتَ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ لَهٗ مُرْضِعًا فِى الْـجَنَّةِ.
অর্থ: “হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত রাবি’ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই উনার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ একজন সম্মানিতা দুধপানকারিনী রয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
অন্য বর্ণনায় এসেছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَلْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ لَمَّا تُوُفِّـىَ حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمُ ابْنُ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ لَهٗ مُرْضِعًا فِى الْـجَنَّةِ تُتِمُّ بَقِيَّةَ رَضَاعِهٖ
অর্থ: “হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত রাবি’ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই উনার জন্য সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ একজন সম্মানিতা দুধপানকারিনী রয়েছেন, যিনি উনার অবশিষ্ট দুধ মুবারক পান করার মেয়াদ পূর্ণ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল আহাদ ওয়াল মাছানী শরীফ)
এরূপ আরো অনেক রিওয়ায়েত রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
ইমামুল মুহাদ্দিছীন, ছাহিবু ইলমিল আউওয়ালি ওয়াল ইলমিল আখিরি মুজাদ্দিদে আ’যম সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যদিও এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত রাবি’ আলাইহিস সালাম উনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই সম্মানিত হাদীছ শরীফগুলো আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আবনা’ (ছেলে) আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের শান মুবারকেই প্রযোজ্য।” সুবহানাল্লাহ!
এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের মাধ্যমে এই বিষয়টিই স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে যে, সমস্ত কায়িনাতই হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিমুস সালাম উনাদের খাদিম। সুবহানাল্লাহ! উনারা সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর যখন উনাদেরকে সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মধ্যে রাখা হয়েছে, তখন থেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক-এ সম্মানিত জান্নাতী দুধমাতাগণ উনারা উনাদেরকে দুধ মুবারক পান করানো থেকে শুরু করে উনাদের যাবতীয় সমস্ত প্রকার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর যখন হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত বয়স মুবারক সম্মানিত দুধ মুবারক পান করার শেষ সীমায় উপনীত হয়েছেন, তখন সম্মানিত জান্নাতী দুধমাতাগণ উনারা উনাদের সম্মানিত দুধ মুবারক পান করানো থেকে বিরত থেকেছেন। সুবহানাল্লাহ! এছাড়া মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক-এ হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দায়িমীভাবে সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন এবং দিয়ে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! এইভাবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কুদরতীভাবে হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার বিষয়টি ফায়সালা মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, উনারা জান্নাতী বয়স মুবারক-এ উপনীত হওয়া পর্যন্ত উনাদের সম্মানিত বয়স মুবারক বাড়তে থাকেন। অতঃপর যখন উনারা সম্মানিত জান্নাতী বয়স মুবারক তথা ৩৩ বছর বয়স মুবারক-এ উপনীত হয়েছেন, তখন উনাদের বয়স মুবারক বৃদ্ধি পাওয়া বন্ধ হয়েছেন। উনারা বর্তমানে সেই সম্মানিত জান্নাতী বয়স মুবারকেই সম্মানিত অবস্থান মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের, বিশেষ করে ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক, খুছূছিয়াত মুবারক সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার বাইরে। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি শুধু খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে কবূল করুন, হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক, মা’রিফত-মুহব্বত, তায়াল্লুক্ব-নিসবত, কুরবত মুবারক, পবিত্রতা ও ইছলাহী মুবারক নছীব করুন। আমীন!
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-আল্লামা মুহম্মদ ছিদ্দীকুর রহমান। © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত (২)

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يَااَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مّـِنْ رَّبّـِكُمْ وَشِفَاء لّـِمَا فِى الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لّـِلْمُؤْمِنِيْنَ. قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مّـِمَّا يَـجْمَعُوْنَ.
অর্থ: “হে মানুষেরা! হে সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসী! অবশ্যই তোমাদের মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ নছীহতকারী, তোমাদের অন্তরের সর্বপ্রকার ব্যাধিসমূহের সর্বশ্রেষ্ঠ আরোগ্যদানকারী, সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াত দানকারী এবং সমস্ত কায়িনাতবাসীর জন্য, খাছ করে ঈমানদারদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রহমতস্বরূপ আমার যিনি হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক এনেছেন। (সুবহানাল্লাহ) হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসীকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যে, ফযল, করম ও রহমত মুবারক হিসেবে উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন, সেজন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে, ঈদ পালন করে তথা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে। এই খুশি প্রকাশ করাটা, ঈদ পালন করাটা, মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করাটা সবকিছু থেকে উত্তম; যা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা ইউনূস শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৫৮)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অজুদ মুবারক উনার সম্মানার্থে খুশি প্রকাশ করা, ঈদ পালন করা কায়িনাতবাসীর সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মর্যাদা, ফাযায়েল-ফযীলতের দিক থেকে যেমনিভাবে কায়িনাত মাঝে একক অজুদ মুবারক, তেমনিভাবে উনার জন্য খুশি প্রকাশ করাটাও মাখলুকাতের সমস্ত আমল ও ইবাদত হতে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম। (সুবহানাল্লাহ) এ জন্যই আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
من أنفق درهما على قراءة مولد النبى صلى الله عليه وسلم فكانـما شهد غزوة بدر وحنين.
অর্থ: যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মীলাদ শরীফ পাঠ অর্থাৎ সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে এক দিরহাম খরচ করলো, সে যেন বদর ও হুনাইন জিহাদে শরীক থাকলো।” সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা, এ জন্য খুশি প্রকাশ করা, মহাসম্মানিত বদর ও হুনাইন জিহাদে শরীক থাকার নামান্তর। আর বদর ও হুনাইন জিহাদে শরীক থাকার গুরুত্ব সম্পর্কে খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّـهُ بِبَدْرٍ
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদেরকে বদর প্রান্তরে সাহায্য করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আল ইমরান শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ১৩২)
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন,
لَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّـهُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍ ۙ وَيَوْمَ حُنَيْنٍ
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদেরকে অনেক প্রান্তরে এবং হুনাইন জিহাদের দিন সাহায্য করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা তওবা শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ২৫)
পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসে সমস্ত জিহাদেই সরাসরি খোদায়ী গাইবী মদদ নাযিল হয়েছে। তবে বদর ও হুনাইন জিহাদে সরাসরি খোদায়ী গাইবী মদদ নাযিল হওয়ার ব্যাপারে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে বিশেষভাবে বলা হয়েছে। আর মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা, এজন্য খুশি প্রকাশ করা, মহাসম্মানিত বদর ও হুনাইন জিহাদে শরীক থাকার হলো সেই ব্যক্তি দায়েমীভাবে গাইবী মদদ লাভ করতে থাকবে। দুনিয়া ও আখিরাতে সার্বিকভাবে মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মদদ, রহমত, বরকত, সাকীনা, দয়া, দান, ইহসান দায়িমীভাবে লাভ করবে এবং উনাদের দায়িমী নিসবতে সে সম্পৃক্ত থাকবে। সুবহানাল্লাহ
মূলকথা হলো, সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের মাধ্যমে যাবতীয় নিয়ামত মুবারক লাভ হয়। আর এজন্যই সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করাকে কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে ঘোষণা মুবারক দেয়া হয়েছে।
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-মুহম্মদ যায়েদ।© আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা কুল কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত (১)

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يَااَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مّـِنْ رَّبّـِكُمْ وَشِفَاء لّـِمَا فِى الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لّـِلْمُؤْمِنِيْنَ. قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مّـِمَّا يَـجْمَعُوْنَ.
অর্থ: “হে মানুষেরা! হে সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসী! অবশ্যই তোমাদের মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ নছীহতকারী, তোমাদের অন্তরের সর্বপ্রকার ব্যাধিসমূহের সর্বশ্রেষ্ঠ আরোগ্যদানকারী, সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াত দানকারী এবং সমস্ত কায়িনাতবাসীর জন্য, খাছ করে ঈমানদারদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রহমতস্বরূপ আমার যিনি হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক এনেছেন। (সুবহানাল্লাহ) হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসীকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যে, ফযল, করম ও রহমত মুবারক হিসেবে উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন, সেজন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে, ঈদ পালন করে তথা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে। এই খুশি প্রকাশ করাটা, ঈদ পালন করাটা, মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করাটা সবকিছু থেকে উত্তম; যা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা ইউনূস শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৫৮)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অজুদ মুবারক উনার সম্মানার্থে খুশি প্রকাশ করা, ঈদ পালন করা কায়িনাতবাসীর সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মর্যাদা, ফাযায়িল-ফযীলতের দিক থেকে যেমনিভাবে কায়িনাত মাঝে একক অজুদ মুবারক, তেমনিভাবে উনার জন্য খুশি প্রকাশ করাটাও মাখলুকাতের সমস্ত আমল ও ইবাদত হতে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম। (সুবহানাল্লাহ) এ জন্যই আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, খলীফাতু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
من أنفق درهما على قراءة مولد النبى صلى الله عليه وسلم كان رفيقى فى الجنة.
অর্থ: যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মীলাদ শরীফ পাঠ অর্থাৎ সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে এক দিরহাম ব্যয় করবে, সে ব্যক্তি জান্নাতে আমার বন্ধু হয়ে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ!
আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, খলীফাতু রসূলিল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘ছিদ্দীক্বে আকবর’। ‘ছিদ্দীক্ব’ শ্রেণীর মহান ব্যক্তিত্ব উনাদের মধ্যে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ। এখন সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে এক দিরহাম ব্যয় করলে, সে ব্যক্তি জান্নাতে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার বন্ধু হয়ে থাকবে। অর্থাৎ সেই ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাত উভয়কালেই ‘ছিদ্দীক্ব’ উনাদের অন্তর্ভুক্ত তথা ‘ছিদ্দীক্ব’ হয়েই জীবন অতিবাহিত করবে। সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
أَنْعَمَ اللَّـهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ ۚ وَحَسُنَ أُولَـٰئِكَ رَفِيقًا
অর্থ: “ মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম, ছিদ্দীক্বগণ, শহীদগণ, ছালিহীনগণ উনাদেরকে নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করেছেন। (সম্মানিত সূরা নিসা শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৬৯)
এখন ফিকিরের বিষয় হলো, সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে এক দিরহাম ব্যয় করে জান্নাতে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার বন্ধু হয়ে থাকার মাধ্যমে ‘ছিদ্দীক্বিয়াত’ লাভ হয়। আর ছিদ্দীক্বগণ উনাদেরকে যাবতীয় নিয়ামত দেয়ার ব্যাপারে স্বয়ং খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে সরাসরি ঘোষণা মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
মূলকথা হলো, সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের মাধ্যমে যাবতীয় নিয়ামত মুবারক লাভ হয়। আর এ জন্যই সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করাকে কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে ঘোষণা মুবারক দেওয়া হয়েছে।
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-মুহম্মদ যায়েদ। © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

এক নজরে ইবনু রসূলিল্লাহ, আশবাহুল খলক্বি বিরসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুল আসইয়াদ সাইয়্যিদুনা হযরত ছানী আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পরিচিতি মুবারক

সম্মানিত নাম মুবারক: সাইয়্যিদুনা হযরত ত্বইয়িব আলাইহিস সালাম।
সম্মানিত লক্বব মুবারক: ইবনু রসূলিল্লাহ, আশবাহুল খলক্বি বিরসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুল বাশার, সাইয়্যিদুল আসইয়াদ, আল মুবাশ্শির, আল আবাররু, আল আজওয়াদ এছাড়াও আরো অসংখ্য অগণিত। সুবহানাল্লাহ!
যেই সম্মানিত লক্বব মুবারক-এ সম্মানিত পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন: ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ছানী আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত আব্বাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত দাদাজান আলাইহিস সালাম: আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম।
মহাসম্মানিতা দাদীজান আলাইহাস সালাম: সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ: আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার প্রায় ৯ বছর পূর্বে মহাসম্মানিত রবী‘উল আউওয়াল শরীফ মাস উনার ২ তারীখ। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সম্মানিত স্থান মুবারক: সম্মানিত মক্কা শরীফ।
সম্মানিত অবস্থান মুবারক: সম্মানিত মক্কা শরীফ।
ভাই-বোন আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম: চার ভাই এবং চার বোন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী উনাদের সম্মানিত নাম মুবারক হচ্ছেন,
১. সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম,
২. সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম,
৩. সাইয়্যিদুনা হযরত ত্বইয়িব আলাইহিস সালাম,
৪. সাইয়্যিদুনা হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম,
৫. সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বইয়্যাহ আলাইহাস সালাম,
৬. সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম
৭. সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম এবং
৮. সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ভাই উনাদের মধ্যে উনার অবস্থান মুবারক: ছানী তথা দ্বিতীয়।
ভাই-বোন আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে উনার সম্মানিত অবস্থান মুবারক: তৃতীয়।
মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াতী শান মুবারক প্রকাশের ৯ বছর পূর্বে ৮ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার স্থান মুবারক: সম্মানিত মক্কা শরীফ।
দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক: কয়েক দিন।
সম্মানিত রওযা শরীফ: সম্মানিত মক্কা শরীফ।
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-মুহম্মদ ছিদ্দীকুর রহমান। © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার বিরোধীরা আবু লাহাবের চেয়ে কোটি কোটিগুণ নিকৃষ্ট এবং জাহান্নামের কীট

আবু লাহাব একাধারে বারো বছর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা করেছিল। মহান আল্লাহ পাক তিনি আবু লাহাব ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের সকলের ধ্বংসের ব্যাপারে পবিত্র সূরা লাহাব শরীফ নাযিল করেছেন এবং তারা আযাবে-গযবে ধ্বংস হয়ে জাহান্নামের কীটে পরিণত হয়ে গেছে। তার কুফরী-শিরকী সারা জীবনের সমস্ত আমলকে বরবাদ করে দিয়েছিলো একটি আমল ব্যতীত। আর সেই আমলটি হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে খুশি হয়ে তার বাঁদী হযরত ছুয়াইবা আলাইহাস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক করার জন্য আযাদ করে দেয়া। এতোটুকুই ছিল তার আমল।
সে কিন্তু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হিসেবে দুনিয়াতে তাশরীফ মুবারক নেয়াতে খুশি প্রকাশ করেনি, বরং সে তার ভ্রাতুষ্পুত্র হিসেবে উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করেছিল। তার এই আমলের জন্য তাকে জাহান্নামের মধ্যে বিশেষ নিয়ামতের ব্যবস্থা করা হয়েছে; যার ফলে সে প্রতি সোমবার শরীফ-এ ঠাণ্ডা পানি পেয়ে থাকে, যা পান করার কারণে বিগত সপ্তাহের আযাব-গযব অনুভূত হয় না। সুবহানাল্লাহ!
এখন ফিকিরের বিষয় হচ্ছে, বর্তমান যামানার যে সমস্ত কথিত মাওলানা, মুহাদ্দিছ, মুফাসসির, শাইখুল হাদীছ, ছূফী, দরবেশ, ইসলামী চিন্তাবিদ দাবিদাররা মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার বিরোধিতা করে যাচ্ছে তারা মূলত আবু লাহাবের চেয়ে কোটি কোটিগুণ নিকৃষ্ট। কারণ আবু লাহাব ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় দুনিয়ার বুকে সর্বশ্রেষ্ঠ আমল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করেছিল। কিন্তু বর্তমান যামানার জাহান্নামের নিকৃষ্ট কীট উলামায়ে ‘সূ’রা পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন তো দূরের কথা, বরং পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন বিদয়াত, নাজায়িয ফতওয়া দিয়ে যাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা আমাদেরকে মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নেক দৃষ্টি ও দোয়া মুবারক উনার উসীলায় এ সকল নিকৃষ্ট কীটের ওয়াসওয়াসা থেকে হিফাযত করুন এবং অনন্তকাল ধরে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার তাওফীক দান করুন। আমিন।
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-মুহম্মদ জিয়াউদ্দীন (তুষার), উত্তর শাহজাহানপুর, ঢাকা। © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

পবিত্র মীলাদ শরীফ থেকে বিরত থাকার অর্থ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া

পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মূল হলেন- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। এই সত্যটি অনেক মুসলমান না বুঝলেও কাফির, মুশরিকরা খুব ভালো করে বুঝেছে। আর তাই তো ওরা মুসলমানগণ উনাদের মাঝ থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দূরে সরানোর অশেষ ভাবনা ও অপচেষ্টা করে আসছে।
ইহুদী, নাছারা ও মুশরিকরা তাদের স্থানীয় দোসরদের মাধ্যমে আমাদের সমাজ থেকে পবিত্র মীলাদ শরীফ একদম উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। অত্যন্ত রহমত ও বরকতপূর্ণ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উদযাপন থেকে সাধারণ মুসলমানগণদের বিভ্রান্তিতে ফেলেছে এবং প্রচার করছে ঈদ মাত্র ২টি।
তাই তো রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ঘরে ঘরে পবিত্র মীলাদ শরীফ চালু করে দিয়েছেন; যাতে মুসলমানগণ ফয়েয, বরকত পেয়ে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে। দীর্ঘ দিন ব্যাপী বিভিন্ন মাহফিলের মাধ্যমে ঐতিহাসিক পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনাকে পালন করে এই দিনটি পালনের সচেতনতা সৃষ্টি করছেন। এভাবেই ধুলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শত্রুদের সমস্ত প্রকার চক্রান্ত। আসুন, রাজারবাগ দরবার শরীফ গিয়ে পবিত্র ঈদে মীলাদ শরীফ উনার রহমত, বরকত, সাকিনা ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ অর্জন করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করি।
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-লে. কর্নেল মুহম্মদ আনোয়ার হুসাইন খান, পিএসসি (অব.) ঢাকা। © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...