by Admin
|
posted: Friday, October 28, 2011
|
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা (হজ্জ ও কুরবানীর) নির্দিষ্ট কয়েক দিন মহান আল্লাহ পাক উনাকে স্মরণ করো।
আর হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আছর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর তাকবীর বলবে-
‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
ছহীহ ও গ্রহণযোগ্য ফতওয়া হলো- পুরুষ হোক, মহিলা হোক, মুক্বীম হোক, মুসাফির হোক, একা হোক বা জামায়াতে হোক প্রত্যেকের জন্য প্রতি ফরয নামাযের পর একবার তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব আর তিনবার পাঠ করা সুন্নত।
যারা এর ব্যতিক্রম বলে তাদের কথা সম্পূর্ণ অশুদ্ধ ও দলীলবিহীন।
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তাকবীরে তাশরীকের উৎপত্তি ইতিহাস সম্পর্কে বলা হয়, মহান আল্লাহ পাক উনার খলীল হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করলেন, হে বারে ইলাহী! আমাকে একজন নেক সন্তান দান করুন। মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে একজন ধৈর্যশীল সন্তানের সুসংবাদ দান করেন। অর্থাৎ হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার বিলাদত শরীফ-এর সুসংবাদ দান করেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইহুদীরা বলে ও প্রচার করে থাকে যে, ‘হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার ছেলে হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী করেছিলেন।’ মূলত তাদের এ মতটি সম্পূর্ণই মিথ্যা, বানোয়াট ও দলীলবিহীন। নির্ভরযোগ্য সমস্ত কিতাবেই উল্লেখ আছে যে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি উনার ছেলে হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী করেছেন। কেননা, হাদীছ শরীফ-এ স্পষ্টই উল্লেখ আছে, ‘আমি দুই যবেহের সন্তান।’ অর্থাৎ একজন হচ্ছেন হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম তিনি আর অন্যজন হচ্ছেন হযরত খাজা আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম। কেননা, হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার পূর্বপুরুষ নন। পূর্বপুরুষ হচ্ছেন হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অতঃপর হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদত লাভ করলেন এবং যখন হাঁটাহাঁটির বয়সে উপনীত হলেন তখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে মিনায় নিয়ে গিয়ে বললেন, ‘হে আমার প্রিয় বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি আপনাকে যবেহ বা কুরবানী করছি। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?’ হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম তিনি জবাব দেন, ‘হে আমার সম্মানিত পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তা বাস্তবায়িত করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।’ সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অতঃপর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি যখন হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার গলা মুবারক-এ ছুরি চালাতে থাকেন; মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত! যতই ছুরি চালানো হচ্ছে হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার গলা মুবারক কিন্তু কাটছে না। সুবহানাল্লাহ! হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি ছুরির ধার পরীক্ষা করার জন্য ছুরিটি একটি পাথরে আঘাত করলেন। সাথে সাথে পাথরটি দ্বিখন্ডিত হয়ে গেলো। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে ছুরি! তুমি পাথরকে দ্বিখন্ডিত করে দিলে অথচ হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার গলা মুবারক কাটতে পারছো না? মহান আল্লাহ পাক তিনি ছুরির যবান খুলে দেন। ছুরি বললো, ‘হে আল্লাহ পাক উনার খলীল হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম! আপনি একবার কাটার জন্য আদেশ করেন আর আমার রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সত্তরবার কাটতে নিষেধ করছেন। সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যাই হোক হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে যবেহ করার চেষ্টায় নিয়োজিত ছিলেন ঠিক এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে বেহেশত থেকে একটি দুম্বা এনে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার নিকট দেয়ার নির্দেশ দিলেন।
হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি যখন দুম্বা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন দেখলেন, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার প্রাণাধিক প্রিয় সন্তান হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার গলা মুবারক-এ ছুরি চালাচ্ছেন। হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম আশ্চর্যান্বিত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার বড়ত্ব, মহত্ব প্রকাশ করতে গিয়ে বলে উঠলেন, ‘আল্লাহ আকবার, আল্লাহু আকবার।’ একথা বলে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে সরিয়ে ছুরির নিচে দুম্বাটি দিয়ে দিলেন। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে তখন তিনিও মহান আল্লাহ পাক উনার একত্ববাদের ঘোষণা দিয়ে বললেন, ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার’।
এদিকে হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম তিনিও যখন বুঝতে পারলেন যে, তিনি যবেহ না হয়ে উনার পরিবর্তে একটি দুম্বা যবেহ হচ্ছে তিনিও তখন মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা করে বললেন, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ শরীয়তে এটাই তাকবীরে তাশরীক নামে মশহুর।’
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আছর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা শরীয়তের নির্দেশ। পুরুষ হোক, মহিলা হোক, মুক্বীম হোক, মুসাফির হোক, একা হোক বা জামায়াতে হোক প্রত্যেকের জন্য প্রত্যেক অবস্থায় প্রতি ফরয নামাযের পর একবার তাকবীর পাঠ করা ওয়াজিব আর তিনবার পাঠ করা সুন্নত।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, কেউ কেউ বলে ‘তাকবীর’ একবার পাঠ করতে হবে; তিনবার পাঠ করা যাবে না- তাদের কথা সম্পূর্ণ অশুদ্ধ ও দলীলবিহীন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সর্বজনমান্য এবং স্বীকৃত ইমাম-মুজতাহিদ ও ফুক্বাহায়ে কিরামগণ উনাদের বিশ্ব বিখ্যাত ফতওয়ার কিতাবে একাধিকবার তাকবীরে তাশরীক বলা মুস্তাহাব বা ফযীলতের কারণ বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন, “দুররুল মুখতার” কিতাবে উল্লেখ আছে যে, “তাকবীরে তাশরীক একবার বলা ওয়াজিব, তবে যদি (কেউ) একাধিকবার বলে, তাহলে তা ফযীলতের কারণ হবে।” আর “ফতওয়ায়ে শামীতে” উল্লেখ আছে, “কেউ কেউ বলেছেন (তাকবীরে তাশরীক) তিনবার।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “গায়াতুল আওতার”, “শরহে দুররুল মুখতার” কিতাবে উল্লেখ আছে, “বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে (আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে) আদিষ্ট হওয়ার কারণে একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব। আর যদি একবারের চেয়ে অতিরিক্ত বলে তবে সওয়াবের অধিকারী হবে।” “মুলতাক্বাল আবহুর” কিতাবে উল্লেখ আছে, যদি “তাকবীরে তাশরীক” একাধিকবার বলে তাহলে তা নফল হবে। “মারাকিউল ফালাহ” কিতাবের ৩৫১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “সাধারণভাবে একাধিকবার “তাকবীরে তাশরীক পড়া মুস্তাহাব।” “শরহে নেকায়া” কিতাবের ৩০৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “তাকবীরে তাশরীক একবার পাঠ করা ওয়াজিব। আর একাধিকবার পাঠ করা মুস্তাহাব।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূল ফতওয়া হলো- যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আছর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা শরীয়তের নির্দেশ। পুরুষ হোক, মহিলা হোক, মুক্বীম হোক, মুসাফির হোক, একা হোক বা জামায়াতে হোক প্রত্যেক অবস্থায় প্রতি ফরয নামাযের পর একবার তাকবীর পাঠ করা ওয়াজিব আর তিনবার পাঠ করা মুস্তাহাব-সুন্নত।
তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © দৈনিক আল ইহসান | দৈনিক আল ইহসান.
by Admin
|
posted: Sunday, September 25, 2011
|
২৫শে শাওওয়াল শরীফ পেল নতুন আখাছছুল খাছ মর্যাদা! ছিদ্দীক্বা শ্রেণীর প্রথম পর্যায়ের ওলীআল্লাহ
সাইয়্যিদাতুন নিসা, হাবীবাতুল্লাহ, কায়িম-মাক্বামে হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সুমহান বিছাল শরীফ-এর মর্যাদা এর সাথে সম্পৃক্ত হল।
উম্মাহর উচিত এ দিনের মা’রিফাত অর্জন ও হক্ব আদায়ে নিবেদিত হওয়া।
সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।
১লা শাওওয়াল শরীফ, ১৯শে শাওওয়াল শরীফ, ২১শে শাওওয়াল শরীফ, ২২শে শাওওয়াল শরীফ-এর পর এবার ২৫শে শাওওয়াল শরীফ আলাদাভাবে মর্যাদাবান ও ফযীলতযুক্ত হল। ২১শে শাওওয়াল শরীফ উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারক-এর দিন। এই শাওওয়াল মাসের সাথে সঙ্গতি রেখে ২৫শে শাওওয়াল আরেকজন ছিদ্দীক্বা শ্রেণীর ওলীআল্লাহ তথা আখাচ্ছুল খাছ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক বিছাল শরীফ সাধিত হল। পূর্বপুরুষের দিক থেকে উনি একদিকে সাইয়্যিদে শুহাদায়ে কারবালা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার বংশধর; অপরদিকে উত্তরপুরুষে উনি, যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুহতারামা মাতা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ
প্রসঙ্গত, আমভাবে একটি মশহুর হাদীছ শরীফ-ই উনার ফাযায়িল-ফযীলত অনুধাবনের জন্য যথেষ্ট। হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে- “যিনি ইলম শিক্ষা করলেন, সে অনুযায়ী আমল করলেন উনার সম্মানার্থে উনার পিতামাতাকে হাশরের ময়দানে সম্মানস্বরূপ এমন এক টুপি প্রদান করা হবে যার উজ্জলতা সূর্যের আলোর চেয়েও বহুগুণ বেশি হবে।” সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ উনারা শুধু জান্নাতীই হবেন না, মহা সম্মানিত জান্নাতীই হবেন।
তবে এটা যদি হয় সাধারণ আলিমের পিতা-মাতার ফযীলতের কথা; তাহলে যিনি মুজাদ্দিদে আ’যম, যিনি লুপ্তপ্রায় সব সুন্নতের জিন্দাকারী, যিনি ইসলামের জিন্দাকারী, যাঁর উসীলায় প্রতি মুহূর্তে শুধু লক্ষ-কোটি হক্ব আলিম নয়, বরং হক্কানী-রব্বানী আলা দরজার ওলীআল্লাহ তৈরি হন; তাহলে সেই মহান ব্যক্তিত্ব, যিনি মুজাদ্দিদে আ’যম উনার পিতা-মাতা উনাদের তাহলে কী ফাযায়িল-ফযীলত থাকতে পারে। মূলত এটা অকল্পনীয়, অব্যক্ত ভাষায় প্রকাশের অযোগ্য।
মূলত, উনারা শুধু মহাসম্মানিত জান্নাতীই নন, বরং উনারা এমন অযুদ মুবারক-এর অধিকারী, যাঁদের জন্য জান্নাত ব্যাকুল হয়ে অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছে, যাঁদের তাশরীফে জান্নাত নিজেই সম্মানিত হয়ে যায়। বলাবাহুল্য, উনারা এ সম্মানের চেয়েও মহামর্যাদাবান। এ মর্যাদা উনাদের অর্জন। উনাদের শান। উনাদের বৈশিষ্ট্য। উনারা শরহে সুদূরের কারণে কখনও মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম, উনাকে শুধু সন্তান হিসেবে দেখেননি; সবসময়ই দেখেছেন মুজাদ্দিদে আ’যম হিসেবে। যে কারণে উনারা স্বয়ং পিতা-মাতা হয়েও সম্বোধন করতেন ‘হুযূর ক্বিবলা বা মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম বলে’। সুবহানাল্লাহ!
শুধু তাই নয়, উনারা উনাকে অনেক বেশি মুহব্বত করতেন। সাইয়্যিদাতুন নিসা, কুতুবুল আকতাব, কুতুবুল এরশাদ, হাবীবাতুল্লাহ, কায়িম-মাক্বামে হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম হযরত দাদী হুযুরাইন ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি এজন্য খাওয়ার পূর্বে সবসময় বলতেন- “আমার মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম খেয়েছেন?” মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনি অকল্পনীয় পরিশ্রমের সাথে তা’লীম-তালকীন দিতে ব্যস্ত থাকলে উনি প্রায় উৎকণ্ঠা প্রকাশ করতেন, আমার মুজাদ্দিদে আ’যম এসেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
২৫শে শাওওয়াল গোটা উম্মাহ তথা কায়িনাতের জন্য এক স্পর্শকাতর দিন যে, এদিন যে মহা মুহতারামা দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেছেন। তিনি যেভাবে ‘আমার মুজাদ্দিদে আ’যম’ আলাইহিস সালাম উচ্চারণ করতেন- সে মুহব্বত, অধিকারের সাথে উচ্চারণের জন্য আর কেউই থাকলেন না। সুবহানাল্লাহ!
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সুন্নত পালনে, ইলম অর্জনে, ইলমের পৃষ্ঠপোষকতায়, ইবাদত-বন্দেগীতে নিষ্ঠায় উনি ছিলেন বেমেছাল। সংক্ষেপ কথায়, উনি ছিলেন মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুহতারামা মাতা আলাইহাস সালাম। তাই কাশফ ও কারামতেও উনি ছিলেন অনন্যা।
গত পরশুর দিনটিতে উনি যেন নিজ থেকেই বিদায়ের জন্য প্রস্তুত হয়ে নিচ্ছিলেন। পবিত্র শুক্রবারে নখ মুবারক সব কেটেছিলেন। রাত প্রায় ১০ : ৫৫ মিনিটে বিছাল শরীফ-এর আগ মুহূর্তে ওযূ করে নিয়ে বলেছিলেন, আমি এখন মাবুদে মাওলার কাছে চলে যাচ্ছি। সুবহানাল্লাহ!
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, “বিছাল হলো দুনিয়া হতে জান্নাতে যাওয়ার সেতু।”
আর আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, “বিছাল শরীফ মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট যাওয়ার সেতু।” কাজেই আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের ইন্তিকাল হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে মিলন সেতু বা মহান আল্লাহ তায়ালার পবিত্র দীদার লাভের মাধ্যম। হাদীসে কুদসীতে বলা হয়েছে যে, “নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ মৃত্যুবরণ করেন না, বরং উনারা অস্থায়ী আবাস থেকে স্থায়ী আবাসের দিকে ইন্তিকাল করেন অর্থাৎ প্রত্যাবর্তন করেন।”
কাজেই নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ উনাদের স্ব স্ব মাজার শরীফ-এর মধ্যে জীবিত রয়েছেন। মূলত আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের হাক্বীক্বী মর্যাদা সাধারণ লোকের পক্ষে কখনোই বোধগম্য নয়, যেটা আমরা গাউসুল আযম, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী হযরত বড় পীর আব্দুর কাদির জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মর্যাদাপূর্ণ জীবনী মুবারক হতে জানতে পারি। যেমন কিতাবে উল্লেখ করা হয় যে, মাহ্বুবে সুবহানী, কুতুবে রাব্বানী, গাউসুল আ’যম শায়খ সাইয়্যিদ মুহীউদ্দীন আব্দুল ক্বাদির জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফ-এ একবার এক ব্যক্তি এসে বললো, “হুযূর” আপনি কি গাউসুল আ’যম? বড় পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হ্যাঁ। আপনি কি কুতুবুল আলম? উনি বললেন, হ্যাঁ। আপনি কি সুলত্বানুল আরেফিন? উনি বললেন, হ্যাঁ। আপনি কি মুজাদ্দিদুজ্জামান? উনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর প্রশ্নকারী চুপ হয়ে গেল। হযরত বড় পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হে ব্যক্তি তুমি কি আমার সম্পর্কে আর কিছুই জান না? সে ব্যক্তি বললো, হুযূর আমার আর কিছুই জানা নেই। তখন হযরত বড় পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, অরাউল অরা, অরাউল অরা অর্থাৎ তুমি যা জেনেছ তার চেয়েও উপরে আমার মাক্বাম, তার চেয়েও উপরে আমার মর্যাদা, যেটা তোমার মতো সাধারণ লোকের জ্ঞান ও সমঝের উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! (সীরতে গাউসুল আ’যম)
উপরোক্ত ঘটনা দ্বারা এটা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের শান-শওক্বত, মর্যাদা-মর্তবা, অভাবনীয় ও অপরিসীম, তা সাধারণ লোকের আক্বল ও দেমাগে বুঝে আসার মতো নয়। আর তাই হাদীছে কুদসী শরীফ-এ বলা হয়েছে যে, “নিশ্চয় আমার ওলীগণ আমার ক্বাবার নিচে অর্থাৎ আমার কুদরতের মধ্যে অবস্থান করেন, আমি ছাড়া উনাদেরকে কেউ হাক্বীক্বীভাবে চিনে না।”
অতএব, আল্লাহওয়ালাগণ উনারা হায়াতে দুনিয়ায় যেরূপ তা’যীম-তাক্রীম ও মর্যাদার পাত্র, তদ্রƒপ বিছাল শরীফ-এর পরও। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে ইন্তিকাল করেন। এ প্রসঙ্গে বলা হয় যে, এক ওলীআল্লাহ উনাকে প্রশ্ন করা হলো- হুযূর! মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় কতল হয়েছেন (শহীদ হয়েছেন), উনাদেরকে তোমরা মৃত বলো না, বরং উনারা জীবিত। কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারছ না।”
মূলত এ আয়াত শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি শহীদদের মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। তবে আল্লাহ ওয়ালাগণ উনাদের মর্যাদা-মর্তবা, ফযীলত কতটুকু? তখন মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী বললেন, দেখ, যাঁরা শহীদ, উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় ইন্তিকাল করেন। আর যাঁরা আল্লাহওয়ালা, উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে ইন্তিকাল করেন। যেমন- গরীবে নেওয়াজ, খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইন্তেকাল করার পর উনার কপাল মুবারক-এ নূরানী অক্ষরে লিখিত হয়েছিল, ইনি আল্লাহ পাক উনার হাবীব, মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতেই তিনি ইন্তিকাল করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
অতএব, প্রত্যেক ওলীআল্লাহ উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ মুহব্বতে বিছাল শরীফ লাভ করেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি কারোটা প্রকাশ করেন, কারোটা প্রকাশ করেন না। সুতরাং যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে ইন্তিকাল করেন, উনাদের মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত আরো অনেক বেশি, যা ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়, অর্থাৎ বেমেছাল।
সঙ্গতকারণেই আজ উম্মাহর জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- সাইয়্যিদাতুন নিসা, কায়িম-মাক্বামে হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মা’রিফাত অর্জন করা, উনাকে মুহব্বত করা। তা’যীম-তাকরীম করা। উনার শান মান আলোচনা করা। উনার সম্মানার্থে নেক কাজ করা এবং সমূহ হক্ব আদায় করা।
মহান মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম ও সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উসীলায় মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের কবুল করুন ও কামিয়াব করুন এবং গায়েবী মদদ করুন। (আমীন)
তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © দৈনিক আল ইহসান | দৈনিক আল ইহসান.
by Admin
|
posted: Monday, September 19, 2011
|
‘হরতাল’ ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম হওয়া সম্পর্কে অনেক আয়াত শরীফ প্রয়োজ্য হয়। যেমন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “তোমরা অনুসরণ করো আল্লাহ পাক তিনি যা নাযিল করেছেন।” (সূরা বাক্বারা/১৭০)
আরো ইরশাদ করেন, “তারা কি জাহিলী যুগের হুকুম-আহকাম তলব করে অথচ আল্লাহ পাক থেকে উত্তম হুকুমদাতা ঈমানদারদের জন্য কে রয়েছে?” (সূরা মায়িদা/৫০)
অর্থাৎ আল্লাহ পাক তিনি যা আদেশ-নির্দেশ, হুকুম-আহকাম নাযিল করেছেন বা দিয়েছেন হুবহু সেটাই মানতে হবে, পালন করতে হবে। তার খিলাফ যদি কেউ করে তার সম্পর্কে আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “আল্লাহ পাক তিনি যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা আদেশ-নির্দেশ করবেনা তারা কাফির।” (সূরা মায়িদা/৪৪)
আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেন, “তারা যালিম এবং তারা ফাসিক।” (সূরা মায়িদা/৪৫, ৪৭) আল্লাহ পাক তিনি উনার আদেশ-নির্দেশের বাইরে আমল করলে কুফরী হবে। আর আল্লাহ পাক উনার আদেশ-নির্দেশ পালন করতে হলে আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ কর যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাক।” (সূরা আনফাল/১)
আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেন, “(হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলুন! তোমরা একমাত্র আমাকে অনুসরণ কর।” (সূরা আলে ইমরান/৩১)
অর্থাৎ প্রত্যেক মু’মিন-মুসলমানকে প্রতি ক্ষেত্রে আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করতে হবে।
আর সেজন্যই আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র বলে দিয়েছেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহ পাক, উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই উত্তম আদর্শ রয়েছে।” (সূরা আহযাব/২১)
অর্থাৎ তিনিই অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং উনার তর্জ-তরীক্বা, নিয়ম-পদ্ধতি, অনুসরণ-অনুকরণ করতে হবে। উনার খিলাফ কোন কাজই করা যাবে না। তাই আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র আরো বলেন, “যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন (নিয়ম-নীতি, অন্য ধর্ম) তালাশ করে, তা কখনোই তার থেকে গ্রহণ করা হবেনা এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা আলে ইমরান/৮)
এর ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফ-এ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর ইবনে খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, (ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আমরা ইহুদীদের থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, ওটার কিছু আমরা লিখে রাখবো কি?
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তোমরাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছো? যে রকম ইহুদী-নাছারারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে?
অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম উনিও যদি দুনিয়ায় থাকতেন, তাহলে উনাকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।” (মুসনদে আহমদ, বায়হাক্বী)
সুতরাং উক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ হতে বুঝা গেল যে, কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস ছাড়া অন্য কোন বিজাতীয় পন্থার অনুসরণ করা হারাম। অতএব, বিধর্মীদের দ্বারা তৈরিকৃত অস্ত্রপাতি, মাল-সামানা ব্যবহার করা হচ্ছে মুবাহ্ যা নিয়তের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এতে কাউকে অনুসরণ-অনুকরণ করতে হয়না।
আর হরতাল, লংমার্চ, কুশপুত্তলিকা দাহ, গণতন্ত্র, নির্বাচন, ব্লাসফেমী আইন ইত্যাদি বিধর্মীদের দ্বারা প্রবর্তিত পদ্ধতি, আইন-কানুন ও তর্জ-তরীক্বা অবলম্বন করার দ্বারা বিধর্মীদের অনুসরণ ও অনুকরণ করা হয়, তাই তা আমল করা শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও হারাম। উল্লেখ্য, হরতাল শব্দের অর্থ বিশৃঙ্খলা, অত্যাচার, স্বেচ্ছাচার, অবাধ্যতা, অরাজকতা, প্রতিবন্ধকতা, প্রতিরোধ ইত্যাদি। হরতালের ব্যাখ্যায় বলা হয়, বিক্ষোভ প্রকাশের জন্য যানবাহন, হাটবাজার, দোকানপাট, অফিস-আদালত ইত্যাদি বন্ধ করা। হরতাল গুজরাটি শব্দ। ‘হর’ অর্থ প্রত্যেক। ‘তাল’ অর্থ তালা। অর্থাৎ প্রতি দরজায় তালা।
কাজেই যার অর্থই বিশৃঙ্খলা, অত্যাচার, স্বেচ্ছাচারিত, অবাধ্যতা, বিক্ষোভ, প্রতিরোধ তা কি করে ইসলামের জন্য হতে পারে? কারণ মুসলমানের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, “মুসলমান ওই ব্যক্তি যার যবান ও হাত থেকে অন্য মুসলমানগণ নিরাপদ থাকে।” (বুখারী) এরপরও বলতে হয়, হরতালের উদ্ভাবক ও প্রবর্তক হচ্ছে ভারত উপমহাদেশের বিখ্যাত মুসলিম বিদ্বেষী মুশরিক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, ব্রিটিশদের রাউলাট আইন বাতিল করার জন্য তার প্রতিবাদে যে পদ্ধতি অবলম্বন করে, তার নাম দেয়া হয় হরতাল। এই হরতাল পালিত হওয়ার কথা ছিল ১৯১৮ সালের ৩০শে মার্চ। পরে এই তারিখ পিছিয়ে ৬ই এপ্রিল করা হয়। ফলে কোন স্থানে ৩০ মার্চ আবার কোন স্থানে ৬ই এপ্রিল সর্বপ্রথম হরতাল পালিত হয়।
বলাবাহুল্য, হরতাল গুজরাটি শব্দ। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দু, সে দাবি আদায়ের পদ্ধতির নামকরণ করে হরতাল। এছাড়াও হরতাল হারাম হওয়ার উৎস ও কারণ হলো- (১) বিজাতীয়দের উদ্ভাবিত পন্থা। (২) জন-জীবনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি। (৩) জান-মালের ক্ষতি। (৪) একজনের অন্যায়ের শাস্তি অন্যকে দেয়া। (৫) হারাম পন্থায় ইসলাম কায়েমের চেষ্টা। অথচ আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ বলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।” (সূরা আহযাব/২১)
তাহলে কি করে বলা যেতে পারে যে, মুসলমানদের জন্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিখ্যাত মুসলিম বিদ্বেষী মুশরিক মহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে অনুসরণ করে, তার উদ্ভাবিত ও প্রবর্তিত হরতাল করা জায়িয ও জরুরী? তাহলে কি গান্ধীর প্রবর্তিত হরতাল ব্যতীত ইসলাম অপূর্ণ? অথচ আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “আজকে আমি তোমাদের দ্বীনকে কামিল করলাম এবং তোমাদের উপর নিয়ামতকে পূর্ণ করলাম এবং আমি তোমাদের দ্বীন ইসলামের উপর সন্তুষ্ট রইলাম।” (সূরা মায়িদা/৩))
অতএব, হারাম হরতালকে জায়িয ও জরুরী বলা কাট্টা কুফরী। যদি কেউ বিধর্মী বা বিজাতীয়দের অনুসরণ ও অনুকরণ করে তবে তাদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ পাক উনার রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথে হবে।” (মিশকাত) যারা বলে, আল্লাহ পাক তিনি প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার জন্য একক কোন পন্থা বা নিয়ম বলে দেননি।
এর জবাবে বলতে হয়, তাদের এ বক্তব্যও সম্পূর্ণ কুফরী। এ পরিপ্রেক্ষিতে হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, আমরা ইহুদীদের অনেক ধর্মীয় কাহিনী, কথাবার্তা, নিয়ম-কানুন ইত্যাদি শ্রবণ করে থাকি যা আমাদের নিকট ভাল লাগে। আমরা এটার থেকে কিছু লিখে রাখতে পারবো কি?
তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তোমরাও কি তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে দ্বিধাগ্রস্ত বা বিভ্রান্ত রয়েছ? যেভাবে ইহুদী-নাছারারা বিভ্রান্ত রয়েছে? আল্লাহ পাক উনার কছম! আমি তোমাদের নিকট সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও পরিপূর্ণ দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তিনি যদি এখন থাকতেন, তাহলে উনাকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।”
তাই আমরা দেখতে পাই, ইহুদী-খ্রিস্টান তথা বিধর্মীরা যে সকল আমল করত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও সে আমল করতেন না, তাদেরকে কোনরূপ অনুসরণও করতেন না; এবং তিনি আমাদেরকেও কঠোরভাবে বিধর্মীয় আমল ও অনুসরণ না করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। অথচ হরতাল হলো মুসলিম বিদ্বেষী কাট্টা মুশরিক গান্ধীর তর্জ-তরীক্বা যা করা মুসলমানদের জন্য শুধু হারামই নয় বরং তা করা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
উল্লেখ্য, শুধু এক্ষেত্রেই নিষেধ করা হয়নি বরং প্রতিক্ষেত্রেই নিষেধ করা হয়েছে। যেমন, ইহুদী-নাছারারা আশূরার একদিন রোযা রাখত, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতে হাবীবীকে দু’দিন রোযা রাখতে বললেন। ইহুদী-নাছারারা দেরি করে ইফতার করত, এর পরিপ্রেক্ষিতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের তাড়াতাড়ি ইফতার করতে বলেন। আবার ইহুদীরা শুধুমাত্র পাগড়ী ব্যবহার করত, এর পরিপ্রেক্ষিতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি টুপি ছাড়া পাগড়ী পরতে নিষেধ করেছেন এবং টুপিসহ পাগড়ী ব্যবহার করতে বলেছেন। দাড়ী ও মোচের ব্যাপারে মজুসী (অগ্নি উপাসক) ও মুশরিকদের বিরোধিতা করতে বলেছেন।
যেমন, তারা দাড়ী কাটত ও মোচ বড় করত। তাই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ‘তোমরা দাড়ী বড় কর ও মোচ ছোট কর।’ ইত্যাদি প্রত্যেক বিষয়ে আল্লাহ্ পাক, উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুসলমানদের আস্তিক-নাস্তিক, ইহুদী-নাছারা, মজুসী-মুশরিক তথা বিজাতীয়, বিধর্মীদের অনুসরণ না করে খিলাফ করতে বলেছেন।
অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে। কেননা আল্লাহ পাক তিনি বলেন, তিনিই একমাত্র সর্বোত্তম আদর্শ, যা কুরআন শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে, “তোমাদের জন্য হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মধ্যে (চরিত্র মুবারক-এ) সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে।” (সূরা আহযাব/২১)
আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনিই একমাত্র আদর্শ এবং এ আদর্শের খিলাফ কোন কাজ করা যাবেনা। তাই আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ অন্যত্র বলেন, “তোমাদের রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা এনেছেন তা আঁকড়ে ধর এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা থেকে বিরত থাক। এ বিষয়ে আল্লাহ পাক উনাকে ভয় কর। আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।” (সূরা হাশর/৭)
যার ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত মালিক ইবনে আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “আমি তোমাদের মধ্যে দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতদিন পর্যন্ত তোমরা সে দুটো জিনিস আঁকড়ে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত গোমরাহ হবে না। একটি হলো, আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও অপরটি হলো, আমার সুন্নাহ শরীফ।” (বুখারী) তাহলে এরপরও কি করে বলা যেতে পারে যে, আল্লাহ পাক তিনি এককভাবে কোন পন্থা বা নিয়ম বলে দেননি?
প্রকৃতপক্ষে এরা ওই আয়াত শরীফ-এরই মিছদাক যে আয়াত শরীফ-এ আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “তাদের অন্তর থাকা সত্ত্বেও তারা উপলব্ধি করতে পারেনা, তাদের চোখ থাকা সত্ত্বেও তারা দেখতে পায়না এবং তাদের কান থাকা সত্ত্বেও তারা শুনতে পায়না। তারা মূলত চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় বরং তার চাইতেও অধম এবং তারা গাফিল শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা আ’রাফ/১৭৯) হাদীস শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “সমস্ত আসমানী কিতাবে যা কিছু রয়েছে তা কুরআন শরীফ-এ রয়েছে। আর কুরআন শরীফ-এ যা রয়েছে তা সূরা ফাতিহাতে রয়েছে।”
আর আল্লাহ পাক তিনি সূরা ফাতিহাতে বলেন, তোমরা দোয়া করো- “(আল্লাহ পাক) আমাদের সরলপথ প্রদর্শন করুন।” সরলপথ কোনটি? এবং কাদের পথটা সরল পথ হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত? সে সম্পর্কে আল্লাহ পাক তিনি পরবর্তী আয়াত শরীফ-এ বলেন, “যাদেরকে নিয়ামত দেয়া হয়েছে উনাদের পথ।” অর্থাৎ আল্লাহ পাক তিনি যাঁদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন উনাদের পথকে সরলপথ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে আল্লাহ পাক তিনি কাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন? “আল্লাহ পাক তিনি নিয়ামত দিয়েছেন
যাঁরা নবী, ছিদ্দীক্ব, শহীদ ও ছলেহ উনাদেরকে এবং উনারাই উত্তম বন্ধু বা সঙ্গী।” (সূরা নিসা/৬৯)
আল্লাহ পাক তিনি যাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন উনারা হচ্ছেন দু’শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। প্রথম শ্রেণী হচ্ছেন নবী বা রসূল আলাইহিমুস সালামগণ। আর দ্বিতীয় শ্রেণী হচ্ছে ছিদ্দীক্ব, শহীদ, ছলেহ অর্থাৎ যারা বিলায়েতের হক্বদার অর্থাৎ আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। এক কথায় আল্লাহ পাক তিনি নিজেই বলে দিলেন, আমি নবী এবং আউলিয়া-কিরামগণকে যে পথ দিয়েছি সেটাই সরল পথ এবং সে পথই তোমরা তলব কর।
এর খিলাফ পথে চলতেও পারবেনা এবং তলবও করতে পারবে না। তাই আল্লাহ পাক তিনি সূরা ফাতিহার পরবর্তী আয়াত শরীফ-এ সেটা উল্লেখ করেছেন, তোমরা এ দোয়াও করবে, “আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তাদের পথ দিবেন না, যারা গযবপ্রাপ্ত ও পথহারা, (ইহুদী-নাছারা)।”
কুরআন শরীফ নাযিলের উছূল হচ্ছে, নুযূল খাছ হুকুম আম। অর্থাৎ আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে কোন উপলক্ষ নিয়ে কিন্তু তার হুকুম বলবৎ থাকবে ব্যাপকভাবে, ক্বিয়ামত পর্যন্ত।
অর্থাৎ সূরা ফাতিহাতে যদিও ইহুদী-নাছারাদের পথ থেকে পানাহ চাইতে বলা হয়েছে প্রকৃতপক্ষে তা হচ্ছে ইহুদী-নাছারাদের সাথে সাথে হিন্দু, বৌদ্ধ, মজূসী, মুশরিক, বেদ্বীন, বদ দ্বীন, বিদয়াত, বেশরা, গোমরাহ ইত্যাদি সকল প্রকার লোকদের পথ থেকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যদি সত্যিই আমরা সূরা ফাতিহা মানি, স্বীকার করি এবং নামাযে প্রত্যেক রাকয়াতে তিলাওয়াত করে দোয়া করি তাহলে আমরা কি করে বিখ্যাত মুশরিক, মুসলিম বিদ্বেষী গান্ধী কর্তৃক উদ্ভাবিত ও প্রবর্তিত হরতাল জায়িয ও জরুরী বলে ফতওয়া দিতে পারি। প্রকৃতপক্ষে হরতালকে জায়িয ও জরুরী বলে ফতওয়া দেয়া কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
অতএব, কোন মুসলমানদের জন্য কোন অবস্থাতেই বিধর্মীদের অনুসরণ-অনুকরণ করা জায়িয নেই।
যারা জায়িয ও জরুরী বলবে তাদের উপর কুফরীর ফতওয়া বর্তাবে। আর যে কুফরী করে সে মুরতাদ হয়ে যায়। আর মুরতাদের হুকুম হচ্ছে তওবা করার সময় তিনদিন; অন্যথায় শাস্তি মৃতুদণ্ড।
তথ্যসূত্র:█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © দৈনিক আল ইহসান | দৈনিক আল ইহসান.
by Admin
|
posted: Friday, May 27, 2011
|
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মুহব্বতই হচ্ছে ঈমান।
আজ সুমহান ঐতিহাসিক ২২ জুমাদাল উখরা।
আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছিদ্দীক্বে আকবর হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সুমহান ও পবিত্র বিছাল শরীফ-এর দিন
এ উপলক্ষে সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মতের পক্ষ থেকে পবিত্র মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ ও ওয়াজ শরীফ-এর মাহফিল করা সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব।
আর সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনার জীবনী মুবারক সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং সাথে সাথে উনার বিছাল শরীফ উপলক্ষে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা।
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরে যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী তিনিই ‘ছিদ্দীক্বে আকবর’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং এই ছিদ্দীক্বে আকবর লক্বব উনার একক বৈশিষ্ট্য। উনার মর্যাদা স^ল্প পরিসরে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। এমন কোন ভাষা নেই, যে ভাষায় উনার জীবনীগ্রন্থ রচিত হয়নি। তিনি ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ইসলামী জগতে এক নজিরবিহীন বিরল ব্যক্তিত্ব। নুবুওওয়াতের পর উনার ইমামত ও খিলাফত সকলেই বিনা দ্বিধায় মেনে নেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, ‘তিরমিযী শরীফ’-এর হাদীছ শরীফ-এ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যেই জামায়াতে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনি উপস্থিত থাকবেন সেখানে তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইমামতি করা উচিত হবে না।
আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আমি আমার রব (আল্লাহ পাক উনাকে) ছাড়া যদি আর কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম তাহলে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকেই বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, ২২শে জুমাদাল উখরা অর্থাৎ আজ শুক্রবার আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র বিছাল শরীফ। যিনি আল্লাহ পাক উনার যমীনে হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের পর মহান আল্লাহ পাক উনার সর্বশ্রেষ্ঠ বান্দা এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। উনাকে মুহব্বত করা জুযে ঈমান। উনাকে অনুসরণ-অনুকরণ করলে হিদায়েত ও মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ করবে তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আল্লাহ পাক স্বয়ং তিনি এবং তারাও আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট।”
আর হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “আমার প্রত্যেক ছাহাবী তারকা সাদৃশ্য তাদের যে কাউকে যে কোন বিষয়ে যে কোন ব্যক্তি অনুসরণ করবে সে হিদায়েত পেয়ে যাবে।” সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মূলত উনার ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা ও বুযূর্গী সম্পর্কিত ইলম না থাকার কারণেই অনেকে উনাকে যথাযথ মুহব্বত ও অনুসরণ করতে পারছে না। যার ফলে তারা মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি হাছিলে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই উনার সম্পর্কে জানা সকলের জন্যই ফরয। কেননা যে বিষয়টা আমল করা ফরয সে বিষয়ে ইলম অর্জন করাও ফরয। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের মাদরাসা, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে উনার সম্পর্কে কোন আলোচনাই নেই। তাহলে মুসলমানগণ কি করে হাক্বীক্বী মুসলমান হবে? তাই সরকারের জন্য দায়িত্ব কর্তব্য অর্থাৎ ফরয হচ্ছে- শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে অর্থাৎ পাঠ্যপুস্তকে উনার জীবনী মুবারক অন্তর্ভুক্ত করা। উনার বিছাল শরীফ উপলক্ষে সরকারিভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, সরকারের জন্য আরো দায়িত্ব-কর্তব্য অর্থাৎ ফরয হচ্ছে- উনার পবিত্র বিছাল শরীফ উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা। কেননা পহেলা মে, বুদ্ধ পূর্ণিমা, দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য দিনে মুসলিম বিশ্বে ছুটি দেয়া হয়; যার সাথে মুসলিম ঐতিহ্যের কোন সম্পর্ক নেই এবং যা মুসলমানদের কোন প্রয়োজনও নেই। শুধু তাই নয়, বরং বিধর্মীদের বিশেষ দিনগুলি মুসলমানগণের জন্য পালন করা সম্পূর্ণরূপে নাজায়েয ও হারাম এবং ঈমান নষ্ট হওয়ারও কারণ। প্রকৃতপক্ষে মুসলমান হিসেবে প্রত্যেকেরই উচিত ছিল মুসলিম ঐতিহ্য ও ইসলামী ফযীলতযুক্ত দিন যেমন, উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিননাস সালাম, আহলে বাইত শরীফ, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের বিলাদত ও বিছাল শরীফ সম্পর্কে অবগত থাকা। তার চেতনাবোধে ও মর্যাদা-মর্তবা অনুধাবনে অনুপ্রাণিত থাকা। এসব দিনের মর্যাদা-মর্তবা পালন এবং আমভাবে অনুধাবনের জন্যই দৈনিক আল ইহসান বন্ধ রাখা হয় এবং আজও বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও উনারই ফাযায়িল-ফযীলত ও ছানা-ছিফত প্রকাশের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দৈনিক আল ইহসান প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন অতি শীঘ্রই সবাই একই আদর্শ অনুসরণে এগিয়ে আসবেন ইনশাল্লাহ।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মূলকথা হলো- আজ সুমহান ২২ জুমাদাল উখরা। আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছিদ্দীক্বে আকবর হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সুমহান ও পবিত্র বিছাল শরীফ-এর দিন। এ উপলক্ষে সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মতের পক্ষ থেকে পবিত্র মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ ও ওয়াজ শরীফ-এর মাহফিলের আয়োজন করে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক বেশি বেশি আলোচনা করা সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব। আর সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনার জীবনী মুবারক সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং সাথে সাথে উনার বিছাল শরীফ উপলক্ষে সরকারি ছুটির ঘোষণা করা।
সূত্র: দৈনিক আল ইহসান
by Admin
|
posted: Wednesday, May 25, 2011
|
হযরত ফাতিমাতুয-যাহরা আলাইহাস সালাম, তিনি বিশ্বের সকল মহিলার সাইয়্যিদাহ, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার লখতে জিগার, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম, উনাদের সম্মানিতা মাতা, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার অত্যন্ত স্নেহময়ী কন্যা এবং উনার সর্বপ্রথম আহলিয়া হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম, উনার চার কন্যার একজন। রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সর্ব কনিষ্ঠা কন্যা ছিলেন। উনার পবিত্র মুখ মণ্ডল মুবারকের পবিত্রতম দীপ্তি ও লাবণ্যের কারণে উনাকে ‘‘আয-যাহরা’’ বলা হত।
অনেকের মতে তিনি নুবুওওয়াত প্রকাশের ৩ বৎসর পূর্বে ২০ জুমাদাল উখরা বিলাদত শরীফ লাভ করেন। যেমনিভাবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার কোন পুত্র সন্তানই জীবিত থাকেননি, তদ্রূপ উনার অপরাপর কন্যাদের থেকে উনার বংশীয় ধারা জারি না হয়ে। কেবল সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বংশধারা চালু হয়েছে। মূলত তিনি আহলে বাইত উনাদের অন্যতম।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলে বাইত সম্পর্কে ইরশাদ করেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট নুবুওওয়াতের দায়িত্ব পালনের কোন প্রতিদান চাইনা। তবে আমার নিকটজন তথা আহলে বাইতগণ উনাদের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (সূরা শূরা/২৩) এ আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত তাফসীর “তাফসীরে মাযহারী” ৮ম জিলদ ৩২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাইনা তবে তোমরা আমার নিকটাত্মীয়, আহলে বাইত ও বংশধরগণ উনাদের (যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক) হক্ব আদায় করবে। কেননা, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন শেষ নবী। উনার পরে কোন নবী নেই।”
আহলে বাইত উনাদের ফযীলত সম্পর্কে “হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, একদা ভোরবেলা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একখানা কাল বর্ণের পশমী নকশী কম্বল শরীর মুবারকে দিয়ে বের হলেন। এমন সময় হযরত ইমাম হাসান আলাইহাস সালাম তিনি সেখানে আসলেন, তিনি উনাকে কম্বলের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন, উনাকেও ইমাম হাসান আলাইহাস সালাম উনার সাথে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম তিনি আসলেন উনাকেও তাতে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। তারপর হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আসলেন, উনাকেও তার ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিলেন। অতঃপর নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুরআন শরীফ-এর এই আয়াত শরীফখানা পড়লেন, হে আমার আহলে বাইত! আল্লাহ তায়ালা আপনাদেরকে সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রেখে পবিত্র করার মত পবিত্র করবেন।” (মুসলিম শরীফ)
হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে “হযরত সা’দ ইবনে আবূ ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, যখন (আস আমরা আহবান করি আমাদের সন্তানগণকে ও তোমাদের সন্তানগণকে) এ আয়াত শরীফ নাযিল হলো, তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম তিনি ও হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে ডাকলেন এবং বললেন, আয় আল্লাহ পাক! এরা সকলে আমার আহলে বাইত।” (মুসলিম শরীফ)
হাদীছ শরীফ-এ আরো উল্লেখ আছে “হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম তিনি আমার (দেহ মুবারকেরই) একটি টুকরা। যে উনাকে রাগান্বিত করবে, সে আমাকেই রাগান্বিত করলো।”(বুখারী, মুসলিম)
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে “হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ-এর মধ্যবর্তী ‘খোম’ নামক পানির নালার নিকট দাঁড়িয়ে আমাদেরকে খুৎবা দান করলেন। প্রথমে আল্লাহ পাক উনার হামদ ও ছানা বর্ণনা করলেন, এরপর ওয়াজ ও নছীহত করলেন, অতঃপর তিনি বললেন, সাবধান! হে লোক সকল! নিশ্চয়ই আমি একজন বাশার, অচিরেই আমার নিকট আল্লাহ পাক উনার দূত (হযরত মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম) আসবে, তখন আমি আমার রব তায়ালা উনার আহবানে সাড়া দিব। আমি তোমাদের মাঝে দুটি মূল্যবান সম্পদ রেখে যাচ্ছি। তন্মধ্যে প্রথমটি হল, আল্লাহ পাক-উনার কিতাব, এর মধ্যে রয়েছে হিদায়েত ও নূর। অতএব, তোমরা আল্লাহ পাক-উনার কিতাবকে খুব মজবুতভাবে আঁকড়ে ধর এবং দৃঢ়তার সাথে তার বিধি-বিধান মেনে চল। (বর্ণনাকারী বলেন,) আল্লাহ পাক-উনার কিতাবের নিদের্শাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য তিনি খুব বেশি উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করলেন। অতঃপর বললেন, আর দ্বিতীয়টি হলো; আমার আহলে বাইত। আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইত সম্পর্কে আল্লাহ পাক-উনার তরফ থেকে বিশেষ নছীহত করছি। আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইত উনাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক-উনার তরফ থেকে বিশেষ নছীহত করছি।” (মুসলিম শরীফ)
মূলকথা হলো- সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম আহলে বাইত উনাদের অন্যতম। যিনি এই জুমাদাল উখরা মাসের ২০ তারিখ পবিত্র বিলাদত শরীফ লাভ করেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে আহলে বাইত উনাদেরকে মুহব্বত করা ফরয। আর উনাদের প্রতি বিন্দু থেকে বিন্দুতম বিদ্বেষ পোষণ করা কুফরী। তাই সকলের জন্য বিশেষ করে মহিলাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- উনাকে যথাযথ মুহব্বত ও পরিপূর্ণ অনুসরণ অনুকরণ করা এবং মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের উভয়ের সন্তুষ্টি হাছিল করা।
by Admin
|
posted: Friday, May 06, 2011
|
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উনার নিকট সৃষ্টির নিকৃষ্ট প্রাণী হচ্ছে যারা কাফির তারা।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ফাসিকের প্রশংসা করলেই আল্লাহ পাক তিনি এত অসন্তুষ্ট হন যে, যার ফলে আরশে আযীম পর্যন্ত ভয়ে থরথর করে কেঁপে উঠে।
তাহলে অসংখ্য খোদাদ্রোহী লেখার জনক, কাট্টা ইসলাম বিরোধী, মুশরিক রবীন্দ্রনাথের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে-
বাংলাদেশের সরকারের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় করে তিনদিন ব্যাপী রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা কতটুকু অসন্তুষ্টি ও গুনাহর কারণ তা চিন্তা করতে হবে।
অতএব, ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশে কাট্টা ইসলাম বিরোধীদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা অবিলম্বে পরিহার করতে হবে।
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আশ্চর্যের বিষয় রবীন্দ্রনাথ কাট্টা ইসলাম বিরোধী এবং ইসলাম ধর্মের অবমাননাকারী ব্যক্তিদের একজন। উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ তার ‘বীর গুরু’ প্রবন্ধে কালিমা শরীফ-এ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক থাকা নিয়ে কটাক্ষ করেছে। সে বলেছে, “দেব-দৈত্য সকলেই নিজের উপাসনা প্রচলিত করিতে চায়; গোরখনাথ রামানন্দ প্রভৃতি ধর্মমতের প্রবর্তকেরা নিজে নিজে এক-একটা পন্থা বাহির করিয়া গিয়াছেন। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করিবার সময়ে মুহম্মদ নিজের নাম উচ্চারণ করিতে আদেশ করিয়া গিয়াছেন।” এছাড়াও তার রচিত ‘গোরা’ অপন্যাসে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে চরম আপত্তিজনক মন্তব্য করেছে। সে বলেছে, “ভালো মানুষী ধর্ম নয়; তাতে দুষ্ট মানুষকে বাড়িয়ে তোলে। তোমাদের ‘মুহম্মদ’ সে কথা বুঝতেন, তাই তিনি ভালো মানুষ সেজে ধর্মপ্রচার করেননি।” নাঊযুবিল্লাহ! এ ধরনের বক্তব্য যে দেয়, একজন মুসলমান তাকে কি করে শ্রদ্ধা করতে পারে? আর এই ইসলাম অবমাননাকারী রবীন্দ্রনাথের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার কিভাবে রাষ্ট্রীয় খরচে তিনদিন ব্যাপী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারে?
আসন্ন ৭ই মে রবীন্দ্রনাথের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ৯৭ ভাগ মুসলমানের বাংলাদেশে বিভিন্ন হারাম উৎসবের আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত স্থান শিলাইদহ, শাহজাদপুর, পতিসর দক্ষিণ ডিহিতে বাংলাদেশের শিল্পীদের উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে সকল জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আয়োজিতব্য অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সরকারের উপর মহল থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে আরো জানানো হয়, বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি বেতার, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মুশরিক রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে। নাঊযুবিল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, এ দেশের অসংখ্য লোক তিন বেলা ডাল-ভাত খেতে পারে না। এদেশের অসংখ্য লোক মোটা কাপড়ও ঠিকমতো পরিধান করতে পারে না। তাহলে এদেশেরই জনগণের অর্থ দিয়ে কাট্টা ইসলাম বিরোধী রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মোৎসব অনুষ্ঠানে সরকার কি করে এত টাকা খরচ করতে পারে?
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, কুরআন শরীফ-এ আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ ফরমান, “হারাম থেকে হারামের সৃষ্টি হয়ে থাকে।” রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকীর হারাম অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে সরকারকে অসংখ্য হারাম কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করতে হবে, যা সরকারের জন্য পরকালে কাল হয়ে দাঁড়াবে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “প্রত্যেকেই রক্ষক তার রক্ষিত বিষয়ে সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।” তাই সরকার ক্ষমতাবলে হারাম কাজের আয়োজন করলেও তার মনে রাখা প্রয়োজন, আখিরাতে এজন্য তাকে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে, আযাব-গযবে গ্রেফতার হতে হবে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, সরকারের উচিত হবে রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকীতে সরকারি উদ্যোগ সম্পূর্ণ বাতিল করে আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অসন্তুষ্টি থেকে নিজে বাঁচা ও ৯৭ ভাগ মুসলমানদের বাঁচানো।
by Admin
|
posted: Tuesday, April 26, 2011
|
আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা নামায আদায়ে যত্নবান হও।
আল্লাহ পাক তিনি বান্দাদের জন্য যেসব বিষয় ফরযে আইন করে দিয়েছেন নামায হলো তারমধ্যে অন্যতম।
ঈমানের পরেই নামাযের স্থান। অর্থাৎ নামায দ্বীনের দ্বিতীয় স্তম্ভ বা খুঁটি।
যে ব্যক্তি নামায আদায় করলো সে তার দ্বীনকে রক্ষা করলো।
আর যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিল সে তার দ্বীনকে ধ্বংস করে ফেললো।
তাই প্রত্যেক মুসলমান নর-নারী যাদের উপর নামায ফরয, তাদের জন্য ফরয হচ্ছে যথাযথভাবে নামায আদায় করা।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন- “তোমরা নামায আদায়ে যত্নবান হও।” (সূরা বাক্বারা : আয়াত শরীফ ২৩৮)
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে- “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদিন নামাযের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি যথাযথভাবে নামায আদায় করবে ক্বিয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর, দলীল ও নাজাতের কারণ হবে। আর যে ব্যক্তি নামায আদায়ের ব্যাপারে যতœবান হবে না, তার জন্য নামায নূর, দলীল ও নাজাতের কারণ হবে না। বরং সে ব্যক্তি ক্বিয়ামতের দিন কারূন, ফিরআউন, হামান ও উবাই বিন খলফের (যারা ছিল কাট্টা কাফির ও মুনাফিক) সঙ্গী হবে। অর্থাৎ সে জাহান্নামী হবে।” (আহমদ, দারিমী, বায়হাক্বী, মিশকাত) এ আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারাই নামায আদায়ের গুরুত্ব যে কত বেশি তা অনুধাবন করা যায়।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, দৈহিক ইবাদতের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত হলো নামায। ইসলামে সব আমলের পূর্বে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত ঘোষণার একাদশতম বছরে নামায ফরয হয়। অন্যান্য সব ইবাদতের বিধান ফেরেশতাদের মাধ্যমে পৃথিবীত পাঠিয়ে জারি করা হয়েছে। কিন্তু নামায আল্লাহ পাক তিনি উনার পেয়ারা হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহান আরশে আযীমের বহু ঊর্ধ্বে, কা’বা ক্বাওসাইন-এর বর্ণনাতীত, অচিন্তনীয় মাক্বামে আহবান করে হাদিয়াস্বরূপ দিয়েছেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, একদল ফেরেশতা রুকু করেন। একদল করেন সিজদা। একদল করেন ক্বিয়াম। কোনো দল পাঠ করেন ক্বিরাত। কোনো দল তাশাহহুদ পড়ার জন্য বসার ন্যায় বসে আছেন। উনাদের একদল অপরদলের আমল করতে পারেন না। আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের কৃত বিভিন্ন আমলকে এ উম্মতের এক রাকায়াত নামাযের মধ্যেই সন্নিবেশিত করে দিয়েছেন। তাই নামায একটি সমন্বিত আমল, পূর্ণাঙ্গ ইবাদত। এর মধ্যে রয়েছে পবিত্রতা, বিশুদ্ধতা ক্বিবলামুখী হওয়া, তাকবীরে তাহরীমা, অন্যান্য তাকবীরসমূহ, ক্বিরাত, রুকু, সিজদা, তাসবীহ, দোয়া, দুরূদ শরীফ, একাগ্রচিত্ততা, বিনয়-নম্রতা এগুলোর প্রত্যেকটি একেকটি ইবাদত। এগুলোকে আল্লাহ পাক তিনি কতইনা সুন্দররূপে নামাযের ভিতরে সন্নিবেশিত করে দিয়েছেন। আর এই নামাযের অভ্যন্তরে রয়েছে শিফা, বরকত ও কামালিয়াত। তাই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নামাযকে বলেছেন কুররাতুল আইন অর্থাৎ চোখের শীতলতা।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন- “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম এবং অনুসারীদেরকে নামাযের জন্য নির্দেশ করুন এবং তার উপর ধৈর্যধারণ বা অটল থাকতে বলুন।” (সূরা ত্বা-হা : আয়াত শরীফ ১৩২)
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মূলকথা হলো প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ফরয, নামাযের গুরুত্ব ও ফযীলত অনুধাবন করে তা নিজে আদায় করার সাথে সাথে তার পরিবারবর্গ বা অধীনস্থদেরকে আদায় করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কেননা আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, জাহান্নামের আগুন থেকে তোমরা নিজে বাঁচো এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনদেরকে বাঁচাও। (সূরা আত তাহরীম : আয়াত শরীফ ৬)
অতএব প্রত্যেক মু’মিন-মুসলমান নর-নারীর উচিত নামায সম্পর্কে জরুরত আন্দাজ ইলম অর্জন করে সঠিকভাবে নামায আদায় করার মাধ্যমে আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাছিলের কোশেশ করা।
তথ্য সূত্র: আল ইহসান
Recent Comments