সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ উপলক্ষে প্রকাশিত পোষ্টার, স্ক্রিনসেভার, ওয়ালপেপার সমুহ ডাউনলোড করুন




সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ উপলক্ষে প্রকাশিত
পোষ্টার, স্ক্রিনসেভার, ওয়ালপেপার সমুহ ডাউনলোড করুন

www.uswatun-hasanah.net
Read more ...

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ উপলক্ষে প্রকাশিত পোষ্টার, স্ক্রিনসেভার, ওয়ালপেপার সমুহ ডাউনলোড করুন




সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ উপলক্ষে প্রকাশিত
পোষ্টার, স্ক্রিনসেভার, ওয়ালপেপার সমুহ ডাউনলোড করুন

www.uswatun-hasanah.net
Read more ...

আখিরী চাহার শোম্বাহ


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ করে; আল্লাহ পাক তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট।
‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ পালন করা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সুন্নত-এর অন্তর্ভুক্ত। এটাকে বিদয়াত বলা গুমরাহী বৈ কিছুই নয়।
এ বছর ২রা ফেব্রুয়ারী ‘বুধবার দিন’ হচ্ছে ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ তাই বাংলাদেশসহ সকল মুসলিম ও অমুসলিম সরকারের উচিত এ দিনের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করা এবং যথাযথ মর্যাদার সাথে এ মুবারক দিনটি পালনের সর্বপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণসহ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মুসলমান হিসেবে সমস্ত মুসলমানদেরকেসহ সরকারকে- মুসলমানদের ঈমানের মূল এবং সমস্ত কায়িনাতের রহমত ও নাজাতের মূল আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অকল্পনীয় ও বেমেছাল মর্যাদা-মর্তবা এবং ফাযায়িল-ফযীলতই শুধু নয় পাশাপাশি উনার সাথে সম্পৃক্ত বিশেষ দিন ও ঘটনা সম্পর্কেও বিশেষভাবে অবগত হতে হবে এবং অত্যন্ত আদব ও মুহব্বতের সাথে উনার হক্বও বিশেষভাবে পালন করতে হবে।
আসন্ন পবিত্র ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ উপলক্ষে এক আলোচনা মজলিসে রাজারবাগ শরীফ-এ তিনি এসব কথা বলেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যথাযথ তা’যীম-তাকরীমের মাঝেই মাখলুকাতের কামিয়াবী নিহিত। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “যারা উনার প্রতি ঈমান আনবে, উনাকে তা’যীম করবে এবং উনার উপর অবতীর্ণ কুরআন শরীফ-এর অনুসরণ করবে উনারাই হবে সফলকাম।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ইজমা হয়েছে যে, “যমীনের যে মাটি মুবারক আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বদম মুবারক স্পর্শ করেছে তার মর্যাদা আরশে আযীমের চেয়েও লক্ষ-কোটি গুন বেশি।” সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ পাওয়ার কারণে মাটি মুবারক-এর যদি এতো মর্যাদা-মর্তবা হয়ে থাকে; তাহলে যে তারিখে, যে দিবসে, যে মাসে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশেষ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে সে তারিখ, সে দিবস ও সে মাসের মর্যাদা-মর্তবা কতটুকু হবে সেটা খুব সহজেই অনুধাবনীয়।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ-এর পূর্বে আখিরী চাহার শোম্বাহ বিশেষ তাৎপর্যমণ্ডিত ও ফযীলতপূর্ণ ঘটনা। তাই সব মুসলমানেরই উচিত এ দিনের ফযীলত হাছিল করা ও আমল করা।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, ‘আখির’ শব্দটি আরবী। এর অর্থ- শেষ। আর ‘চাহার শোম্বাহ’ হচ্ছে ফারসী শব্দ। এর অর্থ- বুধবার। আরবী ও ফারসী শব্দের সংমিশ্রণে ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ বলতে ছফর মাসের শেষ বুধবারকে বুঝানো হয়ে থাকে। মূলত এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য মহা খুশির দিন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, এ মুবারক দিনটির ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, রহমতুল্লিল আলামীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ-এর পূর্ববর্তী মাসের অর্থাৎ ছফর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি ভীষণভাবে অসুস্থতা অনুভব করেন। দিন দিন উনার অসুস্থতা বাড়তেই থাকে। কিন' ছফর মাসের ২৯ তারিখ বুধবার দিন ভোর বেলা ঘুম থেকে জেগে তিনি বললেন, ‘আমার নিকট কে আছেন?’ এ কথা শুনামাত্রই উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ছুটে আসলেন এবং বললেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আমি হাযির আছি।’ তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘হে আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম! আমার মাথা মুবারক-এর ব্যথা দূর হয়ে গেছে এবং শরীর মুবারকও বেশ হালকা মনে হচ্ছে। আমি আজ বেশ সুস্থতা বোধ করছি।’ সুবহানাল্লাহ! এ কথা শুনে হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং তাড়াতাড়ি পানি আনয়ন করে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাথা মুবারক ধুয়ে দিলেন এবং সমস্ত শরীর মুবারক-এ পানি ঢেলে ভালোভাবে গোসল করিয়ে দিলেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, এই গোসলের ফলে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম উনার শরীর মুবারক হতে বহু দিনের অসুস্থতাজনিত অবসাদ অনেকাংশে দূর হয়ে গেলো। তারপর উনি বললেন, ‘হে আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম! ঘরে কোনো খাবার আছে কি?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘জী-হ্যাঁ, কিছু রুটি পাকানো আছে।’ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘আমার জন্য তা নিয়ে আসুন আর হযরত মা ফাতিমা আলাইহাস সালাম উনাকে খবর দিন, তিনি যেনো উনার আওলাদগণ উনাদেরকে সঙ্গে নিয়ে তাড়াতাড়ি আমার নিকট চলে আসেন।’ হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম উনাকে সংবাদ দিলেন এবং ঘরে যে খাবার তৈরি ছিলো তা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পরিবেশন করলেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম উনার আওলাদগণ উনাদেরকে নিয়ে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটে হাযির হলেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত মা ফাতিমা আলাইহাস সালাম উনাকে নিজের গলা মুবারক-এর সাথে জড়িয়ে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিলেন, নাতিগণ উনাদের কপাল মুবারক-এ চুমো খেলেন এবং উনাদেরকে সাথে নিয়ে আহারে বসলেন। কয়েক লোকমা খাবার গ্রহণ করার পর অন্যান্য উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা খিদমতে এসে হাযির হলেন। অতঃপর পর্যায়ক্রমে বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারাও বাইরে এসে হাযির হন। কিছুক্ষণ পর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাইরে এসে উনাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে ছাহাবীগণ! আমার বিদায়ের পর আপনাদের অবস্থা কিরূপ হবে?’ এ কথা শুনে ছাহাবীগণ উনারা ব্যাকুলচিত্তে কান্না শুরু করলেন। উনাদের এ অবস্থা দেখে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে সান্ত্বনা দান করলেন। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে নববী শরীফ-এ ওয়াক্তিয়া নামাযের ইমামতি করলেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীর্ঘদিন অসুস্থতা অনুভবের পর সুস্থ দেহ মুবারক-এ মসজিদে নববী শরীফ-এ আগমন করেন এবং নামাযের ইমামতি করেন এই অপার আনন্দে ছাহাবীগণ উনারা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুসারে অনেক কিছু দান-খয়রাত করেন। কোনো কোনো বর্ণনায় জানা যায় যে, খুশিতে বাগবাগ হয়ে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাত হাজার দীনার, হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পাঁচ হাজার দীনার, হযরত উসমান যুন নূরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি দশ হাজার দীনার, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তিন হাজার দীনার, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একশত উট ও একশত ঘোড়া আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দান করতঃ আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত ও সন্তুষ্টি লাভ করেন। মহান আল্লাহ পাক উনার মারিফত-মুহব্বতে দগ্ধিভূত ব্যক্তিগণ উনারা সে দিনটিকে মারিফত-মুহব্বত লাভের উসীলা সাব্যস্ত করেছেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, উক্ত দিনের শেষ প্রান্তে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুনরায় অসুস্থতা বোধ করেন অতঃপর ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ-এ রফীকে আ’লা উনার পরম দীদারে মিলিত হন।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের নীতি অনুসরণে মুসলমানগণ যুগ যুগ ধরে ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ পালন করে আসছেন। কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যারা ছাহাবীগণ উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ করে আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট।” (সূরা তওবা : আয়াত শরীফ ১০০)
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, অনেকে ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ উদযাপন করাকে নাজায়িয ও বিদয়াত বলে আখ্যায়িত করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! যা সম্পূর্ণ অশুদ্ধ ও ভুল। বরং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের অনুসরণে ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ উপলক্ষে সাধ্যমত গরিব-মিসকীনদেরকে দান-সদকা করা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অধিক পরিমাণে ছলাত-সালাম, মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ ও দুরূদ শরীফ পাঠ করা অত্যন্ত ফযীলত ও মর্যাদা লাভের কারণ। অতএব, বাংলাদেশসহ ও সমস্ত মুসলিম ও অমুসলিম সরকারের উচিত আখিরী চাহার শোম্বাহ- এ দিনের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করা এবং যথাযথ মর্যাদার সাথে এ দিন পালনের ব্যবস্থা গ্রহণসহ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

সূত্র: দৈনিক আল ইহসান (২২ জানুয়ারী, ২০১১)
Read more ...

ছফর মাস ও সংক্রামক রোগ সংক্রান্ত কুফরী আক্বীদা


মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “তোমরা আল্লাহ পাক-এর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না।” (সূরা লুকমান ১৩)
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, অশুভ বা কুলক্ষণ বলতে কিছু রয়েছে, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কোন রোগ রয়েছে, পেঁচা ও ছফর মাসের মধ্যে অশুভ ও খারাবী রয়েছে- বিশ্বাস করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এরূপ কুফরী, শিরকী আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব।
যে কোন বিষয়ে অশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করা ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ। যেমন, অশুভ বা কুলক্ষণ বলতে কিছু রয়েছে, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কোন রোগ রয়েছে, পেঁচার মধ্যে ও ছফর মাসের মধ্যে অশুভ ও খারাবী রয়েছে বলে বিশ্বাস করা ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ।
আল্লাহ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ ভ্রান্ত আক্বীদা-বিশ্বাসের মূলোৎপাটন করেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই। পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই। তারকার (উদয় বা অস্ত যাওয়ার) কারণে বৃষ্টি হওয়াও ভিত্তিহীন এবং ছফর মাসে অশুভ বলতে কিছু নেই।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ/৩৯১, শরহুস সুন্নাহ-৬/২৭১)

উল্লেখ্য, জাহিলী যুগ হতে এখন পর্যন্ত কিছু লোকের এরূপ ধারণা বদ্ধমূল রয়েছে যে, ঘুম থেকে উঠে পেঁচা দেখা কিংবা রাতে পেঁচার ডাক শোনা কুলক্ষণ বা অমঙ্গলের পূর্বাভাস। আবার বিশেষ তারকা বা গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। অথচ এরূপ ভ্রান্ত আক্বীদা পোষণ করা সম্পূর্ণ কুফরী ও শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
খাছ করে ছফর মাসের মধ্যে কোন প্রকার অশুভ ও খারাবী নেই। আর আমভাবে কোন মাস ও দিনের মধ্যেই খারাবী বা অশুভ বলতে কিছু নেই। মাস-দিন-সময়কে খারাপ বলার অর্থ হলো, মহান আল্লাহ পাককে খারাপ বলা। কেননা, মাস-দিন-সময় এগুলো আল্লাহ পাকই সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “আদম সন্তান মাস-দিন-সময়কে গালি দিয়ে সমালোচনা করে, খারাপ বলে আমাকে কষ্ট দেয়। অথচ আমিই সৃষ্টিকর্তা এবং আমার নির্দেশেই এরা পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ আমিই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করি।” তাই ছফর মাসসহ কোন মাস-দিন-সময়কেই খারাপ ও অশুভ বলা বা মনে করা যাবে না। যদি কেউ তা বলে বা মনে করে তবে সে কুফরী-শিরকী করার গুনাহে গুনাহগার হবে।
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে কোন বিষয়কেই অশুভ ও কুলক্ষণে মনে করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। তিনি এ বাক্যটি তিনবার উল্লেখ করেন।” (তিরমিযী শরীফ, মাওয়ারিদ, মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল-১/৪৩৮, শরহুস সুন্নাহ-৬/২৭৪, মিশকাত শরীফ/৩৯২, শরহুত ত্বীবী-৮/৩২)
কোন রোগই সংক্রামক নয়। কাজেই রোগ-ব্যাধিকে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে মনে করা কুফরী-শিরকীর অন্তর্ভুক্ত। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “কোন রোগই সংক্রামক নয়। পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই এবং ছফর মাসের মধ্যেও অশুভ কিছু নেই। তখন এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে উটের এ অবস্থা হলো কেন? যে উটগুলো ছিল জংলী হরিণের মত তরু-তজা, যেগুলো ময়দানে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতো। এমতাবস্থায় কোথা হতে এক চর্মরোগাক্রান্ত উট এসে সে উটের পালে মিলিত হলো এবং উটগুলোকে চর্মরোগী বানিয়ে দিলো। ফলে এ উটগুলোও খুজলীযুক্ত হয়ে গেল। তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আচ্ছা তাহলে প্রথম উটটির চর্মরোগ কোথা থেকে হলো?” অর্থাৎ প্রথম উটটি যেভাবে খুজলীযুক্ত হয়েছিল ঠিক পরবর্তী উটগুলোও সেভাবে খুজলীযুক্ত হয়েছে। (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৩৯১, শরহুস সুন্নাহ-৬/২৬৫)
স্মর্তব্য যে, চিকিৎসা শাস্ত্রের পাঠ্যসূচিতে অদ্যাবধি ইসলামী আক্বীদা সংক্রান্ত কোন ইলম সূচিভুক্ত না থাকার কারণে অনেক সময় কোন কোন চিকিৎসক কিছু কিছু রোগ সম্পর্কে যেমন- চর্মরোগ, খুজলী-পাঁচড়া, কুষ্ঠ, কলেরা-বসন্ত ইত্যাদিকে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে বলে অভিমত ব্যক্ত করে থাকে। যা সম্পূর্ণ কুফরী শিরকীর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এরূপ ভ্রান্ত আক্বীদা হতে বিরত থাকা ফরয-ওয়াজিব।
তবে ভাল লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা করার অবকাশ আছে তথা মুস্তাহাব।
আল্লাহ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কোন বিষয়কে অশুভ কুলক্ষণে মনে করোনা, তবে শুভ লক্ষণ আছে। ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! শুভ লক্ষণ কি? তখন তিনি বললেন, উত্তম কথা, যা তোমাদের মধ্য হতে কেউ শুনতে পায়।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ /৩৯১, শরহুত্‌ ত্বীবী-৮/৩১৩, শরহুস সুন্নাহ-৬/২৭২)
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামী আক্বীদা সংক্রান্ত ইলম না থাকার কারণে অনেকে এরূপ কুফরী আক্বীদা পোষণ করে থাকে। মূলকথা হলো- অশুভ বা কুলক্ষণ বলতে কিছু রয়েছে, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কোন রোগ রয়েছে, পেঁচা ও ছফর মাসের মধ্যে অশুভ ও খারাবী রয়েছে বলে বিশ্বাস করা শিরক-এর অন্তর্ভুক্ত। এরূপ কুফরী-শিরকী আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব।
Read more ...

আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বেশি বেশি মুহব্বত করা এবং উনাদের বেশি বেশি ছানা-সিফত করা


নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আমার আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য।
আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ-এর মাস হচ্ছে ছফর মাস। অর্থাৎ তিনি ২৮শে ছফর শাহাদাত বরণ করেন।
তাই সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- এ মাসে আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের বেশি বেশি মুহব্বত প্রকাশ করা এবং বেশি বেশি ছানা-সিফত করা। যা ইহকালে মর্যাদা হাছিল ও পরকালে জান্নাত লাভ করার কারণ।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের মর্যাদা সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, (হে বিশ্ববাসী)! আমি তোমাদের নিকট নুবুওওয়াতের দায়িত্ব পালনের কোনো প্রতিদান চাই না। তবে আমার আত্মীয়-স্বজন উনাদের তথা বংশধর উনাদের সাথে সদাচরণ করবে।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি ‘তাফসীরে ইবনে হাতেম, ইবনে কাছির, মাযহারী, ইত্যাদি কিতাবের বরাত দিয়ে বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধারা হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম উনি ও উনার আওলাদদ্বয় হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের মাধ্যমে বিশ্বময় জারি রয়েছে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন বেহেশতের যুবকদের সাইয়্যিদ।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, যারা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের বংশধর বা আওলাদ উনারাই আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম বা আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম করা এবং উনাদের খিদমত করা, উনাদের সাওয়ানেহ উমরী জানা সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, হযরত ইমাম হাসান বিন আলী বিন আবী তালিব আলাইহিস সালাম তিনি কুরাইশ বংশের হাশেমী শাখায় বিলাদত শরীফ লাভ করেন। হিজরী ৩য় সনে রমাদ্বান মাসের ১৫ তারিখে, অন্য বর্ণনায় শা’বান মাসের ১৫ তারিখ হযরত হাসান আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, হযরত আলী ইবনে আবী তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন: যখন হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেন তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে তাশরীফ আনেন এবং ইরশাদ করেন: আমার সন্তানকে আমাকে দেখাও, উনার কী নাম রেখেছো? আমি বললাম: আমি উনার নাম রেখেছি- হারব (যুদ্ধ)। তিনি ইরশাদ করলেন: বরং সে হাসান। অর্থাৎ উনার নাম মুবারক হযরত হাসান আলাইহিস সালাম।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, উনার জিসিম মুবারক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সর্বাপেক্ষা বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি অপেক্ষা অপর কেউ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন না।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, অনেক সময় আখিরী নবী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে সওয়ারী হয়ে হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদেরকে পিঠ মুবারক-এ চড়াতেন এবং বলতেন, ইনারা আল্লাহ পাক উনার নিকট শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি। উনাদের সাথে মুহব্বত রাখা পরকালে নাজাতের কারণ এবং উনাদের সাথে শত্রুতা করা পথভ্রষ্টতা ও গুমরাহীর কারণ।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, হযরত আদী বিন ছাবিত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি হযরত বারা’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র কাঁধ মুবারক-এর উপর হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে দেখেছি। আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আমাকে মুহব্বত করে, সে যেনো ইনাকে (হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে) মুহব্বত করে।”
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, হিজরী ৪০ সনের রমাদ্বান মাসে হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি খলীফা মনোনীত হলেন। চল্লিশ হাজার লোক উনার হাত মুবারক-এ বাইয়াত হন। তিনি খিলাফতের দায়িত্ব ৬ মাস পর্যন্ত পালন করেন। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘আমার পরে খিলাফত ৩০ বৎসর।’ তন্মধ্যে ২৯ বৎসর ৬ মাস পূর্ববর্তী খলীফাগণ উনাদের সময়ে অতিবাহিত হয়। বাকি ৬ মাস হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি পূর্ণ করেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মারাত্মক বিষক্রিয়ার কারণে ৪৯ হিজরী সনের ২৮শে ছফর প্রায় ৪৬ বৎসর বয়স মুবারক-এ তিনি শাহাদাত বরণ করেন বা বিছাল শরীফ লাভ করেন। হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে পবিত্র জান্নাতুল বাক্বীতে সমাহিত করা হয়।
মুজাদ্দিদে আ’যম, রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি বলেন, মূলকথা হলো- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম তথা খাছ আওলাদ হচ্ছেন- হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম। যারাই উনার মুবারক শাহাদাতের সাথে জড়িত ছিলো শরীয়তের দৃষ্টিতে তারা সকলেই কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী।
কাজেই, আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ-এর মাস হচ্ছে ছফর মাস। তাই সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, এ মাসে বেশি বেশি আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা এবং উনাদের বেশি বেশি ছানা-সিফত করা এবং এর মাধ্যমে ইহকালে মর্যাদা-মর্তবা ও পরকালে জান্নাত লাভ করা। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দী হাছিল করা।

সূত্র: দৈনিক আল ইহসান (৯ জানুয়ারী, ২০১১)
Read more ...

বিশেষ প্রতিবেদন


উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মানহানি করার জন্য আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী চক্র ‘জুয়েল অব মদিনা’ অপন্যাসের অপপ্রয়াস চালিয়েছে।
আর উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মানহানি করার প্রেক্ষাপট তারা এদেশেই রচনার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছে।
ইসলাম বিদ্বেষীরা ‘ঘরজামাই’ সুন্নতী চেতনার মানহানি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ!
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।

সময়টা সামপ্রতিক! কিন্থ ঘটনা তালিকা শুধু দীর্ঘই নয় বরং বীভৎস ন্যক্কারজনক। অব্যক্ত আপত্তিকর।
* ইন্টারনেট (Cnet networks & ydnet.com) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী নিউইয়র্কের বাণিজ্যিক এলাকা ম্যানহ্যাটনে মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ শেয়ারুল ইসলাম KAA'BA MAKKAH -র অনুরূপ APPLE MECCA নামে বার খোলা,
নেদারল্যান্ডে কুরআন শরীফ-এর নামে ফ্যাসিবাদী চরিত্র নিয়ে সিনেমা, স্যাটানিক ভার্সেস নিয়ে বিবিসি’র সিনেমা এবং ভারতের মসজিদে সানিয়া মির্জার শুটিং
এএফপি পরিবেশিত নেদারল্যান্ডের এমপি গিয়ার্ট ওয়াইল্ডার্সের কুরআন শরীফ পুড়ে বা ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য সম্বলিত খবর প্রকাশ জার্মানি থেকে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার প্রতি অপবাদ লেপন করে ‘জুয়েল অব মদিনা’ নামক অপন্যাস বাজারজাত করে উনার মানহানি করার অপপ্রয়াসে উদ্যত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে এ অপন্যাস লিখেছে সাংবাদিক মেরি জোন্স। অপন্যাসটি তখনই বাজারে ছাড়ার কথা ছিলো। কিন্থ মুসলমানদের প্রতিক্রিয়ার কথা আশঙ্কা করে মার্কিন প্রকাশনী সংস্থা র‌্যানডম হাউস বইটি বাজারজাত বন্ধ রাখে।
বলাবাহুল্য, আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মানহানি করার জন্যই ইহুদী-খ্রিস্টানরা একের পর এক এরূপ ইসলাম অবমাননাকর কাজ করে আসছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
কিন্থ গোটা মুসলিম বিশ্বে এর তীব্র প্রতিবাদ উঠলে ইহুদী-খ্রিস্টানরা অতঃপর তাদের চিরাচরিত কু-পন্থার আশ্রয় নেয়।
তারা নিজেরা না করে মুসলমান দেশেই মুসলমান নামধারীদের মাঝেই তাদের এজেন্ট নিয়োগ করে দেয়। বাংলাদেশে রাতারাতি এবং ধারাবাহিক, তার প্রকাশ পায়।
ইসলামের নামে ধর্মব্যবসায়ী জামাত শিবিরের কিশোরকণ্ঠেই প্রথমে কদুর সাথে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক সংযুক্ত করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
এরপর ‘প্রথম আলো’ পত্রিকা বিড়ালের সাথে এবং বগুড়ার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ম্যাগাজিনে কৈ মাছের সাথে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক-এর অবমাননা করা হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
এরপর ঢাকায় ফুটবলে কালিমা শরীফ খচিত হওয়ার খবর প্রকাশ পায়।
অবিশ্বাস্যভাবে এভাবে এদেশেই কুরআন শরীফ অবমাননার ঘটনা ঘটেই চলছে। নেদারল্যান্ড, ডেনমার্ক ইত্যাদি কাফির রাষ্ট্রের ইসলাম অবমাননাকে সহনশীল করার জন্য রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের দেশ বাংলাদেশেই এখন উদ্দেশ্যমূলকভাবে কুরআন শরীফ-এর অবমাননা করা হয়। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কুরআন শরীফ -এর পাতায় ছবি অঙ্কনের পর চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কুরআন শরীফ-এর পাতা দিয়ে ঠোঙ্গা বানানো হয়েছে।
এরপর বগুড়ার গাবতলীতে এক লম্পট ভণ্ড যুবকের চুরির অপরাধ প্রমাণ করতে গিয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় পবিত্র গ্রন্থ কুরআন শরীফ-এর উপর দু’পা রেখে ৩ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনা ঘটানো হয়।
বলাবাহুল্য, বাংলাদেশের মতো ধর্মপ্রাণ মুসলমান দেশে যদি কুরআন শরীফ-এর পাতা ছিঁড়ে ঠোঙ্গা বানানো হয় এমনকি কুরআন শরীফ-এর উপর দাঁড়ানোর ঘটনা ঘটানো হয়; তাহলে আর নেদারল্যান্ডে কুরআন শরীফ-এর পাতা ছিঁড়ে সিনেমা বানানো খুব বেশি দোষ কোথায়? এই দুষ্ট অনুভূতি তৈরির জন্য দুরভিসন্ধিমূলকভাবে এসব করা হয়।
উল্লেখ্য, উপরোক্ত ঘটনাবলী ইহুদী-খ্রিস্টানদের এজেন্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের।
তবে ‘কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না’- এ প্রতিশ্রুতির সরকারের সময় এত সাহস না পেলেও এত স্পর্ধা দেখাতে না পারলেও আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী চক্রের এদেশীয় দোসররা যে বসে নেই তা সমপ্রতি ‘দৈনিক আল ইহসান্থ-এ প্রকাশিত ‘ঘরজামাই’ শীর্ষক একটি খবরে পরিষ্কার প্রতিভাত হয়।
খবরের প্রথমাংশে বলা হয়,
“সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কোঁড়া গ্রামে ঘরজামাইদের এলাকা থেকে অপসারণ ও অত্যাচার বন্ধের দাবিতে তিনদফা ঝাড়- মিছিল হয়েছে। এলাকার শত শত নারী-পুরুষ এই মিছিলে অংশগ্রহণ করে।”
খবরের শেষাংশে বলা হয়,
“এলাকাবাসীর দাবি, ঘরজামাইরা এলাকা ছেড়ে যাতে দ্রুত চলে যায় এবং তাদের অত্যাচার হতে এলাকাবাসী যাতে রেহাই পায় এজন্য এলাকার চেয়ারম্যান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে। প্রকাশ থাকে যে, ইতোপূর্বেও আরো দুইবার ঘরজামাইদের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন মিছিল করেছিল।”
উল্লিখিত খবরটি যে সাধারণ নয় বরং খবরের অন্তরালে অনেক কিছু আছে তা শুধু বিচক্ষণ বিবেকেই উপলব্ধি সহজ।
প্রথমত ঘটনাটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল সাতক্ষীরার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি অজপাড়া গ্রামের নাম ‘কোঁড়া’।
একটি গ্রামে লোকসংখ্যা কত থাকে?
আর বিয়ে দেয়া মেয়ের সংখ্যাইবা কত থাকে?
একটি গ্রাম হিসেবে যে এ সংখ্যা সীমিত তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
কিন্থ খবরে বলা হয়েছে, এলাকার শত শত নারী-পুরুষ এই মিছিলে অংশগ্রহণ করে।
বলাবাহুল্য, পুরো গ্রামবাসীই যদি কোন মিছিলে অংশগ্রহণ করে তাহলেও সে কথিত শত শত নারী পুরুষের মিছিল হবে না তা সাধারণ সত্য।
প্রশ্ন হলো সব গ্রামবাসীই যদি এভাবে চলে আসে তাহলে যারা ঘরজামাই তারা গেলেন কই?
এবং যাদের জামাই বা বিবাহ দেয়া মেয়েই নেই তারাইবা গেলেন কই?
স্পষ্ট প্রতিভাত হচ্ছে, সে সংখ্যা নিয়ে এখানে বিশেষ কারচুপি করা হয়েছে।
শুধু তাই নয় ‘ঘরজামাই’ একটা নিতান্ত পারিবারিক বিষয়। তা নিয়ে মিছিল করা হবে, চেয়ারম্যান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সাহায্য চাওয়া হবে বিষয়টি কত অস্বাভাবিক এবং রহস্যজনক তা গভীর চিন্তার বিষয়।
কারণ, ঘরজামাইদের বিরুদ্ধে মিছিলে শ্বশুর-শাশুড়ীর কথা উল্লেখ নেই। বর্ণনা রয়েছে এলাকাবাসীর।
খবরে বলা হয়েছে, ইতোপূর্বে আরো দুইবার ঘরজামাইদের বিরুদ্ধে মিছিল হয়েছিল।
প্রশ্ন হলো- দেশের আর কোনো স্থানে কোনোদিন খবর হলোনা।
কিন্থ প্রত্যন্ত অঞ্চল ওই সাতক্ষীরার অজগ্রাম কোঁড়াতেই এ পর্যন্ত তিনবার মিছিল হয়ে গেলো।
এই অঘটন ঘটন পটীয়সীটা কে বা কারা?
বলাবাহুল্য, এর পেছনে যে কথিত এনজিও এবং তারও নেপথ্যে আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী মহল রয়ে গেছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
উল্লেখ্য, এ লেখার প্রথমে বলা হয়েছিল যে হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মানহানি করার জন্য ‘জুয়েল অব মদিনা’ অপন্যাস লেখা হয়েছিল।
সে ধারাবাহিকতায় এখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মানহানি তথা স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানি করার অপচেষ্টা চলছে।
কারণ, খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। সমুদয় অর্থ-সম্পদ সমর্পণ করেছিলেন এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার গৃহেই অবস্থান করতেন।
অপরদিকে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘ঘরজামাই’ হিসেবে রেখেছিলেন। অর্থাৎ আক্ষরিক অর্থে ‘ঘরজামাই’ বলতে যা বোঝায় তা মূলত খাছ সুন্নত।
কিন্থ বাল্যবিবাহের মতই ইহুদী-খ্রিস্টানরা ঘরজামাই শব্দটাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিন্দনীয় ও দূষণীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে চালাবার অপচেষ্টা করছে। তার একটি বিশেষ প্রমাণ হলো উক্ত মিছিলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘরজামাইদের বিরুদ্ধে অনেক অবমাননাকর বক্তব্য দেয়া হয়েছে।
এমনকি এটাও বলা হয়েছে, “এলাকাবাসী আরো জানায়, কোন ভালো ঘরের সন্তান কখনো ঘরজামাই থাকে না।” নাঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য, ‘ঘরজামাই’ তো এমনিতেই ‘ঘরজামাই’ হয়নি।
এলাকাবাসী করেছে বলেই ‘ঘরজামাই’। তা হলে তো প্রথমে এলাকাবাসীকেই দায়ী করতে হয়।
তাছাড়া শুধু ‘ঘরজামাই’ কেন?
জামাইরা কী স্ত্রীদের উপর অত্যাচার করেনা?
হাজার হাজার নারীরা যৌতুকের বলি হয় না?
কই তাদের বিরুদ্ধে তো আজ পর্যন্ত কোন মিছিল হয়নি। আর শুধুই কী ঘরজামাই-ই খারাপ হয়?
নিজের সন্তানরা কী খারাপ হয়না?
মাদকাসক্ত, সন্ত্রাসীরা কী কারো সন্তান নয়?
তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তো আজ
পর্যন্ত কোনো মিছিল হলো না কেনো?
সেক্ষেত্রে সর্বাগ্রে এ মিছিল হওয়া দরকার
সন্ত্রাসী মাদকাসক্ত দুর্নীতিবাজ সন্তানদের বিরুদ্ধে।
বলাবাহুল্য, সাতক্ষীরার কোঁড়া গ্রামের এ খবর আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে।
এদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী চক্র তাদের নিয়োগকৃত এজেন্টের মাধ্যমে কলকাঠি নাড়ছে তা পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করেছে।
এবং এরা খুবই উদ্দেশ্যমূলক ও দুরভিসন্ধিজনিত প্রক্রিয়ায় ‘বাল্যবিবাহ’ ‘ঘরজামাই’ এসব সুন্নতী চেতনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইহুদীরা তাদের গোপন বই ‘প্রটোকলে’ মুসলমানদের ক্ষতি ও ইসলামের অবমাননা করার একশ বছরের পরিকল্পনা এঁটেছিলো। মুসলমানদের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে তাদের সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা পূর্ণ কোশেশ করে যাচ্ছে।
ইহুদী-খ্রিস্টানরা তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যখন দেখেছে যে, মুসলমানদের মনে আর ঈমানী অনুভূতি প্রবল নেই,
মুসলমানদের ঈমানী জযবার ত্রুটি রয়েছে,
মুসলমান কাফিরদের কালচারে, রীতিতে, অনুভবে,
অনুভূতিতে একাকার হয়ে গিয়েছে- তখনই তারা একের পর এক ইসলাম অবমাননাকর চরম পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইহুদী-খ্রিস্টানরা চায় পৃথিবীতে ইসলামের কোন নিদর্শন না থাকুক। মুসলমানদের কোনো অস্তিত্ব না থাকুক। নাঊযুবিল্লাহ!
অথচ পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় সোয়া তিনশ কোটি মুসলমান। অর্ধশতেরও বেশি মুসলিম দেশ। পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি সম্পদ মুসলিম দেশসমূহের। মুসলিম দেশে মহান আল্লাহ পাক তিনি যে তেল-গ্যাস তথা খনিজ সম্পদ দিয়েছেন তার মুখাপেক্ষী ইউরোপ-আমেরিকাসহ গোটা বিধর্মী বিশ্ব। কাজেই মুসলিম বিশ্ব যদি ঈমানী চেতনায় বলীয়ান হয় তবে তাদের কোনো মতেই কাফির বিশ্বের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। বরং কাফির বিশ্বই মুসলিম বিশ্বের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবে।
তাই প্রত্যেক মুসলমানদের উচিত হবে- তাদের ঈমানী কর্তব্য হিসেবে ইহুদী-খ্রিস্টানদের ইসলাম বিদ্বেষী সব অপতৎপরতা বন্ধ করা। ইসলামের অবমাননা প্রতিহত করা এবং তার মূল উলামায়ে ছূ’দের চিহ্নিত ও নিশ্চিহ্ন করা। এর অন্যথা হলে কেউ নাজাত পাবে না

সূত্র: দৈনিক আল ইহসান
Read more ...