পবিত্র আশূরা তথা ১০ই মুহর্‌রম-এর দিনের শ্রেষ্ঠত্ব, ফযীলত ও আমলসমূহ


মুহর্‌রম মাস একটি হারাম বা পবিত্র মাস। মুহর্‌রম মাসের শ্রেষ্ঠতম দিনটি হচ্ছে আশূরা। ইহা আরবী “আশারুন” শব্দ হতে উদগত। অর্থাৎ মুহররম মাসের দশম দিনটি আশূরা হিসেবে পরিচিত।
এ প্রসঙ্গে “মিরকাত শরহে মিশকাত” কিতাবে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “তোমরা মুহর্‌রম মাসকে এবং এর মধ্যস্থিত আশূরার দিনকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি মুহর্‌রম মাসকে তথা আশূরার দিনকে সম্মান করবে, আল্লাহ পাক তাঁকে জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।”
এ মাসে বেশি বেশি তাওবাহ-ইস্তিগফার, যিকির-ফিকির, দোয়া-দুরূদ, তাসবীহ-তাহলীল পাঠ করার মাধ্যমে পরিপূর্ণ বরকত অর্জন করা সকল মু’মিন-মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য।
এ মাসের ফাযায়িল-ফযিলত বর্ণনা করতে গিয়ে আরিফবিল্লাহ হযরত মাওলানা ইকবালুদ্দীন আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর “মু’মিনকে মাহ ওয়া সাল” কিতাবের ১৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, “ছাহাবী হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন যে, মুহর্‌রম মাস হচ্ছে সমস্ত মাসের সরদার।” (দাইলামী শরীফ, মাসাবাতা বিস্‌ সুন্নাহ)

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন দেশে নববর্ষ উপলক্ষে পহেলা তারিখে যেমন- ১লা বৈশাখ, ১লা জানুয়ারি, পহেলা মুহর্‌রম ইত্যাদি তারিখে ভাল ভাল খাওয়ার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়, ইহা আদৌ শরীয়তসম্মত নয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে পহেলা বৈশাখ, পহেলা জানুয়ারি বা পহেলা মুহর্‌রম ভাল খাওয়ার জন্য আলাদাভাবে কোন তাগিদ করা হয়নি। বরং দশই মুহর্‌রমে অর্থাৎ পবিত্র আশূরা-এর দিনে প্রত্যেক পরিবারের প্রধান ব্যক্তিকে তার পরিবারের সদস্যদেরকে ভাল খাদ্য খাওয়ানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

১০ই মুহর্‌রম বা আশূরার দিনের বরকতময় ঘটনাসমূহঃ
কিতাবে উল্লেখ করা হয়, এই আশূরার দিনে অসংখ্য ঘটনা সংঘটিত হয়েছে- যা সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা হলো
১. মহান আল্লাহ পাক এই মুহররমের ১০ তারিখে সৃষ্টির সূচনা করেন।
২. আশূরার দিন শুক্রবার ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে।
৩. এ দিনই আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র ওজুদ মুবারক সৃষ্টি করা হয় এবং মর্যাদা, সম্মান ও খুছূছিয়ত ও হাবীবুল্লাহ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। (সুবহানাল্লাহ)
৪. এই দিনে হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম-এর দোয়া মুবারক কবুল করা হয়।
৫. এই দিনে হযরত ইদ্‌রিস আলাইহিস্‌ সালামকে আকাশে তুলে নেয়া হয়
৬. এই দিনে হযরত নূহ আলাইহিস্‌ সালাম এবং উনার সঙ্গী সাথী যারা ছিলেন, আল্লাহ পাক তাঁদের মহাপ্লাবন থেকে মুক্তি দেন।
৭. আল্লাহ পাক এদিনে হযরত মূসা আলাইহিস্‌ সালাম-এর সাথে কথা বলেন এবং তাওরাত শরীফ উনার উপর নাযিল করেন।
৭. এদিনে বণী ইস্‌রাঈল সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ পাক লোহিত সাগরের উপর দিয়ে রাস্তা করে দেন। যার উপর দিয়ে হযরত মূসা আলাইহিস্‌ সালাম এবং তার সম্প্রদায় পার হয়ে যান। আর ফেরাউনের দলবল ও সৈন্যসামন্তসহ পানিতে ডুবে মারা যায়।
৯. আল্লাহ পাক এদিনে হযরত ইউনূস আলাইহিস্‌ সালামকে মাছের পেট থেকে মুক্তি দেন।
১০. হযরত আউয়ুব আলাইহিস্‌ সালামকে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সুস্থতা দান করেন।
১১. এদিনে দীর্ঘ দিন বিচ্ছেদের পর হযরত ইউসূফ আলাইহিস্‌ সালামকে উনার পিতা হযরত ইয়াকুব আলাইহিস্‌ সালাম-এর কাছে ফিরিয়ে দেন।
১২. এদিনে হযরত দাউদ আলাইহিস্‌ সালাম-এর দোয়া আল্লাহ পাক কবুল করেন।
১৩. হযরত সোলায়মান আলাইহিস্‌ সালামকে উনার রাজত্ব বা কর্তৃত্ব দেয়ার ঘোষণা দেন।
১৪. আল্লাহ পাক এ দিনে হযরত ঈসা আলাইহিস্‌ সালামকে আসমানে তুলে নেন।
১৫. এই ১০ই মুহররম আল্লাহ পাক-এর হাবীব, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয়তম দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কারবালার প্রান্তরে মর্মান্তিকভাবে শাহাদাত বরণ করেন, যে ঘটনা কায়িনাতবাসীকে ব্যথিত ও মর্মাহত করে তবে মুসলিম উম্মাহকে শিক্ষা দেয় ত্যাগের ও সত্যের। সুব্‌হানাল্লাহ!

আহ্‌লে বাইতগণ-এর আলোচনাঃ
মুহর্‌রম মাসের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল হচ্ছে- আহ্‌লে বাইত তথা হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনা করা। কেননা যার আলোচনা যত বেশী করা হয় তার মুহব্বত ততই বৃদ্ধি পায়। আর আহ্‌লে বাইতগণ-এর প্রতি গভীর মুহব্বত ভালবাসা, পরকালীন মুক্তি এবং আল্লাহ পাক ও উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টির কারণ। রহমত, বরকত ও সাকীনা লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মর্মে দোয়া করেন যে, “হে আল্লাহ পাক! আমি হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে মুহব্বত করি। আপনিও উনাদেরকে মুহব্বত করুন এবং যে ব্যক্তি উনাদেরকে মুহব্বত করবে তাঁকেও আপনি মুহব্বত করুন।” (তিমমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৫৭০)
সাথে সাথে আশূরা থেকে আরেকটি ইবরত ও নছীহত হাছিল করতে হবে যে, হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কুখ্যাত ইয়াযিদের কুখ্যাত বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেন কিন্তু তবুও অসত্যকে মেনে নেননি। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। কাজেই মুহর্‌রমের দশম তারিখে কুখ্যাত ইয়াযিদ কর্তৃক নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদরের নাতি সাইয়্যিদাতুন্‌ নিসা হযরত মা ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা তায়ালা আনহা-এর নয়নের মণি হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নির্মম শাহাদতবরণ বাহ্যিক দৃষ্টিতে দুঃখজনক, কষ্টদায়ক এবং বেদনাদায়ক হলেও প্রকৃত পক্ষে এর মাঝেই মুসলমানদের জন্য এক বিরাট নছীহত ও ইবরত রয়েছে। আর তাহলো মাল-সম্পদ এমনকি জীবন দিয়েও হক্বের জন্য বাতিল শক্তির বিরুদ্ধে মুকাবিলা ও আমরণ কোশেশ করা।

আশুরার রোযার ফযীলতঃ
মহান আল্লাহ পাক-এর রহমত, বরকত ও সাকীনা এবং মাগফিরাত-ক্ষমা সম্বলিত মুহররম মাসের অন্যতম আমল হচ্ছে, আশূরার রোজা। রমাদ্বান শরীফের রোযা ফরয হওয়ার পূর্বে আশূরার রোযাই ফরয ছিল।
কাজেই রমাদ্বান শরীফ-এর রোযার পরই হচ্ছে, এ রোযার স্থান। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “রমাদ্বান শরীফ-এর রোযার পর আল্লাহ পাক-এর মাস মুহর্‌রমের রোযাই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ তথা ফযীলতপূর্ণ।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, তিরমিযী শরীফ ও রিয়াদুছ্‌ ছালেহীন)
হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, এক ব্যক্তি এসে আল্লাহ পাক-এর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! রমাদ্বান মাসের পর আর কোন্‌ কোন্‌ মাসের রোযা রাখতে মুবারক নির্দেশ দিয়ে থাকেন? তখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদি তুমি রমাদ্বান মাসের পর আরো রোযা রাখতে চাও তবে মুহর্‌রম মাসে রোযা রাখ। কেননা এটা আল্লাহ পাক-এর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে যেদিন আল্লাহ পাক এক সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করেছেন এবং তিনি আর এক সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করবেন।” (তিরমিযী শরীফ, আহমাদ)
উক্ত হাদীছ শরীফ মুয়াফিক শাইখুল আলম, আরিফ বিল্লাহ্‌, আশেকে রসূল, আল্লামা হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যে কোন কঠিন গুণাহ্‌গার ব্যক্তি যদি আশূরার দিন তওবা করে তাহলে আল্লাহ পাক অবশ্যই তার তওবা কবুল করবেন।” (মাছাবাতা বিস্‌ সুন্নাহ্‌, মু’মিন কে মাহ ওসাল)
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, “নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং আশূরা-এর দিন রোযা রেখেছেন এবং ঐ দিনে সকলকে রোযা রাখার হুকুম দিয়েছেন।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, রিয়াদুস্‌ সালেহীন)
হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত আছে, আখিরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আশূরার রোযার ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “এটা বিগত বৎসরের সমস্ত গুণাহর কাফ্‌ফারা স্বরূপ।” (মুসলিম শরীফ)
উল্লেখ্য যে, অন্যান্য মাসে একটি রোযা রাখতে কোন অসুবিধা নেই; কিন্তু আশূরার রোযা একটি রাখা মাকরূহ। কেননা ইহুদীরা আশূরার দিনে রোযা রেখে থাকে। আর আখিরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদী-নাছারাদের অনুসরণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। হাদীছ শরীফ-এ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের ভিন্ন অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে সে আমাদের দলভূক্ত নয়। কাজেই তোমরা ইহুদী এবং নাছারাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করোনা।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ-৩৯৯ পৃষ্ঠা)
কাজেই আশূরা উপলক্ষ্যে কমপক্ষে দু’টি রোযা রাখতে হবে। ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ এ দু’দিন রোযা রাখতে হবে। তবে ৯ ও ১০ তারিখে রোযা রাখাই উত্তম।
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, হযরত আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশূরার দিন রোযা রাখলেন এবং অন্যদেরকে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন। তখন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়লা আনহুমগণ আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এদিনকে ইয়াহুদী ও নাছারারা সম্মান করে। তখন নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদি আমি আগামী বৎসর মহান আল্লাহ পাক-এর সাক্ষাতে না যাই অর্থাৎ বিছাল শরীফ যদি না হয় তাহলে অবশ্যই নবম তারিখেও রোযা রাখবো।” (মিশকাত শরীফ ১৭৮ পৃষ্ঠা)

ইফতারের ফযীলতঃ
আশূরার রোযার ইফতারীর ফযীলত সম্পর্কে আখিরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “আশুরার দিন যে ব্যক্তি কোন আশূরার রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে যেন সমস্ত উম্মতী হাবীবীকে ইফতার করালো।” (রিয়াদুস্‌সালেহীন, মা সাবাতাবিস্‌ সুন্নাহ)


আশূরার দিন পরিবারবর্গকে ভাল খাওয়ানোঃ
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আশূরার দিন তার পরিবারবর্গকে ভাল খাওয়াবে-পরাবে আল্লাহ পাক সারা বৎসর তাকে স্বচ্ছলতা দান করবেন।” (তিবরানী শরীফ, শোয়াবুল ঈমান, মা-ছাবাতা-বিস্‌সুন্নাহ্‌)

আশূরার দিন চোখে সুরমা দেয়ার ফযীলতঃ
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, আখিরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আশূরার দিন মিশ্‌ক মিশ্রিত সুরমা চোখে দিবে সেদিন হতে পরবর্তী এক বৎসর তার চোখে কোন প্রকার রোগ হবেনা।” (শুয়াবুল ঈমান, দায়লামী, মাছাবাতা বিস্‌সুন্নাহ্‌, মুমিনকে মাহ ওসাল-২৩)

আশুরা উপলক্ষে গোসলের ফযীলতঃ
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আশূরার দিন গোসল করবে আল্লাহ পাক তাকে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। মৃত্যু ব্যতীত তার কোন কঠিন রোগ হবেনা এবং অলসতা ও দুঃখ-কষ্ট হতে নিরাপদ থাকবে।”

আশূরার দিন গরীবদেরকে খাদ্য দানের ফযীলতঃ
মাওলানা ইকবালুদ্দীন আহমাদ সাহেব উনার “মু’মিনকে মাহ ওসাল” কিতাবের ২৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন, “আশূরার দিন যে ব্যক্তি আহ্‌লে বাইতের গরীব-মিসকীনগণকে পেট ভরায়ে খাদ্য খাওয়াবে সে ব্যক্তি বিদ্যুতের গতির ন্যায় পুলসিরাত পার হবে।”
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আশুরার দিন কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতিমের মাথায় হাত স্পর্শ করে এবং কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে আল্লাহ পাক তাঁকে বেহেশতের দস্তর খানায় খাদ্য খাওয়াবেন ও জান্নাতের খালিস শরবত “সালসাবীল” ঝর্ণা থেকে পানি পান করাবেন।”
সুতরাং, বুঝা যাচ্ছে, মুহর্‌রম মাসকে সম্মান করা এবং আশূরা মিনাল মুহর্‌রমকে সম্মান করা ওয়াজিব। তাই মুহর্‌রমকে অসম্মানকারীরা জাহান্নামী তথা জান্নাত থেকে বঞ্চিত। মুহর্‌রম মাসে ও অন্য যে কোন মুহূর্তে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ-এর অসম্মানী করা, তা’জিয়া করা, মাতম করা, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে গালমন্দ করা হারাম ও কুফরী। এগুলো আশূরাকে অসম্মান করার পরিচায়ক; যা লা’নতগ্রস্ত ও জাহান্নামী হওয়ার কার্যকলাপ। আয় আল্লাহ পাক! বিশ্ববাসীকে মুহর্‌রমুল হারামের যথাযথ তা’যীম করে বরকত, রহমত অর্জন করার তাওফিক দান করুন।
Read more ...

GMT পরিবর্তে KMT (Kaba Shareef Mean Time) বলা উচিত


কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, কাবা শরীফ মানব জাতির জন্য নির্মিত প্রথম ঘর। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, কাবা শরীফ-এর নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম যমীন। কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর অনুসরণ করতে হলে বিশ্বের সব দেশের মুসলমানদেরকে গ্রিনিচের পরিবর্তে কাবা শরীফ থেকেই প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করে নিয়ে সকল ‘টাইম জোন’ নির্ণয় করতে হবে ॥ সউদী সরকারের এ ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা রাখা অতীব জরুরী|
------------------------------------------------------
ইসলামের দৃষ্টিতে আসমান-যমীনের কেন্দ্র ‘পবিত্র কাবা শরীফ’ থেকে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করে সকল সময়-অঞ্চল নির্ধারণ করা এবং GMT পরিবর্তে KMT (Kaba Shareef Mean Time) বলা উচিত|
যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বলেন, “মুসলমানদের একটি নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে। ১৯২৮ সাল থেকে GMT বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তিত হয়ে ১৯৭২ সাল থেকে UTC হলেও ব্রিটিশরা GMT বলতেই পছন্দ করে। আসমান-যমীনের কেন্দ্র ‘পবিত্র কাবা শরীফ’ থেকে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করে নিয়ে মুসলমানদের উচিত সময়-অঞ্চল নির্ধারণ করে KMT (Kaba Shareef Mean Time) বলা।”
পবিত্র কাবা শরীফ কেন্দ্রিক পৃথিবীর সকল সময়-অঞ্চল নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে গতকাল রাজারবাগ শরীফ-এ তিনি এসব কথা বলেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বলেন, বর্তমানে স্থানীয় সময় নির্ধারণে যে আন্তর্জাতিক সময় নির্ধারক রয়েছে তাকে বলা হয় UTC (Co-ordinated Universal Time)। আন্তর্জাতিক সময় নির্ধারক হিসেবে GMT-এর এখন কোন অস্তিত্ব নেই। ১৯৭২ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকেই GMT (Greenwich Mean Time) এর পরিবর্তে UTC ব্যবহৃত হচ্ছে। যখন গ্রিনিচ মেরিডিয়ানের উপর সূর্য থাকে তখন দুপুর ১২টা ধরে পৃথিবীর সকল অঞ্চলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিলো। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন গতির কারণে সূর্য যখন পুনরায় মাথার উপর আসে তখন সর্বোচ্চ সময়ের পার্থক্য হয় ১৬ মিনিট। এ সকল অসুবিধা দূর করার লক্ষ্যে UTC ব্যবহৃত হতে থাকে। কিন্তু পৃথিবীর সকল সময়-অঞ্চল এখনো গ্রিনিচকে প্রাইম মেরিডিয়ান ধরে নির্ণয় করা আছে। গ্রিনিচকে দ্রাঘিমা ০ ডিগ্রি ধরে সেখান থেকে ১৫ ডিগ্রি অন্তর অন্তর ভাগ করে সমস্ত পৃথিবীকে ২৪টি সময় অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। ফলে আমরা যখন ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে দেখি দুপুর ১২টা তখন গ্রিনিচে সময় সকাল ৬টা। গ্রিনিচের পূর্বের দেশগুলোর সময় ভাগ করা হয়েছে গ্রিনিচের সাথে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা যোগ করে এবং গ্রিনিচের পশ্চিমের দেশগুলোর সময় ভাগ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা বিয়োগ করে। যদিও রাজনৈতিক কারণে এই সময়-অঞ্চল ২৪টি থেকে ৩৯টিতে উন্নীত হয়েছে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বলেন, মুসলমানদের উচিত কাবা শরীফকে কেন্দ্র ধরে পৃথিবীর ডানে ও বামের সকল সময়-অঞ্চল নির্ধারণ করা। কাবা শরীফ-এর উপর দিয়ে পৃথিবীর প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করা উচিত। গ্রিনিচের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান কল্পনা করার কোন যৌক্তিক কারণ নেই।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বলেন, গ্রিনিচ মিন টাইম (GMT) শব্দটি ব্যবহৃত হতো মূলত লন্ডনের গ্রিনিচে অবস্থিত রয়েল অবজারভেটরি-এর উপর সূর্যের সময়কে ধরে। সঠিক সময় নির্ধারণের জন্য এটমিক ঘড়ি ব্যবহৃত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে UTC আন্তর্জাতিক সময় সূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। ১৯২৮ সালে GMT প্রথম পরিবর্তিত হয় UT (Universal Time) দ্বারা, পরে তা পরিবর্তিত হয়ে হয়- UT1 এবং পরে UT1-এর সঙ্গে সংশোধনী হিসেবে ০.৯ সেকেন্ড যোগ এবং বিয়োগ করে UTC করা হয়েছে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বলেন, যদিও গ্রিনিচের উপর দিয়ে যাওয়া প্রাইম মেরিডিয়ানের বিষয়টির কোন বাস্তবিক অস্তিত্ব নেই। এটি একটি গাণিতিক সমাধানের জন্যই ব্যবহৃত হয়। গ্রিনিচে অবস্থিত রয়াল অবজারভেটরি’র বারান্দায় প্রাইম মেরিডিয়ান চিহ্নিত করার জন্য যে লাইন চিহ্নিত করা আছে, প্রাইম মেরিডিয়ান মূলত সেখানে নেই; সরে গেছে কয়েক মিটার দূরে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বলেন, একটি বিষয় বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করা যায়; সেটা হলো- প্রথম ১৯২৮ সালে GMT প্রথমে UT এবং পরে UT1 দ্বারা এবং ১৯৭২ সালের পহেলা জানুয়ারিতে UTC দ্বারা পরিবর্তিত হবার পরেও গ্রিনিচ মিন টাইমকে আইনগতভাবে স্বীকৃত দেয় হয় অনেক পরে। যেমন, ব্রিটেনে ১৯৭৮ সালের আইনের ৯ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়, ‘যখনই সময়ের কোন ব্যাখ্যা আসবে, তখন অন্য কোনভাবে অন্য বিষয় উল্লেখ না থাকলে GMT কেই বুঝাবে।’
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বলেন, এখন গ্রিনিচ টাইম সিগন্যাল মূলত UTC -এর অনুরূপ। ফলে ব্রিটেনে শীতকালীন সময় স্কেল যা UTC -এর অনুরূপ তাকে UTC না বলে GMT বলা হয়। এছাড়াও ব্রিটেনের সিভিল টাইম আইনগতভাবে GMT-এর উপর নির্ভরশীল; UTC -এর উপর নয়।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বলেন, এখান থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, ব্রিটিশরা তাদের GMT-র ধারণা থেকে সরে আসতে রাজি নয়। এর মূল কারণ, তারা তাদের আভিজাত্যকে হারাতে রাজি নয়। প্রয়োজনে সংশোধনী আনলেও তারা UTC না বলে GMT বলাই পছন্দ করে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বলেন, যদি তাই হয় তবে মুসলমানরা কেন এখনো ব্রিটিশদের GMT বলার মধ্যে আভিজাত্য খুঁজবে? স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবা শরীফকে আসমান-যমীনের কেন্দ্র বলেছেন ফলে কাবা শরীফ থেকেই পৃথিবীর মূল মধ্যরেখা স্থির করে নিয়ে পৃথিবীর সময়-অঞ্চল নির্ধারণ করতে হবে। তখন GMT/ UTC না বলে KMT (Kaba Shareef Mean Time বলবে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বলেন, পৃথিবীপৃষ্ঠের কোন স্থানে দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলে আমি পৃথিবীর কেন্দ্রে আছি তার দাবি একদিক থেকে সত্য। কেননা, সেই স্থানের ডানদিক থেকে যে কয়টি দ্রাঘিমা পেরিয়ে সে তার অবস্থানে আসতে পারবে; একইভাবে বামদিক থেকে ঠিক সেই কয়টি দ্রাঘিমা পেরিয়ে আবার পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসতে পারবে। সুতরাং পৃথিবীর যে কোন স্থানের উত্তর-দক্ষিণ মেরুর সংযোজক রেখাকে মূল মধ্যরেখা হিসেবে কল্পনা করা যায়।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বলেন, কেউ যদি পৃথিবীর কোন একটি স্থানে মূল মধ্যরেখা কল্পনা করে নেয় এবং সেই কল্পিত রেখার দু’পাশে হাত প্রশস্ত করে দিয়ে ভাবে তার একটি হাত পূর্ব গোলার্ধে এবং অন্য একটি হাত পশ্চিম গোলার্ধে তবে তার এ ধারণাটিও সত্য। যদিও তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। কেননা, সে স্থানের কোন ধর্মীয়, ঐতিহাসিক গুরুত্ব নেই। সুতরাং পৃথিবীর এমন একটি স্থানের উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা স্থির করা উচিত, যে স্থানটির ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় গুরুত্ব আছে। আর তা হচ্ছে কাবা শরীফ। কাবা শরীফ এমন একটি স্থান যে স্থানটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম। যে স্থানের পবিত্রতা অপরিসীম। যে স্থানটি পূর্ব-পশ্চিমে সবার কাছে পরিচিত এবং গুরুত্বসহকারে বিবেচিত। সকল আহলে কিতাবের কাছে যে স্থানের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। যে স্থানটি ছাড়া আর কোন স্থানের এতটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব নেই। কাবা শরীফকে কেন্দ্র ধরে যখন পৃথিবীর সকল সময়-অঞ্চল নির্ধারণ করা হবে তখন যেকোন স্থানের স্থানীয় সময় হবে, KMT+ (স্থানীয় সময় অঞ্চল) অথবা KMT-স্থানীয় সময় অঞ্চল)।

সূত্র: দৈনিক আল ইহসান/৩০ জানুয়ারী, ২০১০ ঈসায়ী সন
Read more ...

সমগ্র সৃষ্টির রসূল পাক উনার গবেষণার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা একাডেমী নেই কেন?


৯৭ শতাংশ মুসলমানের দেশে ২ শতাংশের কম হিন্দুর জন্য তাদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়- একাডেমী হবে অথচ সমগ্র সৃষ্টির রসূল পাক উনার গবেষণার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা একাডেমী নেই কেন?
-মুহম্মদ সালাহুদ্দীন আইয়ুবী, ঢাকা।

বড়ই কায়দা করে সংশোধন করা হল সংবিধান! উঠিয়ে দেয়া হল রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। কোন অজুহাতে? নাটোরের সরকারি রাণী ভবানী কলেজের বোরকার ঘটনার নাটক মঞ্চস্থ করে। এসব পূর্বপরিকল্পিত সাজানো নাটকের মঞ্চায়ন মাত্র। দেব নারায়ণ ওরফে নরপশুর কুরবানীর বিরুদ্ধে রিট; উদ্দেশ্য কুরবানী বন্ধ করা। হোঁচট খেয়ে শুরু হল অ্যানথ্রাক্স- উদ্দেশ্য কুরবানীর ক্ষেত্রে ভীতি সৃষ্টি করা। গরু-ছাগল সঙ্কট তৈরি করা, মুসলমানদের কুরবানী বন্ধ করা, সেটাও হালে পানি পায়নি। এরপর শুরু হল- পশ্চিমা কাট্টা কাফির ফ্রান্স, ইতালি, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডের মত বাংলাদেশে বোরকা বিরোধী ষড়যন্ত্র। আপাত বিদেশী গুরুদের খুশি করতে সরকার বোরকার বিরুদ্ধে ইসলাম বিরোধী রায় দিয়ে ইতোমধ্যেই প্রভুদের ঘুরিয়ে দেয়া পুরস্কার লাভে সমর্থ হয়েছে। এরপর র’ আর ভারত মাতাকে খুশি করতে আবারো নতুন আয়োজন। কাট্টা মুসলিম বিদ্বেষী, কাট্টা কাফির মালউন, কথিত বিশ্বকবির নামে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা এবং জন্মদিন জাঁকজমকের সাথে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এসব কাদের স্বার্থে? প্রায় ৯৭ শতাংশ মুসলমানের দেশে, মুসলমানদের নবী এবং রসূল উনার উপর গবেষণা এবং উচ্চ শিক্ষার জন্য কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, কোনো গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হবে এমন ঘোষণা উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ-এর দিনে দেয়া হয়নি কেন? সরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস পালনের জন্য সরকারি মঞ্জুরির ঘোষণা দেয়া হলো না কেন? তবে কী সরকার ভিতরে ভিতরে হিন্দু হয়ে গেলো? নাকি এদেশীয় যৎসামান্য হিন্দু ও ভারতমাতাকে খুশি করতেই এ নির্লজ্জ ঘোষণা ও আয়োজন? আবার নাকি যৌথভাবে ভারত-বাংলাদেশ কথিত ওই কবির জন্মদিন পালন করবে?
শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে কখনোই কাট্টা মুসলিম বিদ্বেষী যবন, অস্পৃশ্য, ম্লেচ্ছ কবির নামে যেন কোন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা না হয়।
কথা হল ৯৭ শতাংশ মুসলমানের দাবি, সরকার মুসলমান হয়ে থাকলে আসন্ন পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফই যেন সরকারি উদ্যোগে, সরকারি অর্থায়নে দেশব্যাপী ব্যাপক আয়োজনে পালন করা হয় এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে উচ্চতর শিক্ষা লাভ ও গবেষণার জন্য যেন বিশ্বমানের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ও গবেষণাগার নির্মাণ করা হয়।
Read more ...

তিন জায়গায় ও দুই সময়ে দুনিয়াবী আলাপ-আলোচনা করলে চল্লিশ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়


তিন জায়গায় ও দুই সময়ে দুনিয়াবী আলাপ-আলোচনা করলে চল্লিশ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়
-মাওলানা মুহম্মদ হাবীবুর রহমান, রাজশাহী।

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ ফরমান, “আর এ যে মসজিদসমূহ আল্লাহ পাক উনারই জন্য। সুতরাং আল্লাহ পাক উনার সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না।” (সূরা জ্বিন : আয়াত শরীফ ৭২)
এ আয়াত শরীফ-এর তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে, তিন স্থান ও দুই সময়ে দুনিয়াবী আলাপ-আলোচনা করলে চল্লিশ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়। যথা- ১. মসজিদে ২. কবরস্থানে ৩. হক্কানী-রব্বানী আলিমগণের মজলিসে।
দুই সময়: ১. কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের সময় এবং ২. আযানের সময়ে। (আত্ তাফসীরাতুল আহমাদিইয়্যিহ: পৃষ্ঠা ৪৮৯)
আর এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, উপরোক্ত তিন জায়গা ও দুই সময়ে বেশির ভাগ মানুষ দুনিয়াবী আলাপ আলোচনায় মশগুল থাকে। এভাবে চোখের পলকে তারা চল্লিশ বছরের কৃত ইবাদত হতে বঞ্চিত হয়।
অতএব, মসজিদ, কবরস্থান ও আলিমের মজলিস এ তিনি স্থান এবং কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ও আযানের সময়- এই দুই সময় দুনিয়াবী আলাপ-আলোচনা হতে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। আমীন!
Read more ...

Bangla Font Problem




a. add bangla unicode language files (required)

necessary changes to your system files

in windows xp (all versions)

1. add unicode language support to your system:
  1. download and run icomplex 2.0.0 provided by omicronlab.
  2. click install complex scripts.




complex script 3
After a restart we hope, you will have no more problems with Bengali fonts.
2. Add bangla fonts to your system:
1. For Windows XP or earlier version Download the font
2. Copy and paste it to your system’s “Fonts” directory. You can find this directory by two simple ways:
run
Start > Run > type “fonts” and click OK
control pannel fonts
Start > Control Panel > Fonts
b. browser configuration (optional)

adjust language settings in firefox, internet explorer and opera

note: this section is optional if you want to skip browser’s ability to detect bangla in websites and apply a default bangla font.
in this part you will be properly setup your browser: firefox, internet explorer or opera, for proper bangla support.
bangla setup on firefox version 1.5
  1. from menu click on tools and select options
  2. from this window click on contents
  3. click on advanced button for fonts & colors
  4. click on the drop down list for option fonts for. select bengali from this list
  5. complete all the option fields as show in the following image and then click on ok.


click ok again to complete your setup.
this completes your setup for firefox.
bangla setup on internet explorer:
  1. from menu click on tools and select internet options
  2. from this window click on fonts
  3. click on the drop down list for language scripts
  4. select bengali from this drop down list (you may have to scroll up to locate it)
  5. select likhan for web page font. then click ok and ok again.
this completes your setup for internet explorer.
bangla setup on opera version 9.10
  1. from menu click on tools and select preferences
  2. click on advanced tab, fonts from left menu and click international fonts
  3. choose writing system ‘bengali’ from drop-down list
  4. select likhan for normal font. click ok until you exit from preferences
this completes your setup for opera.

If you are using Windows Vista or later version, the contents of this site are compatible with the system fonts you already have in you computer.
For Windows XP or earlier version you have to install a Unicode font which supports Bengali. It’s a matter of few seconds to install the font by following the given instructions.
For Mac version Download the font and configure it according to Mac OS. █║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ Bangla Font Problem | banglafontproblem.blogspot.com
Read more ...

Sunnaty Alok Chitro



  • Jihad(war) space, Uhud Pahar(Mountain), Masque, Sunnaty thing etc...




  • Mubarak Objects which was used by the Prophet Noore Muzassam Habibullah Hazrat Muhammad Sallallahu Alaihe'Wasallam.



  • Sunnaty thing (Dress, Sandle, Bed, Pillow etc...)


  • If you want to collect Sunnaty- Korta (Dress), Tupi (Cap), Nalaeyn (Sandle), Khaat/Choki(Bed), Plate etc, these are availabe on Rajabag Shareef. Address:-
    5, Outer Circular Road, Rajarbag,
    Dhaka 1217, Bangladesh.
    www.al-ihsan.net
    Read more ...