নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌সালামগণের পর সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের দৃষ্টিতে সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুরুত্ব ও ফযীলত।


(১)
খলীফাতু রসুলিল্লাহ হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন -
“যে ব্যক্তি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মীলাদ শরীফ পাঠ (মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপলক্ষ্যে এক দিরহাম ব্যয় করবে সে জান্নাতে আমার বন্ধু হয়ে থাকবে।” (সুবহানাল্লাহ্‌) (আন্‌ নি’মাতুল কুবরা)
(২)
আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন -
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (বিলাদত দিবসকে) বিশেষ মর্যাদা দিল সে মূলতঃ ইসলামকেই পূনরুজ্জীবিত করল।“ (সুবহানাল্লাহ্‌) (আন্‌ নি’মাতুল কুবরা)
(৩)
আমীরুল মু’মিনীন হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন -
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে এক দিরহাম খরচ করল সে যেন বদর ও হুনায়েন যুদ্ধে শরীক থাকল।” (সুবহানাল্লাহ্‌) (আন্‌ নি’মাতুল কুবরা)
(৪)
আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন -
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি বিশেষ মর্যাদা প্রদান করল সে ব্যক্তি অবশ্যই ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে এবং বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আন্‌ নি’মাতুল কুবরা)


জগৎখ্যাত, সর্বজনমান্য, সকলের নিকট অনুসরণীয় হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের দৃষ্টিতে সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুরুত্ব ও ফযীলত

(৫)
হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন -
“আমার একান্ত ইচ্ছা হয় যে, আমার যদি ওহুদ পাহাড় পরিমান স্বর্ণ থাকত তাহলে তা ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে ব্যয় করতাম। (সুবহানাল্লাহ্‌) (আন্‌ নেয়ামাতুল কুবরা)
(৬)
হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন -
“যে ব্যক্তি মীলাদ শরীফ পাঠ বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন উপলক্ষ্যে লোকজন একত্রিত করলো এবং খাদ্য তৈরি করলো ও জায়গা নির্দিষ্ট করলো এবং মীলাদ পাঠের জন্য উত্তম ভাবে (তথা সুন্নাহ ভিত্তিক) আমল করলো তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক হাশরের দিন সিদ্দীক শহীদ, সালেহীনগণের সাথে উঠাবেন এবং তাঁর ঠিকানা হবে জান্নাতে নাঈমে।” (সুবহানাল্লাহ্‌) (আন্‌ নেয়ামাতুল কুবরা)
(৭)
হযরত মারুফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন -
“যে ব্যক্তি ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে খাদ্যের আয়োজন করে, অতঃপর লোকজনকে জমা করে, মজলিশে আলোর ব্যবস্থা করে, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন নতুন লেবাস পরিধান করে,মীলাদুন্নবীর তাজিমার্থে সু-ঘ্রাণ ও সুগন্ধি ব্যবহার করে। আল্লাহ পাক তাকে নবী আলাইহিমুস্‌ সালামগণের প্রথম কাতারে হাশর করাবেন এবং সে জান্নাতের সুউচ্চ মাকামে অধিষ্ঠিত হবে।“ (সুবহানাল্লাহ্‌) (আন্‌ নেয়ামাতুল কুবরা)
(৮)
হযরত ইমাম সাররী সাক্বত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন -
“যে ব্যক্তি মীলাদ শরীফ পাঠ বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করল সে যেন তার জন্য জান্নাতে রওজা বা বাগান নিদিষ্ট করলো। কেননা সে তা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুহব্বতের জন্যই করেছে। আর আল্লাহ্‌ পাক-এর রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাকে ভালবাসবে সে আমার সাথেই জান্নাতে থাকবে।” (তিরমিযি, মিশকাত, আন নেয়ামাতুল কুবরা)
(৯)
সাইয়্যিদুত ত্বয়িফা হযরত জুনাইদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন -
“যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আয়োজনে উপস্থিত হল এবং উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করলো। সে তার ঈমানের দ্বারা সাফল্য লাভ করবে অর্থাৎ সে বেহেশ্‌তি হবে।” (সুবহানাল্লাহ্‌) (আন্‌ নি’মাতুল কুবরা)
(১০)
হযরত ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন -
“যে ব্যক্তি মিলাদ শরীফ পাঠ করে বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করে, লবণ, গম বা অন্য কোন খাদ্য দ্রব্যের উপর ফুঁক দেয়, তাহলে এই খাদ্য দ্রব্যে অবশ্যই বরকত প্রকাশ পাবে। এভাবে যে কোন কিছুর উপরই পাঠ করুক না কেন। (তাতে বরকত হবেই)”। (সুবহানাল্লাহ্‌) (আন্‌ নি’মাতুল কুবরা)
(১১)
হযরত ইমাম রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন -
উক্ত মোবারক খাদ্য মীলাদ পাঠকারীর বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপনকারীর জন্য আল্লাহ পাকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি তাকে ক্ষমা না করা পর্যন্ত সে ক্ষান্ত হয়না। (সুবহানাল্লাহ্‌) (আন্‌ নি’মাতুল কুবরা)
(১২)
হযরত ইমাম রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন -
যদি মীলাদ শরীফ পাঠ করে বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করে কোন পানিতে ফুঁক দেয়, অতঃপর উক্ত পানি কেউ পান করে তাহলে তার অন্তরে এক হাজার নূর ও রহমত প্রবেশ করবে। আর তার থেকে হাজারটি বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ রোগ দূর হবে। যে দিন সমস্ত ক্বলব (মানুষ) মৃত্যুবরণ করবে সেদিনও ঐ মীলাদুন্নবীর পানি পানকারী ব্যক্তির অন্তর ম"ত্যু বরণ করবে না। (সুবহানাল্লাহ্‌) (আন্‌ নি’মাতুল কুবরা) (চলবে)
(১৩)
হযরত ইমাম রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন -
যে ব্যক্তি মীলাদ শরীফ পাঠ করে বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদ্‌্‌যাপন করে রৌপ্যের অথবা স্বর্ণের দেরহামসমূহের উপর ফুঁক দেয় অতঃপর তা অন্য জাতীয় মুদ্রার সাথে মিশায় তাহলে তাতে অবশ্যই বরকত হবে। এবং এর পাঠক কখনই ফকীর হবে না।
আর উক্ত পাঠকের হাত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর (মীলাদ পাঠের) বরকতে কখনও খালি হবে না। (সুবহানাল্লাহ্‌) (আন্‌ নি’য়ামাতুল কুবরা)
(১৪)
হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন -
যে স্থানে বা মসজিদে অথবা মহল্লায় মীলাদ শরীফ পাঠ করা হয় বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদ্‌্‌যাপন করা হয় সেখানে অবশ্যই আল্লাহ পাকের ফেরেস্তাগণ বেষ্টন করে নেন। আর তাঁরা সে স্থানের অধিবাসী গণের উপর ছলাত-সালাম পাঠ করতে থাকেন। আর আল্লাহ পাক তাদেরকে স্বীয় রহমত ও সন্তুষ্টির আওতাভুক্ত করে নেন। আর নূর দ্বারা সজ্জিত প্রধান চার ফেরেস্তা, অর্থাৎ হযরত জিব্রাইল, মীকাইল, ইসরাফিল ও আযরাইল আলাইহিমুস্‌্‌ সালামগণ মীলাদ শরীফ পাঠকারীর উপর বা মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপনকারীর উপর সালাত-সালাম পাঠ করেন। (সুবহানাল্লাহ্‌) (আন্‌ নি’মাতুল কুবরা)
(১৫)
ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন -
“যখন কোন মুসলমান নিজ বাড়ীতে মীলাদ শরীফ পাঠ করে তখন সেই বাড়ীর অধিবাসীগণের উপর থেকে আল্লাহ্‌ পাক অবশ্যই খাদ্যাভাব, মহামারী, অগ্নিকাণ্ড, ডুবে মরা, বালা মুসিবত, হিংসা-বিদ্বেষ, কু-দৃষ্টি, চুরি ইত্যাদি উঠিয়ে নেন। যখন উক্ত ব্যক্তি মারা যান তখন আল্লাহ পাক তাঁর জন্য মুনকীর-নকীরের সুওয়াল-জাওয়াব সহজ করে দেন। আর তাঁর অবস্থান হয় আল্লাহ্‌ পাক-এর সন্নিধানে সিদকের মাকামে। (সুবহানাল্লাহ্‌) (আন্‌ নেয়ামাতুল কুবরা) যে ব্যক্তি ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তাযীম করতে চাইবে তার জন্য উপরোক্ত বর্ণনা যথেষ্ট।
আর যে ব্যক্তির নিকট ঈদে মীলাদুন্নবীর তা’যীম নাই (সম্মান করে না) সারা দুনিয়া পূর্ণ করেও যদি তাঁর প্রশংসা করা হয় তথাপিও তার অন্তর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহব্বতে প্রকম্পিত হবে না।
আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে তাদের দলভুক্ত করুন যারা ঈদে মীলাদুন্নবীর মর্যাদা দান করেন এবং এর মর্যাদা উপলব্ধি করেন। তিনি আমাদেরকে তাঁর হাবীব, নবী গনের নবী, রসূল গনের রসূল, নূরে মুজাস্‌সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আখাস্‌সুল খাস মুহিব্বীন ও অনুসারী বানিয়ে দিন। আমীন। ইয়া রব্বুল আলামীন, আয় আল্লাহ পাক, সালাত ও সালাম বর্ষিত করুন সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাস্‌সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের প্রতি কেয়ামত পযর্ন্ত।
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

কথিত আইএস’র বোমা হামলার কারণে ফ্রান্সের পক্ষপাতিত্ব করছেন? আপনি কি জানেন ফ্রান্সের মুসলিমবিদ্বেষী ইতিহাস কতোটা ভয়াবহ?


ফ্রান্সে সন্ত্রাসবাদী আইএস’র নাটকীয় হামলায় কয়েকজন নিহত হয়েছে বলে তাদের জন্য মায়া কান্না কাঁদছেন? আপনি কি জানেন ফ্রান্স নিজে কতো বড় সন্ত্রাসবাদী দেশ? আপনি কি জানেন পূর্বে এবং বর্তমানে কতজন মুসলমানকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে? তাহলে একনজরে দেখে নিন তাদের সন্ত্রাসের কালো ইতিহাস-
১. ক্রুসেড যুদ্ধের সময় মুসলিমদের দুনিয়ার যমীন থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিলো ফ্রান্স। (তথ্যসূত্র: ক্রুসেডস, উইকিপিডিয়া)
২. উসমানীয় খিলাফতের পতন ঘটিয়েছিল ফ্রান্স। (তথ্যসূত্র: উসমানীয় খলীফা, উইকিপিডিয়া)
৩. ১৯৬০ সালে আফ্রিকায় ৫০বারেরও বেশি সেনা পাঠিয়ে আফ্রিকান মুসলমানদের উপর গণহত্যা চালিয়েছে এই সন্ত্রাসবাদী ফ্রান্স। (তথ্যসূত্র: লেখক ফ্রান্সিস ডি’অ্যালেনকোন ফ্রান্সের ‘লিডোভি নোভিনি’ নামক পত্রিকায় এ তথ্য দিয়েছে)
৪. আলজেরিয়াতে ১০ মিলিয়ন মুসলিমকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এই ফ্রান্স। (তথ্যসূত্র: বিবিসি/২৩ জানুয়ারি ২০১৩; ওয়ার্লড বুলেটিন)
৫. পরগাছা ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরবরা যুদ্ধ করতে করতে যখন একের পর এক ইসরাইল ভূমির পতন ঘটাচ্ছিল তখন এই ইসলামবিদ্বেষী ফ্রান্স বলেছিলো- আমাদের সব অস্ত্র নিয়ে ইসরাইলকে রক্ষা করো। [তথ্যসূত্র: Jewish Political Studies Reviwe 18:1-2 (Spring 2006), Jerusalem Center for Public Affairs, Israel]
৬. বর্তমানেও পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যাঙ্গ প্রকাশ করে যাচ্ছে ফ্রান্স।
৭. ফ্রান্সে এখনো কোনো মুসলমান পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তার জেল জরিমানা ও শাস্তি ভোগ করতে হয়। (সূত্র: রেডিও তেহরান/২০ সেপ্টেম্বর ২০১২)
৯. শান্তির দেশ লিবিয়াকে ধ্বংস করার যুদ্ধে আমেরিকাকে সাহায্য করেছে ফ্রান্স। (সূত্র: রেডিও তেহরান/১৯ মার্চ ২০১১)
ফ্রান্সের সন্ত্রাসবাদের ফিরিস্তি তুলে ধরে শুরু করা যাবে, কিন্তু শেষ করা যাবেনা। সবকিছু জেনেও যারা মুসলমান হয়ে ফ্রান্সের পক্ষপাতিত্ব করবে, হারাম বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার সময় ফ্রান্সের পতাকা উড়াবে তারা কি আদৌ মুসলমান থাকবে?
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-মুহম্মদ ইবরাহীম সোহেল। © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

কি শেখানো হচ্ছে মুসলিম শিশুকে? প্রচলিত সিলেবাসের নেপথ্যে রয়েছে নাস্তিক্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদের শিক্ষা। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত পঞ্চম শ্রেণীর ‘প্রাথমিক গণিত’ (বাংলা এবং ইংরেজি ভার্সন) বইয়ের বিশ্লেষণ


মূল কথা: সম্মানিত মুসলমানগণ উনারাই পৃথিবীতে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। ইলম হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে। “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো, তাহলে তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দান করবেন অর্থাৎ ইলম দান করবেন।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮২)
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার পবিত্র এই আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈমানদার মুত্তাক্বী উনাদেরকে ইলম দান করেছেন। হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিকট থেকে সবাই ইলম ও হিকমত প্রাপ্ত হয়েছেন। আধুনিক বিজ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রই মুসলমান উনাদের অবদানে পরিপূর্ণ। কিন্তু যে বিষয়ে মুসলমানগণ উনারা সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন তা হলো গণিত। গণিতে মুসলমান উনাদের অবদানের পিছনে মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে ‘ইসলাম’। একজন মুসলমান উনার পুরো জিন্দেগীতেই রয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। সময় গণনা, দিনের গণনা, যাকাত, ফিতরা, উশর ইত্যাদির হিসাব, সম্পত্তি বণ্টন ইত্যাদি করতে গিয়ে গণিতের যাবতীয় প্রক্রিয়া যেমন যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, ভগ্নাংশ ইত্যাদি শিখতে হয় একজন মুসলমান উনাকে। আরো প্রয়োজন হয় জ্যামিতি ও ত্রিকোণমিতির। চাঁদ ও সূর্য দেখা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে মুসলিম বিজ্ঞানীগণ জ্যোতির্বিদ্যা এবং গণিত সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের সম্মুখীন হন। আর তাই দেখা যায় গণিতে মুসলমান উনাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। সংখ্যাতত্ত্ব, ক্রমবাচক সংখ্যা, গণনা পদ্ধতির জনক হলেন পারসিক মুসলিম বিজ্ঞানী মুহম্মদ মূসা আল খারিযমি। দশমিক সংখ্যার আবিষ্কার করেন জমশিদ আল কাশি। শূন্যের ব্যবহার, গাণিতিক প্রক্রিয়া তথা যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, সূচক এবং গাণিতিক চিহ্ন সবকিছুরই আবিষ্কারক মুসলমান। গণিতের অন্যান্য শাখা যেমন বীজগণিত, ক্যালকুলাস, ত্রিকোণমিতি, জ্যামিতি সবকিছুই মুসলমান উনাদেরই আবিষ্কার। মুসলমান উনাদের এই গৌরবজ্জল ইতিহাস একজন গণিত শিক্ষার্থীর জানা প্রয়োজন। তাহলে মুসলমান উনাদের হীনম্মন্যতা দূর হবে এবং একজন মুসলিম শিশু নিজেও গণিতে নতুন কিছু অবদান রাখতে সচেষ্ট হবে। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত প্রাথমিক শ্রেণীর গণিত পাঠ্য পুস্তকগুলোতে গণিত শেখার থেকে হিন্দুয়ানি ও মুশরিকী চেতনার শিক্ষাই দেয়া হয়েছে বেশি। এই সিলেবাস পড়ে একটি শিশু যতটুকু শিখবে গণিত তার থেকে অনেক বেশি শিখবে মুশরিকী মূর্খতা। শিশুর মন যা শুনে, যা দেখে তাই শিখে। একজন মুসলিম শিশুর মানসপটে কি করে কাফির-মুশরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আসক্তি, যাবতীয় হারাম কাজ ও বেপর্দাকে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে তাকে কি করে ইসলামবিদ্বেষী বানানো যায়- সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে এই সিলেবাসে। বাংলা এবং ইংরেজি ভার্সন বই হবহু একই রকম। নিচে পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক গণিত বইটির একটি বিশ্লেষণমূলক সমালোচনা তুলে ধরা হলো।


অধ্যায় পৃষ্ঠা/লাইন ভুল/আপত্তিকর শব্দ, নাম ও ছবি সম্পর্কিত তথ্য তাদের উদ্দেশ্য সংশোধন/ মন্তব্য
কভার পেজ শ্রেণি কলকাতার বানানরীতি এদেশে প্রচলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘দুই বাংলা এক’ করার হীন চক্রান্ত বাস্তবায়নে কিছুটা এগিয়ে থাকা। শ্রেণী বানানে কলকাতার বানান রীতি অনুসরণ করে ‘ণ’-এর সাথে ‘’ি যুক্ত করে ‘শ্রেণি’ লিখা হয়েছে। শুদ্ধ বানান হবে ‘শ্রেণী’।
কভার পেজের পরের পৃষ্ঠা এবং ২৭, ২৮, ৩০, ৩১, ৩৬, ৩৭ পাখির ছবি ও কার্টুন। এবং বিভিন্ন পৃষ্ঠায় মানুষ, ছেলে-মেয়ে ইত্যাদি প্রাণির ছবি। মুসলিম দেশের পাঠ্য পুস্তকের শুরুতেই পাখির ছবি দিয়ে মুসলমান শিশুদের অবচেতন মনে হারাম ছবির প্রতি আসক্তি প্রবেশ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। প্রাণীর ছবি ইসলামে হারাম। এগুলো বাদ দিতে হবে। যদি দিতেই হয় তবে পাখির ছবি বাদ দিয়ে ফুল, লতা-পাতা, মসজিদ, মিনার, গম্বুজ বা কারুকাজ দেয়া যেতে পারে- যেগুলো মনের মধ্যে ইসলামী ভাবধারা সৃষ্টি করে।
প্রসঙ্গ কথা প্রসঙ্গ কথার ৩য়, ৪র্থ , ৫ম ও ষষ্ঠ লাইন শিশুর অন্তর্নিহিত অপার বিস্ময়বোধ, অসীম কৌতুহল, অফুরন্ত আনন্দ ও উদ্যমের মতো মানবিক বৃত্তির সুষ্ঠু বিকাশ সাধনের সেই মৌল পটভূমিতে পরিমার্জিত হয় প্রাথমিক শিক্ষাক্রম। ২০১১ সালে পরিমার্জিত প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে প্রাথমিক শিশুর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পুনঃনির্ধারিত হয় শিশুর সার্বিক বিকাশের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যকে সামনে রেখে। শিশুর অন্তর্নিহিত অপার বিস্ময়বোধ, অসীম কৌতুহল, অফুরন্ত আনন্দ ও উদ্যমের মতো মানবিক বৃত্তির সুষ্ঠু বিকাশ সাধনের নামে তথা শিশুর সার্বিক বিকাশের নামে নতুন শিক্ষানীতি ও সিলেবাসের মাধ্যমে একটি মুসলমান শিশুর ব্রেইন ওয়াশ ও ব্রেইন স্টরর্মিং (মগজধোলাই) করে তাকে ইসলামবিদ্বেষী করে তোলা, নাস্তিক করে তোলা। যাতে করে একজন মুসলমান শিশুর কাছে ইসলামী রীতি-নীতি ও বিধি-নিষেধ মেনে চলাটা বিরক্তিকর ও কঠিন মনে হয়। (নাউযুবিল্লাহ!) এটা আসলে মানবিক বৃত্তির বিকাশের নামে একটি মুসলমান শিশুকে কিভাবে কাফির-মুশরিকে পরিণত করা যায় সেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুরো সিলেবাসে সম্মানিত ইসলামী শিক্ষা এবং ইসলামী অনুভূতির বিকাশ সাধনের কোনো পরিকল্পনা নেই।
প্রসঙ্গ কথা দ্বিতীয় প্যারার প্রথম লাইন (বাংলা ভার্সন) ‘গণিত বিষয়টি বিমূর্ত’- এখানে ‘বিমূর্ত’ শব্দটি হিন্দুয়ানি এবং অস্পষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। মুসলমান উনাদের কথোপকথনের মধ্যে হিন্দু ভাবধারার শব্দ প্রচলন করা। যেমন: হিন্দুরা কখনই ‘পানি’ বলে না, তারা বলে ‘জল’। হিন্দুরা কখনই ‘গোসল’ বলে না, তারা বলে ‘স্নান’। মুশরিক মালাউনরা তাদের কথায়, অভ্যাসে, আচরণে মুশরিকী-হিন্দুয়ানি অভ্যাস ধরে রাখবে ঠিকই কিন্তু মুসলমান শিশুকে মুসলমানি শব্দ ব্যবহারের অভ্যাস বাদ দিয়ে তাকেও হিন্দুয়ানিতে অভ্যস্ত করা। তাহলে তার মন-মগজে হিন্দুত্বের প্রভাব বজায় থাকবে। চেয়্যারম্যানসহ সকলের মন-মগজ থেকে হিন্দুয়ানী চেতনা ঝেড়ে ফেলে মুসলমানী শব্দ ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে ‘বিমূর্ত’ না বলে নিরাকার বা বাস্তব আকার আকৃতিহীন বললে বুঝতেও সুবিধা হতো।
অনুশীলনী ৩(খ) পৃ: ২০-এর ৮নং সমস্যা অনুশীলনী করাতে গিয়ে হিন্দুয়ানী নাম এবং মেয়েদের নাম লিখা হয়েছে যেমন: প্রমা (ঢ়ৎড়সধ), রিমি (ৎরসর), মনীষা (সড়হরংযধ) ইত্যাদি হিন্দুয়ানী নাম। মুসলমান উনাদের নামের সাথে হিন্দুদের নাম মিশিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমান শিশুকে এটা শিক্ষা দেয়া যে- হিন্দু মুশরিকেরা তাদের বন্ধু। নাউযুবিল্লাহ! এগুলো বাদ দিতে হবে। কাফির-মুশরিকরা মুসলমান উনাদের শত্রু। তারা কখনো বন্ধু হতে পারে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না।”
তাই তাদেরকে বন্ধু ভাবা জায়িয নেই, বরং হারাম।
পৃ: ২৩ গড় শেখাতে একজন ক্রিকেট খেলোয়াড়ের আটটি ওয়ানডে ম্যাচের সিরিজে সংগৃহীত রানের হিসাব দেয়া হয়েছে। মুসলিম শিশুর অবচেতন মনে খেলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা। খেলা করা, খেলার খবর রাখা, খেলার হিসাব করা, খেলার চিন্তা করা- সবই হারাম। এর পরিবর্তে হালাল বিষয়ের মাধ্যমে অংক শেখাতে হবে।
পৃ: ৩৮ সুমি নামে একজন মেয়ের জন্মদিনে তার বন্ধুদেরকে চকলেট বিতরণ করার পর কয়টি থাকে সে বিষয়ে অংক দেয়া হয়েছে। মুসলিম শিশুকে কাফির-মুশরিকদের হারাম কৃষ্টি কালচারে অভ্যস্ত করা, মেয়েদেরকে পুরুষ বন্ধু গ্রহণ করতে শিখানো। পর্দা করা নারী-পুরুষ সবার জন্য ফরয। তাই একজন মেয়ের কখনো পুরুষ বন্ধু থাকতে পারে না। নারী-পুরুষ একসাথে সহশিক্ষা নাজায়িয।
পৃ: ৪১, ৫১, ৫৭, ৭৪ ৬নং সমস্যায় অনু, মৌ, সায়ন, পিউ এবং ৫১ পৃষ্ঠায় অর্ঘ্য, হিমু, শুভ, সৌমিক, মৌলি, ৫৭ পৃষ্ঠায় জয়া, অনিক, ৭৪ পৃষ্ঠায় নগেন বাবু, কমল বাবুু এছাড়াও উর্মি, মৌমি ইত্যাদি অমুসলিম হিন্দু, খ্রিস্টান, কাফির-মুশরিকদের নামে অংক দেয়া হয়েছে। মুসলমান উনাদের মধ্যে কাফির-মুশরিকদের নামের প্রচলন করা, তাদের প্রতি আসক্ত করা। এই নামসমূহ বাদ দিতে হবে। মুসলমান উনাদের নামে অংক শেখাতে হবে।
পৃ: ৫১ ১১নং সমস্যা দেয়া হয়েছে কোল্ড ড্রিংকস খাওয়াকে কেন্দ্র করে। হিমু এবং তার ছোট বোন ভাগাভাগি করে এক বোতল কোল্ড ড্রিংকস খাচ্ছে। মুসলমান উনাদেরকে হারাম কোল্ড ড্রিংকস-মদ-শরাব খেতে অভ্যস্ত করা। ভাই-বোন মিলে ভাগাভাগি করে মদ খাওয়া শেখানো সর্বপ্রকার কথিত কোল্ড ড্রিংকস বা সফট ড্রিংকস খাওয়া হারাম। এগুলোতেও এলকোহল আছে। তাই কথিত কোল্ড ড্রিংসসহ এলকোহল সংশ্লিষ্ট অংক বাদ দিয়ে ইসলামী ভাবধারার অংক দিতে হবে।
পৃ; ৯০, ৭৪ রেডিও কেনা সংক্রান্ত সমস্যা। রেডিও-টিভি ইত্যাদি কিনে গান-বাজনা শুনতে অভ্যস্ত করা। গান-বাজনা শোনার জন্য রেডিও কেনা হারাম। তাছাড়া যেখানে গান-বাজনা হয়, সেখানে ইসলামী অনুষ্ঠান করাও হারাম।
নবম অধ্যায়: শতকরা পৃ ৮৮, ৮৯, ৯০, ৯১ মুনাফার নামে সুদ সংক্রান্ত সমস্যা দেয়া হয়েছে। মুসলমান শিশুকে সুদ গণনা করে নিকৃষ্ট গুনাহগারে পরিণত করা। সাথে সাথে তাকে সুদের প্রতি লোভী করে তোলা। সুদ হারাম। সুদের হিসাব করাও হারাম। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সতর্ক ফরমান হয়েছে- যে একবার সুদ খেল সে যেন নিজ মায়ের সাথে ছত্রিশবার জিনা (ব্যাভিচার) করলো। সুদ খাওয়া তার চেয়েও নিকৃষ্ট।
একাদশ: সময় ১০৬ সময় গণনা শেখাতে গিয়ে বাংলা মাস এবং ইংরেজি মাসের নাম দেয়া হয়েছে; কিন্তু আরবী মাসের নাম নেই। মুসলমান উনাদেরকে পবিত্র হিজরী মাস থেকে গাফিল করে দেয়া। হিজরী সনের হিসাব দিতে হবে। সাথে সাথে শামসী হিসাব হিসাব দিতে হবে।
পাঠ শেষ করার কোনো তরতীব নেই। কোনো পাঠ শেষ হলে আল-হামদুলিল্লাহ বা ছদাকাল্লাহ বা জযাকাল্লাহ ইত্যাদি যিকিরমূলক শব্দ লেখা উচিত। কেননা ইলিম অর্জন করা ফরয এবং তা শ্রেষ্ঠ ইবাদত। আর ইলিম মহান আল্লাহ পাক তিনি দান করেন। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারকে পাঠ শুরু করা উচিত এবং উনার নাম মুবারকে শেষ করা উচিত। উনার কাছে ইলিম প্রার্থনা করা উচিত।
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-গোলাম মুহম্মদ আরিফুল খবীর। © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

যবন, ম্লেচ্ছ, অস্পৃশ্য, মালউন, অসভ্য সক্রেটিস, এরিস্টটল, প্লেটো ছিল জাতিগতভাবে ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষী। মুসলমানরা বুঝতে পারেনি, না বুঝেই করেছে মহা ভুল দিতে হচ্ছে তার মাশুল!


মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই সমস্ত প্রাণীর মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কাফিররাই সবেচেয় নিকৃষ্ট যারা ঈমান আনেনি। (পবিত্র সূরা আনফাল: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৫)।
সক্রেটিস, এরিস্টটল, প্লেটো ছিল বিচ্ছিন্ন সমাজ ইহুদী ধর্মের অন্তর্ভুক্ত। ইহুদীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা মুসলমানরা তোমাদের সবেচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে প্রথমতঃ ইহুদীদেরকে অতঃপর মুশরিকদেরকে।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)
এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন ইহুদীরা মুসলমান উনাদের প্রধান শত্রু। তাহলে মুসলমানরা কি করে এই সমস্ত যবন, মেøচ্ছ, অস্পৃশ্য নিকৃষ্ট সক্রেটিস, এরিস্টটল, প্লেটোর জীবনী পড়তে পারে। এদেরকে অনুসরণ করতে পারে। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, যে যাকে অনুসরণ করবে তার সাথে তার হাশর-নশর হবে। এখন কাট্টা কাফির চিরজাহান্নামী সক্রেটিস, এরিস্টটল, প্লেটোকে যারা অনুসরণ করবে, তাদের তর্জ-তরীক্বা গ্রহণ করবে তাদের হাশর নশর তাদের সাথেই হবে। নাউযুবিল্লাহ!
কাজেই এসব যবন, ম্লেচ্ছ, অস্পৃশ্য, মালউন, সক্রেটিস, এরিস্টটল, প্লেটো এদের জীবনী পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দিতে হবে।
এর আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-মুহম্মদ আতিকুর রহমান। © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

‘ভিটামিন-এ’ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া স্রেফ গুজব নয়


ভিটামিন-‘এ’ সব বয়সের মানুষের জন্য প্রয়োজন। বিশেষ করে বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ, বেড়ে উঠা, চোখের দৃষ্টিসহ আরো অনেক প্রয়োজনে, উদ্ভিদ উৎস হতে হোক কিম্বা প্রাণিজ উৎস থেকে হোক, এটা আমাদের প্রতিদিন গ্রহণ করতে হয়। এর অভাবে যেমন নানাবিধ সমস্যা হয় তেমনি অতিরিক্ত গ্রহণেও মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হয়, যা আমরা অনেকেই জানি না। ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে সরকার প্রতিবছর বাচ্চাদের বিনামূল্যে প্রদান করে থাকে। একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটা ভালো খবর। কিন্তু এই ভিটামিন খাওয়ানোর পূর্বে কি আমরা চিন্তা করে দেখেছি এর ক্ষতিকর দিকগুলো? দেখিনি বলেই প্রতিবছর ভিটামিন-এ খাওয়ানোর পর দেখা যায় নানাবিধ সমস্যা হয়। যা আমরা বিগত বছরগুলোতে দেখেছি।
* এখন আমরা দেখবো, একজন মানুষের জন্য প্রতিদিন কতটুকু ভিটামিন-এ দরকার-
০-৬ মাস বয়সী- ৪শ’ মাইক্রোগ্রাম (১৩৩৩ আইইউ)
৭-১২ মাস বয়সী- ৫শ’ মাইক্রোগ্রাম (১৬৬৭ আইইউ)
১-৩ বছর বয়সী- ৩শ’ মাইক্রোগ্রাম (১০০০ আইইউ)
৪-৮ বছর বয়সী- ৪শ’ মাইক্রোগ্রাম (১৩৩৩ আইইউ)
৯-১৩ বছর বয়সী- ৬শ’ মাইক্রোগ্রাম (২০০০ আইইউ)
১৪-১৮ বছর বয়সী- ৯শ’ মাইক্রোগ্রাম (৩০০০ আইইউ)-ছেলে, ৭শ’ মাইক্রোগ্রাম (২৩৩৩ আইইউ)-মেয়ে > ১৯ বছর বয়সী - ৯শ’ মাইক্রোগ্রাম (৩০০০ আইইউ)
আমেরিকার খাদ্য ও পুষ্টি বোর্ড (এফএনবি) জানুয়ারী ২০০১ সালে ভিটামিন-এ গ্রহণের এই সীমা নির্ধারণ করে।
* একজন মানুষের প্রতিদিন ভিটামিন-এ গ্রহণ সর্বোচ্চ কতটুকু হতে পারে তা এখন জানবো-
০-১২ মাস বয়সী- ৬শ’ মাইক্রোগ্রাম (২০০০ আইইউ)
১-৩ বছর- ৬শ’ মাইক্রোগ্রাম (২০০০ আইইউ)
৪-৮ বছর- ৯শ’ মাইক্রোগ্রাম (৩০০০ আইইউ)
৯-১৩ বছর- ১৭শ’ মাইক্রোগ্রাম (৫৬৬৭ আইইউ)
১৪-১৮ বছর- ২৮শ’ মাইক্রোগ্রাম (৯৩৩৩ আইইউ)
>১৯ বছর- ৩ হাজার মাইক্রোগ্রাম (১০০০০ আইইউ)
* এখন জানবো সরকারিভাবে কতটুকু খাওয়ানো হচ্ছে?
৬ মাস- ১১ মাস= ১ লক্ষ আইইউ
১২ মাস- ৫ বছর= ২ লক্ষ আইইউ
* কখন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে?
১) ভিটামিন-এ এর মাত্রা যদি ২৫ হাজার আইইউ বা তার উপরে চলে যায় তাহলে বিষক্রিয়া হতে পারে।
২) যদি মানসম্মত না হয়।
৩) সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হলে।
৪) লম্বা সময় ধরে খেলে।
উপরের হিসেবে দেখা গেলো একটা বাচ্চার একদিনে যতটুকু ভিটামিন-এ দরকার তার থেকে অনেক বেশি তার শরীরে প্রবেশ করানো হয়। যার ফলে হাইপারভিটামিনোসিস-এ অর্থাৎ ভিটামিন-এ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভিটামিন শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যা মারাত্মক আকার ধারণ করার কথা চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা আছে। ভিটামিনের মধ্যে ভিটামিন-এ ও ভিটামিন-ডি এর বিষক্রিয়া অনেক মারাত্মক।
উপরের আলোচনায় বুঝা গেল যে, ভিটামিন-এ অতিরিক্ত গ্রহণের যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তা আমাদের স্রেফ গুজব বলে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। সরকারকে অবশ্যই এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত।
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌
-ডা. মুহম্মদ মারূফ, এমবিবিএস। © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...

সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মাহ উনাদের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- পবিত্র আশূরা শরীফ এবং সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শাহাদাত দিবস উনার সম্মানার্থে মাসব্যাপী উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করা অর্থাৎ পবিত্র ওয়াজ শরীফ, পবিত্র মীলাদ শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ এবং দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের জন্য।’
আজ সুমহান ঐতিহাসিক পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফ।
যেদিনটি সকলের জন্যই রহমত, বরকত ও সাকীনা হাছিল করার দিন। এ সুমহান দিনে অনেক রহমতপূর্ণ, বরকতপূর্ণ, নিয়ামতপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
পাশাপাশি এদিনটি হচ্ছে- সাইয়্যিদুশ শুহাদা, শুহাদায়ে কারবালা, ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র শাহাদাত শরীফ দিবস।
সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মাহ উনাদের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- পবিত্র আশূরা শরীফ এবং সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শাহাদাত দিবস উনার সম্মানার্থে মাসব্যাপী উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করা অর্থাৎ পবিত্র ওয়াজ শরীফ, পবিত্র মীলাদ শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ এবং দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা।
আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব এবং কর্তব্য হচ্ছে- এ মুবারক দিবস উপলক্ষে পবিত্র মাহফিলসমূহের সার্বিক আঞ্জাম দেয়ার সাথে সাথে কারবালার হৃদয়বিদারক ইতিহাসসহ উনার পবিত্র জীবনী মুবারক সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা এবং উনার পবিত্র শাহাদাত শরীফ দিবস উপলক্ষে কমপক্ষে ৩ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আজ সুমহান ঐতিহাসিক পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফ। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনাকে এবং উনার মধ্যস্থিত পবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে সম্মান করো। যে ব্যক্তি পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস তথা পবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে সম্মান করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে সম্মানিত জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।” সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনারই দশ তারিখ অর্থাৎ ১০ই মুহররম “পবিত্র আশূরা শরীফ” দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয় এই রবকতময় দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ বরকতময় দিনেই। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ রবকতময় দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনা এ বরকতময় দিনেই সংঘটিত হয়। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুরু করে প্রথম নবী ও রসূল হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম পর্যন্ত প্রায় সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোনো না কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা এ বরকতময় দিনে সংঘটিত হয়েছে। সঙ্গতকারণেই এ বরকতময় দিনটি সবার জন্য এক মহান আনুষ্ঠানিকতার সম্মানিত দিন যা রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত হাছিল করারও দিন। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এ দিনেই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মর্যাদা, সম্মান, খুছূছিয়ত ও হাবীবুল্লাহ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে এদিনকে সম্মানিত করেন। সুবহানাল্লাহ! এদিনে হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দোয়া মুবারক কবুল করা হয় এবং উনার ইছমত ঘোষণা করা হয়। সুবহানাল্লাহ!
এদিনে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইদরীস আলাইহিস সালাম উনাকে আকাশে তুলে নেন। সুবহানাল্লাহ! এদিনে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার বরকতময় কিস্তিকে জুদী পাহাড়ে ভিড়িয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
এদিনে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন এবং এদিন উনাকে খলীল উপাধি হাদিয়া করা হয় এবং উনাকে নমরূদের আগুন থেকে বের করে আনা হয়। সুবহানাল্লাহ!
এদিনে হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম উনার ইছমত মুবারক ঘোষণা করা হয় এবং উনার সম্মানিত আওলাদ হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার বিশ্বব্যাপী কর্তৃত্ব প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়। সুবহানাল্লাহ!
এদিনেই হযরত আইয়ূব আলাইহিস সালাম তিনি অসুস্থতা থেকে আনুষ্ঠানিক আরোগ্য লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!
এদিনে হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক তিনি কথা মুবারক বলেছিলেন।
সুবহানাল্লাহ! এবং এদিনেই হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ও উনার সম্প্রদায় লোহিত সাগর পার হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
এদিনেই হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তিনি মাছ সম্প্রদায়কে সুস্থতা দান করে পুনরায় যমীনে তাশরীফ মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ!
এদিনেই হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
এদিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়া সৃষ্টি করেন এবং এ দিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। এ দিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম যমীনে বৃষ্টি নাযিল করেন। সুবহানাল্লাহ!
এদিনেই হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি রহমতসহ সর্বপ্রথম যমীনে নাযিল হন। আর এদিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম পৃথিবীতে রহমত বর্ষণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফ উনার আরেকটি রহমত বরকত ও সাকীনাপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে, ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র শাহাদত মুবারক দিবস। বলার অপেক্ষাই রাখে না, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শাহাদাত মুবারক নিঃসন্দেহে মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ায় অবস্থান গ্রহণকালীন এবং পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করার পরে আরো অনেক মর্মবিদারক শাহাদাতের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শাহাদাত মুবারক উনার ন্যায় এত দীর্ঘস্থায়ী ও এত ব্যাপক শোক, কান্না ও আহাজারি মুসলিম জাতি আর কোনো শাহাদাতের জন্য করেনি।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণের কিছুদিন পরই উনার শাহাদাতের কথা সবার মধ্যে জানাজানি হয়ে গিয়েছিল। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারাসহ অন্যান্য ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সংশ্লিষ্ট সকলেই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শৈশবাবস্থায় জানতে পেরেছিলেন যে, উনাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে শহীদ করা হবে এবং কারবালার ময়দান উনার রক্ত মুবারক দ্বারা রঞ্জিত হবে। এ ব্যাপারে অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত উম্মুল ফজল বিনতে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা (হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আহলিয়া) তিনি বলেন, আমি একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে হাজির হয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোল মুবারক-এ দিলাম। এরপর আমি দেখলাম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দু’চোখ মুবারক থেকে টপটপ করে পানি মুবারক পড়ছে। আমি আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, এর কি কারণ? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আমার কাছে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি এসে এ খবর দিয়ে গেলেন, “নিশ্চয়ই আমার উম্মত আমার এ সম্মানিত আওলাদ উনাকে শহীদ করবে।”

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত শা’বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি জঙ্গে সিফফীনের সময় কারবালার পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সেই জায়গার নাম জানতে চাইলেন। লোকেরা বললো, এ জায়গার নাম ‘কারবালা’। ‘কারবালা’র নাম শুনামাত্র সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি এত কান্নাকাটি করলেন যে, উনার দু’চোখ মুবারক উনার পানি মুবারক দ্বারা মাটি পর্যন্ত ভিজে গিয়েছিল। অতঃপর ফরমালেন, আমি একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে হাজির হয়ে দেখতে পেলাম, তিনি কাঁদছেন। আমি আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কাঁদছেন কেন? জাওয়াবে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জানালেন, এইমাত্র হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি এসে আমাকে খবর দিয়ে গেলেন-
“আমার আওলাদ (দৌহিত্র) সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ফোরাত নদীর তীরে যে জায়গায় শহীদ করা হবে, সে জায়গার নাম কারবালা।”

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পরবর্তীতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভবিষ্যদ্বাণী মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ৬১ হিজরী সনের পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার ১০ তারিখ অর্থাৎ পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররম শরীফ উনার দিনে পবিত্র শাহাদাত মুবারক গ্রহণ করে কায়িনাতবাসীকে এই শিক্ষা দিয়ে গেলেন যে, জীবন চলে গেলেও হক্ব থেকে এক চুল পরিমাণ বিচ্যুতও হওয়া যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই নাহক্ব ও বাতিলের কাছে মাথা নত ও আপোস করা যাবে না। সর্বাবস্থায় হক্ব মত-পথ উনার উপর ইস্তিকামত থাকতে হবে। এটাই পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররম শরীফ উনার অন্যতম শিক্ষা।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শহীদকারীদের কেউই মহান আল্লাহ পাক উনার গযব থেকে রক্ষা পায়নি। কেউ লা’নতে পড়ে নিহত হয়েছে এবং কেউ এমন কষ্টদায়ক অবস্থার শিকার হয়েছে যে, মৃত্যুও তার চেয়ে অনেক ভালো ছিল। হযরত ইমাম ইবনুল জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদকারীরা সবাই দুনিয়াতেই কোনো না কোনো প্রকারে শাস্তি পেয়েছে। কেউ নিহত হয়েছে, কেউ অন্ধ হয়ে গেছে। আর ক্ষমতাসীনরা অল্প সময়েই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে।”

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ানের শাসনামলে যখন হযরত মুখতার সাকাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কূফার শাসক হলেন, তখন তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাহাদাত মুবারক-এ অংশগ্রহণকারীদেরকে এবং উনার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া বাহিনীতে যোগদানকারীদেরকে বেছে বেছে হত্যা করেন। এমনকি একদিনে তিনি এ ধরনের দুইশ চল্লিশ ব্যক্তিকে হত্যা করেন। আমর বিন হাজ্জাজ নামক এক ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শহীদকারী ছিল। সে কূফা থেকে পালিয়েও বাঁচতে পারেনি। হযরত মুখতার সাকাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লোকদের হাতে সে নিহত হয়েছে। হযরত মুখতার সাকাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লোকেরা পাপিষ্ঠ সিমারকে হত্যা করে তার লাশ কুকুরকে খাইয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! মোটকথা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে জিহাদ ও ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমূলে ধ্বংস করে দেন।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, কোনো কোনো গুমরাহ ও কাফির তারা পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহিকে ‘রহমতুল্লাহি আলাইহি’ ও ‘তাবিয়ী’ বলে উল্লেখ করে। নাউযুবিল্লাহ! যা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কেননা, ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সে যেসব অপকর্ম করেছে তা সুস্পষ্ট কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কেউ কুফরী করলে সে মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে যায়। যার কারণে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম উনারা ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহিকে কাফির, লা’নতগ্রস্ত ও জাহান্নামী বলতে কোনো দ্বিধা করেননি। কাজেই, ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহিকে তাবিয়ী বলার অর্থ হলো তার ছানা-ছিফত করা, তাকে হক্ব বলে স্বীকার করা। ইয়াযীদের মতো পাপিষ্ঠ ব্যক্তির ছানা-ছিফত কেবল ওইসব ব্যক্তিই করতে পারে যে তার শুভাকাঙ্খী, সমর্থনকারী। ফলে সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী ইয়াযীদের যা হুকুম তার শুভাকাঙ্খী ও সমর্থনকারী তাদেরও একই হুকুম। আর তা হলো সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া মতে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- আজ সুমহান ঐতিহাসিক পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররম শরীফ। যেদিনটি সকলের জন্যই রহমত, বরকত ও সাকীনা হাছিল করার দিন। এদিন অনেক রহমতপূর্ণ, বরকতপূর্ণ, নিয়ামতপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। পাশাপাশি এ সুমহান দিনটি হচ্ছে- সাইয়্যিদুশ শুহাদা, শুহাদায়ে কারবালা, ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র শাহাদাত শরীফ দিবস। সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মতের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- পবিত্র আশূরা শরীফ এবং সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র শাহাদাত দিবস উনার সম্মানার্থে মাসব্যাপী উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করা অর্থাৎ পবিত্র ওয়াজ শরীফ, পবিত্র মীলাদ শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ এবং দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা। আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব এবং কর্তব্য হচ্ছে- এ মুবারক দিবস উপলক্ষে পবিত্র মাহফিলসমূহের সার্বিক আঞ্জাম দেয়ার সাথে সাথে কারবালার হৃদয়বিদারক ইতিহাসসহ উনার পবিত্র জীবনী মুবারক সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা এবং উনার পবিত্র শাহাদাত শরীফ দিবস উপলক্ষে কমপক্ষে ৩ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।
█║▌│█│║▌║││█║▌│║█║▌ © আল ইহসান.নেট | al-ihsan.net
Read more ...